***** HEALTH IS WEALTH *****

“I believe that the greatest gift you can give your family and the world is a healthy you.” – Joyce Meyer

**CONNECT US TO GET HEALTH TIPS DAILY ***

“Good health is not something we can buy. However, it can be an extremely valuable savings account.” – Anne Wilson Schaef

**YOUR FITNESS IS YOUR GREATEST WEALTH**

“A fit body, a calm mind, a house full of love. These things cannot be bought – they must be earned.” – Naval Ravikant

** FOLLOW US TO GET DAILY HEALTH BLOGS ***

“If you're happy, if you're feeling good, then nothing else matters.” – Robin Wright

**** THANK YOU ****

THANK YOU FOR YOUR CONTINUOUS HEALTH AND SUPPORT

"HEALTH GUIDE BENGALI" provide you all health information,our mission is to provide all health tips and health related information and health blogs...

Showing posts with label women health. Show all posts
Showing posts with label women health. Show all posts

Thursday, 27 October 2022

মেয়েদের ওজন কমানোর টিপস

 


দিন দিন ওজন বেড়ে যাচ্ছে? অনেক কিছু করেও কমছে না? সঠিক ভাবে ওজন কমাতে চান? তাহলে আজকের লেখা শুরু থেকে শেষ অব্দি পড়ে নিন। যেভাবে যা যা করতে বলা আছে স্টেপ বাই স্টেপ মেনে চলুন। একমাস মানলে ওজন তো কমবেই, সাথে সাথে দেখবেন নিজেরও ভালো লাগছে। অনেকেই ভাবেন খাওয়া কমিয়ে বা কম কম খেয়ে ওজন কমবে। কমবে ঠিকই কিন্তু তা শরীরের জন্য একদম ভালো না। খাওয়ার খান কিন্তু সঠিক মাত্রায় আর সঠিক সময়। আর তাই আজ হাজির হয়েছি মেয়েদের ওজন কমানোর বেস্ট ডায়েট চার্ট নিয়ে

মেয়েদের ওজন কমানোর টিপসঃ

মেয়েদের ওজন কমানোর বেস্ট ডায়েট চার্ট জানার আগে বিশেষ কিছু টিপস জেনে রাখুন। সঠিক ডায়েটের সাথে সাথে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • ভারতীয়, বিশেষ করে বাঙালি মহিলাদের ওজন বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাত বেশি করে দায়ি। তাই বলে ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেবেন না। এক বাটি ভাত দুবেলা মিলিয়ে খান। বাকি শাক সবজি, তরকারি, মাছ, ডাল খান। ভাত খাওয়ার পরিমান কমান।
  • বসে বসে যাদের কাজ বা সময়ের অভাবে একদম হাঁটা হয় না তারা দিনে ৩০ মিনিট অন্তত হাঁটুন। আলাদা করে বেরনোর সময় না হলে ফোন এ কথা বলার সময় এক ঘর থেকে আরেকঘর হেঁটে হেঁটে কথা বলুন। দিনে ৩০ মিনিটের বেশি নিশ্চয়ই ফোন কল করা হয়। কাজে লাগান সেই সময়টাকে।
  • মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা মেয়েদের বেশি। সংযত হন মিষ্টি খাওয়ার ব্যাপারে। মিষ্টি খাবার শরীরে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটা কন্ট্রোল করা খুবই দরকার। চায়ে গাদা গাদা চিনি খাওয়া বন্ধ করুন। দিনে ৩ থেকে ৪ বার চা খেলে একবার চিনি দিয়ে চা খান। বাকি সময় চিনি ছাড়া খান। এক সপ্তাহ করুন অভ্যাস হয়ে যাবে।
  • প্রোটিন জাতীয় খাওয়ার নিজের মেনুতে যোগ করুন। এই খাবার শরীর সুস্থ্য রাখার সাথে সাথে মোটা হওয়ার প্রবণতা কমায়। সবুজ শাক সবজি, মাছ, ডিম মুরগির মাংস খান। রেড মিট এড়িয়ে চলুন।
  • একবারে অনেকটা খাবার না খেয়ে বারে বারে অল্প অল্প করেও খেতে পারেন। তবে রাতে কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। রাতের বেলা হজম ঠিকঠাক ভাবে না হওয়ার দরুন ওজন বেড়ে যায় হুড়হুড় করে। তাই সকাল থেকে বিকেল অব্দি যত হেভি খাওয়ার খান রাতে খান হালকা খাবার।
  • ডায়েট করছেন মানে সঠিক মাত্রায় নিয়ম মেনে খাচ্ছেন। তাই না খেয়ে থাকবেন না একদম। ওজন কমাতে না খেয়ে থাকা কোন সুরাহা নয়। বরং শরীরকে কষ্ট দেওয়া। তাই খাবার খান।

মেয়েদের ওজন কমানোর বেস্ট ডায়েট চার্টঃ

মেয়েদের ওজন কমানোর যে ডায়েট চার্ট এখানে লেখা আছে তা স্টেপ বাই স্টেপ মেনে চলবেন। সকাল, দুপুর ও রাতে কি কি কতটা পরিমান খাবেন তা তিন ভাগে বলা হল। সারাদিনের ক্যালোরির ভাগ করে নিন। ৫০ ভাগ ক্যালোরি সকালে খান। ৩৬ ভাগ দুপুরে আর ১৪ ভাগ রাতে।

