Saturday, 1 October 2022
রাতকানা কি? রোগলক্ষন ও প্রতিকার ||রাতকানা || রাতকানা রোগ কি || রাতকানা রোগ কেন হয়
By PRITAM BHOWMICKOctober 01, 2022DAILY HEALTH, eye problem, health, রাতকানা, রাতকানা কি? রোগলক্ষন ও প্রতিকার, সুস্বাস্থ্যNo comments
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
রাতকানা কি?
রাতকানা হচ্ছে ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত রোগ (জেরোফথালমিয়া) এর প্রথম পর্যায়৷ প্রধানত ভিটামিন-এ এর অভাবে বাচ্চাদের এই রোগ হয়ে থাকে৷ এর ফলে রোগী দিনে স্বাভাবিক দেখবে কিন্তু রাতে বা অল্প আলোতে প্রথম প্রথম ঝাপসা বা হালকা দেখলেও পরে দেখতে পায় না৷ আমাদের দেশে ৬ বছরের কম বয়েসী শিশুদের মধ্যে রাতকানা রোগ বেশি দেখা যায়৷ অথচ আমরা একটু সচেতন হলেই এই রোগ প্রতিরোধ করতে পারি৷
কারণ:
১ খাবারে ভিটামিন এ-এর অভাব৷
বাচ্চা অল্প ওজনে জণ্ম হলে এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর এই রোগ বেশি হয়৷
ডায়রিয়া, হাম, নিউমোনিয়া ইত্যাদি হলে শরীরে ভিটামিনের অভাব হয়৷
বাড়ন্ত বয়সে অতিরিক্ত খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে না পারলে এই রোগ হতে পারে৷
লক্ষণ:
প্রথমে ভোরে ও সন্ধ্যায় অল্প আলোতে দেখতে অসুবিধে হয়, একে রাতকানা বলে৷
পরে তার চোখ শুকিয়ে যায় (জেরোসিস), চোখের সাদা অংশের চকচকে ভাবটা চলে গিয়ে সেটা কুঁচকিয়ে যায়৷
চোখে ছোট ছোট ছাই রঙের বুদবুদ ভর্তি দাগ (বিটট্স স্পট) দেখা দেয়৷
এরপর চোখের কর্নিয়া নরম হয়ে যায়৷
কর্নিয়াতে ঘা হয়৷ কর্নিয়া ঘোলাটে হয়ে যায়৷ নরম কর্নিয়া ঠেলে ফোঁড়ার মতো বেরিয়ে আসতে পারে বা ফুটো হয়ে যেতে পারে৷
অবশেষে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যায়৷
চিকিৎসা:
রাতকানা রোগে আক্রান্ত শিশুকে (১ বছরের বেশি বয়স) তিনটি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে৷ ক্যাপসুল খাওয়ানোর নিয়ম হল প্রথম দিন একটি, দ্বিতীয় দিনে একটি এবং দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিন পর একটি খাওয়াতে হয়৷ তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুরা একই নিয়মে অর্ধেক ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাবে অর্থাৎ প্রতিবারে চার ফোঁটা৷ কারণ একটি ক্যাপসুলে মোট আট ফোঁটা ওষুধ থাকে৷ প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
২. রাতকানা প্রতিরোধে কি ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা যায়?
একটু সতর্ক ও সচেতন থাকলেই রাতকানা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
প্রতিরোধ:
বাচ্চাকে প্রথম ৫ মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে৷ বুকের দুধ শিশুকে রাতকানা হওয়া থেকে রক্ষা করে৷ বুকের দুধ সম্ভব হলে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত খাওয়াতে হবে৷
বাচ্চা হবার দুই সপ্তাহ পর মাকে ২ লক্ষ আই.ইউ. ভিটামিন-এ এর ১ ডোজ খাওয়াতে হবে৷
শিশুকে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার (হলুদ ফলমূল ও শাক-সবজি, ডিম/দুধ/কলিজা, মাছ, মাংস,) খাওয়াতে হবে৷
৬ মাস বয়স থেকে শুরু করে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি ৬ মাস অন্তর উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে৷
অপুষ্টি রোধ করতে হবে৷
বাচ্চা অপুষ্টিতে ভুগলে, হাম, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার পাশাপাশি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে৷
চোখের কালো অংশে কোনও পরিবর্তন (যেমন- ধোঁয়াটে, ঘোলা, ছিদ্র, সাদা হওয়া) দেখা দিলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে৷
পরামর্শ:
প্রতিদিন ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে যেমন-
গার সবুজ শাক যেমন- কচু-শাক, পুঁইশাক, পালংশাক, মূলা-শাক ইত্যাদি৷
হলুদ সবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, গাজর ইত্যাদি৷
হলুদ ফল যেমন- পাকা কাঁঠাল, পাকা আম, পাকা পেঁপে ইত্যাদি৷
প্রাণী জাতীয় খাদ্য বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন- দুধ, ডিমের কুসুম, কলিজা, ছোট মাছ ইত্যাদি৷
শাক-সবজি অবশ্যই তেল দিয়ে রান্না করতে হবে৷ তেল দিয়ে রান্না করে খেলে ভিটামিন-এ বেশি পাওয়া যায়৷ এ ছাড়া ৬ মাস বয়স থেকে শুরু করে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে ৬ মাস পর পর একটি করে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে৷ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাত্রা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খেতে দেয়া বিপদজনক৷ এতে করে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে৷
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
মায়োপিয়া রোগলক্ষন ও প্রতিকার
By PRITAM BHOWMICKOctober 01, 2022body health, DAILY HEALTH, eye problem, health, health tips, মায়োপিয়া, মায়োপিয়া রোগলক্ষন ও প্রতিকার, সুস্বাস্থ্যNo comments
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
মায়োপিয়া হওয়ার কারণ :
মায়োপিয়া হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে কোন কাজ করার সময় খুব কাছ থেকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা।
অন্ধকারে বা কম আলোতে কাজ করাও মায়োপিয়া হওয়ার অন্যতম কারণ
দীর্ঘদিন মাইনাস পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করলেও মায়োপিয়ার অবস্থার অবনতি হতে পারে
টাইপ ২ ডায়াবেটিসও মায়োপিয়া হওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে।
বংশগতির কারণেও মায়োপিয়া হতে পারে বলে জানা যায় ওহায়ো ষ্টেট ইউনিভারসিটি কলেজ অফ অপ্টোমিট্রি এর করা এক গবেষণায়।
ঘরোয়া কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে মায়োপিয়ার প্রকোপ কমানো যায়। আসুল তাহলে সেই ঘরোয়া প্রতিকারগুলো সম্পর্কে জেনে নিই।
১। চোখের ব্যায়াম
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের অপথালমোলজি বিভাগের গবেষণা মতে জানা যায় যে, চোখের ব্যায়াম মায়োপিয়ার সমস্যার উপর প্রভাব ফেলে। বর্তমানে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা ঔষধ ও চশমা ব্যবহারের পাশাপাশি চোখের ব্যায়াম করার ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ইয়োগাও করতে পারেন।
২। দমচর্চা বা প্রাণায়াম
নিয়মিত দমচর্চা করা মায়োপিয়ার প্রতিকারে সাহায্য করে। রিলেক্সভাবে এক জায়গায় বসে গভীরভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নিন এবং মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ুন। এভাবে ৩ মিনিট যাবত দমচর্চা করুন প্রতিদিন।
৩। বিরতি নিন
একটানা পড়া, টিভি দেখা বা কম্পিউটারে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে অল্প দূরত্বে চোখের ফোকাস করার প্রয়োজন পড়ে ফলে মায়োপিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই এই কাজগুলো করার সময় মায়োপিয়া হওয়া এড়াতে বা এর তীব্রতা কমানোর জন্য কিছুক্ষণ পর পর বিরতি নেয়া উচিৎ।
৪। পর্যাপ্ত আলোতে কাজ করা
কম আলোতে কাজ করলে দৃষ্টিশক্তির উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কারণ কম আলোতে কাজ করার সময় চোখের উপর বেশি চাপ পড়ে। ফলে চোখের পেশীতে টান পড়ে এবং মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা সৃষ্টি হয়।
৫। ভিটামিন গ্রহণ করুন
মায়োপিয়া প্রতিকারের একটি প্রধান উপায় হচ্ছে ভিটামিন গ্রহণ করা। ভিটামিন এ, বি, ই, ডি এবং ভিটামিন সি এর সাথে ভালো দৃষ্টিশক্তির সম্পর্ক খুবই গভীর। এই ভিটামিনগুলোর উৎস হচ্ছে- গাজর, টমাটো, আপেল, মরিচ, মাছ, সবুজ শাকসবজি, শুষ্কফল এবং বাদাম। ভিটামিন সমৃদ্ধ এই খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন।
৬। ত্রিফলা
আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় বিভিন্ন রকম উপায় বর্ণনা করা হয়েছে চোখের রোগ নিরাময়ের জন্য। বহেড়া, বঁইচি ও আমলকী একসাথে মিশিয়ে ত্রিফলা তৈরি করা হয়। ত্রিফলা আয়ুর্বেদ ঔষধের দোকানে কিনতে পাওয়া যায় অথবা আপনি বাসাতেও তৈরি করে নিতে পারেন। ত্রিফলার মিশ্রণ চোখের পেশীকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং নিয়মিত পান করলে মায়োপিয়ার সমস্যা নিরাময়ে অত্যন্ত উপকারী ভূমিকা রাখে। ২ কাপ ফুটানো ও ঠান্ডা পানিতে ১ আউন্স ত্রিফলার নির্যাস মিশিয়ে সকালে ও বিকালে চোখ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে পারেন।
৭। সূর্যোদয় দেখুন
প্রতিদিন সকালে ৩-৫ মিনিট সূর্যোদয় দেখা মায়োপিয়া নিরাময়ের জন্য উপকারী। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে বেরিয়ে পড়ুন। হাঁটা আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী আর সূর্যোদয় দেখা আপনার চোখের জন্য বিশেষ করে মায়োপিয়ার জন্য খুবই উপকারী ভূমিকা রাখে।
৮। উষ্ণতা
দুই হাতের তালু কিছুক্ষণ ঘষে নিয়ে দুই চোখের উপর হালকাভাবে চেপে ধরুন। দিনের যেকোন সময় এটি করতে পারেন। যখনই স্ট্রেস অনুভব করবেন তখন কাজ থেকে কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে এই সহজ এক্সারসাইজটি করুন। এতে আপনার চোখ পুনরুজ্জীবিত হবে।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
খুশকি নির্মূল করার টিপস
By PRITAM BHOWMICKOctober 01, 2022AYURBEDA, body health, DAILY HEALTH, hair problem, health, HOUSE MADE MEDICINE, খুশকি নির্মূল করার টিপস, সুস্বাস্থ্যNo comments
খুশকি নির্মূল করার টিপস
অ্যাস্পিরিনঃ
অ্যাস্পিরিন, ডিস্প্রিন বা ইকোস্প্রিন নামের এই ওষুধ পাবেন যেকোনো ওষুধের দোকানে। দুটি ট্যাবলেট একেবারে গুড়া করে একবার ব্যবহার করার মতো পরিমান শ্যাম্পুর সাথে মিশিয়ে নিন। এরপর চুল ভিজিয়ে নিয়ে এই ওষুধ-মেশানো শ্যাম্পু চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। ৫-১০ মিনিট রাখার পর সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন।
লবনঃ
শুকনা খুশকি ঠিক করতে লবনের জুড়ি মেলা ভার। চুলের গোড়ায় আলতোভাবে লবন ঘষে খুশকি তুলে ফেলুন। এরপর সাধারণ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ২ দিন করলে উপকার পাবেন।
অলিভ অয়েলঃ
অলিভ অয়েল সবচেয়ে চমৎকারী ওষুধ খুশকি নির্মূল করতে। ১০ থেকে ১২ ফোটা অলিভ অয়েল গরম করে নিন। এরপর সেই তেল চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে মাথায় শাওয়ার পরে সারারাত ঘুমিয়ে নিন। সকালে উঠে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত করলে চুলে খুশকি কমে যাবে।
লেবুঃ
লেবুর রসের যে বিভিন্ন গুণ আছে, তা আমরা সবাই কমবেশি জানি। ২ টেবিলচামচ লেবুর রস চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে লাগিয়ে নিন। এরপর মাথা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপরে এক কাপ পানিতে এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। দৈনিক এই উপায়ে চুল ধুয়ে ফেলুন যতদিন পর্যন্ত না খুশকি পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়।
বেকিং সোডাঃ
অনেকের বাড়িতেই বেকিং সোডা থাকে। এক মুঠো বেকিং সোডা হাতে নিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর সাধারণ উপায়ে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই উপায় ব্যবহার করলে কাজে দিবে।
রসুনঃ
রসুন চুলের খুশকি দূর করে খুব ভাল করে, তবে চুল থেকে দুর্গন্ধ দূর করাটা বেশ কঠিন ব্যাপার। এক কোয়া রসুন থেতো করে নিন, যাতে রস বেরিয়ে আসে। এর সাথে মধু মিশিয়ে আঠালো লেই তৈরি করুন। এই মিশ্রণ চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন। আধা ঘন্টা রাখার পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ১ দিন করলে দেখবেন ১ মাসের মধ্যে খুশকি কমে এসেছে।
নারিকেল তেলঃ
শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলার আগে তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে উপকার পাওয়া যাবে। চুল ধোওয়ার অন্তত এক ঘন্টা আগে ৩ থেকে ৫ টেবিলচামচ নারিকেল তেল আকটি বাটিতে করে কুসুম গরম করে নিন। এই তেল চুলের গোড়ায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিয়ে এক ঘন্টা (বা তার বেশি) সময় ধরে রেখে দিন। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে নারিকেল তেলের গুণ-যুক্ত শ্যাম্পুও ব্যবহার করতে পারেন।
স্ট্রোক সমস্যা সমাধান
By PRITAM BHOWMICKOctober 01, 2022DAILY HEALTH, health, health tips, mental health, old age problems, সুস্বাস্থ্য, স্ট্রোক, স্ট্রোক সমস্যা সমাধানNo comments
স্ট্রোক সমস্যা সমাধান
স্ট্রোক কি?
চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্ট্রোক-এর অর্থ হলো প্রকট স্নায়ু রোগ। মস্তিষ্কের কোষগুলোর কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিরবচ্ছিন্ন রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মস্তিষ্কই পুরো দেহের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং গ্লুকোজের সরবরাহ পায়। কোন কারণে এই সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে সে অংশের কোষগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিই ব্রেইন স্ট্রোক নামে পরিচিত।
স্ট্রোকের কারণে শরীরের কোন একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঐ অংশ শরীরের যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে চালিত করত তা অবশ হয়ে যেতে পারে। মস্তিষ্কের ডান অংশ শরীরের বাম অংশকে পরিচালিত করে, আর বাম অংশ শরীরের ডান অংশকে পরিচালিত করে। কাজেই স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের কোন একটি অংশ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের বিপরীত অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে।
শরীরের এক দিক অচল হয়ে গেলে বলা হয় হেমিপ্লেজিয়া (hemiplegia) আর অবশ হলে তাকে হেমিপেরেসিস (hemiparesis) বলা হয়। তবে শরীরের কোন অংশ স্ট্রোকের কারণে অচল হয়ে গেলেও তা আবার ধীরে ধীরে সেরে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে ফিজিওথেরাপীও নেবার প্রয়োজন হতে পারে।
ব্রেইন স্ট্রোক কোন ভাবেই হৃদরোগ নয়। তবে রোগীর যদি উচ্চরক্তচাপ থাকে, ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগ থাকে তবে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বেশি বেড়ে যায়
রক্ত জমাট বেঁধে কিংবা রক্তনালি সরু হয়ে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে এই ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আবার রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে রক্তপাতের মাধ্যমেও স্ট্রোক হতে পারে।
প্রকারভেদ----
মোটাদাগে স্ট্রোক দু’প্রকার।
একটি ইসচেমিক (Ischemic) স্ট্রোক এবং অন্যটি
হেমারোজিক (Hemorrhagic) স্ট্রোক।
ইসচেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কোন একটি অংশের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় আর হেমারোজিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্তক্ষণ ঘটে।
লক্ষণ----
দু’ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রেই একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। মস্তিষ্কের কোন এলাকায় রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটলো, কতটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হল ইত্যাদি বিষয়ের ওপর লক্ষণগুলো পরিবর্তিত হয়। যে কোন ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রেই দ্রুত চিকিৎসককে দেখানো উচিত। দেরি করলে নতুন নতুন লক্ষণ দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে সেটি সারিয়ে তোলা কঠিন হতে পারে।
• হঠাৎ খুব মাথা ব্যথা
• কথা বলতে সমস্যা হওয়া
• অবশ, দুর্বলতা লাগা, শরীরের এক পাশ অকেজো হওয়া
• মাথা ঘোরা, হাটতে অসুবিধা হওয়া, ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হওয়া
• চোখে ঘোলা লাগা, অন্ধকার লাগা বা ডাবল দেখা, হঠাৎ চোখে কিছু না দেখা
কারণ----
স্ট্রোক এবং হৃদরোগ আলাদা হলেও ঝুঁকির কারণগুলো প্রায় একই। সাধারণত ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষের স্ট্রোক বেশি হয়।
• ধুমপান
• স্থূলতা
• মদ্যপান
• উচ্চ রক্তচাপ
• বেশি কোলেস্টেরল
• পারিবারিক ইতিহাস
• ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ
সতর্কতা:--
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর পাঁচ লাক লোক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় এবং দেড় লাখ লোক মারা যায়। বেঁচে যাওয়া অনেকেই পঙ্গুত্বের শিকার হয়। করোনারী হার্ট ডিজিজ এবং ক্যান্সারের পর স্ট্রোকই মৃত্যুর বড় কারণ। ঝুঁকির কারণগুলো এড়িয়ে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের মাধ্যমে স্ট্রোকের সম্ভবনা বা আশঙ্কা আনেকটা কমিয়ে আনা যায়।
করণীয়:---
• দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা
• রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
• নিয়ম মাফিক খাবার খাওয়া
• সতর্ক ভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা
• নিয়ম করে হাটা বা হালকা দৌড়ানো
• মাদক না নেয়া , মদ্যপান না করা
• ধূমপান একেবারেই করা যাবে না।
• পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যেমন সয়াবিন তেল খাওয়া যাবে। মাছ এবং মাছের তেলও উপকারী।
• এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি, ই এবং বিটা ক্যারেটিন সমৃদ্ধ খাবার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
• একবার স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের জন্য লো ডোজ অ্যাসপিরিনও বেশ উপাকারী, আবার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
• সম্পৃক্ত চর্বি যেমন যেমন প্রাণীজ তেল, ডিমের লাল অংশ, ঘি, মাখন, অথবা জমে যায় এমন ধরনের যে কোন তেল খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে।
রোগ নির্ণয়:---
স্ট্রোক মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘটে, এখানে যেকোন ধরনের রক্তপাত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কাজেই দ্রুত রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্ত ৩ থেকে ৬ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করতে না পারলে অনেক সময় স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। রোগী স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগস্ত হয়ে পড়তে পারে এমনকি মারাও যেতে পারে।
স্ট্রোক হয়েছে কিনা বোঝার সাধারণত জন্য যেসব পরীক্ষা করা হয়:---
• ইকোকার্ডিওগ্রাফির মাধ্যমে হৃদপিন্ডের ছবিও নেয়া হয়।
• রক্তচাপ, কোলস্টেরল, ডায়াবেটিস, এমিনো এসিড ইত্যাদি মাপা
• এছাড়া সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই-এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
• আলট্রা সাউন্ডের মাধ্যমে ঘাড়ের আর্টারির ছবি নিয়ে রক্তনালি সরু হয়েছে কিনা সেটা দেখা
• এনজিওগ্রাফি: এক ধরনের রং শরীরে প্রবেশ করিয়ে এক্স-রে-এর মাধ্যমে শরীরে রক্ত চলাচলের চিত্র নেয়া হয়।
স্ট্রোক রক্তপাতজনিত কারণে নাকি রক্তপ্রবাহে বাধা জনিত কারণে হল সেটা নির্ণয় করাটা জরুরি। কোলস্টেরল বা অন্য কোন কারণে রক্তপ্রবাহে বাধাজনিত কারণে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন উপকারী, কিন্তু রক্তপাতজনিত কারণে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন ক্ষতিকর। সিটি স্ক্যান করে এটি জানা যায়।
স্ট্রোক বিভিন্নভাবে হতে পারে। ট্রানজিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক বা ক্ষণস্থায়ী স্ট্রোকের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেবার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগী ভালো বোধ করতে পারে। আবার আরও কিছুটা সময় নিয়ে রোগী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এমনিতেই ভালো হয়ে যেতে পারে। তবে ২৪ ঘন্টার বেশি স্থায়ী হলে তাকে ট্রানজিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক বা ক্ষণস্থায়ী স্ট্রোক বলা যায় না।
এমফাইসেমা কি? রোগলক্ষন ও প্রতিকার
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
এমফাইসেমা কি?
এমফাইসেমা বা এমফিসেমা হলো এক ধরনের ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমনারী ডিজিস (সিওপিডি), যা ফুসফুস টিসুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এমফাইসেমার কারণে শ্বাসকষ্ট হয় এবং একজন ব্যক্তিকে তার রোজকার বিভিন্ন কাজকর্ম এবং খেলাধুলোয় বাধা দিতে পারে। এর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস এবং লাগাতার কাশির মতো আরও অন্যান্য শ্বাসের অসুখ দেখা দিতে পারে। এমফাইসেমাতে ফুসফুসে অবস্থিত অ্যালভিওলি (বায়ুথলি] ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলো কি কি?
এমফাইসেমার প্রধান উপসর্গগুলো নীচে বলা হলো:
শ্বাসের সমস্যা
শ্বাসহীনতা
লাগাতার কাশি
ক্লান্তি
বুকের আকৃিততে পরিবর্তন (ছাতি ওপরের দিকে ওঠা)
পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে চামড়ায় নীল ছোপ
এর প্রধান কারণগুলো কি কি?
নিম্নলিখিত কারণে এমফাইসেমা হয়:
দীর্ঘ সময় ধরে হাওয়াতে ভেসে বেড়ানো উত্তেজক পদার্থের সংস্পর্শে আসা।
ধূমপান
প্রচণ্ড বায়ু দুষণের সংস্পর্শে আসা
বিরল ক্ষেত্রে, এমফাইসেমা জিনগত কারণে হতে পারে।
ধূমপান এমফাইসেমার সবচাইতে বিপজ্জনক কারণ। প্যাসিভ স্মোকের সংস্পর্শে এলেও কারওর এই রোগ হতে পারে। খনি শিল্পের কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমফাইসেমা পেশাগত ঝুঁকি হতে পারে।
এটি কিভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়?
লাংগস ফাংশন টেস্ট বা ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষার মাধ্যেম এমফাইসেমা নির্ণয় করা হয়। এই পরীক্ষাগুোলর মাধ্যমে ব্যক্তির শ্বাস নেওয়ার গতি এবং কতটা পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে, তা জানা যায়। রোগ নির্ণয়ের অন্যান্য পরীক্ষা হলো এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান।
এমফাইসেমার পুরোপুরি নিরাময়ের চিকিৎসা এখনও উপলব্ধ নয় এবং এই অসুখ শুধুমাত্র উপসর্গ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে চিকিৎসক প্রদাহ-রোধী ওষুধ দিতে পারেন।
বুকের ছাতির সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকস দেওয়া হয়।
গুরুতর সমস্যা থাকলে অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
কিছু রোগ প্রতিরোধক পদ্ধতি রয়েছে, যেগুলি নেওয়া যেতে পারে, এই অসুখ বাড়াবাড়ি ও গুরুতর আকার না নেয়। এগুলি হলো:
ধূমপান বন্ধ করা
বায়ু দূষকের সংস্পর্শে না আসা
শ্বাস নেওয়ার মাস্ক ব্যাবহার করা।
নিয়মিত ব্যায়াম করা
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
মস্তিষ্ক এক্টিভ রাখুন ও বুদ্ধিমত্তা বাড়ান
By PRITAM BHOWMICKOctober 01, 2022DAILY HEALTH, health, Life style, lifestyle, লাইফ স্টাইলNo comments
ছোট একটি হিসাব করতে গিয়েও ভুল হওয়া, কারো সঙ্গে কথা বলার সময় নাম মনে না থাকা, প্রিয়জনের জন্মদিন ভুলে যাওয়া, ঘরের চাবি রেখে আসা-ইত্যাদি অসংখ্য ভুলে যাওয়া সমস্যার কারণ মস্তিষ্ক কর্মক্ষম অবস্থায় না থাকা। তাই বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজন মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখা।
মস্তিস্ক অ্যাক্টিভ রাখতে জীবন-যাপনে যে বিষয়গুলো রাখতে হবে:
• নিয়মিত ব্যায়াম
• পর্যাপ্ত ঘুম
• ধূমপানসহ সব ধরনের মাদক ত্যাগ
• স্বাস্থ্যকর খাবার
মস্তিষ্কের চমৎকার কিছু ব্যায়াম:
• কাগজে বাজারের বড় লিস্ট করুন। লিস্টের আইটেমগুলো না দেখে মনে রাখার চেষ্টা করুন
• গবেষকরা বলছেন, গিটার, ভায়োলিন, পিয়ানো ইত্যাদি বাজাতে শিখলে মস্তিষ্কের বয়স বাড়ে না
• কলম, পেন্সিল ও কাগজ ছাড়া মনে মনে হিসাব কষতে শুরু করুন
• নতুন ভাষা শেখা, শব্দ শোনার সময় মস্তিষ্ক উদ্দীপ্ত হয়
• ছবি আঁকা, পাজল মেলানো মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
ঘাড় ব্যথা
By PRITAM BHOWMICKOctober 01, 2022health, PAIN, ঘাড় ব্যথা, প্রাথমিক চিকিৎসা, ব্যথা, ব্যাথা, সুস্বাস্থ্য, স্পন্ডাইলোসিসNo comments
ঘাড় ব্যথা ও প্রাথমিক চিকিৎসা
প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে বোধকরি এমন লোক খুজে পাওয়া খুবই দুস্কর যাদের জীবনে কখনো ঘাড়ে ব্যথা হয়নি। এ যেনো ঘাড় আছে যার ব্যথা আছে তার। তবে মামুলি এই ব্যথা যখন ঘাড়ে সাড়াশির মতো চেপে বসে তখনই সবার দফা হয় রফা, আর কাজ কর্ম বন্ধ রেখে ছুটতে হয় চিকিৎসকের দোরগোড়া।
সারভিকাল স্পন্ডাইলোসিস (cervical spondylosis) হলে ঘাড়ে যেমন ব্যথা হয় তেমনি মাথার নিম্নাংশেও ব্যথা হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে এই ব্যথা দুই কাধ, বাহু, হাত এমন কি আঙ্গুলেও ছড়িয়ে পরতে পারে। কারো কারো আবার মাথা ব্যথা/ পিঠের পিছনে ব্যথা, হাত/বাহু দুর্বল বা অবশ হয়ে আসা বা চিনচিনে ব্যথা করা এসব উপসর্গ ও দেখা দিতে পারে।
পুরুষের তুলনায় মহিলারা এই রোগে অনেক বেশী আক্রান্ত হয়। যে সকল পেশায় দীর্ঘক্ষন মাথা নীচু করে কাজ করতে হয় (স্বর্ণকার, ড্রাইভার, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, সেলাইকারি ইত্যাদি) বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তারাই এই রোগের ভুক্তভোগী।
এ রোগ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। তিনি পরীক্ষা করে সহজেই এই রোগটি নিশ্চিত করতে পারেন। তবে রোগের বিস্তৃতি এবং কারণ নির্ণয়ে ঘাড়ের এক্সরে এবং অনেক সময় এম,আর,আই (MRI) পরীক্ষা করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
কাঁধের ব্যথা :
কাঁধে ব্যথা এক মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। ব্যথা তীব্র হলে দৈনন্দিন জীবনে ঘটে ছন্দপতন। অনেকে ব্যথার জন্য ঘাড়ের ওপরে হাতই তুলতে পারেন না। কাঁধ নাড়াতেও বেশ কষ্ট হয়। অসহ্য ব্যথায় অনেক সময় শরীরের পেশি শক্ত হয়ে ওঠে। সাধারণত যে কারণগুলোর জন্য কাঁধে ব্যথা হয় এবং ভুক্তভোগী মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন তার মধ্যে “ফ্রোজেন শোল্ডার” অন্যতম। প্রাথমিকভাবে এটা হলো কাঁধের নরম কলাগুলোর প্রদাহজনিত অবস্থা।
পেরি আর্থ্রাইটিস, অসটিও আর্থ্রাইটিস, হাড় ভেঙে গেলে কিংবা স্থানচ্যুত হলে ফ্রোজেন শোল্ডার হয়। পেশি, টেনডন, লিগামেন্ট সবকিছুই আক্রান্ত হয়। তীব্র ব্যথা হয়। রাতে ব্যথা বাড়ে। নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়ে। কাঁধ নাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় ব্যথানাশক ওষুধ দেয়া হয়। কাঁধের অস্থিসন্ধিতে ইনজেকশন দেয়া হয়। এ সময় ব্যায়াম করা যাবে না এবং জোরে কাঁধ নাড়ানো যাবে না, তবে রোগীকে ধরে অল্প ব্যায়াম (যা চিকিৎসক দেখিয়ে দেবেন) করিয়ে দেয়া যেতে পারে। ফ্রোজেন শোল্ডার ছাড়াও আরো অনেক কারণে কাঁধে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। পেপটিক আলসারের ব্যথাও অনেক সময় বাম কাঁধে চলে আসে। পিত্তথলির প্রদাহের ব্যথা ডান কাঁধে অনভূত হতে পারে। অনেকের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের পরে কাঁধে জড়তা সৃষ্টি হতে পারে।
কাঁধে ব্যথা হলে কী করতে হবে :
প্রথমত চিকিৎসককে দেখিয়ে নিশ্চিত হতে হবে কী কারণে ব্যথা হচ্ছে। সঠিক কারণ অনুযায়ী চিকিত্সকের পরামর্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।
গরমে সর্দি-কাশি ও তার প্রতিকার || সর্দি-কাশি || summer health
By PRITAM BHOWMICKOctober 01, 2022DAILY HEALTH, health, health tips, SUMMER HEALTH, গরমে সর্দি-কাশি ও তার প্রতিকার, জ্বর, সুস্বাস্থ্যNo comments
গরমে সর্দি-কাশি ও তার প্রতিকার
সর্দি-জ্বর বা কমন কোল্ড বাংলাদেশের অত্যন্ত পরিচিত একটি রোগ। আমাদের দেশে সম্ভবত এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না যার বছরে অন্তত দু-একবার সর্দি-জ্বর হয়নি। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ কিংবা অফিসপাড়ায় প্রায়ই হাঁচি দিতে থাকা অথবা নাকের পানি মুছতে থাকা লোকজন নজরে পড়ে। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, চিকিৎসক-প্রকৌশলী আমরা কেউ এ রোগ থেকে মুক্ত নই। একবিংশ শতকেও এ বিরক্তিকর রোগটি থেকে আমরা রেহাই পাইনি।
কারণ : সর্দি-জ্বর মানবদেহের ঊর্ধ্ব-শ্বাসনালীর ভাইরাসজনিত এক ধরনের সংক্রমণ। ইনফ্লুয়েনজা-এ, ইনফ্লুয়েনজা-বি, প্যারা-ইনফ্লুয়েনজা, এডেনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস প্রভৃতি এ রোগের জন্য দায়ী। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন ঘটতে পারে। ঋতু পরিবর্তনের সময় এ রোগ বেশি মাত্রায় দেখা যায়। একটানা বৃষ্টি, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা এবং এক ঘরে অনেক লোক গাদাগাদি করে বসবাস করলে এ রোগ হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন লোকদেরও এ রোগের ঝুঁকি বেশি। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ রোগ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়।
লক্ষণ : লক্ষণ দেখেই এ রোগ নির্ণয় করা যায়। সাধারণত কোনো ল্যাবরেটরি পরীক্ষার দরকার হয় না। সর্দি-জ্বর হলে প্রথমে নাকে ও গলায় অস্বস্তি লাগে, হাঁচি হয়, নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। নাক বন্ধও থাকতে পারে। মাথা ব্যথা, মাথা ভারী বোধ হওয়া, শরীরে ব্যথা, হালকা জ্বর (১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইড-এর বেশি না), গলা ব্যথা প্রভৃতি উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। কখনো কখনো চোখ লাল হতে পারে এবং চোখ দিয়ে পানি ঝরতে পারে।
চিকিৎসা : সর্দি-জ্বরের সময় বিশ্রামে থাকতে পারলে ভালো। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পানি, লেবুর রস, আনারস, পেয়ারা বা আমলকি জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। ঠা-া জাতীয় খাবার (আইসক্রিম, ফ্রিজের পানি, কোল্ড ড্রিংকস) পরিহার করতে হবে। গরম চা বা কফি খাওয়া যেতে পারে।
এ রোগের চিকিৎসায় সাধারণত এন্টিবায়োটিক-এর প্রয়োজন হয় না। জ্বর ও ব্যথানাশক প্যারাসিটামল এবং এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ কয়েকদিন খেলেই এ রোগ সেরে যায়। তবে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত এন্টিবয়োটিক সঠিক মাত্রায় পাঁচ থেকে সাত দিন খেতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে টনসিলের বা ফুসফুসের সংক্রমন হওয়ার ঝুঁকি থাকে বিধায় রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শমত ওষুধ খাওয়ানো উচিত।
প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা : সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হলে অন্যদের সংগে বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে মেলামেশায় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। হাঁচি দেওয়ার সময় বা নাকের পানি মুছতে রুমাল বা টিসু পেপার ব্যবহার করতে হবে। রোগীর ব্যবহৃত রুমাল বা গামছা অন্যরা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেখানে সেখানে কফ, থুথু বা নাকের শ্লেষ্মা ফেলা যাবে না। স্বাস্থ্যকর, খোলামেলা, শুষ্ক পরিবেশে বসবাস করতে হবে এবং বিরূপ পরিবেশে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাধারণ জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
















