Thursday, 29 September 2022
ক্যান্সার সম্পর্কিত কিছু বিস্তারিত তথ্য || ক্যান্সার ||
By PRITAM BHOWMICKSeptember 29, 2022cancer, DAILY HEALTH, health, health tips, ক্যান্সার, সুস্বাস্থ্যNo comments
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
প্রথমেই জানা যাক ক্যান্সার কি?
ক্যান্সারঃ ক্যান্সার বা কর্কটরোগ হল অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনও পর্যন্ত এই রোগের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পরে না, ফলে দেখা যায় শেষ পর্যন্ত গিয়ে ভালো কোনও চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না। বাস্তবিক অর্থে ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয় নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরেনর চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে দেখা যায় প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। সারা পৃথিবীতে ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমান সময়ে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে আরও নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো দেখা যায় একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন করে কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারনভাবে দেখা যায় কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। সাধারনভাবে বলতে গেলে যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই সাধারণত টিউমার বলে। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট এই ধরনের হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে।
ক্যান্সারের কারণঃ
ঠিক কি কারণে ক্যান্সার হয় সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সাধারণ কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে।
খাবার এবং জীবনযাপনের ধারাঃ
খাবার এবং জীবনযাপনের ধারার সাথে ক্যান্সারের গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে গবেষকরা। যেমন, ধুমপান বা মদ্যপানের সাথে ফুসফুস, মুখ ও কণ্ঠনালীর এবং যকৃৎ বা লিভারের ক্যান্সারের যোগাযোগ রয়েছে। তেমনই ভাবে পান-সুপারি, জর্দা, মাংস, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ইত্যাদি খাবারের সাথেও ক্যান্সারের যোগসূত্র রয়েছে। যারা সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম কম করে তাদের শরীরের মধ্যে ক্যান্সারের প্রবণতাটা বেশি।
ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণঃ
গোড়াতেই যদি চিহ্নিত করা যায় তাহলে অনেক দুরারোগ্য রোগের হাত থেকেই নিস্তার মেলে। কিন্তু আমরা তো সেগুলোকে মোটেই পাত্তা দিয়ে থাকি না! উল্টো করে যদি বলি, ‘শরীর থাকলে শরীরে একটু-আধটু আধি-ব্যাধি থাকবেই’। এরকম ভাবেই ক্যান্সারের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক গুলোই লক্ষণ আছে। অবহেলা না করে যদি আপনি একটু নজর দিলেই এই কঠিন দুরারজ্ঞ ব্যাধি থেকে রেহাই পেতে পারেন।
১। খুব ক্লান্ত বোধ করা
২। ক্ষুধা কমে যাওয়া
৩। অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া
৪।শরীরের যে কোনজায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া
৫। মলত্যাগে পরিবর্তন আসা (ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা মলের সাথে রক্ত যাওয়া)
৬। জ্বর, রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া
৭। অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা
৮। দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙ্গা
৯। ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া
ক্যান্সারের প্রকারভেদ
ক্যান্সারের কোন প্রকারভেদ নেই। বিভিন্ন কারনে এটা হতে পারে।তবে সচারচর যে রোগ গুলো বেশি দেখা দেই আমাদের মাঝে আজকে তাই আলোচনা করব। আসুন এবার জেনে নাওয়া যাক এই কঠিন ব্যাধির কিছু কঠিন নামঃ
লিভার কান্সার
লিভার এর ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই সাধারানত লিভার কান্সার বলা হয় । লিভার ক্যান্সার ২ ধরণের হয়ে থাকে প্রথমটা প্রাইমারি লিভার ক্যান্সার এবং ট্রান্সফারড লিভার ক্যান্সার। তবে এই প্রাইমারি লিভার ক্যান্সার ই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বের ৬০,০০০০ মানুষ এই ক্যান্সার এ আক্রান্ত হন। আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে এই মহামারী ক্যান্সারের অবস্থান চতুর্থ এবং মৃত্যু হারের দিক দিয়ে এটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশ যেমন সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ফিলিপিন, ইত্যাদি লিভার ক্যান্সার এর দিক দিয়ে সবথেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাধারণত ৫০-৬০ বছর বয়সীরা এই ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার মহিলাদের তুলনায় ৭-১০ গুণ বেশি । চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রভূত উন্নয়নের ফলে লিভার ক্যান্সারের অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা বর্তমানে দেয়া সম্ভব।
লিভার ক্যান্সার কেন হয় ?