সকালের ডায়েটঃ

  • সকালে উঠে একগ্লাস উষ্ণ গরম জলে একটি পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খান। সপ্তাহে একদিন অন্তর এক দিন খাবেন। বাকি চারদিন পান করুন আদা, হলুদ আর আমলকী সেদ্ধ করা জল। ওজন কমানোর সাথে সাথে শরীরের জন্য ও স্কিনের জন্য এটা খুবই উপকারি।
  • সকালে উঠে পানীয় পান করার ৩০ মিনিট পর প্রাতরাশ বা ব্রেকফাস্ট করে নিন। অনেকেই সকালের খাওয়ার স্কিপ করেন। এটা একদম করবেন না। বরং ব্রেকফাস্ট হেভি করা উচিত। দুটো রুটি, এক বাটি তরকারি ও একটা ডিম সেদ্ধ খান। কোনদিন চারটে পাউরুটি অল্প মাখন লাগিয়ে ২টো ডিম সেদ্ধ দিয়ে খান। পাউরুটিতে চিনি লাগাবেন না। চিনি ছাড়া খান। সামান্য গোলমরিচ ছড়িয়ে নিন। আপেল, আঙুর, পেঁপে বা মরশুমি যেকোনো ফল ব্রেকফাস্টে খান একটা। আঙুর খেতে ১০টা মত খান তার বেশি না। তাছাড়া পোহা, দুধ রুটি বা হালকা বয়েল করা সব্জির সুপ খেতে পারেন। এক একদিন এক এক রকমের খাওয়ার খান সকালে।

দুপুরের ডায়েটঃ

  • ভাত ছাড়া যেহেতু বাঙালির চলে না, তাই দুপুরে ভাত খান। তবে এক বাটির বেশি না। সাথে দুটো বা একটা রুটি খান। ডাল, সবজি, মাছ যা আপনার বাড়িতে রান্না হচ্ছে তা খান। তবে তেল মশলা কম দেওয়া খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। পেট ভরে খান কিন্তু ভাত গাদা গাদা না। ওই যে বললাম এক বাটি। বাকি পদ খান। খালি পেটে আপনাকে ওজন কমাতে হবে না।
  • দুপুরে খাওয়ার পর ভাত-ঘুম দেওয়ার যাদের অভ্যাস আছে তারা সেটা বন্ধ করুন। খেয়ে উঠে বালিশ নিয়ে ঘুমানো চলবে না যদি ওজন কমাতে চান।

রাতের ডায়েটঃ

  • ভাত না খেলে খুবই ভালো হয়। তবে যদি ভাত ছাড়া একদমই না চলে তাহলে হাফ বাটি ভাত। এর চেয়ে বেশি নয়। সাথে একটা রুটি। ডাল এক বাটি আর তরকারি এক বাটি। রাতে মাছ, মাংস ও ডিম না খাওয়াই ভালো।
  • রাতের খাওয়া রাত আটটা থেকে নটার মধ্যে করে ফেলুন। খেয়ে উঠেই ঘুমাতে যাবেন না। রাতের ডিনার সারার পর একঘণ্টা পর ঘুমোতে জান।

খিদে পেলে কি করবেনঃ

এসবের মাঝে যদি খিদে পায় তাহলে একটা ফল খান। ফল খেলে আপেল খাবেন। এতে মিষ্টি কম থাকে। কখনও ৬টা কাজুবাদাম, ৬টা কাঠবাদাম খেয়ে জল খান। দেখবেন পেট ভরে গিয়েছে। চাইলে ক্রিম ক্রেকার বিস্কুট সাথে রাখতে পারেন। আচমকা পাওয়া খিদে কমাতে দারুন কাজ করে।

উপরে বলা ডায়েট চার্ট সঠিক ভাবে মানুন। দেখবেন একমাসের মধ্যে অনেকটা হালকা বোধ করছেন। বাইরের খাওয়া, কোল্ড ড্রিংকস এসব থেকে দূরে থাকুন এই ডায়েট মানার সাথে সাথে। একটা কথা মনে রাখবেন আপনি নিজে না চাইলে পৃথিবীর কোন ডায়েট চার্ট আপনার ওজন কমাতে পারবে না। তাই যা যা বলা হল করুন, ভালো বই খারাপ ফল পাবেন না।



 

Tuesday, 25 October 2022

গর্ভাবস্থায় ভিটামিন || Vitamins During Pregnancy


 

 গর্ভবতী মহিলাদের স্বভাবতই খুব বেশি খিদে পায় এবং সেই সময়ে সঠিক পরিমাণে ও গুণমানের খাওয়ার খাওয়া তাঁদের জন্য খুব জরুরী। কেননা এই খাবার ও ভিটামিন মায়ের সাথে সাথে শিশুরও শরীর গঠন ও বেড়ে ওঠায় কাজে লাগে। গর্ভবতী অবস্থায় সব মায়েরই প্রয়োজন পড়ে সঠিক পরিমান বিশ্রাম ও খাওয়াদাওয়া ইত্যাদির।  এই সময়ে সঠিক ভাবে ওষুধ পত্র খেলে তবেই পরে গিয়ে প্রসবের সময় ও তারপর বাচ্চার বেড়ে ওঠায় কোনোরকম জটিলতা দেখা দেয় না।   প্রয়োজন নতুন মায়েদের  প্রতি, আর তাই এখানে রইল গর্ভাবস্থার জন্য নানান টিপস (pregnancy bangla).

