***** HEALTH IS WEALTH *****

“I believe that the greatest gift you can give your family and the world is a healthy you.” – Joyce Meyer

**CONNECT US TO GET HEALTH TIPS DAILY ***

“Good health is not something we can buy. However, it can be an extremely valuable savings account.” – Anne Wilson Schaef

**YOUR FITNESS IS YOUR GREATEST WEALTH**

“A fit body, a calm mind, a house full of love. These things cannot be bought – they must be earned.” – Naval Ravikant

** FOLLOW US TO GET DAILY HEALTH BLOGS ***

“If you're happy, if you're feeling good, then nothing else matters.” – Robin Wright

**** THANK YOU ****

THANK YOU FOR YOUR CONTINUOUS HEALTH AND SUPPORT

"HEALTH GUIDE BENGALI" provide you all health information,our mission is to provide all health tips and health related information and health blogs...

Showing posts with label vitamin. Show all posts
Showing posts with label vitamin. Show all posts

Friday, 11 November 2022

বেশি ভিটামিন খাওয়ার কুফল || VITAMIN || vitamin side effects

 


 

প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার মাধ্যমে শরীরের দৈনিক ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণ করা স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের সার্বজনিন পরামর্শ। তবে অনেকেই মনে করেন, শুধু খাবার থেকে পুষ্টি ও খনিজের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, ফলে ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের আশ্রয় নেন।

ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট শরীরের জন্য ভালো, তবে সেটা গ্রহণ করতে হবে নিয়ম মাফিক। কারণ অতিরিক্ত ভিটামিনও শরীরের জন্য বিষ হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অবলম্বনে এখানে অতিরিক্ত ভিটামিনের কুফলগুলো দেওয়া হল।

অতিমাত্রায় ভিটামিন এ: পানিতে সহজেই মিশে যায় বলে শরীর বাড়তি ভিটামিন ‘এ’ সংরক্ষণ করে রাখতে পারে, বিশেষত যকৃতে। এতে এলার্জি হতে পারে, ফুলে যেতে পারে মুখ, ঠোঁট, জিহবা কিংবা গলা। পাশাপাশি ‘ইনট্রাকরানিয়াল প্রেশার’ মানে মাথায় খুলির ভেতরের অংশে চাপ বৃদ্ধি পাওয়া, মাথা ঘোরা, বমিভাব, হাড়ের জোড়ে ব্যথা, এমনকি অচেতন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

অতিমাত্রায় ভিটামিন সি: এটিও পানিতে সহজে দ্রবণীয়। অতিরিক্ত ভিটামিন সি’র কারণে ডায়রিয়া, বমিভাব ও বমি, মাথাব্যথা, বৃক্কে পাথর, অনিদ্রা, বুক জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিমাত্রায় ভিটামিন ডি: চর্বির সঙ্গে দ্রবণীয় ভিটামিন ডি। শরীরে এর অতিরিক্ত মাত্রা খাওয়ার রুচি কমিয়ে দিতে পারে। পানিশূন্যতা, বমিভাব, মাংসপেশি দুর্বল হওয়া, ডায়রিয়া ইত্যাদিও হতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত ভিটামিন গ্রহণের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক রয়েছে।

অতিমাত্রায় ভিটামিন ই: এই ভিটামিন অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ক্লান্তি বাড়ে, মাথাব্যথা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি হয়। দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হওয়া এবং প্রচণ্ড পেট ব্যথাও হতে পারে। এছাড়াও আছে মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্ট হওয়ার আশঙ্কা।

অতিমাত্রায় ভিটামিন কে: শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন কে’ থাকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল যকৃতের আকার বৃদ্ধি পাওয়া, শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্টের সমস্যা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, শরীরে ফুলে যাওয়া, নড়াচড়ায় সমস্যা, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

অতিমাত্রায় ভিটামিন বি ওয়ান: পেট খারাপ হওয়ার জন্য দায়ি। এলার্জিও দেখা দিতে পারে, তবে এমনটা খুব কম হয়। এছাড়াও ঠোঁটে নীলচে রং দেখা দিতে পারে এবং হাঁসফাঁস লাগতে পারে।

অতিমাত্রায় ভিটামিন বি টু: এই ভিটামিনের অপর নাম ‘রিবোফ্লাভিন’ যার কারণে প্রসাবের রং হলদে-কমলাটে হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ডায়রিয়া ও ঘন ঘন প্রসাব হতে পারে। কিছু এলার্জির সমস্যা যেমন- চেহারা, ঠোঁট ও জিহবা ফুলে যেতে পারে।

অতিমাত্রায় ভিটামিন বি থ্রি: ডাক্তারি ভাষায় একে বলা হয় ‘নিয়াসিন’। শরীরে এর অতিরিক্ত মাত্রা চুলকানি, তলপেটে ব্যথা, ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া, গেঁটেবাত, ডায়রিয়া, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি সমস্যার কারণ হতে পারে।

অতিমাত্রায় ভিটামিন বি সিক্স: ভিটামিন বি সিক্স বা ‘পাইরিডক্সিন’ অতিরিক্ত গ্রহণেরও রয়েছে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। যেমন পায়ের তলায় অসাড়তা কিংবা হাত কাঁপা। স্পর্শ, তাপ ও কম্পন অনুভব করার ক্ষমতাও কমে যেতে দেখা যায়। শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, নিজেকে টালমাতাল লাগতে পারে।

অতিমাত্রায় ভিটামিন বি টুয়েলভ: বাহু, হাত ও মুখে অসাড়তা দেখা দিতে পারে এই ভিটামিনের অতিরিক্ত মাত্রায়, ‘অপটিক নার্ভ’ বা মস্তিষ্ক থেকে চোখে সংযোগকারী স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত ভিটামিন বি টুয়েলভ প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

অতিমাত্রায় ফোলেট: ভিটামিন বি নাইন বা ফোলেট শরীরে বেশি থাকলে পাকস্থলীতে সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও আছে ত্বকের সমস্যা ও ঘুমের সমস্যার আশঙ্কা।

অতিমাত্রায় বায়োটিন: ভিটামিন বি সেভেন’য়ের অপর নাম বায়োটিন। এই ভিটামিন অতিরিক্ত গ্রহণে ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে, এছাড়াও হতে পারে অস্বাভাবিক ঘাম। হালকা বমিভাব, পেটব্যথা ও ডায়রিয়াও হতে পারে।

প্রতিটি মানুষেরই দৈনিক ভিটামিন চাহিদায় তফাত রয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, প্রত্যেকের ভিটামিন চাহিদা হবে একে অপরের থেকে ভিন্ন। তাই যে কোনো ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


আর যদি এই লেখাটি আপনার কোনো বন্ধু বা আত্মীয়দের উপকারে লাগে তাহলে নিচের শেয়ার বাটন গুলোতে ক্লিক করে তাদেরকে শেয়ার করুন।

আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।

আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।

Tuesday, 25 October 2022

ভিটামিন এ এর উৎস, কাজ ও অভাবজনিত রোগ || vitamin A

 

সুস্থ্য থাকার জন্য আমাদের শরীরে ভিটামিনের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। অনেক প্রকারের ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ অন্যতম। ভিটামিন এ একটি ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন যা প্রাকৃতিকভাবে অনেক খাবারেই উপস্থিত থাকে। ভিটামিন এ সাধারণ দর্শন(চোখে দেখা), রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি এবং অন্যান্য অঙ্গগুলি সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। আজ আমরা জানবো কোন কোন ফলে, মাছে ‍ও শাকসবজিতে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়, এর কাজ কি ও এটির অভাবে কী কী রোগ হতে পারে।

কোন খাদ্যে ভিটামিন ’এ’ পাওয়া যায়?

গাজর
গাজরে ভিটামিন এ পাওয়া যায়
মলা মাছ
দেখতে ছোট হলেও এই মলা মাছে প্রচুর ভিটামিন এ পাওয়া যায়

মাছের তেল, ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাকসবজি, বিভিন্ন প্রকার রঙিন ফলমূল ও প্রাণিজ স্নেহে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ’এ’ পাওয়া যায়। এর উৎসগুলো হলোঃ ১. শাকসবজিঃ লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, লাউ, টমেটো, ব্রোকলি গাজর, ফুলকপি, বীট, মিষ্টি আলু ও মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি। ২. মাছঃ মলা ও ঢেলা মাছে ও  কড মাছের যকৃতের তৈল। ৩. ফলমূলঃ পাকা পেঁপে, আম, কাঁঠাল, বেল, আপেল, কলা, তরমুজ ইত্যাদি ফল।

কলিজা
কলিজাতে প্রচুর ভিটামিন এ পাওয়া যায়

এছাড়া প্রাণিজ থেকে বিশেষ করে  দুধ, মাখন, পনির, ডিমের কুসুম, কলিজা বা যকৃৎ এর মধ্যে ভিটামিন এ পাওয়া যায়।

ভিটামিন ’এ’ এর কাজ কী?

  • দেহের পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে ভিটামিন এ সাহায্য করে।
  • আমরা যে খাবার খায় তা হজমে ও ক্ষুধা সৃষ্টিতে কাজ করে।
  • আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে।
  • রক্তে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখে।
  • ত্বককে সুস্থ রাখে এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করে।

ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে কোন রোগ হয়?

শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব হলে নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে। সর্দি, কাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা সহ নানা প্রকার রোগ হতে পারে। তবে সবচেয়ে বিপদজনক রোগগুলো হলো রাতকানা রোগ ও জেরপথালমিয়া রোগ। দুইটি রোগই কিন্তু চোখের রোগ। আসুন জেনে নিই রাতকানা রোগ কি এবং জেরপথালমিয়া রোগ কি?

রাতকানা রোগ
রাতকানা রোগ হলে অন্ধকারে গাড়িটি দেখতে পাবে না।

১. রাতকানা রোগঃ রাতের বেলায় অল্প আলোতে কম দেখা বা দেখতে না পারাকে রাতকানা রোগ বলে। এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয় শিশুরা। তাই তাদেরকে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি ও রঙিন ফলমূল খাওয়াতে হবে। টিকা দিবসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো উচিত। কেননা এটি রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

২. জেরপথালমিয়াঃ ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে চোখের পানি শুকিয়ে যায় ও চোখের আদ্রতা হারায়।ফলে চোখের কার্নিয়ার উপর শুষ্ক আবরণ পড়ে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সমস্যার কারণে চোখ আলো সহ্য করতে পারে না। চোখে পুঁজ জমা ও চোখের পাতা ফুলার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রাতকানা ও জেরপথালমিয়া রোগের সময়মত চিকিৎসা না করালে চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এ ধরনের রোগের বৈশিষ্ট দেখা দিলে দ্রুত অভিজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে হবে। নিয়মিত ভিটামিন এ গ্রহণ করলে এসব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বেশি খেয়াল রাখতে হবে গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ এদের প্রতি যেন তাদের দেহে এর অভাব পড়ে। 

ভিটামিন-কে এর প্রয়োজনীয়তা এবং এর ঘাটতির প্রতিরোধ ও চিকিৎসা || vitamin k

 

পুষ্টিপাড়ায় ভিটামিন সি , এ , বি , ডি এবং ই এর মাঝে ভিটামিন-কে যেন এক আগন্তুক । এতো এতো ভিটামিনের মাঝে ভিটামিন কে এর নাম খুব একটা শোনা যায় না । কিন্তু এটি দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন ।

“ভিটামিন কে” চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন। এই ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধা এবং হাড়ের স্বাস্থের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত রোগও হতে পারে ভয়ানক। তাই আজকে আমরা ভিটামিন কে এবং কিভাবে ভিটামিন কে-এর ঘাটতি জনিত সমস্যার সাথে মোকাবেলা করা তা সর্ম্পকে বিস্তারিত জানবো।


 

ভিটামিন-কেঃ

ভিটামিন কে আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯২৯ সালে রক্ত তঞ্চনের জন্য এসেন্সিয়াল নিউট্রিয়েন্ট হিসেবে । আর “ভিটামিন কে” নামটি এসেছে জার্মান শব্দ Koagulationsvitamin থেকে।

এটি রক্ত তঞ্চনে , হাড়ের বিপাকে এবং রক্তের ক্যালসিয়াম লেভেল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়াও প্রোথ্রোম্বিন উৎপন্ন করে , যেটি একটি প্রোটিন এবং ক্লটিং ফ্যাক্টর যা রক্ত তঞ্চনে এবং হাড়ের বিপাকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

যদি আপনার দেহে ভিটামিন কে-এর ঘাটতি থাকে ,তাহলে দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে এই প্রোটিন উৎপন্ন হবে না ।

মূলত দুই প্রকারের ভিটামিন কে রয়েছে । যেমন,

১) ভিটামিন কে১ঃ

ভিটামিন কে১ বা Phylloquinone মূলত আসে উদ্ভিদ উৎস থেকে,বিশেষত সবুজ শাকসবজিতে যেমন, পালংশাক এবং Kale।

মানুষ যখন কে১ গ্রহণ করে,তখন বৃহদান্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া এর সংরক্ষণ র্ফম ভিটামিন কে২ তে পরিনত করে।

এটি শোষিত হয় ক্ষুদ্রান্তে এবং ফ্যাটি টিস্যু এবং যকৃতে সঞ্চিত হয়।

২) ভিটামিন কে২ঃ

ভিটামিন কে২ বা Menaquinone প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রের নালীতে তৈরি হয় ( সাধারণ গাট ফ্লোরা তৈরি করে ) এবং কে১ এর মতো একইভাবে কাজ করে।

ভিটামিন কে২ এর উৎস অনেক কম,এটি বৃহত্তরভাবে প্রাণীজ উৎস ( মাংস , ডিম ) এবং ফারমেন্টেড ফুডে পাওয়া যায়।


ভিটামিন-কে এর উৎস সমূহঃ

ভিটামিন কে উচ্চ পরিমাণে চোখে পড়ে সবুজ শাকসবজি যথাঃKale এবং swiss chard এ। অন্যান্য উৎসের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ভোজ্য তেল এবং কিছু ফল।

শাকসবজি ভিটামন কে১ এর ভালো উৎস। অন্যদিকে Menaquinone বা কে২ পাওয়া যায় মাংস , দুগ্ধজাত পণ্য , ডিম এবং জাপানিজ খাবার Natto (ফারমেন্টেড সয়াবিন থেকে তৈরি)।
নিম্নে উচ্চ ভিটামিন কে যুক্ত খাবারের তালিকা দেওয়া হলঃ

১। সবুজ শাকসবজিঃ পালংশাক,লেটুস,ব্রোকলি, সুইস চার্ড,কলার্ড গ্রিনস,ব্রাসেল স্প্রাউট ইত্যাদি।
২। ভোজ্য তেল
৩। ফলমূলঃ ব্লুবেরি,ডুমুর, কিউই এবং আলুবোখারা ।
৪। মাংসঃ এখানে যকৃত অন্তর্ভূক্ত থাকবে।
৫। চিজ
৬। ডিম
৭। ছোলা
৮। সয়াবিন
৯। গ্রিন টি
১০। Natto

দৈনিক “ভিটামিন-কে” গ্রহন এর পরিমাণঃ

অধিকাংশ ব্যক্তি তাদের ডায়েট থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন কে পেয়ে থাকে। তাই বয়স এবং লিঙ্গের উপর নির্ভর করে পর্যাপ্ত ভিটামিন কে সুপারিশ করা হয়।

নারীদের ক্ষেত্রে ১৯ বছর বয়সি বা এর বেশি হলে পুরো দিনে ৯০ মাইক্রোগ্রাম এবং পুরুষদের দিনে ১২০ মাইক্রোগ্রাম গ্রহণ করতে হবে । ভিটামিন কে মাইক্রোগ্রামে মাপা হয় ।

ভিটামিন কে গ্রহন এর প্রয়োজনীয়তাঃ

১) রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে ভিটামিন-কেঃ

ভিটামিন কে ছাড়া দেহ প্রোথ্রোম্বিন প্রোটিন তৈরি করতে পারে না। এটি একটি ক্লটিং ফ্যাক্টর যা রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে এবং হাড়ের বিপাকের জন্যও প্রয়োজনীয়।

ভিটামিন কে অতিরিক্ত রক্তপাতও রোধ করে ।

২) ভিটামিন-কে হাড়কে শক্ত ও মজবুত করেঃ

কম ভিটামিন কে-এর গ্রহণ এবং অস্টিওপরোসিসের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক রয়েছে। আর কতিপয় গবেষণায় পাওয়া গেছে, এটি হাড় শক্ত-মজবুত রাখতে সহায়ত করে।

সেইসাথে হাড়ের ঘনত্বের উন্নতিসাধন এবং হাড় ভেঙ্গে যাওয়া ঝুঁকি কমায়। যদিও এই বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন ।

৩) ভিটামিন-কে স্মৃতিকে ভালো রাখেঃ

রক্তে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন কে বয়স্কদের আকস্মিক স্মৃতি উন্নতির সাথে সংযুক্ত রয়েছে বলে জানা যায় এক গবেষণায়।

৪) স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে ভিটামিন-কেঃ

মিনারাইলেজেশন প্রতিরোধের মাধ্যমে রক্তচাপ কমাতে এবং হার্টকে অবাধে পুরো দেহে রক্ত পাম্প করতে সাহায্য করে।

এছাড়া পর্যাপ্ত ভিটামিন কে স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে ।

৫) Vitamin K Dependent Clotting Factors Deficiency:

Vitamin K Dependent Clotting Factors Deficiency বা VKCFD নামক বিরল বংশগত ব্লিডিং ডিজঅর্ডার এর ফলে রক্তপাত প্রতিরোধ করতে ভিটামিন কে মৌখিকভাবে অথবা ইনজেকশন সুপারিশ করা হয় ।

৬) নবজাতকের দেহে নিম্ন মাত্রায় ভিটামিন কে-এর কারনে যে রক্তপাতের সমস্যা হয় তা প্রতিরোধে মৌখিকভাবে বা পেশীতে শট (vitamin-k) দেওয়া হয়।

৭) অন্যান্য ভিটামিনের সাথে দল বেধে কাজ করে ভিটামিন-কে।

“ভিটামিন কে” ঘাটতির কারনসমূহঃ

যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ভিটামিন-কে ঘাটতির ঘটনা অনেক বিরল।

তবে কিছু কিছু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিটামিন কে ঘাটতির অত্যাধিক ঝুঁকি রয়েছেঃ

১। কুমারিন অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট গ্রহণ করেন এমন ব্যক্তি যেমনঃ Warfrain, যেটা রক্ত তরলীকরণ করে।
কুমারিন রক্ত তঞ্চনে যে প্রোটিন জড়িত তার উৎপাদনে হস্তক্ষেপ করে।

২। অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ ভিটামিন কে-এর উৎপাদন এবং শোষণে হস্তক্ষেপ করে ।

৩। যে খাবার খাচ্ছেন তাতে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন কে না থাকে ।

৪। দেহ সর্ম্পূণভাবে ফ্যাট শোষণ করতে না পারলে তখন একে ফ্যাট ম্যালঅ্যাবজরশন বলে।
যাদের এই সমস্যা আছে তাদের মাঝে ভিটামিন কে-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে ।

সেইসব ব্যাক্তিদের এই সমস্যা হবে যারাঃ
-Celiac disease আক্রান্ত
-Cystic fibrosis আক্রান্ত
-অন্ত্রে অথবা পিত্তথলীতে কোন ব্যাধি আছে
-অন্ত্রের কোন অংশ অপসারিত করা হলে


৫। প্রচন্ডভাবে অ্যালকোহল পান করেন এমন ব্যক্তি।

৬। অপুষ্টির শিকার ব্যক্তি ।

৭। নবজাতকরা বিভিন্ন কারণে ভিটামিন কে ঘাটতির অত্যাধিক ঝুঁকিতে রয়েছেঃ
-মায়ের বুকের দুধে ভিটামিন কে খুব কম পরিমাণে রয়েছে ।

  • মায়ের প্লাসেন্টা থেকে তার বাচ্চার দেহে ভিটামিন কে ঠিকভাবে হস্তান্তর হয় না ।
    -নবজাতক যকৃত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারে না ।
  • নবজাতক জীবনের প্রথম কয়েকদিন নিজে নিজেই ভিটামিন কে২ তৈরি করতে পারে না ।

আরও পড়ুন – স্পিরুলিনা – পুষ্টির গ্রীন ডায়মন্ড

“ভিটামিন কে” ঘাটতির লক্ষণ সমূহঃ

ভিটামিন কে ঘাটতির মূল লক্ষণ হল অতিরিক্ত রক্তপাত । তবে এই বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে রক্তপাত কাঁটা বা আঘাত প্রাপ্ত স্থান ছাড়াও দেহের যেকোন স্থানে হতে পারে । নিম্নে লক্ষণ সমূহ দেওয়া হলঃ

১। সহজেই আঘাত পাওয়া।
২। ক্ষত , বিদ্ধ হওয়া স্থান এবং ইনজেকশন অথবা অস্ত্রোপাচারের স্থান হতে অত্যধিক রক্তপাত হওয়া।
৩। নবজাতকের নাড়ি যেখান থেকে অপসারিত করা হয়েছে সেই স্থান হতে রক্তপাত হওয়া ।
৪। ত্বক , নাক , Gastrointestinal tract অথবা অন্যস্থাবে হতে রক্তপাত হওয়া ।
৫। নখের নিচে ক্ষুদ্রকারে রক্তজমাট বাঁধা ।
৬। যদি শিশুর সুন্নৎ করা হয় সেক্ষেত্রে শিশ্ন থেকে রক্তপাত হতে পারে ।
৭। মস্তিষ্কে হঠাৎ রক্তপাত যা অত্যন্ত ভয়ানক এবং প্রাণঘাতী ।
৮। ঘন কালো আলকাতরার মতো মল এবং মল বা মূত্রের সাথে রক্ত দেখা দেওয়া ।
৯। বর্ধিত প্রোথ্রোম্বিন টাইম ।

দেহে ভিটামিন কে এর ঘাটতি হলে কিভাবে নির্ণয় করা হয় ?

প্রথমত , আপনার ডাক্তার আপনার মেডিকেল হিস্ট্রি দেখবে এটা বোঝার জন্য যে আপনার ভিটামিন কে-এর অভাবের ঝুঁকি রয়েছে কিনা।

সাধারণত ঝুঁকিতে রয়েছে যারাঃ

  • অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট নেন
  • অ্যান্টিবায়োটিক নেন
  • চর্বি শোষণে সমস্যা বেশি


সম্ভবত আপনার চিকিৎসক কোয়াগুলেন্ট টেস্ট সম্পন্ন করবেন যা ‘প্রোথ্রোম্বিন টাইম’ নামে পরিচিত। এটা করা হয় ভিটামিন কে -এর অভাবেই এই লক্ষণগুলো হচ্ছে কিনা নিশ্চিন্ত হওয়ার জন্য ।

তারা অল্প রক্তের নমুনা নিয়ে সেখানে রাসায়নিক যোগ করার পর লক্ষ্য করেন রক্ত তঞ্চনে কত সময় নেয় । রক্ত সাধারণত জমাট বাঁধতে ১১ থেকে ১৩.৫ সেকেন্ড সময় নেয়। যদি এর চেয়ে বেশি সময় নেয় তবে ভিটামিন কে ঘাটতির নির্দেশক হতে পারে । তাই এই পরীক্ষার আগে ভিটামিন কে যুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না।

International Normalized Ratio পরিমাপের মাধ্যমে , ল্যাব এই ফলাফল ভিন্ন উপায়ে দেখতে পারে। আইএনআর এমন স্কেল্ভিত্তিক যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষাগারে ফলাফলের সাথে তুলনা করে।

একটি সাধারণত আইএনআর প্রায় ০.৯ থেকে ১.১ হয় । কেউ ব্লাড থিনার গ্রহণ করলে তার প্রায় ২ থেকে ৩.৫ হতে পারে । আপনার চিকিৎসক সংখ্যাটি খুব বেশি কিনা তা দেখার জন্য সন্ধান করবেন।

ভিটামিন বি১ এর উৎস ও অভাবজনিত রোগ

 

ভিটামিন বি১ এর উৎস ও অভাবজনিত রোগ

ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর কথা আমরা কম বেশি সকলেই শুনেছি। কিন্তু এই বি কমপ্লেক্স কোন কোন বি ভিটামিন এর সমন্বয়ে গঠিত তা অনেকেরই অজানা। সেই বি ভিটামিন গুলোর একটি ভিটামিন বি১ নিয়ে জানবো আজ।

ভিটামিন বি১ এর পরিচয়

এর রাসায়নিক নাম থায়ামিন ( Thiamine). থায়ামিন হচ্ছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত একটি ভিটামিন। প্রথম আবিষ্কৃত পানিতে দ্রব্যনীয় ভিটামিন হলো এই থায়ামিন ।সকল প্রাণীর জন্যই এই ভিটামিন অত্যাবশ্যক। কিন্তু শুধু ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং উদ্ভিদ এটি তৈরি করতে পারে। তাই মানুষ এবং বাকি অন্যান্য প্রাণীকে খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করে এর চাহিদা পূরন করতে হয়।

ভিটামিন বি১

ভিটামিন বি১ কেন দরকার?

আপনার শরীরে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকে তাহলে আপনি বেরিবেরি, অপটিক নিউরাইটিস এবং ভারনিকো করসাকফ সিনড্রোমের মতো রোগে অতি সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়া ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত কোন রোগীর যদি এর অভাব হয় তাহলে তার শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়।

দৈনিক ভিটামিন বি১ গ্রহণের পরিমান?

RDA অনুসারে, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য দৈনিক ভিটামিন বি১ গ্রহণ এর পরিমান 1.2 mg এবং প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের দৈনিক গ্রহণ এর পরিমান 1.1 mg. গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বেড়ে দাড়ায় 1.4 mg. জ্বরে, কঠিন পরিশ্রমে, দেহের শক্তি চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে থায়ামিনের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। যেহেতু থায়ামিন দেহে সঞ্চিত থাকে না, তাই খাবারের তালিকায় নিয়মিত থায়ামিন সমৃদ্ধ খাবার থাকা দরকার।

আরও পড়ুন- সামুদ্রিক মাছ এর অবিশ্বাস্য ১০ টি পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

ভিটামিন বি১ আমরা কোন কোন খাবার থেকে পেয়ে থাকি?

  • লাল / বাদামি চাল
  • মটরশুঁটি
  • মাশরুম
  • মাছ-ডিম
  • পালংশাক
  • বীজ / শস্য জাতীয় দানার আস্তরনে
  • শিম
  • বাদাম
  • যকৃত
  • হৃদপিণ্ড
  • ফুলকপি

ভিটামিন বি১ এর স্বাস্থ্য উপকারিতাঃ

থায়ামিন আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যা আপনার দেহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সহায়তা করে। যেমনঃ

শক্তি উৎপাদনঃ

চিনি আমাদের দেহের শক্তির প্রধান উৎস। কিন্তু জানেন কি, এর উপস্থিতির কারনেই চিনি জারিত হয়ে শক্তি উৎপাদনের উপযোগী হয়।

নার্ভকে রক্ষা করেঃ

আমাদের শরীরের স্নায়ুর চারপাশে মেলিনের শীটের বিকাশে সহায়তা করে। ভিটামিন বি১ এর অভাবে স্নায়ুর অবক্ষয় হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ক্ষুধা বৃদ্ধি করেঃ

ভিটামিন বি১ ক্ষুধা (appetite) এবং মানসিক স্ট্রেসকে নিয়ন্ত্রণ করে।

হৃদরোগ প্রতিরোধ করেঃ

নিউরোট্রান্সমিটার এসিটাইলকোলিন উৎপাদনে সহায়তা করে যা স্নায়ু এবং পেশী গুলোর মধ্যে বার্তা বহন করে। এর পাশাপাশি হৃদপিণ্ডের কার্যক্রম সঠিকভাবে চলতেও সাহায্য করে। এর ঘাটতি কার্ডিয়াক ফাংশনকে অনিয়মিত করে।Congestive Heart Failure এর রোগীদেরকে ৭ দিনের জন্য ভেইন এর মাধ্যমে (intravenously) ভিটামিন বি ১ দেওয়া হলে তাদের ইকোকার্ডিওগ্রামের উন্নতি দেখা যায়। এটি প্রমাণ করে যে হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।

চোখে ছানি পড়া রোধ করেঃ

ভিটামিন বি১ আপনার চোখে ছানি পড়ার সমস্যা রোধ করতে পারে।

হজমে সহায়তা করেঃ

হাইড্রোক্লোরিক এসিডের নিঃসরণে সহায়তা করে, যা খাদ্য হজমের প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত।

আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ করেঃ

আলঝেইমার রোগের অগ্রগতি কমিয়ে দেয়। Gray E.Gibson এর মতে, থায়ামিনের ঘাটতি এবং আলঝেইমার এর মধ্যে বেশ কিছু মিল আছে। উভয়ই মস্তিষ্কের গ্লুকোজ বিপাক হ্রাসের সাথে যুক্ত। আলঝেইমার রোগে ভোগা রোগীকে প্রতি দিন ১০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি১ দেওয়া যেতে পারে।

স্মৃতিশক্তি উন্নত করেঃ

এটি আপনার স্মৃতিশক্তি কে উন্নত করতে পারে। এটি অনেক স্নায়ু জনিত রোগ যেমন, multiple sclerosis এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ভিটামিন বি১ এর ইতিবাচক প্রভাব এর জন্য একে morale vitamin ও বলা হয়।

RBC উৎপাদনঃ

ভিটামিন বি১ আপনার লোহিত রক্তকনিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অ্যান্টি এইজিং ভূমিকাঃ

শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা আপনার ত্বককে বয়স বাড়ার সাথে সাথে তৈরি বয়সের ছাপ থেকে রক্ষা করে।

অভাবজনিত রোগঃ

ভিটামিন বি১ এর অভাবজনিত রোগের কথা বললে প্রথমেই যে রোগটির কথা মাথায় আসে তা হলো বেরিবেরি। বেরিবেরি ২ ধরনের হয়ে থাকে। (তথ্যসূত্র)

  1. Wet Beriberi
  2. Dry Beriberi

Wet beriberi

হার্ট এবং সংবহনতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। Wet beriberi তে পায়ে ও হৃদপিন্ডে পানি জমে এবং হৃদপিন্ডের আকার বেড়ে যায়। এটি চরম পর্যায়ে গেলে, heart failure এর সম্ভবনা দেখা দেয়।

Dry beriberi

স্নায়ুর ক্ষতি করে এবং পেশী শক্তি হ্রাস করতে পারে এমনকি শেষ পর্যন্ত পেশী পক্ষাঘাতও হতে পারে। এক কথায় যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে বেরিবেরিও প্রাণঘাতী হতে পারে। কিন্তু আপনার যদি থায়ামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে এই রোগের সম্ভবনা আপনার অনেকটাই কমে যাবে।

বেরিবেরি রোগের লক্ষন এর ধরনের ওপর নির্ভর করে

Wet beriberi এর লক্ষনঃ

  1. শারীরিক ক্রিয়াকলাপের সময় শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া।
  2. হার্ট রেট দ্রুত হওয়া
  3. নীচের পা ফোলা

Dry beriberi এর লক্ষনঃ

  1. পেশীর কার্যক্রম হ্রাস, বিশেষত নীচের পায়ে
  2. পা এর অনুভূতি কমে যাওয়া
  3. ব্যথা
  4. মানসিক বিভ্রান্তি
  5. কথা বলতে অসুবিধা
  6. বমি বমি
  7. অনিচ্ছাকৃত চোখের চলাচল
  8. পক্ষাঘাত/paralysis

বেরিবেরি এর মতো ভিটামিন বি১ এর অভাবজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে এবং সুস্থ থাকতে, আপনার খাদ্য তালিকায় থায়ামিন যুক্ত খাবার রাখুন। আর নিয়মিত তা গ্রহণ এর অভ্যাস করুন

 

 

ভিটামিন বি’ আপনার দেহের জন্য কত জরুরী || vitamin b

 


বেরিবেরি রোগটার সাথে মোটামুটি কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। আর ভিটামিন বি এর অভাবে এ রোগটি হয় তাও জানি। তবে ভিটামিন বি এর কয়েকটি রকমভেদ আছে আর সেগুলো ভিন্ন ভিন্নভাবে ভিন্ন রোগের জন্য দায়ী তা কম সংখ্যক লোকই জানি। তেমনি ভিটামিন-বি-১২ এর ঘাটতি দেখা দেওয়ার ব্যাপারটি সম্পর্কে অনেকেই খুব একটা সচেতন নয়। কিন্তু এটা খুবই সাধারণ একটি শারীরিক সমস্যা।

সাধারণত যেকোন বয়সের, যেকোন লিঙ্গের মানুষের মাঝেই ভিটামিন-বি-১২ এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে ৪০-৬০ বছর বয়সী নারীদের মাঝে এই সমস্যাটি বেশী দেখা দেয়। অনেকক্ষেত্রে নিরামিষাশীদের শরীরেও ভিটামিন-বি-১২ এর ঘাটতি দেখা দিয়ে থাকে। একজন পূর্ণ বয়স্ক লোকের শরীরে প্রতিদিন ২ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন বি-১২ প্রয়োজন হয়। জেনে নিই ভিটামিন বি’র কিছু কথা-

ভিটামিন বি ১- এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। দূর্বলতা, বুক ধড়ফড় করা, হাত পা ব্যাথা করা ইত্যাদি এই ভিটামিন বি ১ এর অভাবে হয়ে থাকে।

ভিটামিন বি ২- ঠোঁট এবং তালু ফাটা, ঠোঁটের কোনায় ঘা, গলা শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি এই ভিটামিন বি ২ এর অভাবে হয়ে থাকে।

ভিটামিন বি ৩ – চুলকানি, ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা এবং ডায়রিয়া বি ৩ এর অভাবে হয়ে থাকে।

ভিটামিন বি ৫- এর অভাবে ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন বি ৬- উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত স্বল্পতা,বিষন্নতা এবং ত্বকের সমস্যা ভিটামিন বি ৬ এর অভাবে অভাবে হয়ে থাকে।

ভিটামিন বি ৭- শিশুদের বৃদ্ধি এবং মানসিক বৃদ্ধি ভিটামিন বি ৭ এর অভাবে ব্যাহত হয়।

ভিটামিন বি ৯- অভাবে রক্ত স্বল্পতা হয়। গর্ভবতি মায়েদের ভিটামিন বি ৯ এর অভাবে গর্ভস্থ শিশুর জন্মবিকৃতি ঘটে থাকে।

ভিটামিন বি ১২- এর অভাবে রক্তস্বল্পতা এবং মানসিক সমস্যা দেখা যায়।

এছাড়াও বি- ১২- এর অভাবে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো হতে পারে।

মাথা হালকা বোধ হওয়া

মাথা হালকা বোধ হওয়ার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে তবে সেটার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। হুট করে মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এই ধরনের সমস্যা প্রতিনিয়ত দেখা দিতে থাকলে বুঝতে হবে শরীরে ভিটামিন-বি-১২ এর ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

অবশ অনুভূত হওয়া

কোন কারণ ছাড়া সুঁই ফোটানোর মতো অনুভূতি শরীরের কোন অংশে হলে বুঝতে হবে সেটা ভিটামিন-বি-১২ এর ঘাটতির ফলেই দেখা দিচ্ছে।

নিস্প্রাণ ত্বক

ভিটামিন-বি-১২ লোহিত রক্তকণা তৈরি করে থাকে। যে কারণে, শরীরে ভিটামিনে ঘাটতি দেখা দিলে ত্বক নিস্প্রাণ বা বিবর্ণ হয়ে যেতে থাকে। কিন্তু তামাটে বর্ণের কারোর ত্বকের রং হুট করেই বিবর্ণ হয়ে গেলে বুঝতে হবে শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ভুলোমনা হয়ে যাওয়া

ভুলো মনা ব্যাপার যদি নিয়মিত ঘটতে থাকে তবে সেটার ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। হুট করে কোন কিছু ভুলে যাওয়ার সমস্যাটি ভিটামিন-বি-১২ এর ঘাটতির জন্যে দেখা দেয়।

অনেক বেশী ক্লান্ত বোধ করা

নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর পরেও যদি সারাদিন ধরে ক্লান্তিভাব কাজ করে তবে বুঝতে হবে শরীরে কোন একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরেও ক্লান্তিভাব দূর না হওয়া ভিটামিন-বি-১২ এর ঘাটতি দেখা দেবার লক্ষণ।

দুর্বলবোধ হওয়া

অনেক লম্বা সময় ধরে দুর্বল বোধ হলে বুঝতে হবে শরীরে ভিটামিন-বি১২ এর ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা দেখা দেওয়া

প্রায়শ দৃষ্টিশক্তির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ার লক্ষণ হলো শরীরে ভিটামিন-বি-১২ এর অভাব তৈরি হয়েছে। ঘোলা দেখা, চোখের সামনে ঝিরিঝিরি দাগ দেখা, একটি বস্তুকে দুইটি হিসেবে দেখা দেওয়ার মতো সমস্যাগুলো দেখা দেওয়া শুরু করে।

নিচের খাবারগুলো থেকে ভিটামিন বি-১ থেকে ১২ পাওয়া যাবে।


কম চর্বিযুক্ত দই: বিভিন্ন ধরনের দইয়ে ভিটামিন বি-১২-এর মাত্রার তারতম্য দেখা যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দৈনিক চাহিদার অর্ধেক বি-১২ পাওয়া যায় দই থেকে।

কাজু: ভিটামিন বি-তে ভরপুর সবচেয়ে সুস্বাদু খাবারগুলোর মধ্যে একটি কাজু। বিশেষ করে বাটার কাজুর তো তুলনাই চলে না। এতে রয়েছে ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), ভিটামি বি৩ (নিয়াসিন) এবং ভিটামিন বি-৬।

স্পিরুলিনা: গভীর সমুদ্রের শ্যাওলা এটি। এখান থেকে সামুদ্রিক মাছ তাদের পুষ্টি সংগ্রহ করে। স্পিরুলিনায় প্রতিদিনের চাহিদা ১৫০ শতাংশ ভিটামিন বি-১২ থাকে। আর ভিটামিন বি-৬ রয়েছে ৫০ শতাংশ। মাত্র এক টেবিল চামচ স্পিরুলিনায় এগুলো পাওয়া যাবে।

ওট: এতে আছে ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২ (রিবোফ্লাবিন) এবং ভিটামিন বি-৬। এ ছাড়া এটি কোলোস্টেরল কমাতেও কাজ করে।

চিয়া সিড: ক্যালিফোর্নিয়া এবং ব্রিটেনে বেশ জনপ্রিয় এটি। ভিটামিন বি-১২ বাদে প্রায় সব রকমের ভিটামিন বি রয়েছে এতে। এ ছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাট এবং আয়রন রয়েছে। প্রতিদিন দুই টেবিল চামচ চিবিয়ে খাওয়াই যথেষ্ট।

কলা: পরিচিত এই ফলে ভিটামিন বি-৫ ও বি-৬ রয়েছে। এ ছাড়া পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন সি এবং পানিও পাওয়া যায়।

স্কোয়াশ: এটি ভিটামিন বি-৬ এ পরিপূর্ণ। পটাশিয়াম, ফাইবার এবং পানিও রয়েছে কলার মতো। মিষ্টি আলু: স্বাদের সঙ্গে ভিটামিন বি-৬ পাবেন এতে। ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, বেটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন সি তো আছেই।

পালং শাক: আমাদের দেশের শীতের এই শাক ভিটামিন বি-২ এ ভিটামিন বি-৯ (ফোলেট) দেয়। আয়রন ও ভিটামিন সি রয়েছে এতে।

বাদামের মাখন: সব বাদামেই ভিটামিন বি রয়েছে। তবে এর মাখনে সবচেয়ে বেশি। এ থেকে বি-১, বি-২, বি-৫ এবং বি-৯ পাওয়া যায়। এ ছাড়া উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী উপাদানও রয়েছে এতে।

ছোলা: ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৫, বি-৬ এবং বি-৯ ছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে।

আলমন্ড মিল্ক: এই বাদাম থেকে প্রস্তুতকৃত দুধে ভিটামিন বি-৬ এবং বি-১২ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে।

মাছ: মাছে ভিটামিন বি-১২ রয়েছে। মাছের কোষে ভিটামিন সঞ্চিত করতে পারে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে। সারডিন, স্যালমন ও খোলসযুক্ত মাছে বি ভিটামিন পাওয়া যায়।

গরুর কলিজা: বি ভিটামিনের একটি অন্যতম ভালো উৎস হচ্ছে গরুর কলিজা। বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, বি-৯ ও বি-১২ এ ভরপুর থাকে গরুর কলিজায়। বি-৬, বি-৯ ও বি-১২ এর দৈনিক চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করতে পারে ৬৮ গ্রাম ওজনের গরুর কলিজা। ফোলেট (বি ৯) জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে, ভালো ঘুম ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণের হরমোন সেরেটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে বি-৬ এবং লাল রক্ত কণিকার গঠনে সাহায্য করে বি-১২।

মুরগি: সারাবছরই সহজলভ্য বি কমপ্লেক্সের ভালো ও ব্যতিক্রমী উৎস হচ্ছে মুরগির মাংস। এছাড়াও আমিষ ও খনিজেও পরিপূর্ন থাকে। রান্না করা মুরগির বুকের মাংসে নায়াসিন (বি-৩), পেন্টোথেনিক এসিড(বি-৫), পাইরিডক্সিন(বি ৬) এ প্রচুর পরিমাণে থাকে যা বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয়। মুরগির বুকের মাংসের ৪ আউন্স ৭২ শতাংশ নায়াসিন, ১০ দশমিক ৬ শতাংশ পেন্টোথেনিক এসিড এবং ৩২ শতাংশ পাইরিডক্সিন সরবরাহ করে।

ডিম: সিদ্ধ, পোচ বা ভাজা যেভাবেই খাওয়া হোকনা কেন বি ভিটামিনের চমৎকার উৎস ডিম। ডিমে প্রায় প্রতিটা বি ভিটামিনই পাওয়া যায়। ভিটামিন বি-১২ এর সবচেয়ে ভালো উৎস হচ্ছে ডিমের কুসুম, যা লাল রক্ত কণিকার উৎপাদনে সাহায্য করে। এছাড়াও ডিমে নায়াসিন, ভিটামিন বি-৬ ও বায়োটিন থাকে যা বিপাকের নিয়ন্ত্রণে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

দুধ: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন ও বি ১২ থাকে। এছাড়াও সামান্য পরিমাণে বি-৩, বি-৫, বি-৯ এবং বি-৬ ও থাকে। ১ গ্লাস দুধে ভিটামিন বি ১২ থাকে শতভাগ, থায়ামিন থাকে ১৫ শতাংশ, রিবোফ্লাবিন থাকে ৪৫ শতাংশ, নায়াসিন থাকে ৩ শতাংশ, ফোলেট থালে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সামান্য পরিমাণে পাইরিডক্সিন থাকে।

মটরশুঁটি: বি কমপ্লেক্স ভিটামিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস মটরশুঁটি। বিভিন্ন ধরণের মটরশুঁটি, শিমের বীচি ও ছোলাতে থায়ামিন, নায়াসিন, ফোলেট এবং রিবোফ্লাভিন এ সমৃদ্ধ থাকে। ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে , প্রদাহ কমাতে এবং খাদ্যকে এনার্জিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে এই ভিটামিনগুলো। মটরশুঁটির ফোলেট ও ভিটামিন বি-৬ কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

 

ভিটামিন বি১২ || কেন খাবেন, কতটা খাবেন, কোথায় পাবেন|| ভিটামিন বি’ আপনার দেহের জন্য কত জরুরী

 


ভিটামিন বি১২ দেহের জন্য প্রয়োজনীয় অপরিহার্য উপাদানগুলির মধ্যে অন্যতম। পরিসংখ্যান বলছে ভারতের প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ এই ভিটামিনের অভাবে ভুগছেন। বিশেষত, যাঁরা নিরামিষ খাবার খান তাঁদের মধ্যে এই ঘাটতি বেশি দেখা যায়।

কেন দরকার ভিটামিন বি?

১। রক্ত কণিকা ও স্নায়ু কোষের স্বাস্থ্য রক্ষায়

২। ডিএনএ ও জিনগত উপাদান তৈরিতে

৩। হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে

৪। চুল, নখ ও ত্বক ভাল রাখতে

৫। মানসিক অবসাদ কমাতে

কতটা দরকার?

ভিটামিন বি১২ জলে দ্রবনীয় উপাদান। অর্থাৎ দেহের চাহিদা পূরণ হয়ে গেলে অতিরিক্ত ভিটামিন মূত্রের মধ্যে দিয়ে দেহের বাইরে বেরিয়ে যায়। বয়সের উপর ভিত্তি করে এই চাহিদার কম-বেশি হয়। আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের হিসেব অনুযায়ী এই পরিমাণ এই রকম—

১। ০ থেকে ৬ মাস: দৈনিক ০.৪ মিলিগ্রাম

২। ৭ থেকে ১২ মাস: ০.৫ মিলিগ্রাম

৩। ১ থেকে ৩ বছর: ০.৯ মিলিগ্রাম

৪। ৪ থেকে ৮ বছর: ১.২ মিলিগ্রাম

৯ থেকে ১৩ বছর: ১.৮ মিলিগ্রাম

৬। ১৪ থেকে ৫০ বছর: ২.৪ মিলিগ্রাম

অন্তঃসত্ত্বা নারী: ২.৬ মিলিগ্রাম

৮। স্তন্যদায়িনী মা: ২.৮ মিলিগ্রাম

কোন কোন খাবারে মেলে এই ভিটামিন?

নিরামিষ খাবারে এই ভিটামিনের পরিমাণ কিছুটা কম থাকে। প্রাণিজ খাবারে অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণে মেলে ভিটামিন বি১২। দেখে নিন রোজকার খাবারের কোনগুলি এই ভিটামিনে সমৃদ্ধ।

১। দুধ, দই ও দুগ্ধজাত পদার্থ

২। ডিম

৩। মাশরুম

৪। বিভিন্ন ধরনের মাংস ও মেটে

৫। টুনা, স্যামন ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ

৬। ঢেকি ছাটা চাল ও বিভিন্ন ধরনের গোটা শস্য

তবে সব খাবার সকলের স্বাস্থ্যের জন্য সাযুজ্যপূর্ণ নয়। তাই এই বিষয়ে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়ায় বাঞ্ছনীয়।

 

 

 

এই ভিটামিনের অভাবে হতে পারে স্মৃতিভ্রম, দুর্বলতা! জানুন || vitamin b

 


আমাদের সুস্থ সবলভাবে বেঁচে থাকতে গেলে ভিটামিনের (Vitamin) পর্যাপ্ত উপস্থিতি থাকা জরুরি। এক্ষেত্রে সবকটি ভিটামিনেরই শরীরে নিজের নিজের ভূমিকা রয়েছে। এবার সেই সকল ভিটামিনের তালিকায় গুরুত্বের প্রশ্নে একদম উপরের দিকেই থাকবে এই ভিটামিন বি (Vitamin B)। এক্ষেত্রে শরীরে ভিটামিন বি ঠিক পরিমাণে থাকা উচিত। এই ভিটামিনের ঘাটতি (Vitamin B Deficiency) থাকলে নানা ধরনের সমস্যা শরীরে দেখা যায়। এবার জেনে নেওয়া যাক, এই ভিটামিনের অভাবে কী সমস্যা হতে পারে!

কত ধরনের ভিটামিন বি রয়েছে?
ভিটামিন বি কোনও একটি ভিটামিন নয়। বরং এই ভিটামিন একটি মস্ত বড় পরিবার। এই পরিবারের মধ্যে রয়েছে ৮টি ভিটামিন। এই সকল ভিটামিনকে একত্রে বলা হয় ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এবার আসুন সেই ভাগগুলির সঙ্গে পরিচয় সেরে নেওয়া যাক।
১. ভিটামিন বি১ (থিয়ামিন

২. ভিটামিন বি২ (রাইবোফ্ল্যাভিন)
৩. ভিটামিন বি৩ (নিয়াসিন)
৪. ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড)
৫. ভিটামিন বি৬
৬. ভিটামিন বি৭ (বায়োটিন)
৭. ভিটামিন বি৯ (ফোলেট বা ফলিক অ্যাসিড)
৮. ভিটামিন বি ১২

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে কী রোগ হয়।

ভিটামিন বি১ এবং ভিটামিন বি২ ঘাটতি
এই দুই ভিটামিন শরীরে জন্য খুবই দরকারি। এক্ষেত্রে এই ভিটামিনের অভাব স্নায়ুতন্ত্র, ত্বক, চোখ ইত্যাদি অঙ্গকে দুর্বল করে দিতে পারে। এছাড়া এই ভিটামিনের অভাবে মুখে হতে পারে আলসার। তাই এই ভিটামিনের পর্যাপ্ত জোগান রাখতে হবে।

এক্ষেত্রে হোল গ্রেইন, মাছ, বাদাম, ডিম, ব্রকোলি, বাঁধাকপি, কম ফ্যাটযুক্ত দুধে এই ভিটামিন রয়েছে ভরপুর মাত্রায়।




ভিটামিন বি৩ ঘাটতি
এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে দুর্বলতা, বুঝতে না পারা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়ারিয়া, জিভ টকটকে লাল হয়ে যাওয়া, ত্বকের রং বদলে যাওয়া, হজম না হওয়া, বমিবমিভাব, পেটে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে কাজুবাদাম, মাছ, মাংসে এই ভিটামিন ভালো পরিমাণে মেলে।

ভিটামিন বি৯ ঘাটতি
এই ভিটামিন শরীরের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে দুর্বলতা, ফোকাস ঠিক না থাকা, সারাক্ষণ রেগে যাওয়া, দ্রুত হৃদগতি, শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া, অ্যানিমিয়া, ত্বক, নখ, চুলের রং বদলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

যে কোনও সবুজ শাকে এই ভিটামিন থাকে। এক্ষেত্রে পালংশাক, কমলালেবু, কাজুবাদাম, রাজমায় এই ভিটামিন রয়েছে।

ভিটামিন বি৬ ঘাটতি
এক্ষেত্রে অবসাদ থেকে শুরু করে বমিবমিভাব, বমি হয়ে যাওয়া, অ্যানিমিয়া, বারবার ইনফেকশন, স্কিন Rash, ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। আলু, মাছ এবং ফলে থাকে এই ভিটামিন।

ভিটামিন বি১২ ঘাটতি
শরীরে এই ভিটামিনের অভাব ঘটলে দুর্বলতা, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, খিদে না পাওয়া, হাত-পা অসাড় হয়ে যাওয়া, স্মৃতি দুর্বল হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই ভিটামিন মেলে ডিম, দুধ, চিজ, মাছ, চিকেনে ইত্য়াদি খাবারে।

 

ভিটামিন বি 5 কী? ঘাটতির কারণ ,অভাবের লক্ষণ? || vitamin b

 


ভিটামিন বি 5 কী?

ভিটামিন বি 5 পেন্টোথেনিক অ্যাসিড হিসাবেও পরিচিত। দেহে রক্তকণিকা তৈরিতে ভিটামিন বি 5 অন্যতম প্রয়োজনীয় ভিটামিন। এটি ব্যক্তি দ্বারা খাওয়া খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করে। ভিটামিন বি 5 কোনও ব্যক্তির ত্বক, চোখ, চুল, লিভারের জন্য উপকারী। তবে ভিটামিন বি 5 এর ঘাটতির কারণে একজন ব্যক্তিকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ভিটামিন বি 5 অন্যান্য ভিটামিনগুলির মতো দেহে প্রয়োজনীয়। ভিটামিন বি 5 এর অভাবে কী হতে পারে তা অনেকেই জানেন না। আজকের নিবন্ধে, আমরা আপনাকে ভিটামিন বি 5 সম্পর্কে বিস্তারিত বলছি।

  • ভিটামিন বি 5 কী ? ভিটামিন বি 5 এর ঘাটতির কারণ কি? (Causes of Vitamin B5 Deficiency in Bengali)
  • ভিটামিন বি 5 এর অভাবের লক্ষণ? (Symptoms of Vitamin B5 Deficiency in Bengali)
  • ভিটামিন বি 5 এর উপকারিতা? (Benefits of Vitamin B5 Deficiency in Bengali)
  • কত পরিমাণ ভিটামিন বি 5 গ্রহণ করা উচিত? (How much Vitamin B5 should be taken per day in Bengali)

ভিটামিন বি 5 এর ঘাটতির কারণ কি? (Causes of Vitamin B5 Deficiency in Bengali)

  • ভিটামিন বি 5 এর অভাব একজন ব্যক্তির জন্য বিরল অবস্থা। কিছু নিম্ন পরিস্থিতিতে ভিটামিন বি 5 এর ঘাটতি হতে পারে।
  • উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ অপুষ্টিতে থাকে তবে প্রোটিনের অভাবের সাথে তাদের ভিটামিন বি 5 এরও অভাব হয়।
  • সম্পর্কিত নিউরোডিজেনারেশন ডিসঅর্ডার থাকা।
  • খাবারে অতিরিক্ত ভিটামিন বি 5 এর অভাব। (আরও পড়ুন – অতিরিক্ত খাওয়ার ব্যাধি কি?)

ভিটামিন বি 5 এর অভাবের লক্ষণ? (Symptoms of Vitamin B5 Deficiency in Bengali)

ভিটামিন বি 5 এর অভাবের কারণে একজনের বিশেষ কিছু লক্ষণ দেখা যায়না। তবে মারাত্মকভাবে ঘাটতি থাকলে আপনি নিম্নলিখিত কয়েকটি লক্ষণ অনুভব করতে পারেন।

  • মত – ক্লান্ত বোধ।
  • পেটে ব্যথা ।
  • বমি করা।
  • হার্ট বার্ন। 
  • ক্ষুধামান্দ্য। 
  • হাত পায় জ্বালা।
  • ডায়রিয়া। 
  • ঘুমে ব্যর্থতা। 
  • আচরণে বিরক্তি। 
  • অস্থিরতা অনুভব করা।
  • মাথা ব্যথা হচ্ছে।

ভিটামিন বি 5 এর উপকারিতা? (Benefits of Vitamin B5 Deficiency in Bengali)

ভিটামিন বি 5 এর নিম্নলিখিত স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। আসুন আমরা আরও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি।

  • স্ট্রেস হ্রাস  মানসিক চাপের সমস্যা একজন ব্যক্তিকে অসুস্থ করে তোলে। তা ছাড়া মানসিক চাপের কারণে কোনও ব্যক্তি তার কাজ সঠিকভাবে করতে সক্ষম হয় না। কিছু ক্ষেত্রে, আপনার মেজাজজনিত সমস্যা থাকলে ভিটামিন বি 5 সমৃদ্ধ খাবার এবং ওষুধ সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। স্ট্রেস কমাতে, ভিটামিন বি 5 এর ঘাটতিটি কারণ খুঁজে বের করে সনাক্ত করা যেতে পারে। ভিটামিন বি 5 মনকে শান্ত করতে এবং স্ট্রেস কমাতে উপকারী। (আরও পড়ুন – স্ট্রেস হ্রাসে লাল মরিচ উপকারিতা)
  • হরমোন উত্তেজিত করে  ভিটামিন বি 5 এর এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা গ্রন্থি থেকে মুক্তি পাওয়া হরমোনের ক্রিয়া সংশোধন করতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি 5 হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এগুলি ছাড়াও এটি হরমোনের কার্যকারিতা সংশোধন করতে সহায়ক। শরীরে এমন কিছু এনজাইম রয়েছে যা ভিটামিন বি 5 কে প্রভাবিত করতে পারে। হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক করতে বি 5 উপকারী। (আরও পড়ুন – ভিটামিন ডি এর ঘাটতির কারণে)
  • বিপাক  বিপাক শরীরের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিপাক বলতে দেহে রাসায়নিক এবং প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিপাকের জন্য বি 5 প্রয়োজনীয় (আরও পড়ুন – বিপাক কী?)
  • হার্টের জন্য উপকারী  ভিটামিন বি 5 হার্টকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্যান্টোথেনিক অ্যাসিডের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির মতো একই প্রভাব রয়েছে, যেমনটি আরও উল্লিখিত হয়েছে। এটি হৃদরোগের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। বি 5 কোলেস্টেরল কমাতে উপকারী। কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে। হার্টকে সুস্থ রাখতে ভিটামিনের প্রয়োজন। 
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করার জন্য ভিটামিনের প্রয়োজন, তাদের মধ্যে একটি হলো ভিটামিন বি 5। অনাক্রম্যতা আমাদের দেহকে রোগ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। কিছু গবেষণা অনুসারে, ভিটামিন অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে ভিটামিন বি 5 সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। (আরও পড়ুন – রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী খাবেন)

কত পরিমাণ ভিটামিন বি 5 গ্রহণ করা উচিত? (How much Vitamin B5 should be taken per day in Bengali)

আসুন আমরা আপনাকে জানাই যে চিকিৎসকের মরে ভিটামিন বি 5 কত পরিমাণ নেওয়া উচিত।

  • 0 থেকে 6 মাস বয়সী শিশুদের প্রতিদিন 1.7 মিলিগ্রাম গ্রহণ করা উচিত।
  • 7 থেকে 12 মাস বয়সী শিশুদের প্রতিদিন 1.8 মিলিগ্রাম গ্রহণ করা উচিত।
  • 1 থেকে 3 বছর বয়সী বাচ্চাদের প্রতিদিন 2 মিলিগ্রাম গ্রহণ করা উচিত।
  • 4 থেকে 8 বছর বয়সী বাচ্চাদের প্রতিদিন 3 মিলিগ্রাম গ্রহণ করা উচিত।
  • 9 থেকে 13 বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন 4 মিলিগ্রাম গ্রহণ করা উচিত।
  • 14 বছর বা তার বেশি বয়সের পুরুষ এবং মহিলাদের প্রতিদিন 5 মিলিগ্রাম গ্রহণ করা উচিত।
  • গর্ভবতী মহিলাদের প্রতিদিন 6 মিলিগ্রাম গ্রহণ করা উচিত।
  • বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলাদের প্রতিদিন 7 মিলিগ্রাম গ্রহণ করা উচিত।

আমরা আশা করি আপনার প্রশ্ন ভিটামিন বি 5 কী? এই নিবন্ধের মাধ্যমে উত্তর দিতে সক্ষম হয়েছি।

যদি আপনার ভিটামিন বি 5 সম্পর্কে আরও তথ্যের প্রয়োজন হয় তবে আপনি আপনার নিকটস্থ (General Physician) এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আমরা কেবল নিবন্ধের মাধ্যমে আপনাকে তথ্য দেওয়ার লক্ষ্য রাখি। আমরা কোনও উপায়ে ওষুধ, চিকিৎসার পরামর্শ দিই না। কেবল ডাক্তারই আপনাকে ভাল পরামর্শ দিতে পারে।



গর্ভাবস্থায় ভিটামিন || Vitamins During Pregnancy


 

 গর্ভবতী মহিলাদের স্বভাবতই খুব বেশি খিদে পায় এবং সেই সময়ে সঠিক পরিমাণে ও গুণমানের খাওয়ার খাওয়া তাঁদের জন্য খুব জরুরী। কেননা এই খাবার ও ভিটামিন মায়ের সাথে সাথে শিশুরও শরীর গঠন ও বেড়ে ওঠায় কাজে লাগে। গর্ভবতী অবস্থায় সব মায়েরই প্রয়োজন পড়ে সঠিক পরিমান বিশ্রাম ও খাওয়াদাওয়া ইত্যাদির।  এই সময়ে সঠিক ভাবে ওষুধ পত্র খেলে তবেই পরে গিয়ে প্রসবের সময় ও তারপর বাচ্চার বেড়ে ওঠায় কোনোরকম জটিলতা দেখা দেয় না।   প্রয়োজন নতুন মায়েদের  প্রতি, আর তাই এখানে রইল গর্ভাবস্থার জন্য নানান টিপস (pregnancy bangla).

গর্ভাবস্থায় খাবার ও ভিটামিন এর তালিকা 

গর্ভবতী মহিলার সেই সময়ে কি খাওয়া প্রয়োজন তা এখানে খানিকটা বলা হল। তবে আপনার বয়স, শারীরিক অবস্থা, ওজন ইত্যাদি বিবেচনা করে ভাল ডায়েট সাজেশন অবশ্যই আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নেবেন। সকালে – সকালে অনেক গর্ভবতী নারীরই বমি বমি ভাব হয় এবং খেতে ইচ্ছে করেনা। সেক্ষেত্রে ভারী খাবার না খেয়ে হালকা চা (গ্রিনটি)ও বিস্কিট খেয়ে নিতে পারেন। এর বেশ খানিকটা পরেই ২ টি রুটি ও সবজি খেতে পারেন। সাথে একটি ডিম সিদ্ধ করে খাওয়া ভালো। বেলা ১০ টা/ ১১ টায় ১ গ্লাস ননী ছাড়া দুধ বা  ফল বা ফলের জুস ও বাদাম খেতে পারেন।

দুপুরে

দুপুরে ১ বাটি ভাতের সাথে মাছ বা মাংস, সবজির তরকারী, শাক, ডাল  এবং তাজা ফল ও সবজির সালাড। খাওয়ার শেষে খেতে পারেন দই।

বিকালে 

ভাজা-পোড়া খাবার না খেয়ে ঘরে তৈরি কোন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স বা কেক বা বাদাম বা মটরশুঁটি সিদ্ধ খেতে পারেন। ফল বা ১ গ্লাস ফলের জুস খেতে পারেন।

রাতে

 রাতের খাবার দুপুরের মতোই হবে। তবে শাক রাতে না খাওয়াই ভালো। বেশি করে সবজির তরকারী খেতে পারেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১ গ্লাস ননী মুক্ত দুধ পান করতে ভুলবেন না।

যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্ত চাপের মত সমস্যা আছে তারা ডাক্তারের দেয়া তালিকা অনুযায়ী খাবার খাবেন। ডায়েবেটিসের রোগীরা শর্করা ও মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে এবং ব্লাড প্রেশারের রুগীদের লবণ খেতে হবে কম করে।

প্রোটিন আর ভিটামিনস 

প্রোটিন বা আমিষ

প্রোটিন শরীরের গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে৷ গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রোটিনে চাহিদা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি হয় ৷ আমিষ গর্ভের শিশুর শরীরের নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মাকে দৈনিক অন্তত ৬০ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। প্রতিদিনের আমিষের অভাব পূরণে ২ থেকে ৩ টুকরো মাছ, ৩ থেকে ৪ টুকরো মাংস ও কমপক্ষে একটি ডিম খেতে হবে। এছাড়া নিয়ম করে প্রতিদিন একগ্লাস উষ্ণ গরম দুধ পান করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় trimester-এ প্রতিদিন যথাক্রমে ১, ৯ ও ৩১ গ্রাম অতিরিক্ত প্রোটিন প্রয়োজন হয়।তবে খেয়াল রাখতে হবে কাঁচা বা আধা সিদ্ধ মাংস খাওয়া যাবে না এবং ডিম ভাল করে সিদ্ধ করে বা ভেজে খেতে হবে।আর দুধ ভাল মতো ফুটিয়ে পান করা উচিত।

ক্যালসিয়াম

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি৷ গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য অনেক ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়৷ যদিও গর্ভাবস্থার প্রথম থেকেই স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় তুলনামূলকভাবে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়, তবুও শেষের ৩ মাস চাহিদাটা সবচেয়েতে বেশি থাকে। WHO এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে ১০০০ মিলিগ্রাম এবং বিশেষ করে শেষ ৩ মাসের প্রতিদিন ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। দুধ, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছ, বাদাম, কমলালেবু, শুকনো ফল, সবুজ পাতাসহ শাক-সবজি, ফুলকপি ও তৈলবীজ খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে৷

আয়রন

আমাদের দেশের বেশির ভাগ গর্ভবতী মহিলাই রক্তাল্পতায় ভুগে থাকেন৷ গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যায়৷ আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন ও এনার্জি তৈরিতে সাহায্য করে, গর্ভস্থ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্র বিকাশ করে। Institute Of Medicine (IOM) এর মতে, গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার।এই সময় যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন গ্রহণ করা না যায় তাহলে এনেমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে৷ তাই রক্ত স্বল্পতা প্রতিরোধ করার জন্য মাকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে৷ গরু কিংবা খাসির কলিজা, বাচ্চা মুরগি, ডিম, মাছ, কলা, কচুশাক, পালং শাক এ সবের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে। 

ভিটামিন-এ

হাড় ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহের গঠনের জন্য ভিটামিন  এ প্রয়োজন৷ গর্ভস্থ শিশুর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বেড়ে ওঠা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর থাকা, দৃষ্টিশক্তি সঠিকভাবে কাজ করা এবং সার্বিকভাবে বেড়ে ওঠায় ‘ভিটামিন এ’ প্রয়োজন। গর্ভে থাকা শিশু যেহেতু সব পুষ্টি মায়ের মাধ্যমেই পায়, তাই গর্ভবতী মায়ের শরীরে ভিটামিন এ-এর এই চাহিদা পূরণ হওয়া দরকার। WHO-এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ৮০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে খাবারের তালিকায় থাকা চাই মুরগির কলিজা, ডিম, গাজর, আম, গাঢ় কমলা ও হলুদ রঙের ফল এবং গাঢ় সবুজ রঙের শাক-সবজি।

ভিটামিন বি-১, বি-২ ও নায়াসিন:

ভিটামিন-বি পরিবারভুক্ত ৬টি ভিটামিনের মধ্যে গর্ভাবস্থায় চাহিদা বেড়ে যায় ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন, বি-২ বা রিবোফ্লাবিন ও বি-৩ বা নায়াসিনের। বি-ভিটামিন ডায়জেস্টিভ সিস্টেমকে চালু রাখে। ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চামড়ার শুষ্কভাব কমিয়ে সতেজ রাখে।গর্ভাবস্থায় যেহেতু হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পেট, কোমর, গলা-এসব জায়গার চামড়ার রং পরিবর্তন হয়, পেটের চামড়া স্ফিত হওয়ায় টান লাগে, তাই বি-ভিটামিন এই সময় চামড়ার দেখভালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘রেড মিট’, কলিজা, ডিম, কলা, কিডনি, বিনস, পালংশাক, কাঠবাদাম ও দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।

ভিটামিন-সি

ভিটামিন সি এর সাহায্যে শরীর সহজেই শাকসবজি থেকে আয়রন শোষণ করে নিতে পারে, রক্তশূন্যতার সম্ভাবনা কমায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।এ জন্য ডাক্তার বা পুষ্টিবিদেরা আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরপরই লেবু, কমলা, বাতাবিলেবু বা আমলকী খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় পাওয়া যাচ্ছে ভ্রূণের মানসিক বৃদ্ধিতে ভিটামিন-সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন-সি ফলিক অ্যাসিডকে কার্যকর করে তোলার চালিকাশক্তি।গর্ভের শিশুর মাংসপেশি ও হাড় গঠনের কোলাজেন প্রোটিনের প্রয়োজন। ভিটামিন-সি কোলাজেন তৈরিতেও সাহায্য করে।IOM এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে ৮৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন – আমলকী, পেয়ারা, কমলা লেবু, বাতাবি লেবু, সবুজ শাক-সবজি,  টমেটো এবং আলু খেতে হবে৷ মনে রাখবেন বেশিক্ষণ রান্না করলে ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়৷

ভিটামিন-ই

ভিটামিন ই রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে৷ আপেল, বাদাম, গাজর, বাঁধাকপি, ডিম, অলিভ তেল ও সূর্যমুখি বীজে ভিটামিন ই পাওয়া যায়৷

জিংক

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস জিংক এবং ফলিক এ্যাসিডের ভূমিকা অপরিসীম। জিংক গর্ভপাত প্রতিরোধ করে এবং শিশুর ওজন বাড়ায়৷ জিংক শরীরের প্রত্যেকটি অংশের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্ষমতা সক্রিয় রাখে এবং টিস্যু ও কোষ গঠনে ভূমিকা রাখে। এমনকি গর্ভে থাকা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বেড়ে ওঠায় জিংক গুরুত্বপূর্ণ। WHO এর মতে, গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাস ১১ মিলিগ্রাম, দ্বিতীয় ৩ মাস ১৪ মিলিগ্রাম ও শেষের ৩ মাস ২০ মিলিগ্রাম করে জিংক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার।  এই জিংক পাওয়া যাবে প্রানিজ প্রোটিনে৷ তাছাড়াও চিনে বাদাম, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, গম এসবে প্রচুর পরিমাণ জিন্ক থাকে যা আপনার গর্ভাবস্থায় চাহিদা পূরণে সক্ষম৷

আয়োডিন

গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব হলে গর্ভে থাকা সময় থেকে শুরু করে জন্মের ৩ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর বুদ্ধির বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এছাড়াও আয়োডিনের অভাবে গর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনাও থাকে। এটি থাইরয়েডকেও সুস্থ রাখে। তাই গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম আয়োডিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে WHO। আয়োডিন যুক্ত খাবারের মাঝে আছে আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, পনির, টক দই, গরুর দুধ ইত্যাদি।

ভিটামিন ট্যাবলেট 

গর্ভাবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিনের প্রয়োজন হয়৷ এই অতিরিক্ত ভিটামিনের চাহিদা খাবারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব না হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হবে৷

জল 

রোজ প্রচুর পরিমানে জল পান করতে হবে। জল শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। রক্তের মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে পুষ্টি পৌঁছায়। এছাড়া জল মূত্র থলির প্রদাহ ও অতিরিক্ত ঘাম রোধ করে।জলের সঙ্গে বিভিন্ন সুপ, টাটকা ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে।

শেষ কথা 

সঠিক পরিমান পুষ্টি ও ভিটামিন সকল গর্ভবতীদের জন্য অত্যন্ত দরকার। ভিটামিনের অভাবে আমাদের অনেক সময় বাচাদের সু সাস্থ হয়ে ওঠেনা বা জন্মানোর সময় বা জন্মানোর পর দেখা যায় বাচ্চারা বিকলাঙ্গ হয় বা অন্য কিছু সমস্যা দেখা যায়। উল্লেখিত জিনিস গুলো মেনে চললে আশা করা যায় আপনি আর আপনার বাচ্চা সুস্থই থাকবেন। কিন্তু এর থেকে অধিক জানার জন্য বা আপনি সরাসরি ডাক্তারের সাথে কথাও বলতে পারেন এই সকল বিষয় নিয়ে। ভালো থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।



 

ভিটামিন কাকে বলে, ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ ও ভিটামিনের বৈশিষ্ট্য

 


হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই ? জানি জানি অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন কি তাই তো ? দেখুন আমরা যতই বলিনা কেন আমাদের জীবনে কেউ আমরা সুখী না। আমাদের কাছে সব থাকা সত্ত্বেও আমরা হয়তো অভাবী।  কিন্তু কি সেই অভাব তা সেটাও আমরা হয়তো অনেকেই জানি না বা জানার চেষ্টাও করি না। আর যাদের কাছে কিছু নেই তাদের তো কোনো সমস্যায় নেই বরং তারাই ভালো আছে। যাইহোক বন্ধুরা আজকের একটা খুউব গুরুত্ব পূর্ণ জিনিস যেটা নিয়ে আমাদের বা আমাদের বাবা মা বা আমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমরা সর্বদাই একটু আধটু চিন্তিত থাকি আর সেটা হলো সু খাদ্য বা ভালো ভিটামিন। আমাদের নানান লোকের নানান সমস্যার একমাত্র কারণ হলো ভিটামিন এর অভাব বা ভিটামিনের অভাবজনিত রোগআমাদের জানতে হবে ভিটামিনের বৈশিষ্ট্য

ভিটামিন হলো জৈবিকভাবে সক্রিয় পদার্থ যা মানুষের শরীরের অনেকগুলি প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। ভিটামিনের জন্য ধন্যবাদ, আমরা আরও আনন্দিত হয়ে উঠি, প্রাণশক্তি এবং শক্তি অর্জন করি। ভিটামিন এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরো বিস্তারিত।

ভিটামিন বিভিন্ন রাসায়নিক গঠন আছে, কিন্তু তারা এক প্রভাব আছে – তারা পণ্য এবং additives থেকে দরকারী পদার্থ আত্মত্যাগ সাহায্য। ভিটামিন শরীরের কোষ পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য এবং সংখ্যাবৃদ্ধি।

সব ভিটামিনের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি, খারাপ কলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে, রক্তের গঠন সক্রিয় এবং সমৃদ্ধ করার জন্য সম্পত্তি রয়েছে। ভিটামিন এছাড়াও সক্রিয়ভাবে বার্ধক্য বিরুদ্ধে যুদ্ধ, স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের শরীর বজায় রাখা, টিস্যু পুনর্জন্মের প্রক্রিয়া জোরদার।

 

ভিটামিনের কাজ ও গুরুত্ব  ( Functions and Importance of Vitamins )

ভিটামিন (Vitamins)

সংজ্ঞা ( Definition ) – যে বিশেষ জৈব পরিপোষক সাধারণ খাদ্য অতি অল্প পরিমানে থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধে শক্তি বৃদ্ধি করে, তাকে ভিটামিন বলে।

ভিটামিনের অভাব কি বিপজ্জনক?

শরীরের ভিটামিন অভাব হলে, বিপাক কমিয়ে দেয়, ব্যক্তির দুর্বলতা, তীব্র ক্লান্তি, মাথাব্যাথা, অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কাজ ব্যাহত হতে পারে। স্নায়ুতন্ত্রেরও ক্ষতি হয়, এবং এটির সঙ্গে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়।

যদি শরীরের ভিটামিন ডি কম থাকে, তবে শিশুরা সুখের মুখোমুখি হতে পারে, কারণ হাড়ে যথেষ্ট পরিমাণ লেবু অবশিষ্ট থাকে না, তারা শক্তিশালি এবং বাঁক না পেতে পারে। এই থেকে শরীরের আকার এছাড়াও আকৃতি পরিবর্তন, সন্তানের খুব পাতলা এবং পাতলা হাত এবং পায় হতে পারে, তারা দুর্বল, তাদের ফাংশন সঞ্চালন করতে পারবেন না

কিন্তু যদি ভিটামিন ডি অত্যধিক হয়, তবে এটি শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারপর হাড়ের টিস্যু অংশ যা ক্যালসিয়াম, এটি থেকে অন্যান্য অঙ্গে প্রেরণ করে এবং হার্ট, কিডনি, অন্ত্র, এবং লিভার থেকে উপকারী পদার্থ গ্রহণ করে। এই থেকে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির কাজগুলি লঙ্ঘন করা হয়, তারা ভাল কাজ করে না এবং ব্যক্তিটি খুব অসুস্থ হয়।

ভিটামিনের বৈশিষ্ট্য ( Feature of Vitamins )

1. রাসায়নিক প্রকৃতিঃ ভিটামিন এক প্রকার জৈব অনুঘটক।

2. ক্রিয়া প্রকৃতিঃ ভিটামিন অল্প গাঢ়ত্যের কাজ করে এবং দৈনিক অল্প মাত্রায় প্রয়োজন হয়।

3.  উৎসঃ  ভিটামিনের প্রধান উৎস হল উদ্ভিদ। তবে ভিটামিন A,D,B12,KA,D,B12,K  প্রাণীদেহে সংশ্লেষিত হয়।

4.  অন্যান্য বৈশিষ্ট্য- (1) ভিটামিন পচনে বিনষ্ট হয় না,কিন্তু বিপাকের সময় বিনষ্ট হয়। (2) ভিটামিন উৎসেচকের সঙ্গে সহ উৎসেচক রূপে কাজ করে।

ভিটামিনের প্রয়োজনীয়তা ( Importance of Vitamin )  

1. স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেঃ  জীব দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন অপরিহার্য।

2. রোগ প্রতিরোধেঃ  ভিটামিনের প্রধান কাজ হল রোগ প্রতিরোধ করা।

3. খাদ্য প্রাণ হিসাবেঃ  জীবের জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান হল ভিটামিন সেই কারণে একে খাদ্য প্রাণ বলে।

নিম্নলিখিত রোগ গুলি কোন ভিটামিনের অভাবে হয়।

রোগের নাম ও ভিটামিনের নাম

টোড-স্কিন বা ফ্রিনোডার্মা –  ভিটামিন A                             

রাতকানা বা জেরপথ্যালমিয়া –  ভিটামিন A                    

কেরাটোম্যালেসিয়া –  ভিটামিন A                                     

রেনাল স্টোন –  ভিটামিন A

বেরিবেরি – ভিটামিন B1B1

পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা – ভিটামিন  B12B12

পেলেগ্রা – ভিটামিন  B5B5

স্টোমাটাইটিস – ভিটামিন  B2B2

শেষ কথা 
ভিটামিন তা খুব দরকার নিজে দেড় জন্য বা নিজেদের শারীরিক সক্ষমতার জন্য অনেকটাই দরকার আমাদের।তাই একটাই কথা বলবো নিজেদের ভিটামিন এর অভাব বা আপনাদের ছেলে সন্তান দেড় এর অভাব আন্তে দেবেন না।