***** HEALTH IS WEALTH *****

“I believe that the greatest gift you can give your family and the world is a healthy you.” – Joyce Meyer

**CONNECT US TO GET HEALTH TIPS DAILY ***

“Good health is not something we can buy. However, it can be an extremely valuable savings account.” – Anne Wilson Schaef

**YOUR FITNESS IS YOUR GREATEST WEALTH**

“A fit body, a calm mind, a house full of love. These things cannot be bought – they must be earned.” – Naval Ravikant

** FOLLOW US TO GET DAILY HEALTH BLOGS ***

“If you're happy, if you're feeling good, then nothing else matters.” – Robin Wright

**** THANK YOU ****

THANK YOU FOR YOUR CONTINUOUS HEALTH AND SUPPORT

"HEALTH GUIDE BENGALI" provide you all health information,our mission is to provide all health tips and health related information and health blogs...

Showing posts with label সুস্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label সুস্বাস্থ্য. Show all posts

Wednesday, 16 November 2022

কৃমিরোগ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

 





কৃমিরোগ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

কৃমি আমাদের দেশে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। যে কোনো বয়সের মানুষের কৃমি হতে পারে। তবে শিশু কিশোরদের মাঝে কৃমির সংক্রমণ বেশি দেখা যায়৷ অবশ্য ছোট শিশু যেমন : পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত, যখন শুধু মাত্র মায়ের বুকের দুধই পান করে, তখন সাধারণত কৃমি হয় না৷ আমাদের দেশের মানুষের সুতা কৃমি, কেঁচো ও হুক কৃমির সংক্রমণ বেশি হলেও ফিতা কৃমির সংক্রমণ ও দেখা যায়৷

কৃমি
কৃমি হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে ক্ষতিকর ও বৃহৎ পরজীবী। এটি মানুষের দেহে বাস করে এবং শরীর থেকে খাবার গ্রহণ করে বেঁচে থাকে ও বংশ বৃদ্ধি করে৷ কৃমি অনেক ধরনের আছে৷ তবে আমাদের দেশে কেঁচো কৃমি, বক্র কৃমি ও সুতা কৃমিতে আক্রান্তের হার বেশি৷

চিকিৎসা
কৃমির চিকিৎসা দেবার আগে মল পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া ভালো৷ যদি রোগীর মলে বা বমির সঙ্গে কেঁচো কৃমি বের হয়, রোগী যদি বলে যে রাতে তার মল দ্বার চুলকায়, মল পরীক্ষার সুযোগ ও সামর্থ্যের অভাব, কিন্তু কৃমি আছে বলে সন্দেহ হয় তবে মল পরীক্ষা না করেও কৃমির ঔষধ দেওয়া যায়৷ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বয়স অনুযায়ী আলাদা আলাদা মাত্রায় ঔষধ খেতে হবে৷

কারো কারো কৃমির ঔষধ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ, যেমন গর্ভবতী মহিলা, জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী৷

প্রতিরোধ --

যেহেতু প্রতিরোধ চিকিৎসা অপেক্ষা অধিকতর ভালো তাই প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিৎ

জন্মের পর প্রথম ৫ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে হবে

মল নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে হবে

খাবার তৈরি, পরিবেশন এবং খাওয়ার পূর্বে সাবান দিয়ে অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে

মল ত্যাগের পর সাবান বা ছাই দিয়ে অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলতে হবে

নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার জামা-কাপড় পড়া এবং নখ বড় হবার আগেই অবশ্যই কেটে ফেলা কারণ বড় নখের ভেতর কৃমির ডিম ঢুকে থাকে

প্রতি চার মাস পর পর পরিবারের সকলকে বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার কৃমির ঔষধ খাওয়ানো উচিৎ

বাড়ির একজনের কৃমি থাকলে সকলেরই সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাড়ির সবাইকে কৃমির ঔষধ খেতে হবে, বাড়ির কাজের মানুষটিও যেন বাদ না পরে।


পায়ের রগে হঠাৎ টান

 


হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের  নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।


ঘুমের মধ্যে পায়ের কাফ মাসল সংকুচিত হয়ে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেননি, এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। হাঁটুর নিচ থেকে পায়ের পেছনের দিকের মোটা ও লম্বা মাংসপেশিকে কাফ মাসল বলে। পায়ের রগে এমন হঠাৎ টান পড়ার কারণ, কী করবেন, প্রতিরোধের উপায় কী—তা নিয়ে কিছু পরামর্শ: 

কেন হয়? 

■ শরীরে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামের ঘাটতি। 

■ অতিরিক্ত ব্যায়াম, পরিশ্রম বা পায়ের পেশির বেশি ব্যবহার। 

■ পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। খুব ঠান্ডা আবহাওয়া। 

■ গর্ভকালীন, বিশেষ করে শেষের দিকে প্রয়োজনীয় খনিজের অভাবে রগে টান পড়ে। 

■ বেশি সময় বসে থাকা, শক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা, ঘুমের সময় ভুল দেহভঙ্গির কারণে এমন হতে পারে। 

 

কী করা উচিত? 

■ পা সোজা করে পায়ের পেছনের মাংসপেশিতে হালকা মালিশ করতে পারেন। 

■ গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে হালকা সেঁক বা পানির বোতলে গরম পানি দিয়ে সেঁক দিতে পারেন পনেরো থেকে বিশ মিনিট।

■ ভয় পাবেন না, কারণ রিল্যাক্স পজিশনে থাকলে কিছু সময়ের মধ্যে ব্যথা চলে যায়। 

■ গর্ভকালীন যে রগে টান পড়ে, বেশির ভাগ সময় প্রসবের পর পায়ের টান চলে যায়। 

 

প্রতিরোধের উপায়

■ নিয়মিত কাফ মাসল স্ট্রেচিং করতে হবে। 

■ সোজা হয়ে পায়ের আঙুলের ওপর ভর করে দাঁড়ালে কাফ মাসলে স্ট্রেচ হয়। দশ সেকেন্ড ধরে রেখে পা নামিয়ে ফেলুন। তিন বা চারবার করুন। প্রতিদিন অন্তত একবার। 

■ বসে দুই পা সোজা করে, তোয়ালে দিয়ে পায়ের পাতা সামনের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করুন। দশ সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিন। পাঁচ থেকে ছয়বার করুন। 

■ সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ত্রিশ মিনিট করে হাঁটুন

■ শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগে। তাই প্রচুর পানি বা তরল গ্রহণ করুন। যেমন স্যুপ, ফলের রস, ডাবের পানি ইত্যাদি। 

■ ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমন ডিম, দুধ, সবুজ শাকসবজি, ফল, কলিজা ইত্যাদি। 

ডাক্তারের পরামর্শে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। 

■ কিছু অবস্থান পরিহার করুন: যেমন পা ক্রস করে বসলে পায়ের ওপর চাপ পড়ে এবং রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। তাই এ ধরনের অবস্থানে বসবেন না। দীর্ঘ সময় একই ধরনের অবস্থানে না থেকে দু–এক ঘণ্টা পরপর বদলাতে হবে। 

■ রাতে যাঁদের বেশি ক্রাম্প বা টান হয়, তাঁরা ঘুমাতে যাওয়ার আগে গরম পানিতে গোসল করতে পারেন। 

■ সাঁতার খুব ভালো ব্যায়াম। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন সাঁতার কাটতে পারেন।

 
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
 আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন। 

আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।

Friday, 11 November 2022

দাঁতের রোগ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

 



দাঁতের রোগ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

আমাদের শরীর-স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে আমাদের দাঁত। শৈশবে দুধের দাঁত উঠা থেকে তার শুরু। শেষ হয় বার্ধক্যে নড়ে যাওয়ার পরে ফোকলা দাঁতের হাসি দিয়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে প্রথম কাজ হলো ভালো করে দাঁতমাজা। আসলে নিত্যকার এই কাজটির ভিতরেই দাঁতের যত্ন এবং পরিচর্যা। তা না হলে শুধু দাঁত নড়ে যাওয়া বা পড়ে যাওয়া নয়- দাঁত আমাদের অনেক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে প্রথম কাজ হলো ভাল করে দাঁতমাজা। আসলে নিত্যকার এই কাজটির ভিতরেই দাঁতের যতœ এবং পরিচর্যা। তা না হলে শুধু দাঁত নড়ে যাওয়া বা পড়ে যাওয়া নয়- দাঁত আমাদের অনেক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দাঁতের রোগ : পেরিওডন্টাইটিস

যেসব কারণে পেরিওডন্টাইটিস হতে পারে সেগুলো :

ধূমপান :
 
ক্রমাগত ধূমপানের কারণে পেরিওডন্টাইটিস হতে পারে এবং এমনকি চিকিৎসার পর ধূমপানের কারণে সফলতার হার কম হতে পারে।

হরমোনের পরিবর্তন :
মহিলাদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাড়ি বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকে এবং মাড়ির প্রদাহ হতে হতে তা ধীরে ধীরে পেরিওডন্টাইটিসের দিকে মোড় নিতে পারে।

ডায়াবেটিস :
যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রানত্ম বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকে তাদের ৰেত্রে সংক্রমণসহ পেরিওডন্টাল রোগ হতে পারে।

মানসিক চাপ :
বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানসিক চাপের কারণে আমাদের শরীরের পক্ষে সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শরীরের অন্যান্য রোগের মতো পেরিওডন্টাল রোগ ব্যতিক্রম নয়। তাই সবার উচিত মানসিক চাপমুক্ত থাকা।

ঔষধ সেবন :
কিছু ঔষধ সেবন বিশেষ করে বিষণ্নতানাশক ঔষধ এবং হৃদরোগের কিছু ঔষধ মুখের সার্বিক অবস্থার অবনতি ঘটাতে পারে। কারণ বিশেষ কিছু ঔষধ সেবনের কারণে লালা নিঃসরণের পরিমাণ কমে যায়। লাল মাড়ি এবং দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে। লালা নিঃসরণ কম হলে পেরিওডন্টাইটিস থেকে শুরু করে মুখে যে কোন রোগ দেখা দিতে পারে। তবে এসব রোগ ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে।

জটিল রোগের কারণে :

ক্যান্সার, এইডস জাতীয় জটিল রোগের কারণে মাড়ির যে কোন রোগসহ পেরিওডন্টাইটিসও হওয়া বিচিত্র নয়।

জেনেটিক কারণ :

জেনেটিক কারণে শরীরের কিছু রোগের মতো পেরিওডন্টাইটিস হতে পারে।


পেরিওডন্টাল রোগের লক্ষনসমূহ :

(ক) দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস।

(খ) লাল অথবা ফুলা মাড়ি।

(গ) ব্যথাযুক্ত অথবা রক্তপাতযুক্ত মাড়ি।

(ঘ) কোন কিছু চুষতে ব্যথা হলে।

(ঙ) নড়া দাঁত।

(চ) সংবেদনশীল দাঁত।


পেরিওডন্টাইটিসের চিকিৎসা :

পেরিওডন্টাইটিসে দাঁতে পেরিওডন্টাল পকেট হতে পারে। পেরিওডন্টাল পকেট সাধারণত গভীরতায় ৩ থেকে ৫ মিলিমিটার হতে পারে। তবে তা কোন কোন ৰেত্রে কমবেশি হতে পারে। স্কেলিং এবং রুট স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে পেরিওডন্টাল পকেটের চিকিৎসা করা হয়। প্রাথমিকভাবে স্কেলিং এবং কিউরেট করার পরে পেরিওডন্টাল পকেটে এন্টিসেপটিক চিপ এবং এ্যান্টিবায়োটিক জেল প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে এ ৰেত্রে চিকিৎসা সফল না হলে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে, যদি স্কেলিং এবং ওষুধ প্রয়োগের পরেও পকেট বিদ্যমান থাকে। এ ৰেত্রে ফ্ল্যাপ সার্জারির (Flap Surgery) মাধ্যমে পেরিওডন্টাল পকেটের চিকিৎসা করা হয় এবং দাঁতের মাড়িকে তার পূর্বের স্থানে বসিয়ে দেয়া হয়। ফ্ল্যাপ সার্জারির (Flap Surgery) পাশাপাশি হাড় এবং কোষের সংযোজন প্রয়োজন হতে পারে।