গর্ভাবস্থায় খাবার ও ভিটামিন এর তালিকা 

গর্ভবতী মহিলার সেই সময়ে কি খাওয়া প্রয়োজন তা এখানে খানিকটা বলা হল। তবে আপনার বয়স, শারীরিক অবস্থা, ওজন ইত্যাদি বিবেচনা করে ভাল ডায়েট সাজেশন অবশ্যই আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নেবেন। সকালে – সকালে অনেক গর্ভবতী নারীরই বমি বমি ভাব হয় এবং খেতে ইচ্ছে করেনা। সেক্ষেত্রে ভারী খাবার না খেয়ে হালকা চা (গ্রিনটি)ও বিস্কিট খেয়ে নিতে পারেন। এর বেশ খানিকটা পরেই ২ টি রুটি ও সবজি খেতে পারেন। সাথে একটি ডিম সিদ্ধ করে খাওয়া ভালো। বেলা ১০ টা/ ১১ টায় ১ গ্লাস ননী ছাড়া দুধ বা  ফল বা ফলের জুস ও বাদাম খেতে পারেন।

দুপুরে

দুপুরে ১ বাটি ভাতের সাথে মাছ বা মাংস, সবজির তরকারী, শাক, ডাল  এবং তাজা ফল ও সবজির সালাড। খাওয়ার শেষে খেতে পারেন দই।

বিকালে 

ভাজা-পোড়া খাবার না খেয়ে ঘরে তৈরি কোন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স বা কেক বা বাদাম বা মটরশুঁটি সিদ্ধ খেতে পারেন। ফল বা ১ গ্লাস ফলের জুস খেতে পারেন।

রাতে

 রাতের খাবার দুপুরের মতোই হবে। তবে শাক রাতে না খাওয়াই ভালো। বেশি করে সবজির তরকারী খেতে পারেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১ গ্লাস ননী মুক্ত দুধ পান করতে ভুলবেন না।

যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্ত চাপের মত সমস্যা আছে তারা ডাক্তারের দেয়া তালিকা অনুযায়ী খাবার খাবেন। ডায়েবেটিসের রোগীরা শর্করা ও মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে এবং ব্লাড প্রেশারের রুগীদের লবণ খেতে হবে কম করে।

প্রোটিন আর ভিটামিনস 

প্রোটিন বা আমিষ

প্রোটিন শরীরের গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে৷ গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রোটিনে চাহিদা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি হয় ৷ আমিষ গর্ভের শিশুর শরীরের নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মাকে দৈনিক অন্তত ৬০ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। প্রতিদিনের আমিষের অভাব পূরণে ২ থেকে ৩ টুকরো মাছ, ৩ থেকে ৪ টুকরো মাংস ও কমপক্ষে একটি ডিম খেতে হবে। এছাড়া নিয়ম করে প্রতিদিন একগ্লাস উষ্ণ গরম দুধ পান করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় trimester-এ প্রতিদিন যথাক্রমে ১, ৯ ও ৩১ গ্রাম অতিরিক্ত প্রোটিন প্রয়োজন হয়।তবে খেয়াল রাখতে হবে কাঁচা বা আধা সিদ্ধ মাংস খাওয়া যাবে না এবং ডিম ভাল করে সিদ্ধ করে বা ভেজে খেতে হবে।আর দুধ ভাল মতো ফুটিয়ে পান করা উচিত।

ক্যালসিয়াম

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি৷ গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য অনেক ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়৷ যদিও গর্ভাবস্থার প্রথম থেকেই স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় তুলনামূলকভাবে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়, তবুও শেষের ৩ মাস চাহিদাটা সবচেয়েতে বেশি থাকে। WHO এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে ১০০০ মিলিগ্রাম এবং বিশেষ করে শেষ ৩ মাসের প্রতিদিন ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। দুধ, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছ, বাদাম, কমলালেবু, শুকনো ফল, সবুজ পাতাসহ শাক-সবজি, ফুলকপি ও তৈলবীজ খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে৷

আয়রন

আমাদের দেশের বেশির ভাগ গর্ভবতী মহিলাই রক্তাল্পতায় ভুগে থাকেন৷ গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যায়৷ আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন ও এনার্জি তৈরিতে সাহায্য করে, গর্ভস্থ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্র বিকাশ করে। Institute Of Medicine (IOM) এর মতে, গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার।এই সময় যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন গ্রহণ করা না যায় তাহলে এনেমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে৷ তাই রক্ত স্বল্পতা প্রতিরোধ করার জন্য মাকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে৷ গরু কিংবা খাসির কলিজা, বাচ্চা মুরগি, ডিম, মাছ, কলা, কচুশাক, পালং শাক এ সবের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে। 

