***** HEALTH IS WEALTH *****

“I believe that the greatest gift you can give your family and the world is a healthy you.” – Joyce Meyer

**CONNECT US TO GET HEALTH TIPS DAILY ***

“Good health is not something we can buy. However, it can be an extremely valuable savings account.” – Anne Wilson Schaef

**YOUR FITNESS IS YOUR GREATEST WEALTH**

“A fit body, a calm mind, a house full of love. These things cannot be bought – they must be earned.” – Naval Ravikant

** FOLLOW US TO GET DAILY HEALTH BLOGS ***

“If you're happy, if you're feeling good, then nothing else matters.” – Robin Wright

**** THANK YOU ****

THANK YOU FOR YOUR CONTINUOUS HEALTH AND SUPPORT

"HEALTH GUIDE BENGALI" provide you all health information,our mission is to provide all health tips and health related information and health blogs...

Showing posts with label টাইফয়েড জ্বর. Show all posts
Showing posts with label টাইফয়েড জ্বর. Show all posts

Thursday, 29 September 2022

টাইফয়েড বা টাইফয়েড জ্বর (Typhoid fever)

 হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের  নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।


টাইফয়েড বা টাইফয়েড জ্বর (Typhoid fever) একটি সংক্রামক রোগ যা সালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) নামক এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমনে হয়। সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু ছড়ায়। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলেও এ রোগ হতে পারে। সাধারনত সংক্রমনের ১ থেকে ৩ সপ্তাহ পরে এই রোগের লক্ষন প্রকাশ পায়। এই রোগের প্রধান লক্ষনসমূহের মধ্যে আছে জ্বর, মাথা ব্যথা, বুকের উপর গোলাপি দাগ, লিভার বা প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, ডাইরিয়া কিংবা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য ইত্যাদি।

কিভাবে ছড়ায়

দূষিত খাবার এবং পানির মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শেও এই রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে।

টাইফয়েড জ্বর কেন হয়?

সালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) নামক এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমনে টাইফয়েড জ্বর হয়ে থাকে।

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ

সাধারনত টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার এক থেকে তিন সপ্তাহ পর রোগের লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ প্রকাশ পেতে শুরু করে। টাইফয়েডে আক্রান্ত শিশুরা হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। নিম্নে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ বর্ণনা করা হলঃ

টাইফয়েড জ্বরের প্রথম দিকে গলা ব্যথা, পেট ব্যথা, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, শরীর ব্যথা ইত্যাদি অনুভূত হয়।

রোগীর শরীরে দুর্বলতা ও অবসাদবোধ কাজ করবে।

সাধারণত জ্বর কিছুটা বাড়তে থাকে। ১০৩ থেকে ১০৪ ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।

বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।

ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

পেটের ওপরের দিকে বা পিঠে লালচে বা গোলাপি দাগ হতে পারে।

রোগ তীব্র হলে মারাত্মক ডায়রিয়া কিংবা তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

রোগী প্রলাপ বকতে পারে, এমনকি অচেতনও হয়ে যেতে পারে।

শরীরের ওজন দ্রুত হ্রাস পেতে পারে।

অনেক সময় এই জ্বর প্রথম সপ্তাহে ধরা পড়ে না। দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে জ্বর ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

অনেক সময় ওষুধ চলা অবস্থায়ও সপ্তাহ খানেক জ্বর থাকতে পারে।

কাদের হতে পারে

সাধারনভাবে দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে টাইফয়েড রোগ ছড়ায়। তাই দূষিত পানি বা খাবার খেলে এ রোগ হতে পারে।

টাইফয়েড জ্বর ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছে, এমন স্থানে ভ্রমণ বা অবস্থান করলে তাদের এ রোগ হতে পারে।

হাসপাতালে যারা এ রোগ সনাক্ত বা চিকিৎসার কাজ করেন তাদের হতে পারে।

টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে বা তাদের হাতে তৈরী করা খাবার খেলে এ রোগ হতে পারে।

আবার শারীরিকভাবে অসুস্থ্য ব্যক্তি বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে (যেমন- এইচআইভি বা এইডসের চিকিৎসার কারণে) এমন ব্যক্তির টাইফয়েড হতে পারে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা

চিকিৎসক রোগের ইতিহাস জেনে টাইফয়েড হয়েছে কিনা তা ধারনা করতে পারেন। আবার তিনি প্রয়োজন মনে করলে রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব বা পায়খানা পরীক্ষা এমনকি বোন মেরু পরীক্ষাও করাতে পারেন।

চিকিৎসা

প্রাথমিক অবস্থায় টাইফয়েড ধরা পড়লে এবং চিকিৎসকের পরামর্শমত সঠিক চিকিৎসা গ্রহন করলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো যায়। টাইফয়েড হলে কিছু ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন-

রোগীকে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খেতে হবে।

পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খেতে হবে।

পূর্ণ সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

পানিশূন্যতা দেখা দিলে প্রয়োজনে শিরার মাধ্যমে তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে।


টাইফয়েড জ্বর হলে করনীয়

টাইফয়েড সধারনত পানিবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়। তাই টাইফয়েড নির্ণয়ে সবার আগে অসুস্থ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতে হবে।

অবশ্যই নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। বাইরের খাবার এবং অপরিষ্কার শাক-সবজি ও কাঁচা-ফলমূল খাওয়া যাবে না।

খাওয়ার আগে এবং পায়খানার পরে হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে।

স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে এবং টয়লেট সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। টয়লেটে যেন কখনোই ময়লা বা পানি জমে না থাকে, সে ব্যপারে সাবধান হতে হবে।

ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।

টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে করনীয়

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে, পরিষ্কার পোশাক পরলে এবং নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করলে সহজেই টাইফয়েড প্রতিরোধ করা যেতে পারে। যেমন-

হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস আলাদা ভাবে রেখে পরিষ্কার করতে হবে।

টাইফয়েডে আক্রান্ত ব্যক্তিকে খাবার তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে হবে।

পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করে পান করতে হবে। সবসময় খাবার গরম করে খেতে হবে। বাইরের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। অপরিষ্কার শাকসবজি এবং কাচা ফলমূল খাওয়া যাবে না।

স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির টয়লেট সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

টাইফয়েড জ্বরে যা হতে পারে

টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলে নানান রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন- পরিপাকতন্ত্র থেকে রক্তক্ষরণ, হৃৎপিন্ডের মাংসপেশীতে প্রদাহ, কিডনিতে সংক্রমণ, মেরুদন্ডে সংক্রমণ, অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ, পিত্তথলিতে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়া, শরীরের ঝিল্লিতে সংক্রমণ ও প্রদাহ, মাথায় ও মেরুদন্ডে রক্ত জমাট বাঁধা ইত্যাদি। আবার বিভিন্ন ধরণের মানসিক সমস্যা যেমন- বিকারগ্রস্থ হওয়া, মস্তিষ্ক বিকৃতিও হতে পারে।

সবশেষে

সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন শুরু করা হলে জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ সাধারনত ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই কমে যেতে শুরু করে। জ্বর সেরে গেলেও সম্পূর্ণ কোর্স অবশ্যই শেষ করতে হবে। চিকিৎসকেরা সাধারনত টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে টানা ১৪ দিন বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ সেবন বা ইনজেকশন দিতে বলে থাকেন। তাই অবশ্যই জ্বর কমে গেলে বা সুস্থ্য বোধ হলেই ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেয়া যাবে না। সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময় পর্যন্ত ওষুধ সেবন না করলে শরীরে জীবাণু থেকে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে আবারও আক্রমণ করতে পারে।


তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
 আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন। 

আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।