***** HEALTH IS WEALTH *****

“I believe that the greatest gift you can give your family and the world is a healthy you.” – Joyce Meyer

**CONNECT US TO GET HEALTH TIPS DAILY ***

“Good health is not something we can buy. However, it can be an extremely valuable savings account.” – Anne Wilson Schaef

**YOUR FITNESS IS YOUR GREATEST WEALTH**

“A fit body, a calm mind, a house full of love. These things cannot be bought – they must be earned.” – Naval Ravikant

** FOLLOW US TO GET DAILY HEALTH BLOGS ***

“If you're happy, if you're feeling good, then nothing else matters.” – Robin Wright

**** THANK YOU ****

THANK YOU FOR YOUR CONTINUOUS HEALTH AND SUPPORT

"HEALTH GUIDE BENGALI" provide you all health information,our mission is to provide all health tips and health related information and health blogs...

Showing posts with label ক্যান্সার. Show all posts
Showing posts with label ক্যান্সার. Show all posts

Saturday, 1 October 2022

ওরাল বা মুখের ক্যান্সার

 ঠোঁটের ক্যান্সারমুখের ক্যান্সার

ওরাল বা মুখের ক্যান্সার

মুখের যেকোন জায়গায় ক্যান্সারাস টিস্যুর বৃদ্ধি হওয়াকে ওরাল ক্যান্সার বলে এবং এটা মাউথ ক্যান্সার নামেও পরিচিত। ওরাল ক্যান্সার সাধারণত ঠোঁটের আস্তরণ এবং মুখের ভেতরে্র স্কোয়ামাস কোষে হয়। এটা স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা নামেও পরিচিত। ঠোঁট, গলা, গাল, মুখের ভেতরের নীচের দিকে ও ওপর, মাড়ি, জিভ এবং সাইনাসের ক্যান্সার এর অন্তর্গত। প্রাথমিক ধাপে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না হলে ওরাল ক্যান্সার প্রাণঘাতীও হতে পারে। ওরাল ক্যান্সারে যেকেউ আক্রান্ত হতে পারে কিন্তু ৪০ বছরের বেশী বয়সের মানুষদের ঝুঁকি বেশী। তাছাড়াও, মহিলাদের থেকে পুরুষদের ঝুঁকি বেশী, বিশেষকরে তামাক, অত্যাধিক পরিমাণ অ্যালকোহল খান যারা কিংবা মাথা অথবা ঘাড়ের ক্যান্সারে আগে আক্রান্ত হয়ে থাকলে।  

লক্ষণ

প্রাথমিক ধাপে, মুখের ক্যান্সার সামান্য শারীরিক পরিবর্তন সহ নজরেই আসে না। লক্ষণ ও উপসর্গের মধ্যে থাকতে পারেঃ 

  • মুখে লাল অথবা সাদা দাগ তৈরি হয়।
  • মুখের মধ্যে আলসার হয় যার নিরাময় করা যায় না।
  • গলায় কষ্ট এবং আওয়াজ ঘোড়ার মতন হয়।
  • কোন কারণ ছাড়া মুখ থেকে রক্ত পড়া।
  • আলগা দাঁত এবং খারাপ দাঁতের গঠন।
  • মুখের ভেতর ফুলে যায় কিংবা লাম্প হয়। 
  • চিবাতে কিংবা গিলতে ব্যথা এবং কষ্ট।
  • কানে ব্যথা যা কমে না।

জটিলতা

মুখের ক্যান্সার এবং তার চিকিৎসা থেকে বিভিন্ন জটিলতা হতে পারে যা হলঃ

ডিসফ্যাগিয়াঃ গিলতে কষ্ট হওয়া, যা থেকে ডিহাইড্রেশান ও পুষ্টির অভাব হয়।

ওরাল মিউকোসাইটিসঃ মুখের মিউকাস মেমব্রেনের জ্বালা-যন্ত্রণা এবং রেডিয়েশান ও কেমোথেরাপি করবার পরেও হতে পারে।

কথাঃ ক্যান্সারের চিকিৎসার ফলে রোগীর কথা বলার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সংক্রমণঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকার জন্য কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশানের সময়ে ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়াল বা ফাঙ্গাল সংক্রমন হতে পারে। 

রেডিয়েশান থেরাপি মুখের লালা তৈরি করা গ্রন্থির ক্ষতির পাশাপাশি এটা মুখকে শুষ্ক করে দেয় (স্কেরোস্টোমিয়া)। এটা চিবানোর জন্য ব্যবহৃত হওয়া পেশীরও ক্ষতি করে (ট্রিসমাস)। 

ক্যান্সার ও তার চিকিৎসার সাথে জড়িত প্রচলিত সমস্যা হল অবসাদ বা ক্লান্তি

বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা। 

কি কারণে হয়

ক্যান্সার ডিএনএ-র পরিবর্তনের ফোলে হয় যা থেকে কোষদের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি হয়। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মুখের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বেশী। বয়সকেও ঝুঁকির কারণ হিসেবে ধরা হয় কারণ এই ক্যান্সার ৪০ বছরের অধিক বয়সীদের হয়। মুখের ক্যান্সারের সঠিক কারণ জানা না গেলেও অনেক ধরনের ঝুঁকির কারণ আছে যা এই রোগ বাড়ার জন্য দায়ী, তা হলঃ

  • প্রতিদিন তামাক সেবন, যথা সিগারেট, সিগার, পাইপ।
  • প্রতিদিন তামাক, পানপাতা ও সুপারি চিবালেও ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • সুর্যের আলোয় অতিরিক্ত থাকলে ঠোঁটের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান।
  • হিউমান প্যাপিলোমো ভাইরাসের (এইচপিভি) সংক্রমণ।
  • দাঁতের অসমান তল কিংবা ভুল অথবা খারাপ ভাবে লাগানো ডেনটারের অস্বস্তি।
  • মুখ বা মাথা বা ঘাড়ের ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস।
  • রেডিয়েশানের সংস্পর্শ। 

রোগ নির্ণয়

মুখের ক্যান্সার প্রথম ধাপে নজরে নাও পরতে পারে, কারণ এই ধাপে খুব সামান্য শারীরিক বদল হয়। কিন্তু ডাক্তার বা ডেন্টিস্টরা মুখের পরীক্ষা করার সময়ে এই চিহ্নগুলো বুঝতে পারবেন, যেহেতু তাদের অধিক জ্ঞান ও সচেতনতা থাকে। মুখের পরীক্ষার সময়ে ডাক্তার মুখ, মাথা ও ঘাড়ে লাম্প বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির চিহ্ন খোঁজে। ডাক্তার তাছাড়াও ক্ষত, লালচে বা সাদা দাগ হওয়া দেখার চেষ্টা করে, যা মুখের ক্যান্সারের সম্ভাব্য কারণ। ডাক্তার সন্দেহজনক কিছু পেলে বায়োপসি করার সুপারিশ করে। মুখের ক্যান্সার যদি পরবর্তী ধাপে পৌঁছলে টেস্টের দ্বারা ক্যান্সারের ধাপ জানা হয় যার মধ্যে আছে এক্স-রে, সিটি বা এমআরআই এবং এন্ডোক্সোপি। গুরুতর কতটা তার ভিত্তিতে ক্যান্সার নীচের ধাপে ভাঙ্গা হয়ঃ

স্টেজ ১- এটা একটা জায়গায় কেন্দ্রীভূত টিউমারের ইঙ্গিত করে। 

স্টেজ ২- টিউমারের মাপ যদি ১ থেকে ২ ইঞ্চি হয়। 

স্টেজ ৩- টিউমার যদি আকারে বড় হয় কিন্তু এখনও ছড়ায় নি অথবা কাছের একটা লিম্প নোডে ছড়িয়েছে। 

স্টেজ ৪- ক্যান্সার যখন কাছাকাছি ঘাড়ের বা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের লিম্প নোডে ছড়িয়ে যায়। 

প্রতিরোধ

জীবনযাত্রার কিছু রদবদল অভ্যাস করলে ওরাল বা মুখের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে, যা হলঃ

১. ধুমপান এবং যেকোন ধরনের তামাক সেবন বন্ধ করুন।

২. মাঝারি পরিমাণে অথবা অ্যালকোহল একেবারেই না পান করা।

৩. সূর্যের আলোয় অতিরিক্ত না থাকা এবং ত্বক ও ঠোঁটে সানস্ক্রিম ব্যবহার করা। 

৪. নিজেই নিজেকে পরীক্ষা করা এবং নিয়মিত ডেন্টিস্টদের কাছে যাওয়া।

৫. এইচপিভি সংক্রমণ এড়ানো।

৬. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। 

চিকিৎসা

মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা, ক্যান্সার কোথায় হয়েছে এবং কোন ধাপে আছে সেটার ওপর নির্ভরশিল। একজন রোগীর কোন একটা কিংবা চিকিৎসার সম্মিলিত প্রয়াস হতে পারে, যার অন্তর্গত হলঃ  

সার্জারিঃ সার্জারির মধ্যে টিউমার ও তার আশেপাশের টিস্যু বাদ দেওয়া অন্তর্গত। টিউমার বড় হয়ে গেলে জিভ অথবা চোয়ালের হাড়ের একটা অংশ বাদ দেওয়া হয়। ক্যান্সার লিম্প নোড অবধি ছড়িয়ে গেলে সার্জারির দ্বারা এই লিম্প নোড ও পাশাপাশির ঘাড়ের টিস্যু বাদ দেওয়া হয়। ক্যান্সারকে সার্জারির মাধ্যমে বাদ দেওয়ার পরে খাওয়া ও কথা বলার ক্ষমতা পুনরায় অর্জন করবার জন্য রোগীদের রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির দরকার হতে পারে। ডেন্টাল ইমপ্লান্টেরও দরকার হতে পারে।   

রেডিয়েশান থেরাপিঃ ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার জন্য এখানে অধিক ক্ষমতাশালী বিম যেমন এক্স-রে ও প্রোটোন ব্যবহার করা হয়। ক্যান্সারের প্রাথমিক ধাপে এটা হয়তবা একমাত্র চিকিৎসা কিন্তু অ্যাডভান্স ধাপে সার্জারি অথবা কেমোথেরাপির সাথে রেডিয়েশান থেরাপি দেওয়া হয়। 

কেমোথেরাপিঃ ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার জন্য শক্তিশালী ওষুধের ব্যবহার এর অন্তর্গত। ক্যান্সারের অ্যাডভান্স ধাপে, বিশেষত আবার ক্যান্সার হবার সম্ভবনা থেকে গেলে রেডিয়েশান থেরাপির সাথে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। 

টারগেটেড ড্রুগ থেরাপিঃ এটা একধরনের কেমোথেরাপি কিন্তু কেমোথেরাপির স্টান্ডার্ড ওষুধের মতন কাজ করে না। কেমোথেরাপির স্টান্ডার্ড ওষুধ শরীরের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া ও বিভাজিত করার মতন সব কোষকে ধ্বংস করে, যেহেতু ক্যান্সার কোষ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও বিভাজিত হয়। অথচ টারগেটেড ড্রুগ থেরাপিতে, ওষুধ ক্যান্সার কোষদের নিশানা করে ও এইসব কোষদের বেড়ে ওঠায় সাহায্য করে যে কোষ তার চেহারা বদলে দেয়। এইসব ওষুধ যথা সেটুক্সিমাব স্বাস্থ্যকর কোষে অবস্থিত একটা অংশের কাজ বন্ধ করে দিলেও ক্যান্সার কোষের ওপর এর প্রভাব আরও বেশী।

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার

 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার


 


বিগত কয়েকদিন যাবত, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলিউড সেলিব্রিটি সোনালি বেন্দ্রের মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার খবর বেরোচ্ছে। সোনালি বেন্দ্রে নিজের টুইটারে হাই-গ্রেড ক্যান্সার (মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার) ধরা পড়ার খবর দিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে ইরফান খানের পরে এটা বলিউড সেলিব্রিটির এইধরণের দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হবার দ্বিতীয় ঘটনা। এখানে এই গুরুতর রোগের ব্যাপারে কিছু তথ্য দেওয়া হল। 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার কি?

মেডিক্যাল পরিভাষায়, কোন ক্যান্সারের তার উৎসস্থল থেকে শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়াকে মেটাস্ট্যাটিক বলা হয়। এই অবস্থাকে ডাক্তাররা ‘মেটাস্ট্যাটাসাইজড’ বলে মনে করেন। এটা “মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার” ও “স্টেজ ৪ ক্যান্সার” নামেও পরিচিত। 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার কীভাবে হয়?

মেটাস্ট্যাসেস হল মেটাস্ট্যাটিকের বহুবচন। প্রধানত, ক্যান্সার কোষ তার উৎসস্থল থেকে ভেঙ্গে বেরিয়ে রক্তস্রোত বা লিম্ফাটিক সিস্টেমে প্রবেশ করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লিম্ফাটিক তন্ত্র, সারা শরীরে তরল পদার্থ পরিবহন করে। তাই, মূল জায়গা থেকে ক্যান্সার কোষ অনেকদূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং সেখানে গিয়ে নতুন ক্যান্সার কোষ তৈরি করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বেড়ে উঠতে পারে। 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের জন্য কি কি বিষয় বা কারণ দায়ী?