১) ক্রনিক হেপাটাইসিসঃ ভাইরাল হেপাটাইসিস লিভার কান্সারের সাথে সম্পর্কিত । প্রায় ৩০% ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তাদের এর আগে ক্রনিক হেপাটাইসিস ছিল এর মধ্যে হেপাটাইসিস বি সবচেয়ে কমন।
২) সিরোসিসঃ প্রায় ৫০%-৯০% ক্ষেত্রেই দেখা যায় লিভার কান্সারের রোগী সিরোসিস এ ভুগে থাকেন। সুতরাং ক্যান্সার প্রতিরোধ করার জন্য লিভার সিরোসিস এর রোগীদের নিয়মিত হাসপাতালে চেক-আপ করাতে হবে।
৩) দীর্ঘদিন ধরে দূষিত পানি পান করার ফলেও লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
৪) দীর্ঘদিন ধরে ছত্রাক যুক্ত খাবার বা পচা খাবার খেলে লিভার কান্সার হতে পারে।
অতিরিক্ত লবনাক্ত খাবার, ভাঁজা-পোড়া ইত্যাদি খেলে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
ফুসফুস ক্যান্সার
ফুসফুস ক্যান্সার হল একটি বহুল প্রচলিত ম্যালিগন্যান্ট টিউমার যা ফুসফুসে হয়।বেশীর ভাগ ফুসফুস ক্যান্সার শ্বাসনালীর এপিথেলিয়াম এ হয় বলে একে ব্রঙ্কাইয়াল ক্যান্সার বা শ্বাসনালীর ক্যান্সারও বলা হয়।
ফুসফুস ক্যান্সারের কারণগুলো নিন্মে দেয়া হলঃ
১। ধূমপান ফুসফুস ক্যান্সারের প্রধান কারণ। ১৯৫০ সাল থেকে অসংখ্য গবেষণায় প্রাপ্ত, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। ২। ফুসফুস ক্যান্সারের ৯০ শতাংশ কারণ প্রত্যক্ষ ধূমপান
৩। যিনি দিনে এক প্যাকেট সিগারেটের ধূম পান করেন, তাঁর ফুসফুস ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীর চেয়ে ২৫-৩০ গুণ বেশি। ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর ৯০ শতাংশ ধূমপায়ী। তবে সব ধূমপায়ীই ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হন না। প্রতি ১০ জন ধূমপায়ীর মধ্যে চারজনের ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৪। ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকির পরিমাণ ততই বেশি হয়; যত অল্প বয়সে ধূমপান শুরু করা হয়, যত বেশি পরিমাণে ধূমপান হয়, যত দীর্ঘদিন ধূমপানে অভ্যস্ত থাকা হয়।
৫। সিগারেটের ধোঁয়ায় প্রায় ৪০০ রকমের রাসায়নিক পদার্থ আছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান (কার্সিনোজেন)।
৬। ধূমপানে ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়ে যায় যদি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কারণ থাকে।
এ ছাড়াও আরও অনেক কারন আছে, যেইগুলা ফুসফুস ক্যান্সার এর কারন হতে পারে।
স্তন ক্যান্সার
নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা কিংবা প্রতি এক অথবা দুই বছর অন্তর ম্যামোগ্রাম(স্তনের এক্সরে ছবি) করিয়ে আপনি সম্ভবত ভাবছেন, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে আপনি যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করছেন। সমস্যা হলো স্তনে চাকা কিংবা মাংসপিন্ডের উপস্থিতি সনাক্ত করার কথা শুনতে যতটা সহজ মনে হয় বাস্তবে এটা সনাক্ত করা ততটা সহজ নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যতক্ষণ মাংসপিন্ডের আকার অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার সাইজের না হচ্ছে ততক্ষণ স্পর্শের মাধ্যমে এর উপস্থিতি সনাক্ত করা কঠিন। স্তনে সৃষ্টি হওয়া টিউমার ২০ মিলিমিটার বা তার বেশি হলেই সুনিশ্চিতভাবে আপনি তা স্পর্শের মাধ্যমে অনুভব করতে পারবেন।ইতিমধ্যেই শীর্ষ স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীর নিজের শরীরের ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত এবং শরীরের যে কোনো পরিবর্তন সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। স্তন ক্যান্সার থেকে বেঁচে যাওয়া নারীদের অভিজ্ঞতার আলোকে এই রোগের প্রাথমিক এবং আশ্চর্যজনক কিছু লক্ষণ সম্বন্ধে আলোকপাত করা হলো।
স্তন ক্যান্সারের সতর্কতাসূচক লক্ষণ
১। স্তন কিংবা বুকে ব্যথাঃ স্তন কিংবা বুকে ব্যথা, ধড়ফড় করা, টনটন করা অথবা ধারালো ছুরির আঘাতের মতো ব্যথা কিংবা অস্বস্তি কোন ভালো লক্ষণ নয়। ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে বেঁচে যাওয়া এক রোগী ডাক্তারের কাছে বর্ণনা করেন, তীব্র ব্যথা যা আসে এবং চলে যায়। আরেকজন এই ব্যথাকে মৃদু বৈদ্যুতিক শকের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, এটা আমার বাম স্তন থেকে প্রবাহিত হয়ে ডান স্তনবৃন্তে যাচ্ছে বলে মনে হয়।
২। স্তনে চুলকানিঃ এই লক্ষণ প্রদাহজনক স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ বলে বিবেচনা করা হয়। এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, অনেক নারী এধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর, এটাকে চর্মরোগ বিবেচনা করে মাসের পর মাস চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। স্তনে ফুসকুড়ি হলে তীব্র চুলকানি থেকে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে মলম ব্যবহার করেও কোন উপকার পাওয়া যায় না। এধরনের সমস্যায় স্তনের চামড়া আঁশযুক্ত হয়ে যায়। স্তনে টোল খায় অথবা খাঁজের সৃষ্টি হয়। স্তন কুঁচকে যায়।
৩। পিঠের উপরের দিকে, কাঁধে কিংবা ঘাড়ে ব্যথাঃ স্তন ক্যান্সারের অনেক রোগীর ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা না করে কাঁধে কিংবা ঘাড়ে, পিঠে ব্যথা করে। এ কারণে অনেকে মেরুদন্ড বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্রনিক পিঠে ব্যথার চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। যা ফিজিক্যাল থেরাপি দিয়েও ঠিক করা যায় না।অনেক স্তন টিউমার গ্রন্থিময় টিস্যুতে বিকশিত হয়, যা বুকের গভীরে প্রসারিত হয়। এই টিউমার বড় হয়ে পাঁজরে কিংবা মেরুদন্ডে চাপের সৃষ্টি করে। ফলে এসব এলাকায় ব্যথার উদ্ভব হয়। এ থেকে পরবর্তীকালে দ্বিতীয় পর্যায়ের হাড়ের ক্যান্সার হতে পারে।
৪। স্তনের আকার পরিবর্তনঃ স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ধারণা হলো স্তনে চাকার উপস্থিতি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ৪২ বছর বয়সি একজন নারী বলেন, চাকার পরিবর্তে আমার একটি স্তন ডিম্বাকৃতির মতো হয়ে গিয়েছিলো।এই ধরণের সমস্যা অনুভব করার চেয়ে আয়নার সামনে বেশি দৃশ্যমান হয়। এক্ষেত্রে ব্রা খুলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভালভাবে আপনার স্তন পর্যবেক্ষণ করুন।