ভিটামিন-এ

হাড় ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহের গঠনের জন্য ভিটামিন  এ প্রয়োজন৷ গর্ভস্থ শিশুর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বেড়ে ওঠা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর থাকা, দৃষ্টিশক্তি সঠিকভাবে কাজ করা এবং সার্বিকভাবে বেড়ে ওঠায় ‘ভিটামিন এ’ প্রয়োজন। গর্ভে থাকা শিশু যেহেতু সব পুষ্টি মায়ের মাধ্যমেই পায়, তাই গর্ভবতী মায়ের শরীরে ভিটামিন এ-এর এই চাহিদা পূরণ হওয়া দরকার। WHO-এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ৮০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে খাবারের তালিকায় থাকা চাই মুরগির কলিজা, ডিম, গাজর, আম, গাঢ় কমলা ও হলুদ রঙের ফল এবং গাঢ় সবুজ রঙের শাক-সবজি।

ভিটামিন বি-১, বি-২ ও নায়াসিন:

ভিটামিন-বি পরিবারভুক্ত ৬টি ভিটামিনের মধ্যে গর্ভাবস্থায় চাহিদা বেড়ে যায় ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন, বি-২ বা রিবোফ্লাবিন ও বি-৩ বা নায়াসিনের। বি-ভিটামিন ডায়জেস্টিভ সিস্টেমকে চালু রাখে। ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চামড়ার শুষ্কভাব কমিয়ে সতেজ রাখে।গর্ভাবস্থায় যেহেতু হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পেট, কোমর, গলা-এসব জায়গার চামড়ার রং পরিবর্তন হয়, পেটের চামড়া স্ফিত হওয়ায় টান লাগে, তাই বি-ভিটামিন এই সময় চামড়ার দেখভালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘রেড মিট’, কলিজা, ডিম, কলা, কিডনি, বিনস, পালংশাক, কাঠবাদাম ও দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।

ভিটামিন-সি

ভিটামিন সি এর সাহায্যে শরীর সহজেই শাকসবজি থেকে আয়রন শোষণ করে নিতে পারে, রক্তশূন্যতার সম্ভাবনা কমায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।এ জন্য ডাক্তার বা পুষ্টিবিদেরা আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরপরই লেবু, কমলা, বাতাবিলেবু বা আমলকী খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় পাওয়া যাচ্ছে ভ্রূণের মানসিক বৃদ্ধিতে ভিটামিন-সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন-সি ফলিক অ্যাসিডকে কার্যকর করে তোলার চালিকাশক্তি।গর্ভের শিশুর মাংসপেশি ও হাড় গঠনের কোলাজেন প্রোটিনের প্রয়োজন। ভিটামিন-সি কোলাজেন তৈরিতেও সাহায্য করে।IOM এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে ৮৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন – আমলকী, পেয়ারা, কমলা লেবু, বাতাবি লেবু, সবুজ শাক-সবজি,  টমেটো এবং আলু খেতে হবে৷ মনে রাখবেন বেশিক্ষণ রান্না করলে ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়৷

ভিটামিন-ই

ভিটামিন ই রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে৷ আপেল, বাদাম, গাজর, বাঁধাকপি, ডিম, অলিভ তেল ও সূর্যমুখি বীজে ভিটামিন ই পাওয়া যায়৷

জিংক

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস জিংক এবং ফলিক এ্যাসিডের ভূমিকা অপরিসীম। জিংক গর্ভপাত প্রতিরোধ করে এবং শিশুর ওজন বাড়ায়৷ জিংক শরীরের প্রত্যেকটি অংশের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্ষমতা সক্রিয় রাখে এবং টিস্যু ও কোষ গঠনে ভূমিকা রাখে। এমনকি গর্ভে থাকা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বেড়ে ওঠায় জিংক গুরুত্বপূর্ণ। WHO এর মতে, গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাস ১১ মিলিগ্রাম, দ্বিতীয় ৩ মাস ১৪ মিলিগ্রাম ও শেষের ৩ মাস ২০ মিলিগ্রাম করে জিংক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার।  এই জিংক পাওয়া যাবে প্রানিজ প্রোটিনে৷ তাছাড়াও চিনে বাদাম, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, গম এসবে প্রচুর পরিমাণ জিন্ক থাকে যা আপনার গর্ভাবস্থায় চাহিদা পূরণে সক্ষম৷

আয়োডিন

গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব হলে গর্ভে থাকা সময় থেকে শুরু করে জন্মের ৩ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর বুদ্ধির বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এছাড়াও আয়োডিনের অভাবে গর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনাও থাকে। এটি থাইরয়েডকেও সুস্থ রাখে। তাই গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম আয়োডিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে WHO। আয়োডিন যুক্ত খাবারের মাঝে আছে আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, পনির, টক দই, গরুর দুধ ইত্যাদি।

