***** HEALTH IS WEALTH *****

“I believe that the greatest gift you can give your family and the world is a healthy you.” – Joyce Meyer

**CONNECT US TO GET HEALTH TIPS DAILY ***

“Good health is not something we can buy. However, it can be an extremely valuable savings account.” – Anne Wilson Schaef

**YOUR FITNESS IS YOUR GREATEST WEALTH**

“A fit body, a calm mind, a house full of love. These things cannot be bought – they must be earned.” – Naval Ravikant

** FOLLOW US TO GET DAILY HEALTH BLOGS ***

“If you're happy, if you're feeling good, then nothing else matters.” – Robin Wright

**** THANK YOU ****

THANK YOU FOR YOUR CONTINUOUS HEALTH AND SUPPORT

"HEALTH GUIDE BENGALI" provide you all health information,our mission is to provide all health tips and health related information and health blogs...

Showing posts with label old age problems. Show all posts
Showing posts with label old age problems. Show all posts

Monday, 24 October 2022

বয়স্কদের স্বাস্থ্যে সামাজিক বিষয়ের প্রভাব

 

কী ভাবে সামাজিক বিষয়গুলি বয়স্ক মানুষদের জীবন এবং স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে?

বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু প্রবীণদের মন এবং স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। নিম্নলিখিত কিছু কারণ তাঁদের ক্ষেত্রে কিছু সামাজিক এবং মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে:

  • স্বাধীন ভাবে প্রতি দিনের কাজকর্ম করতে না পারা
  • বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের সঙ্গতিপূর্ণ পরিবর্তন মেনে নিতে না পারা
  • চলতে থাকা শারীরিক সমস্যা ও ক্রমাগত বেশি ওষুধ খাওয়া নিয়ে হতাশা
  • বড় সন্তানরা তাঁদের নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকায় সামাজিক বিচ্ছিন্নতা অনুভব করা
  • কাজ চালিয়ে যাওয়ার অক্ষমতা থেকে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় অনুভব করা
  • অবসর এবং রুটিন কাজকর্ম না থাকায় একঘেয়েমি
  • নিয়মিত আয় না থাকায় আর্থিক চাপ

পরিবার সম্পর্কে ধারণা পুরো পাল্টে গিয়েছে। এই পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং যৌথ পরিবারে ভাঙনের ফলে দেশের বয়স্ক মানুষরা এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পরিবারের কাঠামো ভেঙে ছোট ছোট নিউক্লিয়ার পরিবার তৈরি হচ্ছে। সেই পরিবারের মধ্যে নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং সম্মানজনক অবস্থান হারিয়ে বয়স্করা অসহায় বোধ করছেন। সুসংগঠিত সামাজিক সহায়তা না থাকায় গোটা পরিস্থিতিটা অন্ধকারময় বলে মনে হচ্ছে।

এই কারণগুলি বয়স্কদের সার্বিক স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই এই মানসিক-সামাজিক সমস্যাগুলোকে ধরেই প্রবীণদের জটিল চিকিৎসার গতিমুখ নির্দিষ্ট করতে হবে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে?

 


বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধাপে পরির্বতন আসে। এই পরিবর্তনগুলি হয়তো শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনও রোগের লক্ষণ নয়। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলি এক জন ব্যক্তির কাছে পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে। আমরা এই বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে রুখে দিতে পারি না বটে, তবে এই সব পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর এই পরিবর্তনের প্রভাব অনেকটাই কমাতে পারি।

বার্ধক্যের জন্য শরীরের যে পরিবর্তনগুলি হতে পারে :

  • ত্বক
  • হাড়, সংযোগস্থল, পেশি এবং শরীরের সামগ্রিক গঠন
  • গতিশীলতা এবং ভারসাম্য
  • মুখ, দাঁত এবং মাড়ি
  • চুল এবং নখ
  • হরমোন এবং অন্তস্রাবী গ্রন্থি
  • স্মৃতিশক্তি
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
  • শোনা এবং দেখার ক্ষমতা
  • স্বাদ এবং গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা
  • অন্ত্র এবং মুত্রাশয়

বার্ধক্যে শারীরিক অবস্থা


 

বার্ধক্যের সঙ্গে সঙ্গে কী কী রোগ এবং পরিস্থিতির সন্মুখীন হন প্রবীণরা?