তাই দাঁত এবং মাড়ির যে কোন রোগ অবহেলা না করে চিকিৎসা করতে হবে দ্রুত।


দাঁত ব্যথার অন্যতম কারণ হল ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়। অনেকের কাছে এই রোগটি দাঁতের পোকা নামে পরিচিত। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কোনো ভিত্তি নেই।দাঁতের সব রোগের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি হয়।
বর্তমানে দাঁত ক্ষয় ও দাঁতে ছিদ্র হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত শিশু, টিনএজার ও বয়স্কদের এই সমস্যাটি বেশি হতে দেখা যায়।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলেই দাঁত ক্ষয় হয়ে থাকে। ঘন ঘন স্ন্যাক্স ও ড্রিঙ্কস খাওয়া, অনেকক্ষণ যাবত দাঁতের মধ্যে খাবার লেগে থাকা, ফ্লোরাইড এর অপর্যাপ্ততা, মুখ ড্রাই থাকা, মুখের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, পুষ্টির ঘাটতি এবং ক্ষুধামন্দার সমস্যা থাকা ইত্যাদি কারণে দাঁতে ছিদ্র ও দাঁত ক্ষয় রোগ হয়ে থাকে।

লক্ষণ সমূহ:--

দাঁতে প্রচন্ড ব্যাথা হয়

কোন কিছু খাওয়া বা পান করার সময় হালকা থেকে তীব্র ব্যাথা হয়

আক্রান্ত দাঁতে গর্ত দেখা যায় এবং

দাঁতের উপরে সাদা, কালো বা বাদামী দাগ দেখা যায়।

যদি প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করা না হয় তাহলে ইনফেকশন বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাথা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে এবং দাঁতটি হারানোর সম্ভাবনা ও দেখা দিতে পারে। ক্যাভিটির চিকিৎসায় দাঁতে ফিলিং করা হয় ও ক্যাপ পরানো হয় এবং দাঁতের অবস্থা খুব খারাপ হলে রুট ক্যানেল করা হয়। এই সব চিকিৎসা খুব ব্যায় বহুল এবং কষ্টদায়ক।

ঘরোয়া কিছু উপায়ে দাঁতের ব্যাথা কমানো যায়। জেনে নিন সেই উপায় গুলো সম্পর্কেঃ

১। হলুদ গুঁড়ো
দাঁতের ছিদ্রের সমস্যায় হলুদ গুঁড়ো ব্যাবহার খুবই উপকারি। হলুদে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী উপাদান আছে যা দাঁতের ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন কে ধ্বংস করতে পারে এবং এর প্রদাহ রোধী উপাদান দাঁতের ব্যাথা উপশম করতে পারে। হলুদ গুঁড়া ও পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং আস্তে আস্তে ব্যাথার দাঁতে লাগান,ব্যাথা কমে যাবে।

২। পেঁয়াজ
পেঁয়াজের একটি স্লাইস আক্রান্ত দাঁতের উপরে চেপে রাখুন দাঁতের ব্যাথা কমে যাবে। নিয়মিত পেঁয়াজ খেলে দাঁত ক্ষয় এর সমস্যা কমায়। নিয়মিত পেঁয়াজ দেয়া খাবার খেলে দাঁত ক্ষয় সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।

৩। লবণ
লবনে অ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে, যা মুখে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ব্যাহত করে প্রদাহ কমাতে ও ব্যাথাকে সহনীয় করতে সক্ষম। ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ টেবিল চামুচ লবণ মিশিয়ে মুখে নিয়ে ১ মিনিট রাখুন এবং আক্রান্ত দাঁতের প্রতি মনোযোগ দিন।এভাবে দিনে ৩ বার করে করুন ব্যাথা কমে যায়। এছাড়াও ১ টেবিল চামুচ লবণ অল্প সরিষার তেলের সাথে অথবা লেবুর রসের সাথে মিসিয়ে পেস্ট তৈরি করে মাড়িতে ম্যাসাজ করুন কয়েক মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলি করে নিন। এভাবে দিনে ২ বার করে কয়েকদিন করুন, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে।

এছাড়াও বেকিং সোডা, অ্যালোভেরা, লবঙ্গ, রসুন, পুদিনা, আপেল সিডার ভিনেগার ইত্যাদি ব্যবহার করেও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও দাঁতের ব্যাথা কমানো যায়। সকালে ও রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁত পরিষ্কার করতে ফ্লস ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন জিহ্বা পরিষ্কার করুন।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
 আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন। 

আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।




Thursday, 10 November 2022

দাঁতের ক্ষয় আর নয় || দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায় || দাঁতের ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায় || দাঁতের ক্ষয় || দাঁতের ক্ষয় রোধের ঔষধ

 


দাঁতের ক্ষয় আর নয়

দাঁত ব্যথার অন্যতম কারণ হল ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়। অনেকের কাছে এই রোগটি দাঁতের পোকা নামে পরিচিত। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কোনো ভিত্তি নেই।দাঁতের সব রোগের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি হয়।

বর্তমানে দাঁত ক্ষয় ও দাঁতে ছিদ্র হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত শিশু, টিনএজার ও বয়স্কদের এই সমস্যাটি বেশি হতে দেখা যায়।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলেই দাঁত ক্ষয় হয়ে থাকে। ঘন ঘন স্ন্যাক্স ও ড্রিঙ্কস খাওয়া, অনেকক্ষণ যাবত দাঁতের মধ্যে খাবার লেগে থাকা, ফ্লোরাইড এর অপর্যাপ্ততা, মুখ ড্রাই থাকা, মুখের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, পুষ্টির ঘাটতি এবং ক্ষুধামন্দার সমস্যা থাকা ইত্যাদি কারণে দাঁতে ছিদ্র ও দাঁত ক্ষয় রোগ হয়ে থাকে।

লক্ষণ সমূহ:--

দাঁতে প্রচন্ড ব্যাথা হয়

কোন কিছু খাওয়া বা পান করার সময় হালকা থেকে তীব্র ব্যাথা হয়

আক্রান্ত দাঁতে গর্ত দেখা যায় এবং

দাঁতের উপরে সাদা, কালো বা বাদামী দাগ দেখা যায়।

যদি প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করা না হয় তাহলে ইনফেকশন বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাথা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে এবং দাঁতটি হারানোর সম্ভাবনা ও দেখা দিতে পারে। ক্যাভিটির চিকিৎসায় দাঁতে ফিলিং করা হয় ও ক্যাপ পরানো হয় এবং দাঁতের অবস্থা খুব খারাপ হলে রুট ক্যানেল করা হয়। এই সব চিকিৎসা খুব ব্যায় বহুল এবং কষ্টদায়ক।