৫। লাল, ফোলা স্তনঃ স্তনে আঘাত লাগলে স্বাভাবিকভাবেই এটি ফুলে যাবে।কিন্ত স্তন যদি গরম অনুভূত হয় কিংবা লালচে রঙ এর হয়ে যায় তাহলে স্তনগ্রন্থির স্ফীতি অথবা প্রদাহ বলে সন্দেহ করতে পারেন। এটা প্রদাহজনক স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া স্তনের টিউমারের কারণে স্তন ফুলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি নিজেই ফোলাভাব পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
শীতকালে পা ফাটা ও তার প্রতিকার || শীতকালে পা ফাটার সমাধান
By PRITAM BHOWMICKSeptember 29, 2022DAILY HEALTH, health, health tips, HOUSE MADE MEDICINE, WINTER HEALTH, শীতকালে পা ফাটা, সুস্বাস্থ্যNo comments
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। পায়ের ত্বকের নিচের স্তরে চিড় ধরে ও ফেটে যায়। এ কারণে ব্যথা করে, জ্বালা করে, হাঁটতে সমস্যা হয়। কখনো তাতে সংক্রমণও হতে পারে। কিছু রোগের কারণে পা ফাটার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়। যেমন: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, সোরিয়াসিস, একজিমা, ছত্রাক সংক্রমণ ইত্যাদি। স্থূল ব্যক্তিদেরও পা বেশি ফাটে। এ ছাড়া খুব ঠান্ডা শুষ্ক আবহাওয়া, খোলা জুতা বা স্যান্ডেল, জুতোর পেছন দিকে ঘর্ষণ, জুতা ঠিকমতো ফিট না করা ইত্যাদি এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
কী করবেন না
• অতিরিক্ত গরম জল ত্বক আরও শুষ্ক করে দেয়। স্বানে বা পা পরিষ্কার করতে হালকা কুসুম গরম জল ব্যবহার করুন। বেশি সময় ধরে পা জলে ডুবিয়ে রাখাও ভালো নয়। শীতকালে স্বান সারতেও খুব বেশি হলে ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় নিন।
• অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার, অতিরিক্ত ঘষাঘষি ত্বকের শুষ্কতা বাড়িয়ে দেবে।
• খালি পায়ে হাঁটবেন না। ঠান্ডা বাতাসে বের হলে খোলা জুতা বা স্যান্ডেল না পরে এ সময় বন্ধ জুতো পরুন।
• পায়ের মরা চামড়া ওঠাতে নিজে নিজে কখনো ধারালো কিছু ব্যবহার করবেন না। ঝামা পাথর দিয়ে বেশি ঘষতে গেলে ত্বক কেটে যেতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের রোগীরা মৃত ত্বক ওঠাতে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
কী করবেন
• পায়ের আর্দ্রতা রক্ষা করতে ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগান। পা পরিষ্কার করে তোয়ালে দিয়ে চেপে পানি মুছে তারপর ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। পা ফাটারোধে উপকারী হলো পেট্রোলিয়াম জেলি, অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল ও গ্লিসারিন।
• রাতে ঘুমানোর সময় পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে সুতি মোজা পরে শুতে পারেন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা হবে।
• পা ফেটে রক্ত বের হলে বা সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
পোকামাকড়ের কামড়ের চিকিৎসা! ||
By PRITAM BHOWMICKSeptember 29, 2022AYURBEDA, DAILY HEALTH, frist aid, health, HOUSE MADE MEDICINE, পোকামাকড়, পোকামাকড়ের কামড়ের চিকিৎসা!, সুস্বাস্থ্যNo comments
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
পোকামাকড় আমাদের পরিবেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এর মধ্যে কিছু উপকারী আবার কিছু ক্ষতিকরও বটে। মাঝে মাঝে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এইসব পোকামাকড়ের সংস্পর্শে এলে হুল ফুটানো কিংবা কামড় দেয়ার মত ঘটনা ঘটে থাকে। যদি সময় মত চিকিৎসা না নেয়া হয় তাহলে এই ছোট কামড় বা হুল প্রাণঘাতী হতে পারে। কারণ অনেক পোকামাকড়ের শরীরেই বিষাক্ত পদার্থ থাকে যা মানুষ থেকে শুরু করে পূর্ণশক্তির ঘোড়া পর্যন্ত মেরে ফেলতে সক্ষম। তার পাশাপাশি অনেকের শরীরে এলার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে যা কালক্রমে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। তাই যদি আপনি কখনো কোন ধরনের পোকামাকড়ের কামড়ের শিকার হন, যেমন মৌমাছি কিংবা মাকড়সা তাহলে কামড় খাওয়ার মুহুর্ত থেকে সাবধান হওয়া জরুরী।
কামড় অনুভব করার সাথে সাথে আপনি যা করতে পারেন –
কামড় অনুভব করার সাথেই সাথেই উক্ত পোকা/মৌমাছি/মাকড়সাটিকে সরিয়ে দিন। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত এটি আপনাকে কামড়াবে ততক্ষণই বিষ শরীরে প্রবেশ করতে থাকবে।
নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। খুব বেশি নড়াচড়া করবেন না। কারণ নড়াচড়া বেশি করলে বিষ রক্তের মধ্য দিয়ে দ্রুত ছড়িয়ে যাবে।
যদি মৌমাছি আপনাকে হুল ফোটায়, তাহলে মৌমাছি সরিয়ে দেয়ার পরও হুল ভেঙ্গে চামড়ায় রয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব ভাঙ্গা হুলটি চামড়া থেকে সরিয়ে ফেলুন।
যদি আপনি পায়ে অথবা হাতে কামড় খেয়ে থাকেন তাহলে বাহু যত সম্ভব নিচু করে রাখুন। এতে বিষ সহজে ছড়াবে না। কয়েক ঘণ্টা পর যদি হাত ফুলতে শুরু করে, তাহলে হাত উচু করে ফোলা কমাতে পারেন।
তবে কামড় যদি কাঁকড়া বিছের হয়ে থাকে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হসপিটালে যান। এখন মোটামুটি সব হাসপাতালেই কাঁকড়া বিছের বিষের এন্টি ডোট পাওয়া যায়। তাই যত দ্রুত যাবেন ক্ষতি ততই কম হবে।
ব্যথা নিরসনের জন্য করণীয় –
যাই কামড়াক, সাধারণত সেগুলো যদি বিষাক্ত হয় তাহলে কামড়ের স্থানে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে বরফ ব্যবহার করুন। প্রথম ৬ ঘণ্টার প্রতি ঘণ্টায় ১৫/২০ মিনিট করে বরফ ব্যবহার করুন। যেসময় বরফ লাগাচ্ছেন না, সেইসময় একটি পরিষ্কার ভেজা কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরে রাখুন এবং বরফ ব্যবহারের সময় বরফ এবং ক্ষতস্থানের মাঝে একটি পাতলা কাপড় ব্যবহার করা ভালো।
ক্ষতস্থানের ফোলা কমানোর জন্য যতটুকু সম্ভব ক্ষতস্থান সমতল থেকে উচুতে রাখার চেষ্টা করুন, এতে বিষ ছড়া্বে না, ফোলাও কম হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ক্ষতস্থানের চুলকানি, ফুলে যাওয়া, ব্যথা কমানোর জন্য Benadryl কিংবা ChlorTrimeton ধরনের এন্টিহিস্টামিন ওষুধ খেতে পারেন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
ব্যথা কমানোর জন্য ফার্মেসি থেকে Benzocaine জাতীয় স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এলার্জিক রিএকশন এর ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবেন।
Hydrocortisone 1% cream অথবা ক্যালামাইন লোশন ক্ষতস্থানে লাগালে লালচে ভাব এবং ফোলা দূর হবে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এধরনের কিছু ব্যবহার করবেন না।
৬ ঘণ্টা বরফ ব্যবহারে যদি ফোলা কমে যায়, তাহলে আস্তে আস্তে ক্ষতস্থানে গরম কাপড়ের সেঁক দিতে পারেন। এতে ক্ষতস্থানের জীবাণু সংক্রমণ বন্ধ হবে।
পোকার কামড়ের ক্ষেত্রে প্রতিকার হিসেবে আপনি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই যেসব ওষুধ খেতে পারেন –
Acetaminophen; যেমন – Tylenol.
Ibuprofen; যেমন – Advil অথবা Mortin.
Naproxen; যেমন – Aleve অথবা Naprosyn.
Aspirin; যেমন – Bayer অথবা Bufferin.
আরো কিছু টিপস –
ওষুধ সেবনের পূর্বে ইন্সট্রাকশন গুলো পড়ে নেবেন।
যতটুকু সেবন করার নির্দেশনা দেয়া আছে ততটুকুই সেবন করুন।
এলার্জির সমস্যা থাকলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ সেবন করবেন না।
বিশ বছরের নিচে ডাক্তার এর নির্দেশনা ব্যতিত অ্যাসপিরিন সেবন করবেন না।
তবে প্রতিকারের চাইতে অবশ্যই প্রতিরোধ উত্তম। তাই সাবধান থাকবেন যাতে এই ধরনের বিষাক্ত পোকামাকড় আপনার সংস্পর্শে আসতে না পারে।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
মুখের ঘায়ের যন্ত্রণা দূর করুন ঘরোয়া ৬ উপায়ে
By PRITAM BHOWMICKSeptember 29, 2022body health, DAILY HEALTH, health, health tips, PAIN, মুখের ঘা, সুস্বাস্থ্য1 comment
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
মুখের ঘা খুব সাধারণ এবং অস্বস্তিকর একটি সমস্যা। ছোট বড় সব বয়সের মানুষেরা এই সমস্যায় পড়ে থাকেন। সাদাটে ছোট ছোট এই ঘা বেশ কষ্টদায়ক। এটি সাধারণত মুখের ভিতর, জিহবা, ঠোঁট, দাঁতের মাড়িতে হয়ে থাকে। সাধারণত তিন ধরণের মুখে ঘা দেখা যায়। মাইনর আলসার, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। মেজর আলসার, এটি প্রায় এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। হারপেটিফ্রম আলসার, এটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো ঘা নিয়ে একটি বড় ঘা হয়ে থাকে।
বিভিন্ন কারণে মুখে ঘা হতে পারে। এর মধ্যে জ্বর, রক্ত স্বল্পতা, ফুড অ্যালার্জি, পুড়ে যাওয়া,স্ট্রেস, অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি অন্যতম। ঘায়ের তীব্র ব্যথার কারণে অনেকে ঠিকমত খেতে পারেন না। ওষুধ ছাড়াও ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই ঘা ভাল করা সম্ভব।
১। যষ্টিমধু
মুখের ঘা সারাতে যষ্টিমধু বেশ কার্যকর। এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দুই কাপ পানিতে দুই থেকে তিন ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। এটি দিয়ে দিনে কয়েকবার কুলকুচি করুন। যষ্টিমধুর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরী এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান মুখের ঘা ভাল করে থাকে।
২। টি ব্যাগ
খুব সহজ ঘরোয়া উপায়ে মুখের ঘা দূর করার আরেকটি উপায় হল টি ব্যাগ। এটি দ্রুত ব্যথা এবং ইনফ্লামেশন দূর করে দিয়ে থাকে। একটি টি ব্যাগ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে সেটি ঘায়ের স্থানে লাগান। এটি সাথে সাথে আপনার ব্যথা কমিয়ে দিয়ে দিবে।
৩। নারকেল তেল
সহজলভ্য নারকেল তেল দিয়ে মুখের ঘা দূর করা সম্ভব। একটি তুলোর বলে নারকেল তেল লাগিয়ে সেটি মুখের ঘায়ের স্থানে লাগান। নারকেল তেলের অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান ঘা সারিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।
৪। তুলসি
কয়েকটি তুলসি পাতাসহ পানি দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন। এটি দ্রুত মুখের ঘা প্রতিরোধ করবে এবং মুখে ঘা হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দিবে।
৫। বেকিং সোডা
এক চা চামচ বেকিং সোডা অল্প পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পাতলা পেস্টটি মুখের ঘায়ের স্থানে লাগিয়ে নিন। এটি দিনে কয়েকবার করুন। এছাড়া বেকিং সোডা সরাসরিই মুখের ঘায়ের স্থানে লাগাতে পারেন।
৬। মধু
একটি তুলোর বলে মধু লাগিয়ে নিন। এবার এটি মুখের ঘায়ের স্থানে লাগান। এছাড়া মুখের ঘায়ের স্থানে গ্লিসারিন, ভিটামিন ই অয়েল লাগাতে পারেন।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
ডেঙ্গু জ্বর : ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষন, চিকিৎসা
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত একটি সংক্রামক রোগ যা ডেঙ্গু ভাইরাসের (A. Aegypti ভাইরাস) কারণে হয়। এডিস নামক এক ধরণের মশার কামড়ে এ রোগ হয়। বর্ষা এবং A. Aegypti ভাইরাসটির ৪টি ভিন্ন ভিন্ন প্রকার আছে যার একটি প্রকারের সংক্রমণ সাধারণত সেই প্রকারের বিরুদ্ধে জীবনভর প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়, কিন্তু অন্য প্রকারগুলিতে স্বল্পমেয়াদে প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়। পরবর্তীতে অন্য প্রকারের সংক্রমণ হলে সেটি প্রবল জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। আবার, আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণু বিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটিও ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবেই এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস, বিশেষ করে গরম ও বর্ষার (বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী) সময় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অনেক বেশি থাকে। অপরদিকে শীতকালে সাধারণত এই জ্বর হয় না বললেই চলে।
ডেঙ্গু প্রধানত দুই ধরনের হয়, যথা- ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভার ও হেমোরেজিক ফিভার।
ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর এবং সেইসাথে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে থাকে। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে মাথায়, চোখের পেছনে, হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। জ্বর হওয়ার ৪ থেকে ৫ দিন পর সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়, সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি, রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তবোধ করে, রুচি কমে যায় ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ২ বা ৩ দিন পর আবার জ্বর আসে।
ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরো কিছু সমস্যা দেখা যায় যেমন- শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব বা রক্তক্ষরণ, বুকে বা পেটে পানি আসা ইত্যাদি। আবার, লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরের সবচেয়ে ভয়াভহ রূপ হলো ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেইলিউর যোগ হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ
ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর (১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত) এবং সেই সঙ্গে শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়াও মাথা ব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ৪ থেকে ৫ দিনের মাথায় সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়, যাকে স্কিনর্যাশ বলে। এটা অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমিও হতে পারে। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং খাবারে রুচি কমে যায়। এই অবস্থাটা অত্যন্ত জটিল হতে পারে, যেমন- অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পরা শুরু হতে পারে, যেমন- মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সঙ্গে, রক্ত বমি, চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে ও চোখের বাইরে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি। মেয়েদের ক্ষেত্রে, অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেক দিন পর্যন্ত রক্ত পড়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই রোগে অনেক ক্ষেত্রে বুকে বা পেটে পানি আসা, লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যেহেতু ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই এবং এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়, তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসাই যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু জতিলতার ক্ষেত্রে যেমন- শ্বাসকষ্ট হলে, পেট ফুলে পানি এলে, শরীরের কোনো অংশে রক্তপাত হলে, প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে, প্রচণ্ড পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হলে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, জন্ডিস দেখা দিলে ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেয়া উচিত।
কী কী পরীক্ষা করা উচিত?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডেঙ্গু জ্বর হলে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন, এতে অযথা অর্থের অপচয় হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে। জ্বরের ৪ থেকে ৫দিন পর সিবিসি এবং প্লাটিলেট টেস্ট করতে হবে। এর আগে টেস্ট করলে রিপোর্টে ডেঙ্গু রোগের জীবাণু ধরা নাও পরতে পারে। সাধারণত প্লাটিলেট কাউন্ট এক লাখের কম হলে ডেঙ্গু ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ডেঙ্গু অ্যান্টিবডির পরীক্ষা ৫ থেকে ৬দিন পর করা যেতে পারে। এটি রোগ শনাক্তকরণে সাহায্য করে। যেহেতু রোগের চিকিৎসায় এর কোনো ভূমিকা নেই, তাই এই পরীক্ষা না করলেও কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজনে ব্লাড সুগার, লিভারের পরীক্ষা যেমন- এসজিওটি, এসজিপিটি, এলকালাইন ফসফাটেজ ইত্যাদি করাতে হতে পারে। আবার চিকিৎসক যদি মনে করেন রোগী ডিআইসি জাতীয় জটিল কোন সমস্যায় আক্রান্ত, সে ক্ষেত্রে প্রোথ্রোম্বিন টাইম, এপিটিটি, ডি-ডাইমার ইত্যাদি পরীক্ষা করাতে হতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা সাধারণ জ্বরের মতোই। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে যাতে ডেঙ্গুজনিত কোনো মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি না হয়। নিম্নে ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় করনীয় কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলঃ
জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে, দিনে সর্বোচ্চ ৪বার।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
জ্বর কমানোর জন্য বারবার শরীর মুছে দিতে হবে।
জ্বরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই প্রচুর পানি ও তরল জাতীয় খাবার, যেমন— ওরাল স্যালাইন, ফলের জুস, শরবত ইত্যাদি পান করতে হবে।
বমির কারণে যদি কোন রোগী পানি পান করতে না পারেন সেক্ষেত্রে, শিরাপথে স্যালাইন দিতে হবে।
অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যাসপিরিন বা অন্য কোন ব্যথানাশক ওষুধ একেবারেই সেবন করা যাবে না।
ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাতে হবে।
সাধারণত ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীকেই রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ ১০ হাজারের কম হলে অথবা শরীরে রক্তক্ষরণ হলে প্লাটিলেট কনসেন্ট্রেশন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সিরাম অ্যালবুমিন ২ গ্রাম/ডেসিলিটারের কম হলে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তি শকে গেলে প্লাজমা বা প্লাজমা সাবস্টিটিউ দিতে হয়। যদি রক্তে প্লাটিলেট কাউন্ট ৫০ হাজারের নিচে নেমে যায় তবে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে করনীয়
ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের জন্য এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত অথবা ড্রেনের পানিতে এরা ডিম পারে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানসমূহকে পরিষ্কার করতে হবে এবং পাশাপাশি মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বাড়ির আশপাশের জলাশয়, ঝোপঝাড়, জঙ্গল ইত্যাদি থাকলে তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
ঘরের বাথরুমে বা অন্য কোথাও জমানো পানি যেন ৫ দিনের বেশি না থাকে। আবার ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার বা অ্যাকুয়ারিয়ামের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।
যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন স্থানে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে।
দিনের বেলায় ঘুমালে অবশ্যই মশারি টানিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাবেন।
এডিস মশা সাধারণত সকালে বা সন্ধ্যায় কামড়ায় যদিও অন্য যে কোনো সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীর ভালোভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং অবশ্যই ঘরের দরজা এবং জানালায় নেট লাগাতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে কোনো মশা তাকে কামড়াতে না পারে।
মশা নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ইত্যাদি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে।
ডেঙ্গু অথবা ভাইরাল জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক দরকার নেই
বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। কখনো মুষলধারে বৃষ্টি আবার কখনো উজ্জল রোদ কিংবা ভ্যাপসা গরম এরকম অস্বস্তিকর পরিবেশে মূলত আবহাওয়ার তারতম্য এবং বাতাসে আর্দ্রতার পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল জ্বর হয়ে থাকে। আবার থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে পানি জমে ডেঙ্গু মশার প্রজনন বিস্তারের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গু মশার বিস্তার লাভ সহজ হয়। এ সময়ে জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং আক্রান্ত রোগীর বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণত ডেঙ্গু সংক্রমনের নিরানব্বই শতাংশ সংক্রমণই ঘটে বর্ষাকালে আর বর্ষা পরবর্তী সময়ে যখন পানি জমা অবস্থায় থাকে। জ্বর বা ব্যথা হলেই সাধারণত রোগীরা ব্যথানাশক ওষুধ খায় কিন্তু ডেঙ্গু হলে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না এমনকি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধেরও প্রয়োজন নেই।
সবশেষে
ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সাধারনভাবে এই জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সঠিকভাবে চললে কয়েক দিনেই ডেঙ্গুরোগী সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে যায়। যেহেতু এ রোগের কোন ভ্যাকসিন নেই, তাই মশার সংখ্যা বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ নষ্ট করা, মশার সংখ্যাবৃদ্ধি হ্রাস এবং মশার কামড় থেকে বেচে থাকার মাধ্যমে ডেঙ্গুজ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
গেঁটে বাত কি? এর লক্ষণ ও চিকিৎসা
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
গেঁটে বাত বা গাউট (Gout) প্রদাহজনিত একটি রোগ। সাধারনত না খাওয়া, অভাবী বা অপুষ্টির শিকার মানুষেরা এ রোগে আক্রান্ত হয় না। তাই এটাকে ধনীদের রোগও বলা হয়ে থাকে। এতে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বা এর আশেপাশের টিস্যুতে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল জমা হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে। সাধারণত এ রোগে মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা ৫ গুণ বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এটি পুরুষ এবং বৃদ্ধা মহিলাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে লক্ষণীয় প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস। এ রোগে পুরুষেরা সাধারণত ৩০ বছরের বেশি বয়সে এবং মহিলারা মেনোপজের পর বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। আবার এটি ষাট বা সত্তর বছর বয়সেও হতে পারে। সাধারনভাবে বয়স বৃদ্ধি ও রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। রক্তে ইউরিক এসিডের স্বাভাবিক মাত্রা হলো পুরুষের ক্ষেত্রে ২.০-৭.০ mg/dL ও নারীদের ক্ষেত্রে ২.০-৬.০ mg/dL। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে তবে বয়স ও ওজনের সাথে সাথে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রাও বাড়ে।
গেঁটে বাতকে প্রধানত দুই রকমের হতে পারে। যেমন- প্রাইমারি গাউট (এটি প্রধানত ছেলেদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সের বেশি বয়সে এই রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং প্রদাহজনিত কারণেই সাধারনত এই রোগের সৃষ্টি হয়) এবং সেকেন্ডারি গাউট (এটি মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি হয় বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সে এর ঝুঁকি বাড়ে এবং এটি মূলত কিডনি বিকলতার কারণে কিংবা কোন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে হতে পারে)।
গেঁটে বাত এর লক্ষণ
গেঁটে বাত রোগটির উপস্থিতি প্রাথমিক পর্যায়ে খুব বেশি অনুভব করা যায় না। গেঁটে বাত মূলত শরীরের জয়েন্টগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সাধারণত হঠাৎ করেই এর লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং ২-৬ ঘণ্টার মাঝে এর তীব্রতা প্রকাশ পায়। শরীরের জোড়াস্থানগুলো ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় এবং যন্ত্রণা করে। সচরাচর সকালে ঘুম থেকে উঠার পর হঠাৎ করে রোগী এ ব্যথা অনুভব করেন। এটি সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙুলে অথবা হাঁটুতে বেশি হয়ে থাকে। এ ছাড়াও এটি গোড়ালির জয়েন্ট, মধ্য পায়ের জয়েন্ট, হাঁটুর জয়েন্ট, হাতের ছোট ছোট জয়েন্ট, কব্জির জয়েন্ট বা কনুইর জয়েন্টেও হতে পারে। আবার পরবর্তী ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ রোগটি আপনা আপনি সেরেও যেতে পারে। কিন্তু কখনও কখনও এক ধরনের নকল গেঁটে বাত ধোকা দিতে পারে এবং ঝামেলা বাড়তে পারে। এতেও গিরা ফুলে যায়, লাল হয় বা ব্যথা হয়। যদিও সব লক্ষণগুলো একই রকমের, কিন্তু চিকিৎসক যদি পরীক্ষাগারে কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই এই নকল গেঁটে বাতের লক্ষণগুলো শুনে চিকিৎসাপত্র দিয়ে দেন তবে সেক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে।
প্রধান প্রধান লক্ষণ বা উপসর্গসমুহ নিম্নে বর্ণনা করা হলঃ
হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়ে ২ থেকে ৬ ঘন্টার মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
প্রায়শই ভোরবেলায় তীব্র ব্যথায় রোগীর ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে।
এর সাথে জ্বর ও অবসাদগ্রস্ততা থাকতে পারে।
ব্যথা কমে গেলে আক্রান্ত স্থান চুলকায় ও চামড়া উঠে যেতে পারে।
ব্যথা এতই তীব্র হয় যে রোগী পায়ে মোজা পরতে পারেনা, আক্রান্ত জয়েন্ট বেশ ফুলে যায় এবং চামড়া চকচকে লাল হয়ে যায়।
৫ থেকে ৬ দিন পর এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।
কেউ কেউ একবার আক্রান্ত হবার পর দ্বিতীয়বার আর আক্রান্ত হয় না আবার অনেকেই কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হতে পারে।
এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে সেক্ষেত্রে ক্রনিক গাউটে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এতে জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা থাকে।
দীর্ঘদিন রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকলে কিডনিতে পাথর হতে পারে।
জয়েন্ট ও এর আশেপাশের টিস্যুতে ক্রিস্টাল জমা হয়ে নডিউল বা দলা বা টোফাস তৈরি করতে পারে। আবার টোফাসে ঘা হতে পারে, সংক্রমণ হতে পারে কিংবা প্রদাহের ফলে পুঁজ বের হতে পারে।
কিভাবে হয়
রক্তে যখন ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, তখন ধীরে ধীরে এই বেড়ে যাওয়া এসিড অল্প অল্প করে শরীরের বিভিন্ন খাঁজে বা পকেটগুলোয় জমা হতে থাকে এবং ক্রিস্টালের আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে একদিন হঠাৎ করে জয়েন্ট ফুলে উঠে, লাল হয়ে যায় এবং তীব্র ব্যথা হয়। ইউরিক এসিডের ক্রিস্টালগুলো দেখতে সুঁচের মতো হওয়ায় তীব্র যন্ত্রণা হয়ে থাকে। আবার শরীরের রক্তে এই ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলেই যে সবসময় গেঁটে বাত হবে এমনটি নয়। কারণ- এই ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চাইতে বেড়ে গিয়ে যদি দেহের কিডনিতে জমা হলে তা থেকে হতে পারে কিডনিতে পাথর হতে পারে, আবার ত্বকের নিচে জমা হলে তা থেকেও এ রকম বাত হতে পারে।
কেন হয়
রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেড়ে গেলে, তা জয়েন্টে জমা হয়ে গেঁটে বাত হতে পারে। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় খাসির মাংসসহ লালজাতীয় মাংস, শুকনো শিমজাতীয় দানা, মটরশুটি, মাশরুম, মাছের ডিম, কলিজা, কচু, লাল পুঁইশাক বা অ্যালকোহলের পরিমাণ বেশি থাকলে, তা রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমান বাড়তে পারে। এটা বংশানুক্রমে বা জেনেটিক কারণেও হতে পারে। আবার ডায়েটিং এর ফলে ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে বা দীর্ঘদিন উপোস থাকার কারণে শরীরের রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে ইউরিক এসিড যখন প্রস্রাবের সাথে ঠিকমতো বেরিয়ে যেতে না পারলে গেঁটে বাত হতে পারে।
প্রতিরোধে করনীয়
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- বাতাবী লেবু, পেয়ারা, কামরাঙা, আমলকী, কমলা, আমড়া, টমেটো, আনারস, কাচা মরিচ, তাজা শাকসবজি, বাঁধাকপি ইত্যাদি প্রচুর খেতে হবে।
বেশি পিউরিন আছে এমন খাবার খাওয়া কমাতে হবে। যেমন- বিভিন্ন ধরণের ডাল বিশেষ করে মসুর ও মটর ডাল, শিম, শিমের বিচি, অ্যাসপ্যারাগাস, ফুলকপি, মাশরুম, বরবটি, মটরশুঁটি, পুঁইশাক, পালং শাক ইত্যাদি। লাল মাংস যেমন- গরু, খাসি, হাঁস, খরগোস, বড় পাখি বা তুর্কি মোরগের মাংস, কবুতর, তিতির পাখির মাংস, ভেড়া, হরিণ, মগজ, কলিজা ইত্যাদি। আবার বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ও মাছের ডিম, চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদি। অপরদিকে ফলমূল, অন্যান্য শাকসবজি প্রচুর পরিমানে খেতে হবে।
আবার কম পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, লেটুস, পাস্তা, সাগু, ময়দা, চীনাবাদাম ইত্যাদি খেতে হবে।
ডায়েটিং করার নামে খাওয়া দাওয়ায় কোন অনিয়ম করা যাবে না। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েটিং করতে হবে।
বেশি তেল বা মশলা যুক্ত খাবার এবং বেশি প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়া কমাতে হবে।
খাবারের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। যে সকল খাদ্য শরীরে মেদ বা ওজন বাড়ায়, তা একেবারেই খাওয়া যাবে না অথবা কমাতে হবে।
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে যেন প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার প্রস্রাব হয়। এতে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড শরীর থেকে বের হয়ে যাবে এবং ইউরিনারি ট্রাক্টে ইউরেট জমা হয়ে পাথর হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।
প্রতিদিন নিয়ম মেনে হালকা ব্যায়াম করতে হবে। নিয়মিত ব্যয়াম করলে অনেক সময় গেঁটে বাত রোগ হতে নিরাপদে থাকা যায়।
যে সকল ওষুধ ইউরিক এসিড লেভেল বাড়ায় যেমন থিয়াজাইড ডাইউরেটিকস্, অ্যাসপিরিন, নিয়াসিন ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।
মদ বা যেকোনো অ্যালকোহল জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
এপেন্ডিসাইটিস কি? লক্ষন ও চিকিৎসা
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
এপেন্ডিসাইটিস (Appendicitis) বলতে সাধারনভাবে এ্যাপেন্ডিক্সের প্রদাহ বোঝায়। অ্যাপেনন্ডিক্স হচ্ছে ২ থেকে ২০ সে.মি. দৈর্ঘের নলাকার একটি অঙ্গ। এটি বৃহদন্ত্রের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে। যদি কোনো কারণে অ্যাপেনন্ডিক্সের মধ্যে ইনফেকশন হয়, তখন এটি ফুলে যায় এবং প্রদাহ হয়। একেই অ্যাপেনডিসাইটিস বলে। দ্রুত এর চিকিৎসা না করা হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসকে অত্যন্ত জরুরী অবস্থা হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং অপারেশনের মাধ্যমে দ্রুত এ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়।
এপেনন্ডিক্স কোন কারনে ফেটে গেলে জীবাণু সমগ্র পেটে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থা পেরিটোনাইটিস নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থা। এরকম হলে রোগীর মৃত্যুঝুকি থাকে। আবার কম তীব্রতার এ্যাপেন্ডিসাইটিস আছে যেটা এ্যাপেন্ডিসাইটিস রাম্বলিং হিসাবে পরিচিত। তলপেটে হঠাৎ করে ব্যথা উঠলেই সেটা অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা নাও হতে পারে। এরকম ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের পরামর্শ মত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে পেটের ব্যথা থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
এপেন্ডিসাইটিসের কারণ:
এ্যাপেন্ডিক্সের ভেতরে প্রতিবন্ধকতার ফলে ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি হয়ে এ্যাপেন্ডিক্স ফুলে ওঠে এবং এতে পুঁজ জমতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে এই এ্যাপেন্ডিক্স ফেটে রোগীর জীবননাশের সম্ভাবনা আছে।
কাদের এ্যাপেন্ডিসাইটিস হতে পারে:
১: এ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্তের কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই। যেকোনও বয়সেই এ্যাপেন্ডিসাইটিস হতে পারে। তবে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
২: অনেক ক্ষেত্রে এ্যাপেন্ডিসাইটিস জন্ম বা বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। পরিবারে পূর্বে কারো এই রোগটি হয়ে থাকলে তবে শিশুদের এই রোগটি হতে পারে।
৩: এ্যাপেন্ডিসাইটিস সারা বছরই হতে পারে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শীতকালে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যেই হয়ে থাকে।
৪: পুরুষদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা মহিলাদের তূলনায় কিছুটা বেশি।
৫: ফাইবার জাতীয় খাবার কম খেলে এবং রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ বেশি খেলে এ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৬: ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে, সিস্টিক ফাইব্রোসিসে ভুগছে এরকম শিশুদের এ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৭: Gastrointestinal infections যেমন Amebiasis, Bacterial Gastroenteritis, Mumps, Coxsackievirus B এবং Adenovirus এর ইনফেকশনের ফলে এ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
অ্যাপেন্ডিসাইটিস এর লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ:
১)অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে নিম্নলিখিত লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ দেখা যেতে পারেঃ
২)পেটে একটানা ব্যথা হতে পারে। ব্যথা নাভির চারদিকে থেকে শুরু হয় এবং ক্রমশ বাড়তে বাড়তে কিছুক্ষণের মধ্যেই নাভির নিচের অংশে ডানদিকে সরে যায়।
৩)ক্ষুধামন্দা অর্থাৎ খিদে কমে যেতে পারে।
৪)কাশি হতে পারে।
৫)কোষ্ঠকাঠিণ্য হতে পারে।
৬)জ্বর হতে পারে।
৭)পেটফাঁপা
৮)ডায়রিয়া
৯)ঠাণ্ডায় কাঁপুনি
১০)শরীরে সাইড পেইন হতে পারে।
এপেনডিসাইটিস নির্ণয়ে পরীক্ষা:
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখে এবং তার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক সময় কোন পরীক্ষা না করিয়েও রোগীর এপেন্ডিসাইটিস হয়েছে কিনা তা কিছুটা নিশ্চিত করতে পারেন। যেমন- যদি রোগীর কাশতে গেলে পেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয়। আবার যদি তলপেটের বামদিকে চাপ দিলে ডানদিকের তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয় অথবা তলপেটের ডানদিকে চাপ দিলে বামদিকের তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয়, তাহলে সেটা এপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হতে পারে। আবার পেটের ডান দিকের নিচের অংশে নানান কারনে ব্যথা হতে পারে, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। তাই, অপারেশনের পূর্বে চিকিৎসককে নানান বিষয় যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে যে এটা এ্যাপেন্ডিক্সের ব্যথা কিনা। আলট্রাসনোগ্রাম বা রক্ত পরীক্ষা অ্যাপেনডিসাইটিস নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে।
চিকিৎসা:
এপেন্ডিসাইটিস হলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারন- সময় মত অপারেশন না করলে অ্যাপেনন্ডিক্স ছিদ্র হয়ে ইনফেকশন পুরো পেটে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং এতে রোগীর মৃত্যুর আশংকা আছে। যেহেতু এপেনডিসাইটিসের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন, তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক্ষেত্রে প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে Ampicillin, hemihydrate, cefepime hydrochloride, metronidazole, ciprofloxacin, gentamicin, levofloxacin, moxifloxacin, morphine sulphate ইত্যাদি ঔষধ গ্রহনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
অপারেশন পরবর্তী সতর্কতা:
ল্যাপ্রোস্কোপির মাধ্যমে অপারেশন করা হলে, কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। অপরদিকে যদি ওপেন এপেনডেকটোমি করা হয়, তাহলে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৪ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। অপারেশন পরবর্তী সম্পূর্ণ সুস্থ্য হতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
ঘুম বোধ হলে বা ক্লান্ত লাগলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। কাশি, হাসি অথবা নড়াচড়া করার পূর্বে তলপেটের উপর একটি বালিশ রেখে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। পেইনকিলার খাওয়া সত্ত্বেও ব্যাথা না কমলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
অপারেশন পরবর্তী ঝুকি কমাতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশ্রাম করতে হবে। শিশুরা অপারেশনের এক সপ্তাহ পরে স্কুলে যাওয়া শুরু করতে পারবে তবে শ্রমসাধ্য কাজ যেমন জিম বা খেলাধুলা পুনরায় শুরু করার পূর্বে কমপক্ষে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় নেয়া উচিত। নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হলে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে হবে।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।