ভিটামিন ট্যাবলেট 

গর্ভাবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিনের প্রয়োজন হয়৷ এই অতিরিক্ত ভিটামিনের চাহিদা খাবারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব না হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হবে৷

জল 

রোজ প্রচুর পরিমানে জল পান করতে হবে। জল শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। রক্তের মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে পুষ্টি পৌঁছায়। এছাড়া জল মূত্র থলির প্রদাহ ও অতিরিক্ত ঘাম রোধ করে।জলের সঙ্গে বিভিন্ন সুপ, টাটকা ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে।

শেষ কথা 

সঠিক পরিমান পুষ্টি ও ভিটামিন সকল গর্ভবতীদের জন্য অত্যন্ত দরকার। ভিটামিনের অভাবে আমাদের অনেক সময় বাচাদের সু সাস্থ হয়ে ওঠেনা বা জন্মানোর সময় বা জন্মানোর পর দেখা যায় বাচ্চারা বিকলাঙ্গ হয় বা অন্য কিছু সমস্যা দেখা যায়। উল্লেখিত জিনিস গুলো মেনে চললে আশা করা যায় আপনি আর আপনার বাচ্চা সুস্থই থাকবেন। কিন্তু এর থেকে অধিক জানার জন্য বা আপনি সরাসরি ডাক্তারের সাথে কথাও বলতে পারেন এই সকল বিষয় নিয়ে। ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।



 

Monday, 24 October 2022

হাড়ের যত্ন

 

হাড়ের স্বাস্থ্য

হাড় এতই গুরুত্বপূর্ণ যে সারা জীবন আমাদের হাড়কে সুস্থ রাখা অত্যাবশ্যক। সুস্থ হাড় একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে, যা গতিশীলতা এবং আঘাত থেকে সুরক্ষা দেয়। এগুলি গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির জন্য একটি ব্যাংক হিসাবেও কাজ করে, যেমন ক্যালসিয়াম, যা আমাদের শরীরের অসংখ্য অঙ্গকে সমর্থন করতে সহায়তা করে।

হাড়গুলি জীবিত এবং ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়, নতুন হাড় তৈরি হয় এবং পুরানো হাড় সারা জীবন হারিয়ে যায়? প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে, সম্পূর্ণ কঙ্কাল প্রতি 7-10 বছরে সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপিত হয়।

আপনি যখন অল্প বয়সে সঠিক পুষ্টি এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে হাড়ের যত্ন নেওয়া আপনাকে ভাল হাড় পেতে সাহায্য করবে যা আপনাকে আপনার পছন্দের জীবন যাপন করতে সাহায্য করবে। এখানে হাড়ের স্বাস্থ্যে, আপনি হাড়ের স্বাস্থ্যের প্রাথমিক বিষয়গুলি শিখতে এবং বুঝতে পারেন। আমরা আপনাকে বাস্তবসম্মত এবং অর্জনযোগ্য স্ব-ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপগুলি প্রদান করি যেমন খাদ্যতালিকা ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী তৈরি করার জন্য ব্যায়াম যা অস্টিওপোরোসিসের বিরুদ্ধে সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা, একটি হাড়ের ব্যাধি যা মহিলাদের মধ্যে বেশি।

হাড়ের স্বাস্থ্যের বুনিয়াদি

হাড় হল জীবন্ত টিস্যু যা আপনার কঙ্কালের প্রধান অংশ গঠন করে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে 206টি হাড় থাকে যেখানে শিশুদের শরীরে প্রায় 300টি হাড় থাকে। হাড় আপনাকে গতিশীলতায় সাহায্য করে এবং আপনার অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিকে রক্ষা করে।

হাড় গঠন

হাড় প্রোটিন এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফেট এবং ম্যাগনেসিয়াম দ্বারা গঠিত। কোলাজেন (একটি প্রোটিন), যা একটি সিমেন্টিং পদার্থ, হাড়ের গঠন এবং কাঠামো গঠন করে।

হাড়ের মৌলিক কাঠামোগত উপাদানগুলি হল

  • পেরিওস্টিয়াম: এটি একটি পাতলা ঝিল্লি যা আপনার হাড়ের বাইরের পৃষ্ঠকে ঢেকে রাখে। এটি স্নায়ু এবং রক্তনালী নিয়ে গঠিত।
  • কমপ্যাক্ট হাড়: এটি আপনার সমস্ত হাড়ের বাইরের স্তর গঠন করে এবং খুব ঘন। আপনি যখন একটি কঙ্কালের দিকে তাকান, তখন আপনি যা দেখতে পান তা হল কম্প্যাক্ট হাড়।
  • ক্যান্সেলাস হাড়: এটি দেখতে স্পঞ্জের মতো এবং কমপ্যাক্ট হাড়ের মতো শক্ত নয়। এটি অস্থি মজ্জাকে আবৃত করে যা আপনার হাড়ের সবচেয়ে ভিতরের অংশ।

হাড়ের বৃদ্ধি

হাড় ক্রমাগত একটি জোরালো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে থাকে রিসোর্পশন (পুরানো হাড় অপসারণ) এবং জমা (নতুন হাড় গঠন) যা হাড়ের বিপাক হিসাবে পরিচিত।