বয়স্কদের শারীরিক সমস্যা শরীরের যে কোনও অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে যায় বা সেই অঙ্গটির ক্ষয় হয়। প্রবীণদের যে সব শারীরিক অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়, অঙ্গব্যবস্থার ভিত্তিতে তার একটা তালিকা দেওয়া হল ---

  • ১। মাসকিউলোস্কেলেটল : অস্টিওআর্থারাইটিস (ক্ষয়ের কারণে হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা), অস্টিওপোরোসিস (হাড়ের ক্ষয়), গাউট, পেশির ভর হ্রাস, হাড় ভাঙা
  • ২। হরমোন সংক্রান্ত : ডায়াবেটিস (রক্তে গ্লুকোজের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস), মেনোপজ, থাইরয়েডের ত্রুটিপূর্ণ ক্রিয়া, রক্তে উচ্চ মাত্রায় কোলস্টেরল, পরিপাক শক্তি কমে যাওয়া
  • ৩। নিউরোলজিক : ডিমেনসিয়া (অ্যালজাইমার বা অন্য ধরনের কিছু), পার্কিনসনস ডিজিজ, স্ট্রোক, দুর্বল দৃষ্টিশক্তি, কানে কম শোনা এবং ভারসাম্যের সমস্যা
  • ৪। দর্শন সংক্রান্ত : ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, গ্লুকোমা, ছানি, ডায়াবেটিস ও হাইপারটেশন সংক্রান্ত চোখের সমস্যা
  • ৫। কার্ডিওভ্যাস্কুলার ডিজিজ: হার্ট অ্যাটাক, কনজেসটিভ হার্ট ফেলিওর, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ, (হাইপারটেনশন), অথেরোস্ক্লেরোসিস (রক্ত পরিবহণতন্ত্র সরু এবং শক্ত হয়ে যাওয়া), পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (রক্ত পরিবহণতন্ত্র সরু হয়ে যাওয়ার কারণে কম রক্ত প্রবাহ)
  • ৬। ফুসফুস : ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের গ্রহণক্ষমতা কমে যাওয়া
  • ৭। কিডনি : দীর্ঘকালীন হাইপারটেনশন বা ডায়াবেটিসের কারণে কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া (কিডনি বা মূত্রাশয়ের রোগ)
  • ৮। চুল এবং ত্বক : চুল পড়ে যাওয়া, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া এবং চুলকানি, সংক্রমণ
  • ৯। ক্যান্সার : প্রস্টেট, কোলন, ফুসফুস, স্তন, চামড়া, মূত্রাশয়, ডিম্বাশয়, মস্তিষ্ক, অগ্ন্যাশয় -- মাত্র কয়েকটির নাম করা হল
  • ১০। অস্থি মজ্জা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা: যথেষ্ট পরিমাণ রক্তকোষ তৈরিতে অক্ষমতা (রক্তাল্পতা, মাইলোডাইসপ্যাসিয়া)
  • ১১। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল: পেটে ঘা, ডাইভারটিকিউলোসিস (কোলোনের দেওয়ালে ছোট ছোট পকেট তৈরি হওয়া), সংক্রমণ থেকে কোলোন প্রদাহ অর্কলাইটিস এবং ইস্কেমিক (কম রক্ত প্রবাহ), গিলতে অসুবিধা (ডিসফাগিয়া), কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শ এবং বারবার পায়খানা।
  • ১২। প্রস্রাব সংক্রান্ত : বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব করার সময় অসুবিধা এবং প্রস্রাব করতে কষ্ট
  • ১৩। মুখ এবং দাঁত : মাড়ির রোগ, মুখ শুকনো, দাঁত পড়ে যাওয়া, দাঁতের গঠন আলগা
  • ১৪। সংক্রমণ : মূত্রনালীর সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, দাদ, ত্বকের সংক্রমণ, কোলনে সংক্রমণ (কোলাইটিস)
  • ১৫। মানসিক: বিষণ্নতা, উদ্বেগ, ঘুমের ব্যাঘাত, অনিদ্রা
  • ১৬। সাধারণ সমস্যা : ক্লান্তি, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ক্ষুধামন্দ, ওজন কমে যাওয়া এবং পড়ে যাওয়া।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধাপে পরির্বতন আসে। এই পরিবর্তনগুলি হয়তো শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনও রোগের লক্ষণ নয়। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলি এক জন ব্যক্তির কাছে পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে। আমরা এই বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে রুখে দিতে পারি না বটে, তবে এই সব পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর এই পরিবর্তনের প্রভাব অনেকটাই কমাতে পারি।

বার্ধক্যের জন্য শরীরের যে পরিবর্তনগুলি হতে পারে :

  • ত্বক
  • হাড়, সংযোগস্থল, পেশি এবং শরীরের সামগ্রিক গঠন
  • গতিশীলতা এবং ভারসাম্য
  • মুখ, দাঁত এবং মাড়ি
  • চুল এবং নখ
  • হরমোন এবং অন্তস্রাবী গ্রন্থি
  • স্মৃতিশক্তি
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
  • শোনা এবং দেখার ক্ষমতা
  • স্বাদ এবং গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা
  • অন্ত্র এবং মুত্রাশয়

 

বয়স্কদের ভুলে যাওয়া রোগ বা অ্যালঝাইমার্স

 


অ্যালঝাইমার নামে একজন বিজ্ঞানীর নাম থেকে যিনি প্রথম এটা নিয়ে কাজ করেন। রোগটির পুরো নাম অ্যালঝাইমার ডিমেনডশিয়া।

ডিমেনশিয়া অনেক ধরনের হতে পারে তারমধ্যে অ্যালঝাইমার্স একটা ধরন। এছাড়া আছে এল বি ডি (এই রোগটির ক্ষেত্রে ব্রেনের কোষের মধ্যে Lewy body নামে এক ধরনের বস্তু জমতে থাকে), ভাসকুলার ডিমেনশিয়া (এর ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে রক্ত চলাচল কম হয়ে কোষগুলি শুকিয়ে যায়)। মস্তিষ্কের কগনাইটিভ ক্ষমতা বা হায়ার ফাংশান ক্রমশ থাকে এই ডিমেনশিয়ার জন্য। ফলে ডিমেনশিয়ার সাধারণ উপসর্গগুলি অ্যালঝাইমারের মধ্যে থাকলেও কিছু স্বতন্ত্রতাও থাকে। অ্যালঝাইমারের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপগুলি খুব ধীর লয়ে কমতে থাকে। ভাসকুলারের ক্ষেত্রে এটা খুব হঠাৎ করে তাড়াতাড়ি হয়। অ্যালঝাইমার্স বরং বলা যায় ডিমেনশিয়ার মধ্যে সবথেকে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা ধরন। আর দুঃখের বিষয় মানুষের গড় আয়ু যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এই অ্যালঝাইমার্স।

তাহলে বয়সটাই কি এই রোগের কারণ?

আগে ভাবা হত এটা বয়স বাড়লে হবেই। ৬৫ বছরের পর এর সম্ভাবনা বেশি হয়। যদিও তার আগেও হতে যে পারে না এমন নয়। পরিসংখ্যান বলছে ৬৫-বছর বয়সিদের প্রতি ১৪/১৬ জনের মধ্যে ১ জনের হতে পারে। আবার ৮০-র কোটায় যাঁদের বয়স তাঁদের প্রতি ৬ জনের মধে ১ জনের অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি রয়েছে। ৬৫ বছরের পর থেকে প্রতি ৫ বছর অন্তর এই ঝুঁকিটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে শুধু বয়সই একমাত্র কারণ নয়। কারণ ৬৫ বছরের কম বয়সিদেরও এই রোগের শিকার হতে দেখা যাচ্ছে।

অ্যালঝাইমার্সের আলাদা কোনও ধরন হতে পারে?

হতে পারে। যেমন— পিসিএ।

পশ্চেরিয়াল সেরিব্রাল অ্যালঝাইমার্স

- এটা মস্তিষ্কের পিছনের অংশে হয়, যার ফলে কোনও বস্তু চিনতে পারবেন না রোগী— সামনে মোবাইল রাখা থাকলেও সেটা যে মোবাইল বুঝতে সমস্যা হবে। এঁদের দেখার ক্ষেত্রে এবং স্থান সম্পর্কিত একটা সমস্যা হয়। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ধাপ বুঝতে পারেন না রোগী।

 

এলপিএ-লোগো পেনিক অ্যালঝাইমার্স

— এটায় অদ্ভুত একটা বাচনভঙ্গির সমস্যা হয় রোগীর। এঁরা এত ধীরে ধীরে কথা বলেন যেন মনে হয় কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। খুব থেমে থেমে কথা বলেন এবং শব্দ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।


ফ্রন্টাল অ্যালঝাইমার্স

- এর ক্ষেত্রে যে মানুষটা যেমন নন, তিনি তেমন হয়ে ওঠেন। যিনি অত্যন্ত সভ্য, ভদ্র একজন মানুষ তিনি হঠাৎ অশ্লীল শব্দ বলছেন, স্ত্রী ছাড়া কারও দিকে কোনওদিন তাকাননি এমন মানুষ অন্য নারীর দিকে তাকাচ্ছেন— সামাজিকভাবে যে ব্যবহারটা যথাযথ নয়, তিনি তেমন করতে থাকেন।

ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণ কেমন?

ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে স্মৃতির সমস্যা হয়। প্রথমে স্মৃতি হ্রাস বা ভুলে যাওয়া দিয়ে শুরু হয়। পরে সম্পূর্ণ স্মৃতিভ্রংশ হতে পারে। বাল্যস্মৃতি, অতীতটা ঠিক থাকে, অথচ বর্তমানটা একেবারেই তাঁরা ভুলে যান।

সাধারণ ভুলে যাওয়ার সঙ্গে তাহলে এর কোনও পার্থক্য আছে?

আছে। সাধারণ ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। বয়সজনিত কারণে ভুলে গেলে, ধামাচাপা দেওয়ার তাগিদটা থাকে না। অথচ অ্যালঝাইমার্স রোগীদের ক্ষেত্রে অবচেতনভাবেই রোগীরা বানিয়ে বানিয়ে কিছু বলে নিজের স্মৃতিশক্তির অক্ষমতা ঢাকার চেষ্টা করেন। তিনি নিজে থেকেই বানিয়ে বানিয়ে জবাব দেন। হয়তো দেখা যায় একদিন তিনি ব্যাংকে যাননি, অথচ বেমালুম বলে দিলেন গেছেন। ব্যাংকের নাম ভুলে গেছেন, বানিয়ে এমন একটা নাম বললেন যার কোনও অস্তিত্বই নেই আদপে। এইভাবে ভুল তথ্য দিয়ে নতুন করে একটা বিষয় সাজিয়ে দিচ্ছেন।

এটা কি অ্যালঝাইমারের রোগী বুঝে করছেন?

না একেবারেই নয়। রোগী কিন্তু বুঝছেন না তিনি কী করছেন, মস্তিষ্কের নিজস্ব কাজই এই ভুল তথ্য, ভুল স্মৃতি সরবরাহ করা।

সাধারণ ভুলে যাওয়া আর অ্যালঝাইমার রোগীর ভুলে যাওয়াটা বোঝা যাবে কীভাবে?

সাধারণ ভুলে যাওয়ায় একজন বয়স্ক মানুষ একটা নাম বা শব্দ ভুললে সেটা বাড়ির বাইরের কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নিজের ছেলের, নাতির নাম সাধারণত কেউ ভোলেন না। যুক্তি, বুদ্ধি, বোধও ঠিক থাকে। অ্যালঝাইমার রোগীর কিন্তু তা নয়, এঁদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ও ভুল হয়। নিজের স্ত্রীর নাম ভুলে যেতে পারেন, এমনকী কখনও কখনও দেখা যায় নিজের নামও মনে করতে পারছেন না।

রোগটি হয় কেন?

এটা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন। চলছে নানা গবেষণা, পরীক্ষা। তবে মস্তিষ্কের ভিতরে এবং বাইরে দুটো জিনিসের ফলে এটা হয়। যাকে আমরা বলি ঘরে বাইরে শত্রু। একটু বুঝিয়ে বলি, মস্তিষ্কের মধ্যে একটা আমাদের সংবেদ উদ্দীপনা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু জৈব রাসায়নিক পদার্থ আছে যারা এক স্নায়ুকোষ থেকে অন্য স্নায়ুকোষে উদ্দীপনা পৌঁছে দেয়। স্মৃতিও একইভাবে এই স্নায়ুকোষের সরণি বেয়ে পৌঁছে যায় স্মৃতির সিন্দুকে যার নাম হিপোক্যাম্পাস। এই স্নায়ু উদ্দীপক যৌগগুলি microtubule পথে চলতে থাকে। সমান্তরালভাবে রেললাইনের মতো এই টিউবিউলগুলি চলে। এই টিউবিউলকে ধরে রাখার জন্য থাকে Tau protein। কারণ এই microtubule দিয়ে ব্রেনের পুষ্টি উপাদান যায় মস্তিষ্কের বেঁচে থাকার জন্য। এই Tau proteinগুলি যুক্ত থাকে ফসফেট দিয়ে। অ্যালঝাইমারে অতিরিক্ত ফসফেট জমে গিয়ে বন্ধনটা নষ্ট হয়ে যায়। অনেকগুলো Tau খুলে জমে গিয়ে নিজেদের মধ্যে জড়িয়ে যায়—একেই বলা হয় নিউরো ফিব্রিলারি ট্যাঙ্গেল। ক্রমশ এরা Synapse এর দিকে চলে আসে। তখন স্নায়ু উদ্দীপকগুলি বাহিত হয়ে তথ্য অন্য স্নায়ুতে পৌঁছানোর জন্য অন্য একটি প্রোটিন লাগে যার নাম Kibra protein। এই ট্যাঙ্গেলগুলো জমে গিয়ে Kibra protein গুলি ধ্বংস করে দেয়। এটাকে ঘরের শত্রু বলা যায়।

আবার নিউরনের বাইরে অ্যামালয়েড প্লাক জমে। এটা একটা প্রোটিন। বিটা অ্যাময়লয়েড জমে গিয়ে তৈরি হয় অ্যাময়লয়েড প্লাক। আগে বলা হত, এটা বেশি পরিমাণে তৈরির ফলে সমস্যা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অ্যালঝাইমারের রোগীদের এই প্লাকের ড্রেনেজটা স্বাভাবিক মানুষের থেকে অন্তত ৩০% কম হচ্ছে, ফলে প্লাক জমে গিয়ে Synapse-এর গায়ের মেমব্রেনগুলো ফুটো হয়ে ক্যালশিয়াম ভিতরে ঢুকে যায়, এছাড়াও ফ্রি র‌্যাডিকালগুলিও কোষগুলিকে নষ্ট করতে সাহায্য করে। এই নিউরো ফ্যাব্রিলারি ট্যাঙ্গেল এবং অ্যাময়লয়েড প্লাক জমা এই দুটিই মূলত অ্যালঝাইমারের কারণ।

অ্যালঝাইমারের ক্ষেত্রে নাকি বায়োপসি করা হয়। তাহলে বায়োপসির মাধ্যমে কি সেটা জানা যায়?

না। বায়োপসির মাধ্যমে সেটা মৃত্যুর পর জানা যায়।

আগাম অ্যালঝাইমার্স হতে পারে— জানার কি তাহলে কোনও উপায় আছে?

অ্যালঝাইমার হতে পারে কিনা আগাম বলা মুশকিল। এখনও পর্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে কোনও পরীক্ষার মাধ্যমে আগাম অ্যালঝাইমার্স নির্ণয় করা যায় না।

তাহলে রোগ নির্ণয় কীভাবে সম্ভব?

লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করতে হয়। সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়ির লোক রোগীর এই উপসর্গগুলি বুঝতে পারেন এবং তখন রোগীর কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে সন্দেহ হওয়ার ফলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তখন চিকিৎসক মিনিমেন্টাল সেস্টাস এক্সামিনেশন করেন। মূলত এর চারটি স্তর রয়েছে- মিনিমেন্টাল কগনাইটিভ ইমপেয়ারমেন্ট (এমসিআই), মাইল্ড মডারেট এবং সিভিয়ার। আমরা চাইব রোগীরা শুরুর দিকে বা মাঝামাঝি স্তরে ধরা পড়ুন। নাহলে স্তর যত বাড়বে, সমস্যা তত বাড়বে। জেনে রাখা ভালো, খুব বাড়াবাড়ি পর্যায়ে কোনও ওষুধ খুব একটা কাজ করে না।

শুরুর দিকে তাহলে সমস্যাটা কেমন হতে পারে?

একদম শুরুর দিকে সামান্য কিছু সমস্যা হতে পারে, অল্প-স্বল্প সাধারণ স্মৃতির সমস্যা বা আরও পরে বুদ্ধি-বিবেচনার সমস্যা হতে পারে। তারপর ভুলে যাওয়ার সমস্যা ক্রমশ বাড়তে পারে। বাড়ির ঠিকানা ভুলে যেতে পারেন বা পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন। সিভিয়ার স্তরের রোগীদের এবিএল অর্থাৎ রোজের জীবনযাত্রা প্রভাবিত হয়। একেবারে পরনির্ভরশীল হয়ে যেতে হয়। তাঁদের বাইরে ছাড়া যাবে না কারণ এঁরা রাস্তা চিনতে পারবেন না। ঘরের মধ্যে বাথরুম খুঁজে পান না। চিকিৎসকরা সাবধান করি, বাথরুমের ভিতরে যেন লক না থাকে, তাহলে লক করলে খুলতে পারবেন না তিনি। জামার বোতাম লাগানো, জুতোর ফিতে বাঁধা বা প্যান্ট-শার্ট পরার মতো কাজগুলোও তিনি করতে পারবেন না।

বাড়ির লোকের ভূমিকা কতটা?

বিদেশে তো ট্রেনিং দেওয়া হয় পরিবারের সদস্যদের। যিনি রোগীকে সামলাবেন তাঁর দায়িত্ব এই স্তরে ওষুধের চেয়েও বেশি। তাঁর রোগটি সম্পর্কে ভালো করে জানা দরকার। বাইরের দেশে ট্রেনিং হয়, এখানেও ব্যক্তিগতভাবে বা অল্প বিস্তর কিছু প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের প্রশিক্ষণ ইদানী শুরু হয়েছে। আমরা চিকিৎসকরাও বাড়ির লোকেদের বোঝাই। এই রোগীদের সামলাতে সত্যিই রীতিমতো ট্রেনিং দরকার। তাই আমরা নানা সেমিনার, ক্যাম্প করি সচেতনার জন্য।

তাহলে অ্যালঝাইমার্স হচ্ছে কিনা বোঝার জন্য কোনও টেস্ট করা যায় না?

আচরণটা বোঝাই আসল। তাই দরকার খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা শুরু। অনেক সময়ে এঁরা খুব আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, প্রচণ্ড রেগে যাচ্ছেন, যাকে যা নয় তাই বলছেন, কেউ উপস্থিত নেই তাকেই এসেছে বলছে— এমন নানা সমস্যায় জেরবার হয়ে বাড়ির লোক অনেকে রোগীকে নিয়ে আসেন। তখন আমরা মিনিমেন্টাল স্টেটাস এক্সামিনেশন করাই। কখনও স্ক্যানিং এবং রক্ত পরীক্ষা করিয়ে দেখা হয় অন্য কোনও কারণ বা ঘটনা ঘটছে কিনা।

রিস্ক ফ্যাক্টর কী কী?

দুটো জিনিস— বয়স এবং জিনের প্রভাবটা অস্বীকার করা যায় না। বয়স বাড়বে, আর বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা বাড়বে— কারও বেশি কারও কম। আবার জিনগত একটা প্রভাবও কাজ করে। যাদের মধ্যে অ্যাপোলাইপোপ্রোটিনই ই ফোর-জেনেটিক প্রবণতা টেন্ডেন্সি থাকলে তাদের মধ্যে অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি বেশি লক্ষ করা যায়। তবে সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত বলা যায় না। এখনও এই নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। আবার কিছু কিছু ঝুঁকি রয়েছে যা পরিবর্তন করা সম্ভব। যেমন ডায়াবেটিস, কোলেস্টরল, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এগুলোও সমস্যা বাড়াতে পারে। এগুলির নির্দিষ্ট চিকিৎসা আছে এবং এগুলি নিরূপণ করা গেলে কমতে পারে অনেক সমস্যাই। তাই জীবনশৈলী পরিবর্তন দরকার।

প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর-কথাটা এই রোগের ক্ষেত্রে কতটা সত্যি?

মাথায় রাখতে হবে সপ্তাহে তিনদিন ভালোরকম শারীরিক পরিশ্রম করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ভালো থাকে। আর আছে সুষম খাদ্যাভ্যাস। ডায়েটের ক্ষেত্রে মেডিটেরিয়ান ডায়েট মেনে চলুন। এতে থাকে প্রচুর শাকসবজি, ফল এবং মাছ। মাছের ওমেগা থ্রি শরীরের জন্য খুব উপকারী। এছাড়া কার্বোহাইড্রেট, রিফাইন্ড সুগার, ঠান্ডা পানীয়, তেল-মশলা বাদ দিন।

ব্রেন অ্যাক্টিভ রাখাটা কি উপকারী হতে পারে?

অবশ্যই। নিয়মিত কাগজের পাজল, শব্দছক, সুদোকু-করুন। বাড়িতে আলোচনা করুন কী পড়লেন। সবসময় আপনার মস্তিষ্ককে কিছু না কিছু কাজে বা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন নতুন করে কিছু শেখার চেষ্টা করা গেলে এইসব কিছু মস্তিষ্ককে সক্ষম এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি যোগা করুন। যোগাসন শরীরের পাশাপাশি মনও ভালো রাখে। স্ট্রেস, ডিপ্রেশন কাটিয়ে মন চাঙা রাখুন। মাইণ্ড ফুলনেস থেরাপি খুব ভালো কাজ দেয়।

চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?

মেডিসিন তো দেওয়াই হয়। অ্যাসিটাইল কোলিন বাড়তে সাহায্য করে এমন ওষুধ দেওয়া হয়। এর ৩/৪ রকমের প্রকারভেদ রয়েছে। অবস্থা বুঝে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসক নির্দিষ্ট ওষুধ ঠিক করেন। ইদানীং কিছু বিশেষ ধরনের প্যাচ পাওয়া যায় যা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে প্রয়োজনীয় ওষুধটি মস্তিষ্কে সরবরাহ করা যেতে পারে।

বাড়ির লোক কী করে বুঝবেন যে একটা সমস্যা শুরু হতে চলেছে?