মেটাস্ট্যাটেসিসের জন্য প্রধানত নিম্নলিখিত কারণগুলি দায়ীঃ

  • ক্যান্সারের ধরণ
  • ক্যান্সার বেড়ে ওঠার প্যাটার্ন বা ছাঁচ (এটা কত দ্রুত ছড়াচ্ছে)
  • চিকিৎসা হবার আগে এটা কতদিন ধরে বেড়েছে
  • অন্যান্য কারণ 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার কোথায় হতে পারে?

১. সাধারণত যেখানে বেড়ে ওঠেঃ প্রায়শই হাড়, মস্তিষ্ক, লিভার, লিম্প নোড ও ফুসফুসে বেড়ে ওঠে।

২. মোটামুটিভাবে যেখানে বেড়ে ওঠেঃ প্লিউরাল জায়গা (ফুসফুসের আশেপাশের আবরণ) বা তলপেটের গহ্বরে বাড়তে পারে। এইসব জায়গায় অতিরিক্ত তরল জমার সম্ভবনা থাকে (এটাকে ম্যালিগনেন্ট প্লিউরাল এফিউশান বা ম্যালিগনেন্ট অ্যাসিটেস বলা হয়)। তলপেটের গহ্বরের মধ্যের অনেকগুলো ক্ষুদ্র মেটাস্ট্যাটেসকে পেরিটোনিয়াল কারসিনোমেটোসিস বলা হয়। 

২. যেখানে কম মাত্রায় বাড়েঃ কোন কোন সময়ে, এটা সারা শরীরের ত্বক, পেশী বা অন্য অঙ্গেও ছড়াতে পারে।  

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার ছড়ানোর প্রচলিত উদাহরন কি? 

স্তনের ক্যান্সার-হাড়, লিভার, ফুসফুস, বুকের প্রাচীর ও মস্তিষ্ক।

মুত্রথলির ক্যান্সার- হাড়, লিভার ও ফুসফুসে ছড়ায়।

প্রোস্টেট ক্যান্সার- হাড়ে ছড়ায়।

ওভারিয়ান ক্যান্সার-লিভার, ফুসফুস ও পেরিটোনিয়ামে ছড়ায়।

ইউটেরাস ক্যান্সার- হাড়, লিভার, ফুসফুস, পেরিটোনিয়াম ও যোনিতে ছড়ায়।

ফুসফুসের ক্যান্সার- মস্তিষ্ক, লিভার ও অ্যাড্রিনাল গ্রস্থিতে ছড়ায়।

কোলন ও রেক্টামের ক্যান্সার- লিভার ও ফুসফুসে ছড়ানোর সম্ভবনা থাকে। 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের লক্ষণ কি?

এই নির্দিষ্ট রোগ ছড়ানোর ওপর মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের লক্ষণ নির্ভর করে। অনেকসময়েই লক্ষণ পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পায় না। মেটাস্ট্যাটিক টিউমারের আকার ও জায়গার ওপর লক্ষণ নির্ভর করে। 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের প্রচলিত লক্ষণ ও উপসর্গ হলঃ

  • মাথাঘোরা
  • মাথাযন্ত্রনা
  • দেখতে সমস্যা
  • নিঃশ্বাসের সমস্যা
  • তড়কা
  • ব্যাথা ও হাড় ভেঙ্গে যাওয়া
  • জণ্ডিস
  • তলপেট ফুলে যাওয়া
  • হাঁটতে কষ্ট হয় বা দ্বিধাগ্রস্ত ভাব 

প্রাইমারি ক্যান্সার ও মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের পার্থক্য কি?

প্রাইমারি ক্যান্সার ও মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের বৈশিষ্ট্য একই। মনে করুন, যে স্তনের ক্যান্সার লিভার, হাড় ও মস্তিষ্কে ছড়াচ্ছে, তখন এটাকে যেযায়গায় ছড়াচ্ছে তার ওপর নামকরণ করা হয় না। উৎসস্থল হিসেবে নামকরণ করা হয়। বৈশিষ্ট্য একই বলে এটাকে ব্রেস্ট মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার বলা হয়।

মোটামুটিভাবে মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের উৎস পাওয়া গিয়েছে। উৎপত্তি যদি সঠিকভাবে বোঝা না যায়, তাহলে এটাকে নিম্নলিখিত শ্রেণীতে ভাগ করা হয়ঃ

  • অ্যাডেনোকার্সিনোমা
  • স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা
  • নিউরোএন্ডোক্রিন কার্সিনোমা
  • পুয়োরলি ডিয়ারেন্সিয়েটেড ক্যান্সার 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের চিকিৎসা কি?

মেটাস্ট্যাটিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর। আসলে, ক্যান্সারের বৃদ্ধি কমানো বা বন্ধ করা কিংবা লক্ষণের উপশম করাটাই হল চিকিৎসার লক্ষ্য। মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের চিকিৎসার মধ্যে রেডিয়েশান ও সার্জারির পাশাপাশি কেমোথেরাপি ও অলটারনেটিভ কেমোথেরাপি অন্যতম।  

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন বিষয় কি?

গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলঃ

  • প্রাইমারি ক্যান্সার এবং উৎসস্থল
  • ক্যান্সার কতটা ছড়িয়েছে
  • বয়স 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের কি নিরাময় সম্ভব?

অধিকাংশক্ষেত্রেই নিরাময় করা যায় না। সঠিক চিকিৎসার সাহায্যে শুধু বৃদ্ধির হার ধীরে করা যায়। রোগীর আরও বেশীদিন বাঁচতে পারবে। 

মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সারের বর্তমান পরিসংখ্যান কি?

আইসিএমআর-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, ভারতবর্ষে বর্তমানে ১৭ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং ২০২০ সালের মধ্যে ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ৮ লক্ষ হবে।

ক্যান্সার ইন্ডিয়া.ওআরজি-র অন্য একটা পরিসংখ্যান অনুসারে, ভারতবর্ষে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২.৫ মিলিয়ান এবং প্রতি বছর ৭ লক্ষ নতুন কেস আসছে। আশেপাশের ঘটনার দিকে নজর দিলে এটা কিন্তু একেবারেই কাল্পনিক কিছু নয়।

মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সার

 

 মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সার

মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সার হল একটি বিস্তৃত ক্যানসার যা মাথা এবং ঘাড় অঞ্চলে ঘটে।

মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে আপনার ক্যান্সারের ধরন, অবস্থান এবং আকারের উপর। মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় প্রায়ই সার্জারি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং কেমোথেরাপি অন্তর্ভুক্ত থাকে। চিকিত্সা মিলিত হতে পারে।

চিকিত্সার পরে, মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সার থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সাথে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যেমন শ্রবণশক্তি হ্রাস, খেতে অসুবিধা, দাঁতের সমস্যা, থাইরয়েড সমস্যা, শ্বাস নিতে অসুবিধা বা কথা বলতে অসুবিধার সাথে কাজ করা জড়িত থাকতে পারে।

প্রকারভেদ

লক্ষণ

সাধারণভাবে লক্ষণ এবং উপসর্গ হল- লিম্প তৈরি হয় (যার নিরাময় হয় না) বা ক্ষত বা ঘা (মিলিয়ে যায় না), গিলতে কষ্ট, স্বরে পরিবর্তন, অস্বাভাবিক রক্তপাত, মুখ ফুলে যাওয়া বা নিঃশ্বাসের কষ্ট। মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সারের মধ্যে অনেকগুলো শরীরের অঙ্গ জড়িত, যার মধ্যেঃ

  • নাসাল ক্যাভিটি ক্যান্সার।
  • ঠোঁট এবং ওরাল ক্যাভিটি ক্যান্সার।
  • ন্যাসোফ্যারিঙ্গাল ক্যান্সার।
  • ওরোফ্যারিঙ্গাল ক্যান্সার।
  • হাইপোফ্যারিঙ্গাল ক্যান্সার।
  • ল্যারিঙ্গাল ক্যান্সার (ফুলে যাবার সাথে যন্ত্রণা অথবা কানে ব্যথা)।
  • লালা গ্রন্থির ক্যান্সার।
  • প্যারাথাইরয়েড ক্যান্সার।
  • থাইরয়েড ক্যান্সার। 

কারণ

মাথা এবং ঘাড়ের ক্যান্সারের জন্য অনেক কারণ থাকতে পারে। সেই সব কারণের মধ্যে কিছু প্রচলিত কারণ সম্পর্কে বলা হলঃ

  • তামাক চেবানো, পান অথবা গুটখা।
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল।
  • অপ্রতুল খাবার খাওয়া।
  • সংক্রমণ।
  • গ্যাস্ট্রোইসোফেগাল রিফ্লাক্স রোগ।
  • এপ্সটেইন-বার ভাইরাস।
  • হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টটেশান

অন্যান্য সম্ভাব্য কারণঃ দীর্ঘদিন পেট্রলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিয়াল সামগ্রির সংস্পর্শ কিংবা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, কাঠের ধুলো-ময়লা অথবা রঙের ধোঁয়া থেকেও এটা হতে পারে।  

রোগ নির্নয়

রোগীর লক্ষণ এবং উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে ডাক্তার টেস্ট বা পরীক্ষা করে রোগ নির্নয় করে। সাধারন বা প্রচলিত টেস্ট হল

  • শারীরিক পরীক্ষাঃ ছোট আয়না এবং/অথবা আলোর সাহায্যে চোখে দেখে ওরাল এবং নাসাল ক্যাভিটি, গলা, ঘাড় এবং জিভ পরীক্ষা করে দেখা হয়। ডাক্তার ঘাড়, ঠোঁট, মাড়ি এবং থুতনিতে লাম্প বা ফোলা পেতে পারে। 
  • বায়োপসি, এন্ডোক্সোপি।
  • রক্ত বা মুত্র পরীক্ষা।
  • এক্স-রে।
  • সিটি স্ক্যানঃ এটা ঘাড় ও মাথার ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিস্তারিত চিত্রের সমাহার।
  • এমআরআইঃ এটা একটা শক্তিশালী চুম্বক যা কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে। এটাও মাথা ও ঘাড়ের ভেতরের বিস্তারিত ছবি তোলে।
  • পিইটি স্ক্যানঃ এটা বিশেষ উপায়ের পরিমার্জিত এবং যথাযথ পদ্ধতি। ক্যান্সার কোষ কিংবা সন্দেহজনক কোষ এটাকে শোষণ করে ফলে স্ক্যানে গাঢ় জায়গা হিসেবে দেখা যায়।
  • ওরাল ক্যাভিটি পরীক্ষাঃ এটা সাধারণত শারীরিক পরীক্ষার অন্তর্গত।
  • স্যালিভারি বা লালা গ্রন্থির পরীক্ষাঃ এটা সাধারণত শারীরিক পরীক্ষার অন্তর্গত।
  • প্যারান্যাশাল সাইনাস ও নাসাল ক্যাভিটি পরীক্ষা।
  • ফ্যারিংক্স পরীক্ষা। 
  • লিম্প নোড এবং ঘাড়ের ওপরের অংশ।    

প্রতিরোধ

উপরে উল্লেখিত ঝুঁকির কারণ ( কি কারণে হয়) এড়িয়ে যাওয়াটাই কার্যকারি প্রতিরোধ। রুটিন মেডিক্যাল পরীক্ষা প্রাথমিক ধাপে মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার চিহ্নিত করতে পারে যাতে এটা সহজেই চিকিৎসা করা যায় এবং বেঁচে থাকার সম্ভবনা দারুণ বেড়ে যায়। এটা আশা করা হয়, যে এইচপিভি টিকা এইচপিভি থেকে হওয়া মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার ধ্বংস করতে পারবে।

চিকিৎসা

মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার চিহ্নিত হবার পরে, ডাক্তার তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করে। প্রচলিত কিছু চিকিৎসা প্রক্রিয়া হল। যা নিচে উল্লেখ করা হল।

ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট অনুসারে, ডাক্তার ব্যক্তির চিকিৎসা পদ্ধতি ঠিক করে। প্রখরতা, ধাপ এবং আনুসাঙ্গিক অন্যান্য কারণের ওপর নির্ভর করে থেরাপির ধরন আলাদা আলাদা হয়।

সার্জারিঃ সার্জারি চিকিৎসার প্রচলিত ধরন যা এই ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রায়শই ব্যবহার করা হয়। সাধারণত, ক্যান্সারাস অথবা সংক্রামিত কোষকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হল প্রধান লক্ষ্য।

রেডিয়েশান থেরাপিঃ রেডিয়েশান থেরাপি সবথেকে প্রচলিত চিকিৎসার রকমফের। বিভিন্ন ধরনের রেডিয়েশান থেরাপি আছে, যা হলঃ

১. ৩ডি কনফরমাল রেডিয়েশান থেরাপি

২. ইনটেন্সিটি-মডুলেটেড রেডিয়েশান থেরাপি।

কেমোথেরাপিঃ স্থানীয়ভাবে ডোসেটাক্সেল-ভিত্তিক কেমোথেরাপি ভীষণভাবে ফলপ্রসূ। এটা মাথা ও ঘাড়ের অ্যাডভান্স ক্যান্সারে ব্যবহৃত হয়।

ফটো ডায়নামিক থেরাপিঃ এটা মিউকোসাল ডিস্প্লেসিয়া এবং মাথা ও ঘাড়ের ছোট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে দারুণভাবে কার্যকারি।

টারগেটেড থেরাপিঃ এই পদ্ধতিতে স্বাভাবিক কোষের ক্ষতি না করে নির্দিষ্ট ক্যান্সার কোষকে (টারগেটেড সেল) আক্রমণ করার জন্য কিছু ওষুধ বা উপাদান (যথা মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি) ব্যাবহৃত করা হয়।


 

ভারিয়ান, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং পেরিটোনাল ক্যান্সার

 

ভারিয়ান, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং পেরিটোনাল ক্যান্সার

ডিম্বাশয় সম্পর্কে

ডিম্বাশয় নারী প্রজনন ব্যবস্থার অংশ। 2টি ডিম্বাশয় রয়েছে, 1টি জরায়ুর প্রতিটি পাশে অবস্থিত। মেনোপজ হওয়ার আগে, এই গ্রন্থিগুলি বাদাম আকৃতির এবং প্রায় 1.5 ইঞ্চি লম্বা হয়। এগুলিতে ডিম থাকে, যাকে জীবাণু কোষও বলা হয়। ডিম্বাশয় শরীরের জন্য ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের প্রাথমিক উৎস। এই হরমোনগুলি স্তনের বৃদ্ধি, শরীরের আকৃতি, শরীরের চুলকে প্রভাবিত করে এবং মাসিক চক্র এবং গর্ভাবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। মেনোপজের সময় এবং পরে, ডিম্বাশয় ডিম নিঃসরণ বন্ধ করে এবং নির্দিষ্ট হরমোন তৈরি করে।

ফ্যালোপিয়ান টিউব সম্পর্কে

ফ্যালোপিয়ান টিউব হল ছোট নালী যা ডিম্বাশয়কে জরায়ুর সাথে সংযুক্ত করে। তারা মহিলা প্রজনন সিস্টেমের অংশ। সাধারণত, মহিলা প্রজনন ব্যবস্থায় 2 টি ফ্যালোপিয়ান টিউব থাকে, 1 টি জরায়ুর প্রতিটি পাশে থাকে। মাসিক ডিম্বস্ফোটনের সময়, একটি ডিম্বাণু সাধারণত 1টি ডিম্বাশয় থেকে নির্গত হয় এবং একটি ফ্যালোপিয়ান টিউবের মাধ্যমে জরায়ুতে যায়।

পেরিটোনিয়াম সম্পর্কে

পেরিটোনিয়াম হল একটি টিস্যু যা পেটে এবং পেটের বেশিরভাগ অঙ্গকে লাইন করে। টিস্যু জরায়ু, মূত্রাশয়, মলদ্বার এবং ডিম্বাশয় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবগুলিকে আবৃত করে। ওমেন্টাম নামক এই টিস্যুর একটি ভাঁজ পেটের অঙ্গগুলিকে ঢেকে রাখে এবং সংযুক্ত করে। পেরিটোনিয়াল তরল নামক একটি তরল টিস্যুর পৃষ্ঠকে ঢেকে রাখে। এই তরল অঙ্গগুলিকে পেটের মধ্যে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং তাদের একসাথে আটকে থাকতে বাধা দেয়।

ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং পেরিটোনিয়াল ক্যান্সার সম্পর্কে

"ওভারিয়ান ক্যান্সার" শব্দটি প্রায়শই ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব বা পেরিটোনিয়ামের কোষে শুরু হওয়া ক্যান্সারগুলিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। ক্যান্সারগুলি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এবং সাধারণত একইভাবে চিকিত্সা করা হয়। এই নির্দেশিকায়, ক্যান্সারের এই গ্রুপটিকে "ওভারিয়ান/ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সার" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ পেরিটোনিয়াল ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে বিরল। যখন "ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার" শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন এতে ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং পেরিটোনিয়াল ক্যান্সার উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকে কারণ এটি অস্পষ্ট হতে পারে যে ক্যান্সার কোথা থেকে শুরু হয়েছিল।

এই ধরনের ক্যান্সার শুরু হয় যখন এই এলাকার সুস্থ কোষগুলি পরিবর্তিত হয় এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে বৃদ্ধি পায়, একটি ভর গঠন করে যাকে টিউমার বলা হয়। একটি টিউমার ক্যান্সার বা সৌম্য হতে পারে। একটি ক্যান্সারযুক্ত টিউমার ম্যালিগন্যান্ট, যার অর্থ এটি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটি সৌম্য টিউমার মানে টিউমার বাড়তে পারে কিন্তু ছড়াবে না।

ডিম্বাশয়ের সিস্ট হল টিস্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যা ডিম্বাশয়ের পৃষ্ঠে তৈরি হয়। এটি একটি স্বাভাবিক মাসিক চক্রের সময় ঘটতে পারে এবং সাধারণত চিকিত্সা ছাড়াই চলে যায়। সাধারণ ডিম্বাশয়ের সিস্ট ক্যান্সারযুক্ত নয়।

সাম্প্রতিক গবেষণা সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ ডিম্বাশয়/ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সার উচ্চ-গ্রেডের সেরাস ক্যান্সার (HGSC; নীচে আরও তথ্য দেখুন), এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, ক্যান্সার আসলে ফ্যালোপিয়ান টিউবের ডগায় বা বাইরের প্রান্তে শুরু হয়। তারপর, এটি ডিম্বাশয়ের পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর বাইরেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

এই আপডেট হওয়া জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে, কিছু ডাক্তার ডিম্বাশয়/ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গর্ভনিরোধের উদ্দেশ্যে (ভবিষ্যৎ গর্ভাবস্থা এড়াতে) টিউব বেঁধে বা ব্যান্ড করার পরিবর্তে ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণের পরামর্শ দেন। কিছু ডাক্তার ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণেরও সুপারিশ করেন যখন একজন ব্যক্তির একটি সৌম্য রোগের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয় এবং ভবিষ্যতে গর্ভবতী হতে চান না। এই কৌশলটি ভবিষ্যতে এই ক্যান্সারের বিকাশের সম্ভাবনা কমাতে পারে। এটি আপনার জন্য একটি বিকল্প হতে পারে কিনা সে সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

যেহেতু ডিম্বাশয়ের পৃষ্ঠতল, ফ্যালোপিয়ান টিউবের আস্তরণ এবং পেরিটোনিয়ামের আবরণ কোষগুলি একই ধরণের কোষ দ্বারা গঠিত, এই রোগগুলির বেশিরভাগই মাইক্রোস্কোপের নীচে একই রকম দেখায়। কদাচিৎ, ডিম্বাশয় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণের পরে পেরিটোনিয়াল ক্যান্সার হতে পারে। ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের মতোই, কিছু পেরিটোনিয়াল ক্যান্সার ফ্যালোপিয়ান টিউবে শুরু হতে পারে এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের শেষ থেকে পেরিটোনিয়াল গহ্বরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ডিম্বাশয় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সারের ধরন

  • এপিথেলিয়াল কার্সিনোমা। এপিথেলিয়াল কার্সিনোমা ডিম্বাশয়/ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সারের 85% থেকে 90% তৈরি করে। প্রধান ধরনের এপিথেলিয়াল টিউমারের মধ্যে রয়েছে সিরাস, এন্ডোমেট্রিয়েড, ক্লিয়ার সেল, মিউসিনাস, মিশ্র টিউমার এবং ব্রেনার টিউমার সহ বেশ কিছু বিরল ক্যান্সার। এই প্রকারগুলি বর্ণনা করে যে কীভাবে এই বিভিন্ন ডিম্বাশয়/ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সারগুলি মাইক্রোস্কোপের নীচে কীভাবে দেখায় তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এই ক্যান্সারগুলি কীভাবে আচরণ করে এবং কোন চিকিত্সাগুলি সবচেয়ে ভাল কাজ করবে তার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

    এপিথেলিয়াল ক্যান্সার হয় এইচজিএসসি (উপরে দেখুন) বা নিম্ন-গ্রেডের সিরাস কার্সিনোমা (এলজিএসসি)। এপিথেলিয়াল ক্যান্সারের বেশিরভাগই এইচজিএসসি, যার অর্থ তারা ফ্যালোপিয়ান টিউবের আস্তরণের কোষগুলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এইচজিএসসিগুলি ডিম্বাশয়/ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সারের বেশিরভাগ অংশ তৈরি করে, যার বেশিরভাগই ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে উদ্ভূত হয়। LGSC কম সাধারণ এবং ডিম্বাশয় থেকে উদ্ভূত হতে পারে।

  • জীবাণু কোষের ম্যালিগন্যান্সি। এই অস্বাভাবিক ধরনের ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার ডিম্বাশয়ের ডিম উৎপাদনকারী কোষে বিকাশ লাভ করে। জীবাণু কোষের ম্যালিগন্যান্সি সাধারণত 10 থেকে 29 বছর বয়সের মধ্যে ঘটে।

    জীবাণু কোষের টিউমারের প্রকারের মধ্যে রয়েছে ডিসজারমিনোমাস, অপরিণত টেরাটোমা, এন্ডোডার্মাল সাইনাস টিউমার (ইএসটি এবং কুসুম স্যাক টিউমার বলা হয়), এবং ভ্রূণের কার্সিনোমাস।

  • সেক্স কর্ড স্ট্রোমাল টিউমার। ডিম্বাশয়ের টিউমারের এই বিরল রূপটি যোজক টিস্যু কোষে বিকশিত হয়, যাকে বলা হয় গ্রানুলোসা এবং থেকা কোষ, যা ডিম্বাশয়কে একত্রে ধরে রাখে। এই টিস্যু কখনও কখনও মহিলা হরমোন ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন তৈরি করে। এই স্ট্রোমাল টিউমারগুলির মধ্যে 90% এর বেশিকে গ্রানুলোসা সেল টিউমার বলা হয়, হয় প্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোর প্রকার।

    গ্রানুলোসা কোষের টিউমারগুলি ইস্ট্রোজেন নিঃসরণ করতে পারে, যার ফলে নির্ণয়ের সময় অস্বাভাবিক যোনি রক্তপাত হতে পারে। অন্যান্য প্রকারগুলি হল সার্টোলি-লেডিগ সেল টিউমার এবং স্টেরয়েড সেল টিউমার।

  • ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সার। এই ক্যান্সারটি একসময় বিরল বলে মনে করা হতো, কিন্তু আমরা এখন জানি যে বেশিরভাগ ক্যান্সার আগে "ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার" লেবেল করা হয়েছিল আসলে ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে শুরু হয়েছিল। কার্যত এই সবগুলিই সিরাস ক্যান্সার, এবং বেশিরভাগই এইচজিএসসি। যাইহোক, বিরল ক্ষেত্রে, অন্যান্য ধরনের ক্যান্সার ফ্যালোপিয়ান টিউবে শুরু হতে পারে।

    ওভারিয়ান/ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিম্নলিখিত উপসর্গ বা লক্ষণগুলি অনুভব করতে পারেন। লক্ষণগুলি হল পরিবর্তন যা আপনি আপনার শরীরে অনুভব করতে পারেন। লক্ষণ হল পরিমাপ করা কিছুতে পরিবর্তন, যেমন আপনার রক্তচাপ নেওয়া বা ল্যাব পরীক্ষা করা। একসাথে, লক্ষণ এবং লক্ষণগুলি একটি চিকিৎসা সমস্যা বর্ণনা করতে সাহায্য করতে পারে। ডিম্বাশয়/ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সারের লক্ষণ এবং লক্ষণ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

  • পেট ফোলা

  • পেলভিক বা পেটে ব্যথা

  • খেতে অসুবিধা হওয়া বা দ্রুত পূর্ণ বোধ করা

  • প্রস্রাবের লক্ষণ, যেমন জরুরিতা বা ফ্রিকোয়েন্সি

  • ক্লান্তি

  • পেট খারাপ

  • বদহজম

  • পিঠে ব্যাথা

  • যৌন মিলনের সময় ব্যথা

  • কোষ্ঠকাঠিন্য

  • মাসিকের অনিয়ম

  • শ্রোণী বা পেট ফুলে যাওয়া

  • যোনি স্রাব, যা পরিষ্কার, সাদা, বা রক্তে ছোপানো হতে পারে

    ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং পেরিটোনিয়াল ক্যান্সারের জন্য FIGO পর্যায়গুলি

    পর্যায়টি ক্যান্সার বর্ণনা করার একটি সাধারণ উপায় প্রদান করে, ডাক্তারদের সর্বোত্তম চিকিত্সার পরিকল্পনা করতে একসঙ্গে কাজ করতে সক্ষম করে। ডাক্তাররা FIGO সিস্টেম ব্যবহার করে ক্যান্সারের পর্যায় নির্ধারণ করেন।

    পর্যায় I: ক্যান্সার শুধুমাত্র ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে হয়।

  • স্টেজ IA: ক্যান্সার শুধুমাত্র 1 ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউবের ভিতরে থাকে। ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউব পৃষ্ঠে বা পেটে কোন ক্যান্সার পাওয়া যায় না।

  • স্টেজ আইবি: ক্যান্সার ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে উভয়ই হয়। ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউবের পৃষ্ঠে বা পেরিটোনিয়াল তরল বা ওয়াশিংয়ে কোনও ক্যান্সার পাওয়া যায় না।

  • স্টেজ IC: ক্যান্সার 1 বা উভয় ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে, নিম্নলিখিতগুলির মধ্যে যেকোন একটিতে:

    • স্টেজ IC1: টিউমারটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করার সময় ফেটে যায়, যাকে বলা হয় ইন্ট্রাঅপারেটিভ সার্জিক্যাল স্পিল।

    • স্টেজ IC2: অস্ত্রোপচারের আগে টিউমারের প্রাচীর ফেটে গেছে, অথবা ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউবের পৃষ্ঠে ক্যান্সার আছে।

    • পর্যায় IC3: ক্যান্সার কোষগুলি পেটের গহ্বরে তরল জমাতে পাওয়া যায়, যাকে অ্যাসাইট বলা হয়, বা অস্ত্রোপচারের সময় পেরিটোনিয়াল গহ্বর থেকে তরল নমুনায় পাওয়া যায়।

পর্যায় II: ক্যান্সারে 1 বা উভয় ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউব জড়িত এবং এটি পেলভিসের নীচে ছড়িয়ে পড়েছে, বা এটি পেরিটোনিয়াল ক্যান্সার।

  • পর্যায় IIA: ক্যান্সার জরায়ু এবং/অথবা ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং/অথবা ডিম্বাশয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

  • স্টেজ IIB: ক্যান্সার পেলভিসের মধ্যে অন্যান্য টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছে।

পর্যায় III: ক্যান্সারে 1 বা উভয় ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউব জড়িত, অথবা এটি পেরিটোনিয়াল ক্যান্সার। এটি পেলভিসের বাইরে পেরিটোনিয়ামে এবং/অথবা পেটের পিছনে রেট্রোপেরিটোনিয়ামের লিম্ফ নোডগুলিতে (প্রধান রক্তনালীগুলির সাথে লিম্ফ নোড, যেমন অর্টা) ছড়িয়ে পড়েছে।

  • পর্যায় IIIA1: ক্যান্সার রেট্রোপেরিটোনিয়াল লিম্ফ নোডগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পেটের পিছনে পাওয়া যায়, কিন্তু পেরিটোনিয়াল পৃষ্ঠগুলিতে নয়।

    • পর্যায় IIIA1(i): মেটাস্টেস বা বিস্তারের ক্ষেত্রগুলি 10 মিলিমিটার (মিমি) বা ছোট।

    • পর্যায় IIIA1(ii): মেটাস্টেসগুলি 10 মিমি থেকে বড়।

  • পর্যায় IIIA2:  ক্যান্সার মাইক্রোস্কোপিকভাবে পেলভিস থেকে পেটে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যান্সার পেটের পিছনের লিম্ফ নোডগুলিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বা নাও পারে।

  • পর্যায় IIIB : ক্যান্সারটি দৃশ্যত পেলভিস অতিক্রম করে পেটে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রেট্রোপেরিটোনিয়াল লিম্ফ নোডের সাথে বা ছাড়াই এটি 2 সেন্টিমিটার (সেমি) বা ছোট। একটি সেন্টিমিটার একটি আদর্শ কলম বা পেন্সিলের প্রস্থের প্রায় সমান।

  • পর্যায় IIIC: ক্যান্সারটি দৃশ্যত পেলভিস অতিক্রম করে পেটে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রেট্রোপেরিটোনিয়াল লিম্ফ নোডের সাথে বা ছাড়াই এটি 2 সেন্টিমিটারের চেয়ে বড়।

স্টেজ IV: ক্যান্সার পেটের বাইরের অঙ্গগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

  • স্টেজ IVA: ক্যান্সার ফুসফুসের চারপাশে তরলে ছড়িয়ে পড়েছে।

  • স্টেজ IVB: ক্যান্সার লিভার বা প্লীহা বা পেটের বাইরের অঙ্গগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে, পেটের গহ্বরের বাইরে কুঁচকির লিম্ফ নোড সহ



 

লিভার ক্যান্সার

 

লিভার ক্যান্সার কি?

লিভার ক্যান্সার হল ক্যান্সার যা আপনার লিভারের কোষে শুরু হয়। আপনার লিভার একটি ফুটবল-আকারের অঙ্গ যা আপনার পেটের উপরের ডানদিকে, আপনার ডায়াফ্রামের নীচে এবং আপনার পেটের উপরে বসে।

লিভারে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার তৈরি হতে পারে। লিভার ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হল হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা, যা প্রধান ধরনের লিভার কোষে (হেপাটোসাইট) শুরু হয়। অন্যান্য ধরনের লিভার ক্যান্সার, যেমন ইন্ট্রাহেপ্যাটিক কোলাঞ্জিওকার্সিনোমা এবং হেপাটোব্লাস্টোমা, অনেক কম সাধারণ।

লিভারে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার লিভারের কোষে শুরু হওয়া ক্যান্সারের চেয়ে বেশি সাধারণ। ক্যান্সার যেটি শরীরের অন্য কোনো অংশে শুরু হয় - যেমন কোলন, ফুসফুস বা স্তন - এবং তারপরে লিভারে ছড়িয়ে পড়ে তাকে লিভার ক্যান্সারের পরিবর্তে মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার বলা হয়। এই ধরনের ক্যান্সারের নামকরণ করা হয়েছে যে অঙ্গে এটি শুরু হয়েছিল - যেমন মেটাস্ট্যাটিক কোলন ক্যান্সার ক্যানসার বর্ণনা করার জন্য যা কোলন থেকে শুরু হয় এবং লিভারে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রকারভেদ

লক্ষণ

প্রাথমিক লিভার ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে বেশিরভাগ লোকের লক্ষণ এবং উপসর্গ থাকে না। যখন লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি উপস্থিত হয়, তখন তাদের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

  • চেষ্টা না করেই ওজন কমানো
  • ক্ষুধামান্দ্য
  • উপরের পেটে ব্যথা
  • বমি বমি ভাব এবং বমি
  • সাধারণ দুর্বলতা এবং ক্লান্তি
  • পেট ফুলে যাওয়া
  • আপনার ত্বকের হলুদ বিবর্ণতা এবং আপনার চোখের সাদা অংশ (জন্ডিস)
  • সাদা, খড়ি মল

কখন ডাক্তার দেখাবেন

আপনি যদি উদ্বিগ্ন কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ অনুভব করেন তবে আপনার ডাক্তারের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করুন।

কারণসমূহ

লিভার ক্যান্সার হয় যখন লিভার কোষ তাদের ডিএনএ-তে পরিবর্তন (মিউটেশন) বিকাশ করে। একটি কোষের ডিএনএ হল সেই উপাদান যা আপনার শরীরের প্রতিটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। ডিএনএ মিউটেশন এই নির্দেশাবলীর পরিবর্তন ঘটায়। একটি ফলাফল হল যে কোষগুলি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বাড়তে শুরু করতে পারে এবং অবশেষে একটি টিউমার তৈরি করতে পারে - ক্যান্সার কোষগুলির একটি ভর।

কখনও কখনও লিভার ক্যান্সারের কারণ জানা যায়, যেমন দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস সংক্রমণের সাথে। কিন্তু কখনও কখনও লিভার ক্যান্সার এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটে যাদের অন্তর্নিহিত রোগ নেই এবং এটি কী কারণে হয় তা স্পষ্ট নয়।

ঝুঁকির কারণ

প্রাথমিক লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এমন কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • এইচবিভি বা এইচসিভি সহ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) বা হেপাটাইটিস সি ভাইরাস (HCV) এর সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ আপনার লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • সিরোসিস। এই প্রগতিশীল এবং অপরিবর্তনীয় অবস্থা আপনার লিভারে দাগের টিস্যু তৈরি করে এবং লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
  • কিছু বংশগত লিভার রোগ। লিভারের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন লিভারের রোগের মধ্যে রয়েছে হিমোক্রোমাটোসিস এবং উইলসন ডিজিজ।
  • ডায়াবেটিস। এই ব্লাড সুগার ডিসঅর্ডারে যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের তুলনায় লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।
  • নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। লিভারে চর্বি জমে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • অ্যাফ্ল্যাটক্সিনের এক্সপোজার। Aflatoxins হল ছাঁচ দ্বারা উত্পাদিত বিষ যা খারাপভাবে সংরক্ষণ করা ফসলে জন্মায়। শস্য, যেমন শস্য এবং বাদাম, আফলাটক্সিন দ্বারা দূষিত হতে পারে, যা এই পণ্যগুলির তৈরি খাবারে শেষ হতে পারে।
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন। বহু বছর ধরে প্রতিদিন একটি মাঝারি পরিমাণের বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ করলে লিভারের অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হতে পারে এবং আপনার লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রতিরোধ

আপনার সিরোসিসের ঝুঁকি হ্রাস করুন

সিরোসিস হল লিভারের দাগ, এবং এটি লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। আপনি সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে পারেন যদি আপনি:

  • পরিমিতভাবে অ্যালকোহল পান করুন, যদি একেবারেই থাকে। আপনি যদি অ্যালকোহল পান করতে চান তবে আপনার পান করার পরিমাণ সীমিত করুন। মহিলাদের জন্য, এর অর্থ দিনে একটির বেশি পানীয় নয়। পুরুষদের জন্য, এর অর্থ দিনে দুটির বেশি পানীয় নয়।
  • একটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা. যদি আপনার বর্তমান ওজন স্বাস্থ্যকর হয়, তবে একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য চয়ন করে এবং সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন ব্যায়াম করে এটি বজায় রাখার জন্য কাজ করুন। আপনার যদি ওজন কমানোর প্রয়োজন হয়, আপনি প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্যালোরি খান তা কমিয়ে দিন এবং ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়ান। ধীরে ধীরে ওজন কমানোর লক্ষ্য রাখুন - প্রতি সপ্তাহে 1 বা 2 পাউন্ড (0.5 থেকে 1 কিলোগ্রাম)।

হেপাটাইটিস বি এর বিরুদ্ধে টিকা নিন

হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন গ্রহণ করে আপনি হেপাটাইটিস বি এর ঝুঁকি কমাতে পারেন। টিকাটি শিশু, বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্ক এবং যারা আপোসহীন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সহ প্রায় যে কাউকে দেওয়া যেতে পারে।

হেপাটাইটিস সি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিন

হেপাটাইটিস সি-এর কোনো ভ্যাকসিন নেই, তবে আপনি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

  • যেকোনো যৌন সঙ্গীর স্বাস্থ্যের অবস্থা জানুন। আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে আপনার সঙ্গী HBV , HCV বা অন্য কোনো যৌন সংক্রামিত সংক্রমণে সংক্রামিত নয়, তাহলে অনিরাপদ যৌনতায় লিপ্ত হবেন না। আপনি যদি আপনার সঙ্গীর স্বাস্থ্যের অবস্থা জানেন না, প্রতিবার যৌন মিলনের সময় একটি কনডম ব্যবহার করুন।
  • ইন্ট্রাভেনাস (IV) ওষুধ ব্যবহার করবেন না, তবে যদি আপনি করেন তবে একটি পরিষ্কার সুই ব্যবহার করুন। অবৈধ ওষুধ ইনজেকশন না করে আপনার HCV এর ঝুঁকি কমিয়ে দিন । কিন্তু যদি এটি আপনার জন্য একটি বিকল্প না হয়, নিশ্চিত করুন যে আপনি যে সুই ব্যবহার করেন তা জীবাণুমুক্ত, এবং এটি ভাগ করবেন না। হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের একটি সাধারণ কারণ দূষিত ওষুধ। আপনার সম্প্রদায়ের সুই-এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের সুবিধা নিন এবং আপনার ড্রাগ ব্যবহারের জন্য সাহায্য চাওয়ার কথা বিবেচনা করুন।
  • একটি ছিদ্র বা ট্যাটু করার সময় নিরাপদ, পরিষ্কার দোকান সন্ধান করুন। যে সূঁচগুলি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত নাও হতে পারে তা হেপাটাইটিস সি ভাইরাস ছড়াতে পারে। একটি ছিদ্র বা ট্যাটু নেওয়ার আগে, আপনার এলাকার দোকানগুলি দেখুন এবং কর্মীদের নিরাপত্তা অনুশীলন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। যদি একটি দোকানের কর্মীরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে বা আপনার প্রশ্নগুলিকে গুরুত্ব সহকারে না নেয়, তাহলে এটিকে একটি চিহ্ন হিসাবে নিন যে সুবিধাটি আপনার জন্য সঠিক নয়।

হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণের চিকিৎসা নিন

হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের জন্য চিকিত্সা উপলব্ধ। গবেষণা দেখায় যে চিকিত্সা লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

লিভার ক্যান্সার স্ক্রীনিং সম্পর্কে আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন

সাধারণ জনগণের জন্য, লিভার ক্যান্সারের জন্য স্ক্রীনিং লিভার ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্রমাণিত হয়নি এবং এটি সাধারণত সুপারিশ করা হয় না। লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এমন অবস্থার লোকেরা স্ক্রীনিং বিবেচনা করতে পারে, যেমন যাদের আছে:

  • হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ
  • হেপাটাইটিস সি সংক্রমণ
  • লিভার সিরোসিস

আপনার ডাক্তারের সাথে স্ক্রীনিংয়ের সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করুন। আপনার ঝুঁকির উপর ভিত্তি করে স্ক্রীনিং আপনার জন্য সঠিক কিনা তা একসাথে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। স্ক্রীনিংয়ে সাধারণত প্রতি ছয় মাসে রক্ত ​​পরীক্ষা এবং পেটের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা হয়।