আপনার হাড়ের রিসোর্পশন এবং জমার সাথে জড়িত দুটি প্রধান কোষ রয়েছে। তারা হল:

  • অস্টিওব্লাস্ট: এগুলি হল কোষ যা নতুন হাড় গঠনের জন্য দায়ী
  • অস্টিওক্লাস্ট: এগুলি এমন কোষ যা হাড় ভেঙে যাওয়ার জন্য দায়ী

এই কোষগুলির সহযোগিতায় আপনার শরীর আপনার শরীরের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজগুলির সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে। রিসোর্পশন এবং ডিপোজিশন প্রক্রিয়া সারা জীবন চলে।

ডায়েট এবং হাড়ের স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্যকর হাড় বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা প্রয়োজন কারণ আপনার হাড় আপনার শরীরের 99% ক্যালসিয়াম ধারণ করে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির মধ্যে রয়েছে ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ফ্লোরাইড এবং ভিটামিন কে। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার হল দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার। 

খাবার থেকে ক্যালসিয়াম সঠিকভাবে শোষণের জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন। সূর্যের আলো আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি প্রদান করে যা আপনার ত্বক দ্বারা শোষিত হয়।

এটি খাদ্যতালিকাগত উত্স যেমন ফোর্টিফাইড দুধ, ভিটামিন ডি-ফর্টিফাইড খাবার এবং চর্বিযুক্ত মাছের মাধ্যমেও পাওয়া যেতে পারে।

হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করার কারণগুলি

হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

  • জেনেটিক্স: হাড়ের ব্যাধি পরিবারে চলতে পারে। যদি আপনার বাবা-মা বা ভাইবোনদের হাড়ের সমস্যা থাকে তবে আপনার এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিছু জাতিগোষ্ঠীর অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হাড় রয়েছে।
  • ডায়েট: সুস্থ হাড়ের জন্য পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি প্রয়োজন। সিগারেট ধূমপান এবং অ্যালকোহল গ্রহণ হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • শারীরিক ক্রিয়াকলাপ: নিয়মিত ব্যায়াম এবং শারীরিক কার্যকলাপ আপনার হাড়কে শক্তিশালী করে।
  • বয়সঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমে যায়। আপনি মেনোপজে পৌঁছানোর সাথে সাথে আপনার হাড়ের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • শরীরের আকার: পাতলা এবং কম ওজনের মহিলাদের হাড় দুর্বল হয়।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ হাড় বজায় রাখা যায়। হাড়ের ব্যাধি জীবনের মানকে প্রভাবিত করতে পারে।

অস্টিওপোরোসিস

অস্টিওপোরোসিস ঘটে যখন হাড় থেকে প্রধানত ক্যালসিয়ামের আকারে খনিজ উপাদানের ক্ষয় হয়। অস্টিওপোরোসিস প্রধানত মহিলাদের প্রভাবিত করে, যদিও এটি পুরুষদেরও প্রভাবিত করে, তবে একটি ছোট শতাংশে।

অস্টিওপোরোসিস কোন উপসর্গ দেখায় না এবং সাধারণত এটি স্বাভাবিক বার্ধক্য প্রক্রিয়ার অংশ। তবে কিছু মহিলা অন্যান্য সহ-বিদ্যমান রোগের কারণগুলির কারণে জীবনের প্রথম দিকে এই রোগটি বিকাশ করে। মহিলাদের মেনোপজের পরেও এটি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যেহেতু এটি কোন উপসর্গ প্রদর্শন করে না শুধুমাত্র তখনই যখন আপনি একটি ফ্র্যাকচার বা বারবার ফ্র্যাকচার পান, আপনার ডাক্তার অস্টিওপরোসিস সন্দেহ করবেন।

আপনার ডাক্তার পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার হাড় থেকে খনিজ ক্ষয়ের মূল্যায়ন করবেন যা আপনার হাড়ের খনিজ ঘনত্ব (BMD) নির্ধারণ করবে।

অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ

শক্তিশালী হাড়ের বিকাশ জীবনের প্রথম দিকে শুরু হয়। সারা জীবন সুস্থ থাকা আপনার হাড়কে সুস্থ রাখার একটি চমৎকার উপায়। সুস্থ হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি হল:

হরমোন: হাড়ের ভর বজায় রাখার জন্য কিশোরী এবং যুবতী মহিলাদের মধ্যে হরমোন ইস্ট্রোজেন তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি নিম্নলিখিত অবস্থায় দেখা দেয়, হাড়ের ভরকে প্রভাবিত করে এবং অস্টিওপোরোসিস হতে পারে:

  • পিরিয়ডের অনুপস্থিতি
  • বিরল মাসিক চক্র
  • প্রথম পিরিয়ড শুরু হতে বিলম্ব
  • প্রারম্ভিক মেনোপজ

জীবনধারা:

ধূমপান হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এবং এর ফলে মহিলাদের হাড়ের ভর (হাড়ের খনিজ ঘনত্ব) উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। অস্টিওপরোটিক মহিলারা ছাড়াও যারা অস্টিওপোরোসিসের জন্য ওষুধ খাওয়ার সময় ধূমপান চালিয়ে যান, তারা চিকিত্সার সম্পূর্ণ সুবিধা অর্জন করতে ব্যর্থ হন। যে মহিলারা অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন করে তাদেরও অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি রয়েছে।

অস্টিওপরোসিস হতে পারে এমন অন্যান্য জীবনধারার কারণগুলি হল:

  • অপর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ,
  • খুব কম শারীরিক কার্যকলাপ
  • অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ
  • অত্যধিক অ্যালকোহল গ্রহণ এবং

পুষ্টি

ক্যালসিয়াম: হাড়ের শক্তির সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর জন্য আপনার জন্য প্রয়োজনীয় সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলির মধ্যে একটি হল ক্যালসিয়াম। অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ করার জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে দুগ্ধজাত খাবারের সাথে একটি সুষম খাদ্য খেতে হবে, যা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের প্রাথমিক উৎস।

ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম বিপাক সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেম এবং কিডনি থেকে আপনার ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে এবং এর ফলে এটি আপনার শরীরের টিস্যু এবং রক্তে উপলব্ধ করে। এটি আপনার হাড়ে ক্যালসিয়াম জমাতে সাহায্য করার জন্যও কাজ করে।

প্রস্তাবিত দৈনিক ক্যালসিয়াম গ্রহণ (সূত্র: ভারতীয়দের জন্য খাদ্যতালিকা নির্দেশিকা, এনআইএন)

শ্রেণীবয়স (বছর)ক্যালসিয়াম (mg/d)
শিশুরা1-9600
ছেলেরা10-17800
মেয়েরা 10-17800
পুরুষ (শরীরের ওজন = 60 কেজি) 600
মহিলা (শরীরের ওজন = 55 কেজি) 600
গর্ভাবস্থা/স্তন্যদান 1200
শিশুরা0-12 months
 
500

বিভিন্ন খাবারের গড় ক্যালসিয়ামের পরিমাণ (সূত্র: ভারতীয়দের জন্য খাদ্যতালিকা নির্দেশিকা, এনআইএন)

খাদ্য তালিকাগুলিখাবার100 গ্রাম ভোজ্য অংশের জন্য পুষ্টি উপাদান
সিরিয়াল এবং লেগুমরাগি, বেঙ্গল গ্রাম
(পুরো), ঘোড়া ছোলা
(সম্পূর্ণ), রাজমা এবং
সয়াবিন
200-340 মিলিগ্রাম
সবুজ পত্র বিশিস্ট শাকসবজিআমরান্থ, ফুলকপি
শাক, কারি পাতা,
knol-khol পাতা
আগতী
কলোকেসিয়া পাতা

500-800 mg


1130 mg
1540 mg

বাদাম এবং তৈলবীজ

নারকেল শুকনো, বাদাম,
সরিষা এবং
সূর্যমুখী বীজ

জিঞ্জেলি বীজ

জিরা বীজ

130-490 mg

 

1450 mg

1080 mg

মাছবাচা, কাতলা, মৃগল,
প্রাণ এবং রোহু
320-650 mg
 
দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যমহিষের দুধ, গরুর
দুধ, ছাগলের দুধ, দই
(গরু)
পনির, খোয়া, স্কিমড
দুধের গুঁড়া এবং পুরো-
গুঁড়া দুধ

120-210 mg

 

790-1370 mg

হাড়গুলি হাড়ের ক্ষয় এবং পুনরায় বৃদ্ধির একটি ধ্রুবক অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হাড়ের ক্ষয় ঘটতে পারে যা একটি স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। আপনার সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য, প্রতিদিন ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি পান। অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধের উপায় বা উপলব্ধ চিকিত্সার বিকল্পগুলি সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

হাড়ের জন্য ব্যায়াম

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীর অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনার শরীরে কিছু বড় পরিবর্তন ঘটে:

  • হাড়ের ভর এবং ঘনত্ব হ্রাস পায়
  • পেশীর আকার এবং শক্তি হ্রাস পায়
  • টেন্ডন এবং লিগামেন্ট কম স্থিতিস্থাপক হয়
  • তরুণাস্থি অবক্ষয় এবং জয়েন্টের প্রদাহ ঘটে

উপরের শারীরিক পরিবর্তনগুলি আপনাকে ফ্র্যাকচার, বিভিন্ন আঘাত, অস্টিওপোরোসিস এবং আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকিতে ফেলে। প্রতিদিন ব্যায়াম করা উপরোক্ত জটিলতাগুলি প্রতিরোধ করতে এবং অস্টিওআর্থারাইটিস এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার ক্ষেত্রে অনেক ত্রাণ প্রদান করতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম হাড়ের ক্ষয় রোধেও সাহায্য করতে পারে এবং আপনাকে পেশীর শক্তি, সমন্বয় এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা ফলত পতন এবং সম্পর্কিত ফ্র্যাকচার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

আপনি একটি ব্যায়াম প্রোগ্রাম শুরু করার আগে, আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। আপনার ডাক্তারের পরামর্শে শুধুমাত্র ব্যায়াম করুন। আপনার নিজের ব্যায়ামের নিয়ম অনুসরণ করবেন না, কারণ আপনার ডাক্তার আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর ভিত্তি করে কিছু বিধিনিষেধের সুপারিশ করতে পারেন।


Saturday, 1 October 2022

স্তন ক্যান্সার

গ্লোবাল ক্যান্সার অবজারভেটরি (Globocan)-এর তথ্যমতে, যে ক্যান্সারের কারণে বাংলাদেশের নারীদের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে তা হলো স্তন ক্যান্সার।

শুধুমাত্র ২০২০ সালেই বাংলাদেশে ১৩ হাজারের বেশি নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং এদের ভেতর প্রায় সাত হাজার নারী স্তন ক্যান্সারের কারণে

মারা যান। পাঁচ বছর ধরে স্তন ক্যান্সার নিয়ে বেঁচে থাকা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩১ হাজারেরও বেশি।


স্তনের কোষগুলো যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে তখনই স্তন ক্যান্সার হয়। স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে, ওই অনিয়মিত

ও অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয়। সেটি রক্তনালির লসিকা (কোষ-রস) ও অন্যান্য মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন

জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ক্যান্সার।


স্তন ক্যান্সার কি শুধুমাত্র নারীদের রোগ?

স্তন ক্যান্সার নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও হতে পারে। নারীদের মতো এত বেশি পরিমাণে না হলেও, আমেরিকার পরিসংখ্যান অনুযায়ী গড়ে

প্রতিবছর ২৫৫,০০০ জন নারী রোগীর বিপরীতে ২৩০০ জন পুরুষ রোগী পাওয়া যায়। তাই পুরুষদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা নারীদের থেকে তুলনামূলক

অনেক কম হলেও একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়।


এবার আমরা শুধুমাত্র নারীদের স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনা করব।



স্তন ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ:

  • স্তনে বা তার আশেপাশে নতুন কোনো পিণ্ড/ চাকা/দলার মতো গঠন তৈরি হওয়া।

  • স্তনের বিভিন্ন অংশ পুরু কিংবা ফুলে যেতে থাকা।

  • স্তনের ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি হওয়া।

  • নিপল বা স্তনবৃন্তের আশেপাশে বা স্তনের অন্য কোনো জায়গার ত্বকে লাল লাল ভাব হওয়া। 

  • নিপল এলাকায় ব্যথা অনুভব করা।

  • নিপল দিয়ে দুধ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ নিঃসরিত হওয়া।

  • স্তনের আকার-আকৃতি পরিবর্তন হওয়া।

  • স্তনের যেকোনো স্থানে ব্যথা হওয়া।


স্তন ক্যান্সারের ঝুকিতে কারা বেশি থাকেন?


  • বয়স যত বাড়তে থাকে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বাড়ে। বেশিরভাগ ক্যান্সার ধরা পড়ে ৫০ বছর বয়সের পরে।

  • বিশেষ জিনগত মিউটেশন হলে।

  • ১২ বছর বয়সের আগেই পিরিয়ড হওয়া এবং ৫৫ বছর বয়সের পরে মেনোপজ বা রজঃনিবৃতি হওয়া।

  • স্তন পুরু হলে সেখান থেকে টিউমার খুঁজে বের করা বেশ কঠিন হয়। যার কারণে তাদের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

  • আগে স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকলে কিংবা ক্যান্সারব্যতীত স্তনের অন্য কোনো রোগ হয়ে থাকলে। 

  • পরিবারের কারোর স্তন কিংবা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার হয়ে থাকলে। 

  • রেডিয়েশন থেরাপির মাধ্যমে অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা নিয়ে থাকলে।

  • শারীরিকভাবে পরিশ্রমী না হলে।

  • রজঃনিবৃতির পরে ওজন বাড়তে থাকলে। 

  • বিভিন্ন হরমোন গ্রহণ করলে।

  • প্রথম গর্ভধারণ ৩০ বছর বয়সের পর হলে এবং দুধপান না করালে।

  • অ্যালকোহল পান।


যেভাবে আপনি স্তন ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন:


  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

  • নিয়মিত ব্যায়াম/ শারীরিক পরিশ্রম।

  • অ্যালকোহল পান না করা।

  • জন্মবিরতিকরণ বড়ি খাওয়ার আগে এবং হরমোন থেরাপি নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

  • যদি আপনার পারিবারিক ইতিহাসে এই ক্যান্সার কারো হয়ে থাকে কিংবা বিশেষ জিনের মিউটেশন ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানানো। 

  • চিকিৎসকের পরামর্শমতো নিয়মিত স্তন ক্যান্সারের স্ক্রিনিং করলে! এর ফলে আগেই রোগ নির্ণয় করা যায় এবং ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।


স্তন ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত শনাক্ত করা যায় তাহলে পুরোপুরি এর নিরাময় সম্ভব। আর সেজন্য বাড়িতে বসেই

নিজের স্তন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা ।