***** HEALTH IS WEALTH *****

“I believe that the greatest gift you can give your family and the world is a healthy you.” – Joyce Meyer

**CONNECT US TO GET HEALTH TIPS DAILY ***

“Good health is not something we can buy. However, it can be an extremely valuable savings account.” – Anne Wilson Schaef

**YOUR FITNESS IS YOUR GREATEST WEALTH**

“A fit body, a calm mind, a house full of love. These things cannot be bought – they must be earned.” – Naval Ravikant

** FOLLOW US TO GET DAILY HEALTH BLOGS ***

“If you're happy, if you're feeling good, then nothing else matters.” – Robin Wright

**** THANK YOU ****

THANK YOU FOR YOUR CONTINUOUS HEALTH AND SUPPORT

"HEALTH GUIDE BENGALI" provide you all health information,our mission is to provide all health tips and health related information and health blogs...

Showing posts with label maleria. Show all posts
Showing posts with label maleria. Show all posts

Thursday, 17 November 2022

ম্যালেরিয়া-রোগের-কারণ-লক্ষণ-রোগ-নির্ণয়-চিকিৎসা-ও-প্রতিরোধের-উপায়-malaria

 


ম্যালেরিয়া রোগের কারণ, লক্ষণ,রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়।

ম্যালেরিয়া হল Anopheles মশকী বাহিত ও বিশেষ ধরনের পরী । আদ্যপ্রাণী দ্বারা সৃষ্ট মানবরােগ । ম্যালেরিয়া রােগের ক্ষেত্রে সংক্রামিত ব্যক্তির কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে ও কয়েক ঘণ্টা পরে ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যায় । প্রিহ । আকারে বৃদ্ধি পায় ও রক্তাল্পতা দেখা দেয় । ইতালীয় ভাষায় mala = bad বা দূষিত ও aria = air বা বায়ু । অথাৎ malaria শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল দূষিত বায় ।Dr . Laveran ( 1880 ) সর্বপ্রথম মানুষের রক্তে ম্যালেরিয়া পরজীবীর উপস্থিতি লক্ষ করেন । Patric Manson ( 1894 ) উল্লেখ করেন যে , মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া রােগের বিস্তার ঘটে ।


  •  মানবদেহে ম্যালেরিয়া রােগ সৃষ্টি হয় Plasmodium গণের অন্তর্গত চারটি প্রজাতি ( species)এর পরজীবী আদ্যপ্রাণীর সংক্রমণের ফলে ।

 রোগের লক্ষণ ( Symptoms of disease ) :


  •  প্রচণ্ড মাথাব্যথা এবং  হাত ও পায়ে মারাত্মক বেদনা হয় । 
  •  অত্যন্ত ঠান্ডার অনুভূতি সহযােগে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে ।
  •  ও প্লিহা আকারে বৃদ্ধি পায় , এই লক্ষণকে  স্পিনােমেগালি বলে । 
  • রােগাক্রান্ত ব্যক্তির দেহে অধিক সংখ্যায় RBC বিদীর্ণ হওয়ায় হিমােলাইটিক অ্যানিমিয়া দেখা দেয় ।
  • মাঝে মাঝে ঘাম হয় । 
  • ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয় ।


 ফেব্রাইল পারঅক্সিজম ( Febrile paroxysm ) : 

ম্যালেরিয়া জ্বরের ক্ষেত্রে তিনটি অবস্থা দেখা যায় — এদের একত্রে ফেব্রাইল পারক্সিজম বলে 

 [ i ] শীতাবস্থা : ম্যালেরিয়া রােগাক্রান্ত ব্যক্তি প্রথমে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভব করে ও পরে তার কাপনি দিয়ে জ্বর আসতে শুর আসে । এইসময় দেহের তাপমাত্রা সাধারণত 39 - 40°C হয় । সেইসঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয় । এই অবস্থাকেই শীতাবস্থা বলে । এই অবস্থা সাধারণত 20 মিনিট থেকে 1 ঘণ্টা স্থায়ী হয় । ।

 [ 2 ] উত্তাপ অবস্থা ও শীতাবস্থার পরে ম্যালেরিয়া রােগীর দেহের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে সাধারণত 41 . 5°C বা তার বেশি হয় । এই সময়কালকে উত্তাপ অবস্থা বলে । এই অবস্থায় মাথাব্যথা ও বমি বমিভাব দেখা দেয় । এই অবস্থাটি সাধারণত 1 - 4 ঘণ্টা স্থায়ী হয় । 

 [ 3 ] ঘর্ম  অবস্থা; উত্তাপ অবস্থার পরে ম্যালেরিয়া রােগীর প্রচণ্ড ঘাম হয় এবং ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যায় । একে ঘর্মাবথা বলে । এই অবস্থা 2 - 3 ঘণ্টা স্থায়ী হয় ।


ইনকিউবেশন পিরিয়ড : Plasmodium - এর স্পােরােজয়েট কোনাে সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করার কয়েকদিন পরে ম্যালেরিয়া রােগের এর লক্ষণ প্রকাশ পায় । এই সময়কালকে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বলে । 


রােগ সংক্রমণ ( Transmission of disease ) 


Plasmodium মানুষ ( গৌণ পােষক ) ও Anopheles মশকী ( মূখ্যপােষক ) - র মাধ্যমে জীবনচক্র সম্পন্ন করে । এই জীবনচক্র সম্পাদনের সময় এরা মানবদেহে ম্যালেরিয়া রােগের সংক্রমণ ঘটায় । চারটি ভিন্ন প্রজাতির Plasmodium গণের পরজীবী আদ্যপ্রাণীর সংক্রমণের ফলে মানবদেহে চার ধরনের ম্যালেরিয়া দেখা দেয় । এগুলির জীবনচক্র মূলত একরকম হলেও কিছুকিছু পার্থক্যও লক্ষ করা যায় ।



বিস্তার পদ্ধতি ( Process of transmission ) 


ম্যালেরিয়া রােগ কোনাে রােগাক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে প্রধানত নিম্নলিখিত তিনটি পদ্ধতিতে কোনাে সুস্থ ব্যক্তির দেহে বিস্তার লাভ করতে পারে । 

জৈবিক বাহকের মাধ্যমে বিস্তার : প্রধানত স্ত্রী Anopheles মশা ম্যালেরিয়ার জৈবিক বাহক হিসেবে কাজ করে । এরা ম্যালেরিয়া রােগাক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সুস্থ ব্যক্তিতে রােগের বিস্তার করে । 

 রক্তসঞ্চারণের সময় বিস্তার : ম্যালেরিয়া রােগাক্রান্ত কোনাে ব্যক্তির দেহ থেকে কোনাে সুস্থ ব্যক্তির দেহে রক্তসঞ্চারণ করা হলে ম্যালেরিয়ার পরজীবী সরাসরি সুস্থ ব্যক্তির দেহে বিস্তার লাভ করে ।

 জন্মগত বিস্তার : গর্ভাবস্থায় মা ম্যালেরিয়া রােগে আক্রান্ত হলে , মায়ের রক্ত থেকে Plasmodium অমরার মধ্যে দিয়ে গর্ভস্থ ভ্রুণের দেহে প্রবেশ করে । সেক্ষেত্রে শিশুর দেহে রােগবিস্তার ঘটে ।


 রােগ প্রতিকারের পদ্ধতি ( Prophylaxis of disease 



 ম্যালেরিয়া রােগ প্রতিরোধ: ম্যালেরিয়া রােগের প্রতিরােধের কয়েকটি উপায় হল নিম্নরূপ । 


  1. মশার নিয়ন্ত্রণ : মশার নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলি নীচে আলােচিত হল । 



  • মশার প্রজননক্ষেত্র দুরীকরণ : মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্র হল খানা , ডােবা , নালা - নর্দমা ইত্যাদি বদ্ধ জলাশয় । এ ছাড়াও বর্ষাকালে বাড়ির আনাচে - কানাচে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্র বা কৌটো এবং গর্তের মধ্যে জমে থাকা জলে মশকী ডিম পাড়ে । তাই এই সমস্ত বদ্ধ । জায়গায় যাতে জল না জমে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে । 

  •  রাসায়নিক দমন : যে সমস্ত জলাশয়ে মশকী সচরাচর ডিম পাড়ে । সেখানে মাঝে মাঝে কেরােসিন , পেট্রোলিয়াম , মবিল ইত্যাদি প্রয়ােগ করতে হবে । এতে জলের ওপর আস্তরণ তৈরি হয়ে মশার লাভা ও পিউপা ধ্বংস করা যায় । 

  • পানামা লার্ভিসাইড ও প্যারিস গ্রিন হল তীব্র লার্ভানাশক পদার্থ এগুলি প্রয়ােগ করে মশার লার্ভা ও তাদের খাদ্য ধ্বংস করা যায় । 

  •  মশার আবাসস্থলে বিভিন্ন কীটনাশক পদার্থ ।  যেমন — DDT ( dichloro - diphenyl - trichlor - 0ethane ) , BHC ( benzene hexachloride ) ইত্যাদি  স্প্রে করা হলে পরিণত মশা ধ্বংস হয় । ও S02 ধোঁয়া প্রয়ােগ করেও একসঙ্গে অনেক মশা  মেরে ফেলা যায় । 


2.জৈবিক দমন : 

  • কিছুকিছু মাছ [ যেমন — গান্থসিয়া ( Gambusia affinis ) , গােল্ডফিশ ( Carassius aratus aratus ) , গাপ্পি । ( Lebistes reticultus ) ইত্যাদি মশার লার্ভা ও পিউপাকে দ্রুত ভক্ষণ করে । এদের লার্ভাভক বা লার্ভিসাইডাল মাছ বলে । জলাশয়ে এইসব । মাছ চাষ করা হলে মশার বংশবিস্তার রােধ করা যাবে । 

  •  হাইড্রা - ( Hydra sp . ) নামক অমেরুদণ্ডী প্রাণী মশার লার্ভা ও পিউপা ভক্ষণ  করে তাদের ধ্বংস করে । mosquito repellent যন্ত্র ব্যবহার করা হয় । এই যন্ত্র থেকে নির্গত আন্ট্রাসােনিক শব্দ মশাকে প্রায় 3m দূরে রাখে ।

3. জিনগত নিয়ন্ত্রণ : সুপ্রজননবিদ্যা ( genetics ) র অগ্রগতি মশা দমনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযােগ্য ভূমিকা পালন করে । ভারতবর্ষের কিছুকিছু অঞ্চলে WHO এবং ICMR ( Indian Council of _ Medical IResearch ) - এর যৌথ উদ্যোগে মশার নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরুষ মশাকে ধরে রাসায়নিক পদার্থ বা রশ্মি প্রয়ােগ করে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে । দেওয়া হয় । এরপর এদের ছেড়ে দেওয়া হয় । 

4.ব্যক্তিগত সুরক্ষা : প্রধানত স্ত্রী Anopheles মশার দংশনের মাধ্যমেই এই রােগ হয় । তাই মশার দংশন থেকে ব্যক্তিগতভাবে রক্ষা পাওয়ার সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা উচিত ।


  •  দিনের বেলায় ঘরের আসবাবপত্রের পিছনে , পােশাক - পরিচ্ছদে ও অন্ধকার স্থানে মশা । লুকিয়ে থাকে । তাই ঘরের অন্ধকার স্থান আলােকিত ও পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার 

  •  ঘরের দরজা - জানালায় সক্ষা তারের জাল লাগিয়ে মশাকে বিতাড়িত করা যেতে পারে । 

  •  যে সমস্ত অঞ্চলে মশার প্রাদুর্ভাব বেশি , সেখানে বিশেষত সন্ধ্যার দিকে দেহের অধিকাংশ অংশ পােশাক - পরিচ্ছদ দ্বারা আবৃত রাখা উচিত । লাগানাে উচিত ।
  •  ঘরে বিভিন্ন মশা বিতাড়ক ধূপ ও স্প্রে ব্যবহার । করেও মশার দংশন থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে ।

 5.টিকাকরণ : ম্যালেরিয়া - প্রবণ অঞ্চলের মানুষকে ম্যালেরিয়ার টিকা প্রদানের মাধ্যমেও ম্যালেরিয়া প্রতিরােধ সম্ভব ।

রােগ নির্ণয় :


কোনো ব্যক্তির কয়েকদিন ধরে জ্বর না সারলে বা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এলে , ওই ব্যক্তির রক্তপরীক্ষা করতে হবে । পরীক্ষায় । ম্যালেরিয়ার পরজীবী পাওয়া গেলে বােঝা যাবে যে , ওই ব্যক্তি ম্যালেরিয়া রােগাক্রান্ত হয়েছে । এ ছাড়াও ফ্লুওরােসেন্স মাইক্রোস্কোপিক টেস্ট ও ইমিউনােক্রোমাটোগ্রাফিক টেস্ট - এর মাধ্যমেও কোনাে ব্যক্তি ম্যালেরিয়া । রােগাক্রান্ত হয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করা যায় ।


চিকিৎসা পদ্ধতি :


 পূর্বে ম্যালেরিয়া রােগের চিকিৎসায় সিঙ্কোনা গাছের কাণ্ডের  ছাল থেকে প্রাপ্ত কুইনাইন নামক উপক্ষার ( alkaloid ) ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হত । এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় বর্তমানে ম্যালেরিয়া রােগের চিকিৎসায় ক্লোরােকুইন , কেমােকুইন , প্লাসমােকুইন , পেন্টাকুইন ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করা হয় ।