ঘরোয়া কিছু উপায়ে দাঁতের ব্যাথা কমানো যায়। জেনে নিন সেই উপায় গুলো সম্পর্কেঃ

১। হলুদ গুঁড়ো
দাঁতের ছিদ্রের সমস্যায় হলুদ গুঁড়ো ব্যাবহার খুবই উপকারি। হলুদে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী উপাদান আছে যা দাঁতের ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন কে ধ্বংস করতে পারে এবং এর প্রদাহ রোধী উপাদান দাঁতের ব্যাথা উপশম করতে পারে। হলুদ গুঁড়া ও পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং আস্তে আস্তে ব্যাথার দাঁতে লাগান,ব্যাথা কমে যাবে।

২। পেঁয়াজ
পেঁয়াজের একটি স্লাইস আক্রান্ত দাঁতের উপরে চেপে রাখুন দাঁতের ব্যাথা কমে যাবে। নিয়মিত পেঁয়াজ খেলে দাঁত ক্ষয় এর সমস্যা কমায়। নিয়মিত পেঁয়াজ দেয়া খাবার খেলে দাঁত ক্ষয় সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।

৩। লবণ
লবনে অ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে, যা মুখে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ব্যাহত করে প্রদাহ কমাতে ও ব্যাথাকে সহনীয় করতে সক্ষম। ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ টেবিল চামুচ লবণ মিশিয়ে মুখে নিয়ে ১ মিনিট রাখুন এবং আক্রান্ত দাঁতের প্রতি মনোযোগ দিন।এভাবে দিনে ৩ বার করে করুন ব্যাথা কমে যায়। এছাড়াও ১ টেবিল চামুচ লবণ অল্প সরিষার তেলের সাথে অথবা লেবুর রসের সাথে মিসিয়ে পেস্ট তৈরি করে মাড়িতে ম্যাসাজ করুন কয়েক মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলি করে নিন। এভাবে দিনে ২ বার করে কয়েকদিন করুন, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে।

এছাড়াও বেকিং সোডা, অ্যালোভেরা, লবঙ্গ, রসুন, পুদিনা, আপেল সিডার ভিনেগার ইত্যাদি ব্যবহার করেও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও দাঁতের ব্যাথা কমানো যায়। সকালে ও রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁত পরিষ্কার করতে ফ্লস ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন জিহ্বা পরিষ্কার করুন।


Monday, 24 October 2022

বয়স্কদের স্বাস্থ্যে সামাজিক বিষয়ের প্রভাব

 

কী ভাবে সামাজিক বিষয়গুলি বয়স্ক মানুষদের জীবন এবং স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে?

বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু প্রবীণদের মন এবং স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। নিম্নলিখিত কিছু কারণ তাঁদের ক্ষেত্রে কিছু সামাজিক এবং মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে:

  • স্বাধীন ভাবে প্রতি দিনের কাজকর্ম করতে না পারা
  • বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের সঙ্গতিপূর্ণ পরিবর্তন মেনে নিতে না পারা
  • চলতে থাকা শারীরিক সমস্যা ও ক্রমাগত বেশি ওষুধ খাওয়া নিয়ে হতাশা
  • বড় সন্তানরা তাঁদের নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকায় সামাজিক বিচ্ছিন্নতা অনুভব করা
  • কাজ চালিয়ে যাওয়ার অক্ষমতা থেকে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় অনুভব করা
  • অবসর এবং রুটিন কাজকর্ম না থাকায় একঘেয়েমি
  • নিয়মিত আয় না থাকায় আর্থিক চাপ

পরিবার সম্পর্কে ধারণা পুরো পাল্টে গিয়েছে। এই পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং যৌথ পরিবারে ভাঙনের ফলে দেশের বয়স্ক মানুষরা এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পরিবারের কাঠামো ভেঙে ছোট ছোট নিউক্লিয়ার পরিবার তৈরি হচ্ছে। সেই পরিবারের মধ্যে নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং সম্মানজনক অবস্থান হারিয়ে বয়স্করা অসহায় বোধ করছেন। সুসংগঠিত সামাজিক সহায়তা না থাকায় গোটা পরিস্থিতিটা অন্ধকারময় বলে মনে হচ্ছে।

এই কারণগুলি বয়স্কদের সার্বিক স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই এই মানসিক-সামাজিক সমস্যাগুলোকে ধরেই প্রবীণদের জটিল চিকিৎসার গতিমুখ নির্দিষ্ট করতে হবে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে?

 


বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধাপে পরির্বতন আসে। এই পরিবর্তনগুলি হয়তো শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনও রোগের লক্ষণ নয়। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলি এক জন ব্যক্তির কাছে পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে। আমরা এই বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে রুখে দিতে পারি না বটে, তবে এই সব পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর এই পরিবর্তনের প্রভাব অনেকটাই কমাতে পারি।

বার্ধক্যের জন্য শরীরের যে পরিবর্তনগুলি হতে পারে :

  • ত্বক
  • হাড়, সংযোগস্থল, পেশি এবং শরীরের সামগ্রিক গঠন
  • গতিশীলতা এবং ভারসাম্য
  • মুখ, দাঁত এবং মাড়ি
  • চুল এবং নখ
  • হরমোন এবং অন্তস্রাবী গ্রন্থি
  • স্মৃতিশক্তি
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
  • শোনা এবং দেখার ক্ষমতা
  • স্বাদ এবং গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা
  • অন্ত্র এবং মুত্রাশয়

বার্ধক্যে শারীরিক অবস্থা


 

বার্ধক্যের সঙ্গে সঙ্গে কী কী রোগ এবং পরিস্থিতির সন্মুখীন হন প্রবীণরা?

বয়স্কদের শারীরিক সমস্যা শরীরের যে কোনও অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে যায় বা সেই অঙ্গটির ক্ষয় হয়। প্রবীণদের যে সব শারীরিক অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়, অঙ্গব্যবস্থার ভিত্তিতে তার একটা তালিকা দেওয়া হল ---

  • ১। মাসকিউলোস্কেলেটল : অস্টিওআর্থারাইটিস (ক্ষয়ের কারণে হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা), অস্টিওপোরোসিস (হাড়ের ক্ষয়), গাউট, পেশির ভর হ্রাস, হাড় ভাঙা
  • ২। হরমোন সংক্রান্ত : ডায়াবেটিস (রক্তে গ্লুকোজের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস), মেনোপজ, থাইরয়েডের ত্রুটিপূর্ণ ক্রিয়া, রক্তে উচ্চ মাত্রায় কোলস্টেরল, পরিপাক শক্তি কমে যাওয়া
  • ৩। নিউরোলজিক : ডিমেনসিয়া (অ্যালজাইমার বা অন্য ধরনের কিছু), পার্কিনসনস ডিজিজ, স্ট্রোক, দুর্বল দৃষ্টিশক্তি, কানে কম শোনা এবং ভারসাম্যের সমস্যা
  • ৪। দর্শন সংক্রান্ত : ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, গ্লুকোমা, ছানি, ডায়াবেটিস ও হাইপারটেশন সংক্রান্ত চোখের সমস্যা
  • ৫। কার্ডিওভ্যাস্কুলার ডিজিজ: হার্ট অ্যাটাক, কনজেসটিভ হার্ট ফেলিওর, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ, (হাইপারটেনশন), অথেরোস্ক্লেরোসিস (রক্ত পরিবহণতন্ত্র সরু এবং শক্ত হয়ে যাওয়া), পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (রক্ত পরিবহণতন্ত্র সরু হয়ে যাওয়ার কারণে কম রক্ত প্রবাহ)
  • ৬। ফুসফুস : ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের গ্রহণক্ষমতা কমে যাওয়া
  • ৭। কিডনি : দীর্ঘকালীন হাইপারটেনশন বা ডায়াবেটিসের কারণে কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া (কিডনি বা মূত্রাশয়ের রোগ)
  • ৮। চুল এবং ত্বক : চুল পড়ে যাওয়া, ত্বক শুকিয়ে যাওয়া এবং চুলকানি, সংক্রমণ
  • ৯। ক্যান্সার : প্রস্টেট, কোলন, ফুসফুস, স্তন, চামড়া, মূত্রাশয়, ডিম্বাশয়, মস্তিষ্ক, অগ্ন্যাশয় -- মাত্র কয়েকটির নাম করা হল
  • ১০। অস্থি মজ্জা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা: যথেষ্ট পরিমাণ রক্তকোষ তৈরিতে অক্ষমতা (রক্তাল্পতা, মাইলোডাইসপ্যাসিয়া)
  • ১১। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল: পেটে ঘা, ডাইভারটিকিউলোসিস (কোলোনের দেওয়ালে ছোট ছোট পকেট তৈরি হওয়া), সংক্রমণ থেকে কোলোন প্রদাহ অর্কলাইটিস এবং ইস্কেমিক (কম রক্ত প্রবাহ), গিলতে অসুবিধা (ডিসফাগিয়া), কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শ এবং বারবার পায়খানা।
  • ১২। প্রস্রাব সংক্রান্ত : বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব করার সময় অসুবিধা এবং প্রস্রাব করতে কষ্ট
  • ১৩। মুখ এবং দাঁত : মাড়ির রোগ, মুখ শুকনো, দাঁত পড়ে যাওয়া, দাঁতের গঠন আলগা
  • ১৪। সংক্রমণ : মূত্রনালীর সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, দাদ, ত্বকের সংক্রমণ, কোলনে সংক্রমণ (কোলাইটিস)
  • ১৫। মানসিক: বিষণ্নতা, উদ্বেগ, ঘুমের ব্যাঘাত, অনিদ্রা
  • ১৬। সাধারণ সমস্যা : ক্লান্তি, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ক্ষুধামন্দ, ওজন কমে যাওয়া এবং পড়ে যাওয়া।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধাপে পরির্বতন আসে। এই পরিবর্তনগুলি হয়তো শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনও রোগের লক্ষণ নয়। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলি এক জন ব্যক্তির কাছে পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে। আমরা এই বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে রুখে দিতে পারি না বটে, তবে এই সব পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর এই পরিবর্তনের প্রভাব অনেকটাই কমাতে পারি।

বার্ধক্যের জন্য শরীরের যে পরিবর্তনগুলি হতে পারে :

  • ত্বক
  • হাড়, সংযোগস্থল, পেশি এবং শরীরের সামগ্রিক গঠন
  • গতিশীলতা এবং ভারসাম্য
  • মুখ, দাঁত এবং মাড়ি
  • চুল এবং নখ
  • হরমোন এবং অন্তস্রাবী গ্রন্থি
  • স্মৃতিশক্তি
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
  • শোনা এবং দেখার ক্ষমতা
  • স্বাদ এবং গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা
  • অন্ত্র এবং মুত্রাশয়

 

প্রবীণদের হৃদরোগ

 


হৃদপিণ্ড হল একটি বিশেষ ধরণের মাংসপেশী। হৃদপিণ্ডের স্পন্দনের মাধ্যমেই রক্ত দেহের সবর্ত্র ছড়িয়ে পড়ে। অক্সিজেন হৃদপিণ্ডের এই স্পন্দনে সহায়তা করে। হৃদপিণ্ডের উপরিভাগে  করোনারি ধমনীর মাধ্যমে হৃদপিণ্ড এই অক্সিজেন পায়। ধমনীর ভিতরে কোলেস্টেরল জমা হয়ে স্তর তৈরি করে এবং ধীরে ধীরে বড় হয়ে ধমনীর রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয় এবং কোনও কোনও সময় রক্ত চলাচল এক দম বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থাকে এথেরোসক্লোরেসিস বলে। এ অবস্থা সৃষ্টি হলে এবং সুচিকিৎসা না করালে নানা রকমের হৃদরোগ দেখা দেয়। যেমন হার্ট অ্যাটাক এমনকী মৃত্যুও হতে পারে।

হৃদরোগের উপসর্গসমূহ

কোনও কোনও সময় এ রোগের কোনও উপসর্গ থাকে না। কখনও উপসর্গগুলি ক্রমশ প্রকাশ পায়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রচণ্ড বুকে ব্যথা এমনকী হার্ট অ্যাটাক নিয়ে এ রোগের প্রকাশ ঘটে।

  • বুকের মাঝখানে ব্যথা ও প্রচুর ঘাম হওয়া
  • কখনও বুকে ব্যথার সঙ্গে হাতে, ঘাড়ে অথবা চোয়ালে ব্যথা বা অবশ হওয়ার অনুভূতি বুক জ্বালা করা
  • বদহজমের অনুভূতি
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • কোনও কোনও ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা বা উপরোক্ত উপসর্গ নিয়ে এ রোগের প্রকাশ ঘটে

যে কারণে হৃদরোগ হতে পারে

  • ধূমপান
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • ডায়াবেটিস (বহুমূত্র)
  • ব্যায়াম না করা
  • বৃদ্ধ বয়স

জরুরি করণীয়

প্রবীণ রোগীর বুকে ব্যথা হলে তাকে কোনওরূপ নড়াচড়া করা যাবে না। স্ট্রেচারে বা হুইলচেয়ারে বা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতে হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলি

প্রশ্ন ১ : হৃদরোগের উপসর্গসমূহ কী কী?

  • বুকের মাঝখানে ব্যথা
  • কখনও বুকে ব্যথার সঙ্গে হাতে, ঘাড়ে অথবা চোয়ালে ব্যথা বা অবশ হওয়ার অনুভূতি
  • বুক জ্বালা করা
  • বদহজমের অনুভূতি
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • কোনও কোনও ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা বা উপরোক্ত উপসর্গ নিয়ে এ রোগের প্রকাশ ঘটে

প্রশ্ন ২ : হৃদরোগের ঝুঁকিগুলো কী?

  • ধূমপান
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • ডায়াবেটিস (বহুমূত্র)
  • ব্যায়াম না করা
  • বৃদ্ধ বয়স

বয়স্কদের ভুলে যাওয়া রোগ বা অ্যালঝাইমার্স

 


অ্যালঝাইমার নামে একজন বিজ্ঞানীর নাম থেকে যিনি প্রথম এটা নিয়ে কাজ করেন। রোগটির পুরো নাম অ্যালঝাইমার ডিমেনডশিয়া।

ডিমেনশিয়া অনেক ধরনের হতে পারে তারমধ্যে অ্যালঝাইমার্স একটা ধরন। এছাড়া আছে এল বি ডি (এই রোগটির ক্ষেত্রে ব্রেনের কোষের মধ্যে Lewy body নামে এক ধরনের বস্তু জমতে থাকে), ভাসকুলার ডিমেনশিয়া (এর ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে রক্ত চলাচল কম হয়ে কোষগুলি শুকিয়ে যায়)। মস্তিষ্কের কগনাইটিভ ক্ষমতা বা হায়ার ফাংশান ক্রমশ থাকে এই ডিমেনশিয়ার জন্য। ফলে ডিমেনশিয়ার সাধারণ উপসর্গগুলি অ্যালঝাইমারের মধ্যে থাকলেও কিছু স্বতন্ত্রতাও থাকে। অ্যালঝাইমারের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপগুলি খুব ধীর লয়ে কমতে থাকে। ভাসকুলারের ক্ষেত্রে এটা খুব হঠাৎ করে তাড়াতাড়ি হয়। অ্যালঝাইমার্স বরং বলা যায় ডিমেনশিয়ার মধ্যে সবথেকে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা ধরন। আর দুঃখের বিষয় মানুষের গড় আয়ু যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এই অ্যালঝাইমার্স।

তাহলে বয়সটাই কি এই রোগের কারণ?

আগে ভাবা হত এটা বয়স বাড়লে হবেই। ৬৫ বছরের পর এর সম্ভাবনা বেশি হয়। যদিও তার আগেও হতে যে পারে না এমন নয়। পরিসংখ্যান বলছে ৬৫-বছর বয়সিদের প্রতি ১৪/১৬ জনের মধ্যে ১ জনের হতে পারে। আবার ৮০-র কোটায় যাঁদের বয়স তাঁদের প্রতি ৬ জনের মধে ১ জনের অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি রয়েছে। ৬৫ বছরের পর থেকে প্রতি ৫ বছর অন্তর এই ঝুঁকিটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে শুধু বয়সই একমাত্র কারণ নয়। কারণ ৬৫ বছরের কম বয়সিদেরও এই রোগের শিকার হতে দেখা যাচ্ছে।

অ্যালঝাইমার্সের আলাদা কোনও ধরন হতে পারে?

হতে পারে। যেমন— পিসিএ।

পশ্চেরিয়াল সেরিব্রাল অ্যালঝাইমার্স

- এটা মস্তিষ্কের পিছনের অংশে হয়, যার ফলে কোনও বস্তু চিনতে পারবেন না রোগী— সামনে মোবাইল রাখা থাকলেও সেটা যে মোবাইল বুঝতে সমস্যা হবে। এঁদের দেখার ক্ষেত্রে এবং স্থান সম্পর্কিত একটা সমস্যা হয়। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ধাপ বুঝতে পারেন না রোগী।

 

এলপিএ-লোগো পেনিক অ্যালঝাইমার্স

— এটায় অদ্ভুত একটা বাচনভঙ্গির সমস্যা হয় রোগীর। এঁরা এত ধীরে ধীরে কথা বলেন যেন মনে হয় কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। খুব থেমে থেমে কথা বলেন এবং শব্দ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।


ফ্রন্টাল অ্যালঝাইমার্স

- এর ক্ষেত্রে যে মানুষটা যেমন নন, তিনি তেমন হয়ে ওঠেন। যিনি অত্যন্ত সভ্য, ভদ্র একজন মানুষ তিনি হঠাৎ অশ্লীল শব্দ বলছেন, স্ত্রী ছাড়া কারও দিকে কোনওদিন তাকাননি এমন মানুষ অন্য নারীর দিকে তাকাচ্ছেন— সামাজিকভাবে যে ব্যবহারটা যথাযথ নয়, তিনি তেমন করতে থাকেন।

ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণ কেমন?

ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে স্মৃতির সমস্যা হয়। প্রথমে স্মৃতি হ্রাস বা ভুলে যাওয়া দিয়ে শুরু হয়। পরে সম্পূর্ণ স্মৃতিভ্রংশ হতে পারে। বাল্যস্মৃতি, অতীতটা ঠিক থাকে, অথচ বর্তমানটা একেবারেই তাঁরা ভুলে যান।

সাধারণ ভুলে যাওয়ার সঙ্গে তাহলে এর কোনও পার্থক্য আছে?

আছে। সাধারণ ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। বয়সজনিত কারণে ভুলে গেলে, ধামাচাপা দেওয়ার তাগিদটা থাকে না। অথচ অ্যালঝাইমার্স রোগীদের ক্ষেত্রে অবচেতনভাবেই রোগীরা বানিয়ে বানিয়ে কিছু বলে নিজের স্মৃতিশক্তির অক্ষমতা ঢাকার চেষ্টা করেন। তিনি নিজে থেকেই বানিয়ে বানিয়ে জবাব দেন। হয়তো দেখা যায় একদিন তিনি ব্যাংকে যাননি, অথচ বেমালুম বলে দিলেন গেছেন। ব্যাংকের নাম ভুলে গেছেন, বানিয়ে এমন একটা নাম বললেন যার কোনও অস্তিত্বই নেই আদপে। এইভাবে ভুল তথ্য দিয়ে নতুন করে একটা বিষয় সাজিয়ে দিচ্ছেন।

এটা কি অ্যালঝাইমারের রোগী বুঝে করছেন?

না একেবারেই নয়। রোগী কিন্তু বুঝছেন না তিনি কী করছেন, মস্তিষ্কের নিজস্ব কাজই এই ভুল তথ্য, ভুল স্মৃতি সরবরাহ করা।

সাধারণ ভুলে যাওয়া আর অ্যালঝাইমার রোগীর ভুলে যাওয়াটা বোঝা যাবে কীভাবে?

সাধারণ ভুলে যাওয়ায় একজন বয়স্ক মানুষ একটা নাম বা শব্দ ভুললে সেটা বাড়ির বাইরের কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নিজের ছেলের, নাতির নাম সাধারণত কেউ ভোলেন না। যুক্তি, বুদ্ধি, বোধও ঠিক থাকে। অ্যালঝাইমার রোগীর কিন্তু তা নয়, এঁদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ও ভুল হয়। নিজের স্ত্রীর নাম ভুলে যেতে পারেন, এমনকী কখনও কখনও দেখা যায় নিজের নামও মনে করতে পারছেন না।

রোগটি হয় কেন?

এটা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন। চলছে নানা গবেষণা, পরীক্ষা। তবে মস্তিষ্কের ভিতরে এবং বাইরে দুটো জিনিসের ফলে এটা হয়। যাকে আমরা বলি ঘরে বাইরে শত্রু। একটু বুঝিয়ে বলি, মস্তিষ্কের মধ্যে একটা আমাদের সংবেদ উদ্দীপনা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু জৈব রাসায়নিক পদার্থ আছে যারা এক স্নায়ুকোষ থেকে অন্য স্নায়ুকোষে উদ্দীপনা পৌঁছে দেয়। স্মৃতিও একইভাবে এই স্নায়ুকোষের সরণি বেয়ে পৌঁছে যায় স্মৃতির সিন্দুকে যার নাম হিপোক্যাম্পাস। এই স্নায়ু উদ্দীপক যৌগগুলি microtubule পথে চলতে থাকে। সমান্তরালভাবে রেললাইনের মতো এই টিউবিউলগুলি চলে। এই টিউবিউলকে ধরে রাখার জন্য থাকে Tau protein। কারণ এই microtubule দিয়ে ব্রেনের পুষ্টি উপাদান যায় মস্তিষ্কের বেঁচে থাকার জন্য। এই Tau proteinগুলি যুক্ত থাকে ফসফেট দিয়ে। অ্যালঝাইমারে অতিরিক্ত ফসফেট জমে গিয়ে বন্ধনটা নষ্ট হয়ে যায়। অনেকগুলো Tau খুলে জমে গিয়ে নিজেদের মধ্যে জড়িয়ে যায়—একেই বলা হয় নিউরো ফিব্রিলারি ট্যাঙ্গেল। ক্রমশ এরা Synapse এর দিকে চলে আসে। তখন স্নায়ু উদ্দীপকগুলি বাহিত হয়ে তথ্য অন্য স্নায়ুতে পৌঁছানোর জন্য অন্য একটি প্রোটিন লাগে যার নাম Kibra protein। এই ট্যাঙ্গেলগুলো জমে গিয়ে Kibra protein গুলি ধ্বংস করে দেয়। এটাকে ঘরের শত্রু বলা যায়।

আবার নিউরনের বাইরে অ্যামালয়েড প্লাক জমে। এটা একটা প্রোটিন। বিটা অ্যাময়লয়েড জমে গিয়ে তৈরি হয় অ্যাময়লয়েড প্লাক। আগে বলা হত, এটা বেশি পরিমাণে তৈরির ফলে সমস্যা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অ্যালঝাইমারের রোগীদের এই প্লাকের ড্রেনেজটা স্বাভাবিক মানুষের থেকে অন্তত ৩০% কম হচ্ছে, ফলে প্লাক জমে গিয়ে Synapse-এর গায়ের মেমব্রেনগুলো ফুটো হয়ে ক্যালশিয়াম ভিতরে ঢুকে যায়, এছাড়াও ফ্রি র‌্যাডিকালগুলিও কোষগুলিকে নষ্ট করতে সাহায্য করে। এই নিউরো ফ্যাব্রিলারি ট্যাঙ্গেল এবং অ্যাময়লয়েড প্লাক জমা এই দুটিই মূলত অ্যালঝাইমারের কারণ।

অ্যালঝাইমারের ক্ষেত্রে নাকি বায়োপসি করা হয়। তাহলে বায়োপসির মাধ্যমে কি সেটা জানা যায়?

না। বায়োপসির মাধ্যমে সেটা মৃত্যুর পর জানা যায়।

আগাম অ্যালঝাইমার্স হতে পারে— জানার কি তাহলে কোনও উপায় আছে?

অ্যালঝাইমার হতে পারে কিনা আগাম বলা মুশকিল। এখনও পর্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে কোনও পরীক্ষার মাধ্যমে আগাম অ্যালঝাইমার্স নির্ণয় করা যায় না।

তাহলে রোগ নির্ণয় কীভাবে সম্ভব?

লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করতে হয়। সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়ির লোক রোগীর এই উপসর্গগুলি বুঝতে পারেন এবং তখন রোগীর কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে সন্দেহ হওয়ার ফলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তখন চিকিৎসক মিনিমেন্টাল সেস্টাস এক্সামিনেশন করেন। মূলত এর চারটি স্তর রয়েছে- মিনিমেন্টাল কগনাইটিভ ইমপেয়ারমেন্ট (এমসিআই), মাইল্ড মডারেট এবং সিভিয়ার। আমরা চাইব রোগীরা শুরুর দিকে বা মাঝামাঝি স্তরে ধরা পড়ুন। নাহলে স্তর যত বাড়বে, সমস্যা তত বাড়বে। জেনে রাখা ভালো, খুব বাড়াবাড়ি পর্যায়ে কোনও ওষুধ খুব একটা কাজ করে না।

শুরুর দিকে তাহলে সমস্যাটা কেমন হতে পারে?

একদম শুরুর দিকে সামান্য কিছু সমস্যা হতে পারে, অল্প-স্বল্প সাধারণ স্মৃতির সমস্যা বা আরও পরে বুদ্ধি-বিবেচনার সমস্যা হতে পারে। তারপর ভুলে যাওয়ার সমস্যা ক্রমশ বাড়তে পারে। বাড়ির ঠিকানা ভুলে যেতে পারেন বা পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন। সিভিয়ার স্তরের রোগীদের এবিএল অর্থাৎ রোজের জীবনযাত্রা প্রভাবিত হয়। একেবারে পরনির্ভরশীল হয়ে যেতে হয়। তাঁদের বাইরে ছাড়া যাবে না কারণ এঁরা রাস্তা চিনতে পারবেন না। ঘরের মধ্যে বাথরুম খুঁজে পান না। চিকিৎসকরা সাবধান করি, বাথরুমের ভিতরে যেন লক না থাকে, তাহলে লক করলে খুলতে পারবেন না তিনি। জামার বোতাম লাগানো, জুতোর ফিতে বাঁধা বা প্যান্ট-শার্ট পরার মতো কাজগুলোও তিনি করতে পারবেন না।

বাড়ির লোকের ভূমিকা কতটা?

বিদেশে তো ট্রেনিং দেওয়া হয় পরিবারের সদস্যদের। যিনি রোগীকে সামলাবেন তাঁর দায়িত্ব এই স্তরে ওষুধের চেয়েও বেশি। তাঁর রোগটি সম্পর্কে ভালো করে জানা দরকার। বাইরের দেশে ট্রেনিং হয়, এখানেও ব্যক্তিগতভাবে বা অল্প বিস্তর কিছু প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের প্রশিক্ষণ ইদানী শুরু হয়েছে। আমরা চিকিৎসকরাও বাড়ির লোকেদের বোঝাই। এই রোগীদের সামলাতে সত্যিই রীতিমতো ট্রেনিং দরকার। তাই আমরা নানা সেমিনার, ক্যাম্প করি সচেতনার জন্য।

তাহলে অ্যালঝাইমার্স হচ্ছে কিনা বোঝার জন্য কোনও টেস্ট করা যায় না?

আচরণটা বোঝাই আসল। তাই দরকার খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা শুরু। অনেক সময়ে এঁরা খুব আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, প্রচণ্ড রেগে যাচ্ছেন, যাকে যা নয় তাই বলছেন, কেউ উপস্থিত নেই তাকেই এসেছে বলছে— এমন নানা সমস্যায় জেরবার হয়ে বাড়ির লোক অনেকে রোগীকে নিয়ে আসেন। তখন আমরা মিনিমেন্টাল স্টেটাস এক্সামিনেশন করাই। কখনও স্ক্যানিং এবং রক্ত পরীক্ষা করিয়ে দেখা হয় অন্য কোনও কারণ বা ঘটনা ঘটছে কিনা।

রিস্ক ফ্যাক্টর কী কী?

দুটো জিনিস— বয়স এবং জিনের প্রভাবটা অস্বীকার করা যায় না। বয়স বাড়বে, আর বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা বাড়বে— কারও বেশি কারও কম। আবার জিনগত একটা প্রভাবও কাজ করে। যাদের মধ্যে অ্যাপোলাইপোপ্রোটিনই ই ফোর-জেনেটিক প্রবণতা টেন্ডেন্সি থাকলে তাদের মধ্যে অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি বেশি লক্ষ করা যায়। তবে সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত বলা যায় না। এখনও এই নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। আবার কিছু কিছু ঝুঁকি রয়েছে যা পরিবর্তন করা সম্ভব। যেমন ডায়াবেটিস, কোলেস্টরল, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এগুলোও সমস্যা বাড়াতে পারে। এগুলির নির্দিষ্ট চিকিৎসা আছে এবং এগুলি নিরূপণ করা গেলে কমতে পারে অনেক সমস্যাই। তাই জীবনশৈলী পরিবর্তন দরকার।

প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর-কথাটা এই রোগের ক্ষেত্রে কতটা সত্যি?

মাথায় রাখতে হবে সপ্তাহে তিনদিন ভালোরকম শারীরিক পরিশ্রম করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ভালো থাকে। আর আছে সুষম খাদ্যাভ্যাস। ডায়েটের ক্ষেত্রে মেডিটেরিয়ান ডায়েট মেনে চলুন। এতে থাকে প্রচুর শাকসবজি, ফল এবং মাছ। মাছের ওমেগা থ্রি শরীরের জন্য খুব উপকারী। এছাড়া কার্বোহাইড্রেট, রিফাইন্ড সুগার, ঠান্ডা পানীয়, তেল-মশলা বাদ দিন।

ব্রেন অ্যাক্টিভ রাখাটা কি উপকারী হতে পারে?

অবশ্যই। নিয়মিত কাগজের পাজল, শব্দছক, সুদোকু-করুন। বাড়িতে আলোচনা করুন কী পড়লেন। সবসময় আপনার মস্তিষ্ককে কিছু না কিছু কাজে বা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন নতুন করে কিছু শেখার চেষ্টা করা গেলে এইসব কিছু মস্তিষ্ককে সক্ষম এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি যোগা করুন। যোগাসন শরীরের পাশাপাশি মনও ভালো রাখে। স্ট্রেস, ডিপ্রেশন কাটিয়ে মন চাঙা রাখুন। মাইণ্ড ফুলনেস থেরাপি খুব ভালো কাজ দেয়।

চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?

মেডিসিন তো দেওয়াই হয়। অ্যাসিটাইল কোলিন বাড়তে সাহায্য করে এমন ওষুধ দেওয়া হয়। এর ৩/৪ রকমের প্রকারভেদ রয়েছে। অবস্থা বুঝে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসক নির্দিষ্ট ওষুধ ঠিক করেন। ইদানীং কিছু বিশেষ ধরনের প্যাচ পাওয়া যায় যা ত্বকে লাগিয়ে রাখলে প্রয়োজনীয় ওষুধটি মস্তিষ্কে সরবরাহ করা যেতে পারে।

বাড়ির লোক কী করে বুঝবেন যে একটা সমস্যা শুরু হতে চলেছে?

খুব অসংলগ্ন কথা, হঠাৎ রেগে যাওয়া, কথা বলতে গিয়ে একটা শব্দ খুঁজতে গিয়ে খুব ভাবতে হচ্ছে— তখনই বুঝে নিতে হবে একটা সমস্যা হচ্ছে। ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিন, বয়সের ভিমরতি না ভেবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা খুব জরুরি যাতে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে না যায়। তবে অবসাদ থেকেও ভুলে যাওয়ার একটা ব্যাপার অনেকের ক্ষেত্রে হয়, সেটা ডিমেনশিয়া নয়। এঁরা কথা বলতেই চান না, নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকেন, সেটা কিন্তু অ্যালঝাইমার নয়।