***** HEALTH IS WEALTH *****

“I believe that the greatest gift you can give your family and the world is a healthy you.” – Joyce Meyer

**CONNECT US TO GET HEALTH TIPS DAILY ***

“Good health is not something we can buy. However, it can be an extremely valuable savings account.” – Anne Wilson Schaef

**YOUR FITNESS IS YOUR GREATEST WEALTH**

“A fit body, a calm mind, a house full of love. These things cannot be bought – they must be earned.” – Naval Ravikant

** FOLLOW US TO GET DAILY HEALTH BLOGS ***

“If you're happy, if you're feeling good, then nothing else matters.” – Robin Wright

**** THANK YOU ****

THANK YOU FOR YOUR CONTINUOUS HEALTH AND SUPPORT

"HEALTH GUIDE BENGALI" provide you all health information,our mission is to provide all health tips and health related information and health blogs...

Showing posts with label skin problem. Show all posts
Showing posts with label skin problem. Show all posts

Wednesday, 16 November 2022

এলার্জি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা

এলার্জি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা


অ্যালার্জি জনিত রোগের লক্ষণ ও করণীয় -



এলার্জি বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের কাছে এক অসহনীয় ব্যাধি। এলার্জি হাঁচি থেকে শুরু করে খাদ্য ও ওষুধের ভীষণ প্রতিক্রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে এলার্জি সামান্যতম অসুবিধা করে, আবার কারো ক্ষেত্রে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।

ঘরের ধুলাবালি পরিষ্কার করছেন? হঠাৎ করে হাঁচি এবং পরে শ্বাসকষ্ট অথবা ফুলের গন্ধ নিচ্ছেন বা গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ ও গরুর দুধ খেলেই শুরু হলো গা চুলকানি বা চামড়ায় লাল লাল চাকা হয়ে ফুলে ওঠা। এগুলো হলে আপনার এলার্জি আছে ধরে নিতে হবে।

মানব জীবনে এলার্জি কতটা ভয়ংকর সেটা ভুক্তভোগী যে সেই জানে। উপশমের জন্য কতজন কত কি না করেন। এবার প্রায় বিনা পয়সায় এলার্জিকে গুডবাই জানান আজীবনের জন্য। যা করতে হবে আপনাকে –

১) ১ কেজি নিম পাতা ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন।

২) শুকনো নিম পাতা পাটায় পিষে গুড়ো করুন এবং সেই গুড়ো ভালো একটি কৌটায় ভরে রাখুন।

৩) এবার ইসব গুলের ভুষি কিনুন। ১ চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ নিম পাতার গুড়া ও এক চা চামচ ভুষি ১ গ্লাস পানিতে আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন।

৪) আধা ঘন্টা পর চামচ দিয়ে ভালো করে নাড়ুন।

৫) প্রতি দিন সকালে খালি পেটে, দুপুরে ভরা পেটে এবং রাত্রে শোয়ার আগে খেয়ে ফেলুন। ২১ দিন একটানা খেতে হবে

৬) কার্যকারীতা শুরু হতে ১ মাস লেগে যেতে পারে। ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে এবং এরপর থেকে এলার্জির জন্য যা যা খেতে পারতেন না যেমন- হাঁসের ডিম, বেগুন, গরু, চিংড়ি সহ অন্যান্য খাবার খেতে পারবেন।


চিকিৎসা :-

তবে অনেক দিন যাবৎ চুলকানি এবং এলার্জির সমস্যায় ভুগতে থাকলে অভিজ্ঞ এবং নিবন্ধনকৃত হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ মত কিছুদিন প্রপার ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন, আশা করি আপনার এলার্জির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

ত্বকের অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা

ধুলো মাইট অনেক অ্যালার্জির জন্য একটি সাধারণ কারণ সুতরাং, ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনার ঘর নিয়মিত ভ্যাকুয়াম করুন। একটি শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম অ্যালার্জির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরও ভাল সজ্জিত। সুতরাং, সেই দিকে কাজ করুন।

স্ট্রেস কিছু নির্দিষ্ট ধরণের ত্বকের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। মানসিক চাপ কমাতে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে ধ্যান এবং শারীরিক ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনার যদি অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে, তাহলে একটি এপিনেফ্রাইন ইনজেকশন নিয়ে যান (জীবন-হুমকির অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত) এবং কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন তা শিখুন। প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুতর হলে এটি জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

ত্বকের অ্যালার্জির জন্য ঘরোয়া প্রতিকার

এখানে কিছু সময়-পরীক্ষিত প্রতিকার রয়েছে যা আপনাকে ত্বকের অ্যালার্জি প্রশমিত করতে সাহায্য করতে পারে:

  • ওটমিল: ওটমিলে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা আপনাকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ার কারণে চুলকানি দূর করতে সাহায্য করতে পারে। ওটমিল অন্তর্ভুক্ত করার সেরা উপায়গুলির মধ্যে রয়েছে ওটমিল বাথ এবং পোল্টিস গ্রহণ করা।
  • বেকিং সোডা: এটিতে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি আপনাকে ত্বকের অ্যালার্জি শান্ত করার সময় আপনার ত্বকের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। আপনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেকিং সোডা পেস্ট প্রয়োগ করতে পারেন বা একটি বেকিং সোডা স্নান বিবেচনা করতে পারেন।
  • ভেষজ এবং গাছপালা: ঘৃতকুমারী, নিম, তুলসি, পার্সিমন পাতার নির্যাস, স্টিংগিং নেটেল, ক্যামোমাইল সহ বিভিন্ন ধরণের ভেষজ এবং উদ্ভিদ রয়েছে যা আপনি ত্বকের ফুসকুড়ি বা আপনার ত্বকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করতে পারেন।

কখন একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন?

ত্বকের রোগগুলি প্রায়ই নিজেরাই বা সাধারণ ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করে চলে যায়। যাইহোক, যদি আপনার লক্ষণগুলি অব্যাহত থাকে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা নিশ্চিত করুন। আপনার ডাক্তার আপনার সমস্যার মূল শনাক্ত করবেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করবেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন:

কীভাবে ত্বকের অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাবেন?

ত্বকের ফুসকুড়ি থেকে মুক্তি পেতে আপনি একটি ওটমিল স্নান, ঠান্ডা কম্প্রেস, সদ্য নিষ্কাশিত অ্যালোভেরা জেল, নারকেল তেল বা বেকিং সোডা প্রয়োগ করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। যাইহোক, যদি ঘরোয়া প্রতিকারগুলি কাজ না করে এবং লক্ষণগুলি অব্যাহত থাকে বা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তবে আপনার ডাক্তারের কাছে যান।

ত্বকের অ্যালার্জিতে কী করবেন?

আপনি ত্বকের অ্যালার্জি প্রশমিত করতে হাইড্রোকর্টিসোন বা ক্যালামাইনের মতো মলম এবং ক্রিম প্রয়োগ করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে, অ্যান্টিহিস্টামাইনগুলি বিস্ময়কর কাজ করতে পারে। অন্যান্য প্রতিকারের মধ্যে রয়েছে – ঠান্ডা কম্প্রেস এবং বেকিং সোডা বা ওটমিল বাথ। যাইহোক, আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন না, কারণ তিনি আপনার ত্বকের রোগের প্রকৃতি অনুসারে আপনাকে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করবেন।

আপনি কীভাবে ত্বকের অ্যালার্জির ধরন সনাক্ত করতে পারেন?

লালভাব, ব্যথা, চুলকানি এবং প্রদাহ হল ত্বকের অ্যালার্জির কিছু সাধারণ লক্ষণ এবং উপসর্গ। অতএব, আপনার ত্বকের অ্যালার্জির ধরন সনাক্ত করা আপনার পক্ষে কঠিন হতে পারে। অতএব, আপনার লক্ষণগুলি আরও খারাপ হলে আপনার ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত সুপারিশ করা হয়।


Saturday, 1 October 2022

ব্রণ



ব্রণ 

অ্যাচেন ভালগারিস ত্বকের একপ্রকার দীর্ঘকালীন রোগ। এই রোগে তেল এবং ত্বকের মৃত কোষের জন্য গ্রন্থি-কোষ বন্ধ হয়ে যায়, যাকে কেউ কেউ ত্রুটি বা কলঙ্ক, ব্ল্যাকহেডস, ওয়াইহেডস, ফুসকুড়ি বা জিটস বলে। 

বয়ঃসন্ধির সময়ে সেবাসেয়াস (তৈলাক্ত) গ্রন্থির কার্যকারিতার হয়ে সমস্যার সূত্রপাত। পুরুষ এবং মহিলা, উভয়ের অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পুরুষ হরমোনকে এই গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে। ফুসকুড়ি সাধারণত মুখে, ঘাড়ে, বুকে এবং পিঠে দেখা যায়। 

কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এটা হামেশাই হয়, যা এই বয়স পেরিয়ে যাবার পরে ভালো হয়ে যায়। অনেক মহিলারা যাদের কোনোদিন ব্রণ হয় নি তাদের ক্ষেত্রে মেন্সট্রুয়াল পিরিয়ড শুরু হবার ঠিক আগে ব্রণ হওয়া শুরু হয়।  

লক্ষণ

ব্রণর লক্ষণ হল: ব্ল্যাক-হেড, হোয়াইটহেড, আঁশযুক্ত লাল ত্বক, ছোট ছোট লাল বাষ্প, ফুসকুড়ি, সিস্ট এবং ত্বকে দাগ বা ক্ষত। 

কারণ

ব্রণ যেসব কারণের জন্য হয় তা হল:

  • ত্বকের মৃত কোষ।
  • তেল তৈরি হওয়া।
  • ব্যাকটেরিয়া।
  • বন্ধ লোমকূপ। 

বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, বিশেষকরে টেস্টোস্টেরন। এই পরিবর্তিত হরমোনের কারণে ত্বকের গ্রন্থিরা আরও তেল (সেবাম) তৈরি করে। লোমকূপ থেকে তেল বেরিয়ে ত্বককে সুরক্ষা প্রদান করার পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।  

রোগ নির্ণয়

রোগ নির্ণয় পদ্ধতিতে, শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি রোগীর ওষুধ-চিকিৎসার ইতিহাস জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং ডাক্তার এগুলোর মূল্যায়ন করে। মহিলাদের মেনস্ট্রুয়েশানাল চক্রের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হতে পারে, কারণ এর মাধ্যমে ডাক্তার এটা বোঝার চেষ্টা করে, যে হরমোন এই ব্রণ বা ফুসকুড়ি বাড়বার পিছনে দায়ী কি না।

প্রতিরোধ 

ব্রণ বা ফুসকুড়ি আটকানো সম্ভব বা হলেও, পরিস্থিতি খারাপ হওয়া আটকাতে কিছু ঘরোয়া প্রতিকারে উপকার পাওয়া যায়।

  • বেশী ঘেমে যাওয়া আটকান এবং ঘেমে গেলে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  • দাগ বা ক্ষত এবং ত্বকের অন্যান্য ক্ষতির হাত থেকে বাঁচুন। 
  • মুখে বার বার হাত দেবেন না।
  • কড়া রাসায়নিক এবং তেলের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
  • সরাসরি সূর্যালোকের  হাত থেকে ত্বককে আটকান।
  • বেশী তেলযুক্ত হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না। 

চিকিৎসা

ব্রণ বা ফুসকুড়ির চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হল:

  • ব্রণ বা ফুসকুড়ি নিয়ন্ত্রণ করা।
  • ক্ষত/দাগ এবং ত্বকের অন্যান্য ক্ষতি এড়িয়ে চলা।
  • ক্ষত বা দাগ যাতে দেখা না যায়। 

রোগের চিকিৎসার জন্য অসংখ্য ওষুধ পাওয়া যায়, যা বারবার ব্রণ ফেটে গিয়ে হওয়া জটিলতা প্রতিরোধ করে। প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে নাতিশীতোষ্ণ দেশে যে সব ওষুধ পাওয়া যায়, তা হল:

রেটিনয়েডঃ জেল, ক্রিম এবং লোশানের মতন প্রচলিত ওষুধ, যা ভিটামিন এ থেকে বানানো হয় এবং এর মধ্যে অ্যাডাপ্যালেন, ট্রেটিনোয়েন এবং ট্যাজারোটেন থাকে। এটা চুলের গ্রন্থি কোষের মুখ বন্ধ করে কাজ করে।

অ্যান্টিবায়োটিক: ত্বকের অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং লালচে ভাব কমায়। চিকিৎসার প্রথম কয়েকমাসে, রেটিনয়েড ও অ্যান্টিবায়োটিক একসাথে খেতে পারেন। অ্যান্টিবায়োটিক সকালবেলায় এবং রেটিনয়েড সন্ধেবেলায় খাওয়া যেতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি বাধা তৈরি হবার সম্ভাবনা কমাবার জন্য এটাকে বেনজয়েল পেরক্সাইডের সাথে খাওয়া যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বেনজয়েল পেরক্সাইডের সাথে এরিথাইরোক্সোমাইসিন এবং বেনজয়েল পেরক্সাইডের সাথে ক্লিডামাইসিন।

ডেপসনঃ টপিকাল রেটিনয়েডের সাথে একসাথে ব্যবার করলে এই জেল যথেষ্ট কার্যকারী। ত্বকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে শুষ্কতা এবং লালচে ভাব অন্যতম।

ওরাল ওষুধ

ব্রণ বা ফুসকুড়ির চিকিৎসায় ডাক্তাররা সাধারণভাবে যে ধরনের ওষুধ দেন তা হল:

ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক: যেমন ডক্সিসাইক্লিন, ক্লিডামাইসিন। টেট্রাসাইক্লিন এবং এরিথ্রোমাইসিন

কম ডোজের জন্ম নিয়ন্ত্রক ওষুধ: এর মধ্যে ইস্ট্রোজেন থাকে, যা মহিলাদের মাঝারি মাত্রার ব্রণ এবং প্রিমেন্সট্রুয়াল ঝলকের সময়ে কাজ দেয়।

অ্যান্ড্রোজেন ব্লকারঃ স্পিরোনোলাক্টোন ব্রণের চিকিৎসায় কাজ দেয়। এই ওষুধ মেদ থেকে নিঃসৃত রসের দ্বারা তৈরি হওয়া কারোর ক্ষত নিরাময় করে।

 

Thursday, 29 September 2022

এলার্জি কি? কেন হয়, মুক্তির উপায় || এলার্জি কেন হয় || এলার্জি দূর করার উপায়

 


 হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের  নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।


এলার্জি কি?

মানুষের শরীরে এক একটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম আছে। কোন কারণে এই ইমিউন সিস্টেমে গণ্ডগোল দেখা দিলে এলার্জির বহির্প্রকাশ ঘটে। কখনও কখনও আমাদের শরীর ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন বস্তুর প্রতি শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াই এলার্জি।

এলার্জি কেন হয়?

যদিও এলার্জি একটি বহুল প্রচলিত শব্দ কিন্তু এই এলার্জি সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই সঠিক কোন ধারণা নেই। শ্বাস কষ্ট, এক্জিমা ইত্যাদি বহু চর্মরোগেরই কারণ এলার্জি।

নিম্নলিখিত বিভিন্ন কারনে এলার্জি হতে পারেঃ

১: ঘরের জমানো ধুলো হাপানি জনিত এলার্জির জন্য একটি অন্যতম কারণ। ঘরের ধুলোতে মাইট নামক এক ধরনের ক্ষুদ্র জীবানু থাকে যা শতকরা প্রায় ষাট শতাংশ ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টির জন্য দায়ী।

২: দুষিত বাতাস, ঘরের ধুলো, ফুলের পরাগ, ধোয়া, কাঁচা রংয়ের গন্ধ, চুনকাম, পুরানো ফাইলের ধুলো ইত্যাদি দেহে এলার্জিক বিক্রিয়া সৃষ্টি করে হাপানি রোগের সৃষ্টি করতে পারে। ছত্রাক এলার্জি তথা হাপানি সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ।

৩: খাদ্যে প্রচুর এলার্জির সম্ভাবনা থাকে যেমন- দুধে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গরুর দুধে খুব বেশি এলার্জি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে গরুর দুধে গায়ে চুলকানি, হাপানি ইত্যাদি হতে পারে। এছাড়াও মাছ, বাদাম, কলা, আপেল, আঙ্গুর, ব্যাঙের ছাতা, গম, ডিম, তরমুজ, পেয়াজ, রসুন, চকোলেট এমনকি ঠান্ডা পানীয়ও কোন কোন ব্যক্তির এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে।

৪: শিশুকে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পর অনেক সময় চুলকানি বা ঠান্ডাজনিত কোন সমস্যা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

৫: মশা, বেলেমাছি, মৌমাছি, বোলতা, ভীমরুল প্রভৃতি পতঙ্গের কামড়ে গায়ে চুলকানি, স্থানটি ফুলে যাওয়া এমনকি হাপানি পর্যন্তও হতে দেখা যায়। এছাড়াও শরীরে পশম বা পালক আছে এমন গৃহপালিত পশু যেমন- বিড়াল, কুকুর ইত্যাদি এবং গৃহপালিত পাখিও অনেক সময় এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া আর্টিকোরিয়া (আমবাত) নামক একটি চর্মরোগে ত্বকে চাকা চাকা হয়, ফুলে ওঠে এবং চুলকানি হয়। অধিকাংশ মানুষের জীবনের কোন না কোন সময় এই রোগটি হয়ে থাকে। এই আর্টিকোরিয়া শরীরের কোন নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে আবার সমস্ত শরীরে ছড়িয়েও পড়তে পারে। এ ধরনের এলার্জিতে প্রচন্ড চুলকানির সাথে বিভিন্ন আকারের লালচে চাকা চাকা ফোলা দাগ হতে পারে। নানান কারন এটা হতে পারে যেমন- খাদ্য এলার্জি থেকে (বাদাম, ডাল, মাংস, ডিম), পতঙ্গের কামড়ে (বোলতা, মৌমাছি, ভীমরুল, মাকড়সা) ইত্যাদি কারনে এটা হতে পারে।

৬: প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা

৭: রক্ত পরীক্ষা (রক্তে ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি আছে কিনা তা নির্ণয়)।

৮: সিরাম আইজিইর মাত্রা (সাধারণত এলার্জি রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা বেশি হয়)।

৯: স্কিন প্র্রিক টেস্ট (এ পরীক্ষায় রোগীর চামড়ায় বিভিন্ন এলার্জেন দিয়ে এ পরীক্ষা করা হয় এবং এ পরীক্ষাতে কোন কোন জিনিসে রোগীর এলার্জি আছে তা নির্ণয় করা হয়)।

১০: বুকের এক্স-রে (হাঁপানি রোগের ক্ষেত্রে বুকের এক্স-রে করে বোঝা যায়, অন্য কোনো কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা)।

১১: স্পাইরোমেট্রি (এ পরীক্ষায় রোগীর ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়)।


এলার্জির চিকিৎসা:

যদি এলার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তা পরিহার করার মাধ্যমে সহজেই এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এলার্জি ভেদে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে এলার্জি উপশম করা যায়।

এলার্জি দ্রব্য থেকে এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন নেয়ার মাধ্যমে সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

এ পদ্ধতির ব্যবহারে কর্টিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার কমে যায় এবং কর্টিকোস্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়। এটাই এলার্জি রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি। 

অনেকের ধারণা এলার্জি একবার হলে আর সারবে না কিন্তু প্রথমদিকে ধরা পড়লে এলার্জিজনিত রোগ একেবারেই সারিয়ে ফেলা সম্ভব। অপরদিকে অবহেলা করলে এবং রোগ দীর্ঘসময় ধরে থাকলে চিকিৎসা একটু কঠিন হতে পারে।

এলার্জি জাতীয় খাবার: 

কোন খাবারে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হলে, সেই খাবারটি দীর্ঘদিন বন্ধ রাখতে হবে। তারপর পুনরায় খাওয়া শুরু করে দেখতে হবে। যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হয় তবে খাওয়া চালিয়ে যেতে পারেন কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে খাবারটি বন্ধ করে দিতে হবে।

খাবারে অ্যালার্জির কারণে বেশ কিছু সমস্যা যেমন- বমি, মাথাব্যথা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। 

কোন কোন খাবারে অ্যালার্জি আছে তা খুঁজে বের করে সে খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।  খাবারের বেলায় ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে। অ্যালার্জির বিরুদ্ধে লড়তে ভিটামিন-ই খুবই কার্যকর।
 গাজর কিংবা শসার রসেও প্রচুর অ্যালার্জি প্রতিরোধী উপাদান আছে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা বেশি আছে, তাঁদের অ্যালকোহল, চা এবং কফি না পান করাই ভাল।

এলার্জি থেকে মুক্তির উপায়:

● প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করার সময় কিছু ময়লা বইয়ের সেলফে জমে থাকে এবং জমে থাকা ময়লা অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে। দু-এক দিন পর পর বইগুলো নাড়াচাড়া করলে সেলফে থাকা ডাস্ট চলে যাবে।

● বিছানার ডাস্ট মাইট থেকে পরিত্রাণ পেতে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, মশারি ইত্যাদি ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
এছাড়া ঘরের চারপাশে মেঝে ভালভাবে জল ও ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিদিন উঠোনে বা বেলকনিতে আসা রোদে লেপ, কম্পল ইত্যাদি ভালভাবে শুকিয়ে নেয়া যেতে পারে কারন রোদের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মিতে হাউজ ডাস্ট মাইট মরে যায়।

● এক সপ্তাহ পর পর ভেজা কাপড় দিয়ে দরজা এবং জানালা পরিষ্কার করা উচিত। সেইসঙ্গে দরজা এবং জানালার পর্দা মাঝে মধ্যে ভালভাবে ধুতে হবে।

● রান্না ঘরের ময়লা-আবর্জনা থেকে মুক্ত হতে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। ফ্লোর ক্লিনার ও গরম জল দিয়ে রান্না ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

● শিশুদের খেলনা, বিভিন্ন শোপিস, জুতা, ফ্যান, এসি, ঝাড়বাতি ইত্যাদিতে ধুলোবালি জমে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব পরিষ্কার করতে হবে।

● বাসায় পশুপাখি থাকলে প্রতিদিন স্বান করাতে হবে। পশুপাখি যে জায়গায় থাকে সেই জায়গাটা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। অবশ্যই খাওয়ার পর উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে দিতে হবে। 

তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
 আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন। 

আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।