খুব অসংলগ্ন কথা, হঠাৎ রেগে যাওয়া, কথা বলতে গিয়ে একটা শব্দ খুঁজতে গিয়ে খুব ভাবতে হচ্ছে— তখনই বুঝে নিতে হবে একটা সমস্যা হচ্ছে। ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিন, বয়সের ভিমরতি না ভেবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা খুব জরুরি যাতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে না যায়। তবে অবসাদ থেকেও ভুলে যাওয়ার একটা ব্যাপার অনেকের ক্ষেত্রে হয়, সেটা ডিমেনশিয়া নয়। এঁরা কথা বলতেই চান না, নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকেন, সেটা কিন্তু অ্যালঝাইমার নয়।

অ্যালজাইমার রোগ

 


অ্যালজাইমার রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যক্ষমতা দিন দিন লোপ পায়।  যার ফলে বিভিন্ন প্রকার মানসিক ও পরে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

কাদের হয়

এই রোগ সাধারণত বয়স্কদের (৬০ বৎসর) ও তদূর্ধ্ব ব্যক্তিদের হয়।

  • রোগের কারণ
  • বৃদ্ধ বয়স
  • বংশগত
  • মাথায় আঘাত
  • দুশ্চিন্তা

লক্ষণ

  • মানসিক অবসাদ ও সব কিছু ভুলে যাওয়া
  • দুশ্চিন্তা, মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, স্মৃতিশক্তি বিলুপ্ত হওয়া
  • খাওয়ার প্রতি অনীহা
  • স্বাভাবিক কাজকর্মে উদ্দ্যমহীনতা
  • পারিবারিক ও সামাজিক আচরণ পরিবর্তন হওয়া
  • এ ছাড়া শারীরিক দুর্বলতা ও পুষ্টিহীনতার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লক্ষণসমূহ

চিকিৎসা ও প্রতিকার

অ্যালজাইমার রোগের চিকিৎসা ও প্রতিকারের মধ্যে নিম্নলিখিত পদ্ধতি পালন করা যায়:

  • রোগীকে মানসিক সান্ত্বনা দেওয়া ও দুশ্চিন্তামুক্ত রাখা
  • শারীরিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা ও বাসস্থানের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা
  • রোগীর প্রতি পরিবারের সকলের সহানুভূতি  সূচক ব্যবহার করা
  • লক্ষণ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করা
  • রোগীকে সর্বক্ষণ খেয়াল রাখা যেন বাসা থেকে হঠাৎ বের হয়ে না যান

প্রতিরোধ

  • নিয়মিত ব্যায়াম
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ - এর মধ্যে চিনা বাদাম, আখরোট ইত্যাদি স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে
  • চিত্তবিনোদন
  • পারিবারিক সাহচর্য
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলি

প্রশ্ন ১ : অ্যালজাইমার রোগের কারণ কী?

  • বৃদ্ধ বয়স
  • বংশগত
  • মাথায় আঘাত
  • দুশ্চিন্তা

প্রশ্ন ২ : অ্যালজাইমার রোগের লক্ষণগুলো কী কী?

  • মানসিক অবসাদ ও ভুলে যাওয়া
  • দুশ্চিন্তা, মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া
  • খাওয়ার প্রতি অনীহা
  • স্বাভাবিক কাজকর্মে উদ্দ্যমহীনতা
  • পারিবারিক ও সামাজিক আচরণ পরিবর্তন হওয়া
  • এ ছাড়া শারিরীক দুর্বলতা ও পুষ্টিহীনতার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লক্ষণসমূহ

প্রশ্ন ৩ : অ্যালজাইমার রোগ কী ভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

  • নিয়মিত ব্যায়াম
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ - এর মধ্যে চিনা বাদাম, আখরোট ইত্যাদি স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে
  • চিত্তবিনোদন
  • পারিবারিক সাহচর্য
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা