Friday, 30 September 2022
শ্বাস কষ্ট, হাঁপানি বা এ্যাজমায় প্রাথমিক চিকিৎসা
By PRITAM BHOWMICKSeptember 30, 2022Asthma, health, এ্যাজমা, শ্বাস কষ্ট, সুস্বাস্থ্য, হাঁপানি2 comments
শ্বাস কষ্ট, হাঁপানি বা এ্যাজমায় প্রাথমিক চিকিৎসা
এই শীতে শ্বাসকষ্ট একটি যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গ এবং একটি শারীরিক সমস্যা। শ্বাসকষ্ট মানেই রোগ নয়, একটি রোগের লক্ষণ। একটু দৌড়ায়ে এলে বা পরিশ্রম করলে সবারই অল্পবিস্তর শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত চলতে থাকে। কিন্তু শ্বাসকষ্ট হলে ধরে নিতে হয় যেকোনো রোগের আলামত প্রকাশ পাচ্ছে। অনেকে শ্বাসকষ্ট মানেই হাঁপানি মনে করেন এবং হাঁপানি ভেবে এই রোগের সনাতন চিকিৎসা শুরু করে দেন। হাঁপানি হলে অবশ্যই শ্বাসকষ্ট হয়। তবে সব শ্বাসকষ্টই হাঁপানি নয়। ফুসফুসের হাঁপানি হলো একটি বিশেষ ধরনের শ্বাসকষ্ট।
সাধারণত হঠাৎ করে শুরু হয় এবং এই শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার পর বুকের ভেতরে বাঁশির মতো শব্দ হয় এবং সাথে কাশিও বুকের ভেতর শ্বাস বন্ধ তার অনুভব হয়। এ তো গেল ফুসফুসের হাঁপানির কথা। এ ছাড়া হৃৎপিণ্ডের বাম দিকের অংশ অকেজো হয়ে পড়লেও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে থাকে হৃদযন্ত্রের হাঁপানি বলে। ফুসফুসের হাঁপানি ও কার্ডিয়াক (হৃদযন্ত্রের) হাঁপানি উভয় রোগেই শ্বাসকষ্ট থাকে। তবে একজন চিকিৎসক রোগীর বয়স, লক্ষণ ও বুক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অনায়াসেই বলে দিতে পারেন যে, রোগী কোন ধরনের হাঁপানিতে ভুগছেন।
বয়স্ক মানুষের হাঁপানি হলে
হাঁপানি কোনো নির্দিষ্ট বয়সের রোগ নয়। এই রোগে যে কোনো বয়সের মানুষই আক্রান্ত হতে পারে। তবে শিশু, প্রাপ্ত বয়স্ক ও বৃদ্ধদের মধ্যে হাঁপানি ভিন্নভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। শিশুদের মধ্যে কাশি ও শ্বাসকষ্ট, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হঠাৎ শ্বাসকষ্টের আক্রমণ এবং বৃদ্ধদের মধ্যে হঠাত্ শ্বাসকষ্ট ছাড়াও সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে পড়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়।
গ্লুকোমা, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বয়স্কদের হাঁপানির উপসর্গকে বৃদ্ধি করে। আবার হজমের ওষুধ, ডিসপেপসিয়ার ওষুধ, অ্যান্টাসিড হাঁপানির উপসর্গকে কিছুটা কমাতে পারে। তাই বৃদ্ধ বয়সে যারা হাঁপানিতে কষ্ট পান তাদের চিকিত্সা খুব সাবধানে করতে হয়। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ একনাগাড়ে বেশিদিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করার ফলে কাজ হয় ম্যাজিকের মতো কিন্তু শরীরের অস্থিগুলো খুব নরম হয়ে যায়। এতটাই হাড়গোড় নরম হয়ে যায় যে, খুব সামান্য কারণেই শরীরের যে কোনো স্থানের হাড় ভেঙ্গে যেতে পারে। আবার খুব জোরে কাশলে বুকের পাঁজরের হাড়ও ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে। আবার যারা স্টেরয়েড ব্যবহার করেন তাদের যক্ষ্মা রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পাঠ ২
রোগীকে ধরে নিয়ে একটা খোলা, আরামদায়ক স্থানে বসতে দিন। কাছে ইনহলের থাকলে এক পাফ ইনহলের দিয়ে ওষুধ নিয়ে ৬ বার খোলা বাতাসে শ্বাস নিতে দিন। এরকম করে পুনরায় করে মোট ৬ বার করুন
যদি কাছে ইনহলের বা ওষুধ না থাকে তাহলে দ্রুত ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যান অথবা ইনহলের খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।
শ্বাস কষ্টের Homeopathic চিকিৎসা বা হাঁপানি বা এ্যাজমা (Asthma)
দীর্ঘমেয়াদী হাঁপ বা বারবার হাঁপের আক্রমণকে হাঁপানি বলে। হাঁপানি শ্বাসতন্ত্রের ক্রনিক প্রদাহ জনিত ও ক্ষুদ্র শ্বাসনালীগুলোর রোগ, যাতে ক্ষুদ্র শ্বাসনালীগুলো সর্বদা প্রদাহজনিত কারণে লাল এবং সংবেদনশীল থাকে। এ সংবেদনশীল ক্ষুদ্র শ্বাসনালীগুলো যদি ঠাণ্ডা, ভাইরাস জীবাণু অথবা হাঁপানি উদ্দীপক অন্য কোন বস্তুর সংস্পর্শে আসে তখন সেগুলোতে প্রতিক্রিয়া জনিত সংকোচন ঘটে ফলে শ্বাস নালী সংকীর্ণ হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হয় এবং রোগীর শ্বাস কষ্ট হয়।
কারণ (Cause)
প্রচলিত চিকিৎসা মতে –
অনেক সময় সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না।
হোমিওপ্যাথি মতে-
সোরা ও সাইকোসিস উপবিশ এর প্রধান কারণ। যেমন কারো গনোরিয়া বা চর্ম রোগ মলম দিয়ে বা বিসদৃশ পন্থায় বিতাড়িত করার পরে এ রোগটি ফুসফুসে আক্রমণ করলে রোগের নাম হয় হাঁপানি, লিভারে আক্রমণ করলে এর নাম হয় লিভার সিরোসিস, কিডনিতে আক্রমণ করলে এর নাম হয় নেফরোসিস।
গনোরিয়া বা চর্ম রোগ মলম দিয়ে বা বিসদৃশ পন্থায় বিতাড়িত করার কুফল বংশানুক্রমিক বিস্তার লাভ করে।
এলার্জি-
এলার্জির কারণে হাঁপানি হতে পারে। ধূলা, বালি, ফুলের রেণু, পশুপাখির লোম, পালক, বিভিন্ন ধরনের খাদ্য যেমন – ইলিশ মাছ, গরুর মাংস, বেগুন, ডিম ইত্যাদিতে যদি কারো এলার্জি থাকে তবে এগুলোর সংস্পর্শে এলে বা খেলে হাঁপানি হতে পারে। কম্বল, কার্পেট, লোমশ পোশাক অনেক সময় কারণ হতে পারে।
বংশগত-
যদি কারো বংশে হাঁপানির ইতিহাস থাকে তবে তার হাঁপানি হতে পারে।
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ-
ধূমপান করলে হাঁপানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শ্বাস কষ্ট:
হাঁপানি রোগের প্রধান লক্ষণ হলো অল্পক্ষণ স্থায়ী শ্বাস কষ্ট। শ্বাস টেনে ভেতরে নেয়ার চেয়ে নিশ্বাস ফেলবার সময় কষ্ট বেশি হয়। বুকের ভেতর চাপ অনুভূত হয়। রোগী শুয়ে থাকতে পারে না, বসে সামনের দিকে ঝুঁকে শ্বাস নেয়। শ্বাস কষ্ট যে কোন সময় হতে পারে। তবে রাতের দিকে বিশেষ করে শেষ রাতে বেশি হয়। শ্বাস কষ্ট কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
উপসর্গ ও লক্ষণ Symptom and Sign)-
শোঁ শোঁ শব্দ:
বুকের ভেতরে শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায়। স্টেথোস্কোপ বুকের উপর বসিয়ে সুস্পষ্টভাবে এই শব্দ শোনা যায়। তীব্র সংক্রামণ হলে স্টেথোস্কোপ ছাড়াই শোনা যায়। নিঃশ্বাসের সময় শব্দ বেশী হয়।
ঘাড়ের দুপাশে মাংসপেশি নিঃশ্বাসের সাথে ফুলে ফুলে উঠে।
বুকের খাঁচার মাংসপেশিগুলো ভেতরের দিকে ঢুকে যায়। যাদের দীর্ঘদিন ধরে এই রোগ থাকে তাদের বুকের খাঁচার আকৃতি অনেকটা ব্যারেলের মতো হয়ে যায়। অর্থাৎ দুপাশ চাপা, গোলাকার হয়ে উঠে। কাশি থাকে এবং তার সাথে সাদা বা হলুদ কফ থাকতে পারে।
প্রকার ভেদ (Classification) :
এপিসোডিক হাঁপানি (Episodic Asthma) :
হঠাৎ শ্বাস কষ্ট সাধারণত শ্বাস ফেলার সময় যার সাথে শাঁইশাঁই শব্দ থাকে । যখন ভালো হয়ে যায় তখন রোগের কোন লক্ষণ থাকে না।
ক্রনিক হাঁপানি (Chronic Asthma) :
এটা এপিসোডিক হাঁপানি যা বছরের পর বছর কখনো না কখনো চলে। কিন্তু ভালো সময়ে কিছু পরিমাণ শ্বাস কষ্ট থাকে । কাশি মিউকাস মিশ্রিত থুথু এবং বার বার শ্বাসতন্ত্রের সংক্রামণ দেখা যায় । যখন রোগের অন্য লক্ষণ থাকে না তখনও Rhonchi দেখা যায় ।
হঠাৎ মারাত্মক হাঁপানি (Acute severe Asthma) :
এ ধরনের খুবই মারাত্মক । এই হাঁপানি থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে ।
উপসর্গ ও লক্ষণ:
১) নাড়ীর গতি হঠাৎ ১২০ বারের বেশী সেই সাথে পালসাস প্যারাডক্সাস থাকে এবং পরে কমতে থাকে ।
২) এক সাথে পুরো বাক্য বলে শেষ করতে পারে না ।
৩) সেন্ট্রাল সায়ানোসিস থাকতে পারে ।
৪) অবসন্নতা, রক্তচাপ প্রথমে বাড়ে পরে কমতে থাকে ।
৫) ফুসফুসের কোন শব্দ না হওয়া (Silent chest) ।
হঠাৎ মারাত্মক হাঁপানির চিকিৎসা:
হঠাৎ মারাত্মক হাঁপানির চিকিৎসার প্রধান কথাই হল রোগীকে দ্রুত বিপদমুক্ত করতে হবে। হোমিও ঔষধ দিয়ে রোগীকে সাথে সাথে হাসপাতালে পাঠাতে হবে। হোমিও ঔষধে কাজ হলে হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বেই রোগী সুস্থ অনুভব করবে। রোগী সহনশীল অবস্থায় ফিরে এলে লক্ষণ ভিত্তিক হোমিও চিকিৎসা করতে হবে।
প্রতিরোধ (Prevention) :
রোগীর অভিজ্ঞতা অনুসারে যে যে কারণে (আবহাওয়া, বিশেষ খাদ্য ও পানিয়, গোসল ও পরিবেশ ইত্যাদি) হাঁপানির টান বেড়ে যায় তা থেকে রোগীকে দূরে থাকতে হবে ।
ধূমপান এবং সব রকমের ধোয়া থেকে রোগীর দূরে থাকা প্রয়োজন ।
কম্বল, কার্পেট, লোমশ পোশাক, ঘর ঝাড়া, কুকুর, বিড়াল, খরগোস ইত্যাদির মাধ্যমে হাঁপানির সংক্রমণ ঘটতে পারে তাই এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে ।
চোখ উঠা (Conjunctivitis) রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
চোখ উঠা (Conjunctivitis) চোখের একটি ভাইরাসজনিত ইনফেকশন এবং এটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে। কনজাংটিভা নামে চোখের পর্দায় প্রদাহ হলে তাকে চোখ ওঠা রোগ বলা হয়। ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জির কারণেও চোখ ওঠে। সাধারণভাবে চোখ ওঠা বলতে চোখ লাল হওয়া বুঝানো হলেও কিন্তু চোখ লাল হওয়া একটি উপসর্গ মাত্র।
চোখ ওঠা রোগীর চোখের দিকে তাকালে কারও চোখ ওঠে না। যদিও ভাইরাসে আক্রান্ত চোখ কিছুদিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায় কিন্তু অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে হওয়ার কারনে আশপাশের অনেককেই আক্রান্ত করতে পারে। এ ধরনের রোগী কতদিনে সুস্থ্য হবে সেটা নির্ভর করে, তিনি কি ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত এবং তার প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন তার ওপর।
চোখ ওঠার কারন?
জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, এডিনো ভাইরাস, স্কেলেরার ইনফেকশন, হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, ইউভিয়াল টিস্যু ইনফেকশন ইত্যাদি নানান কারণে চোখ লাল হতে পারে। ভাইরাস কেরাটাইটিস অথবা হারপেম সিমপেক্স ভাইরাসজনিত ইনফেকশনই মুলত ভাইরাসজনিত ইনফেকশন। সাধারণত এ ধরনের ইনফেকশনে এক চোখ আক্রান্ত হয়। এছাড়াও ময়লা, ধূলাবালি, ঔষধ, কেমিক্যালস্ অথবা প্রসাধনী ব্যবহারের সময়ও প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে।
চোখ ওঠা রোগের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ
চোখ ওঠা রোগের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হল। সবগুলো উপসর্গ একসাথে দেখা যেতে পারে আবার নাও যেতে পারে।
চোখের চারপাশে হালকা লাল রং হতে পারে।
চোখের পাতা ফুলে যায়।
চোখ জ্বলবে।
চোখের ভেতর অস্বস্থি শুরু হয়।
রোদে বা আলোতে তাকাতে কষ্ট হয়।
চোখ থেকে অতিমাত্রায় পানি পড়ে।
সামান্য ব্যথা হয়।
চোখ থেকে শ্লেষ্মাজাতীয় পদার্থ বের হতে থাকে ও হলুদ রঙের পুঁজ সৃষ্টি হয়।
ঘুম থেকে উঠার পর চোখের পাতা দুটি একত্রে লেগে থাকে।
সাধারণত ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে উপসর্গসমূহ কমতে থাকে। কিন্তু দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় এবং কর্নিয়াতে সাদা দাগ পড়ে, যা খালি চোখে দেখে বোঝা যায় না।
চোখ উঠা রোগের জীবাণু যেভাবে ছড়ায়
এটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে একটি রোগ। চোখে প্রদাহ হলে অশ্রুতে ভাইরাস ভেসে বেড়ায় এবং অশ্রু মোছার সময় রোগের জীবাণু আমাদের হাতে চলে আসে। এর পর সেই হাত দিয়ে আমরা যা কিছুই স্পর্শ করি সেখানে ভাইরাস চলে যায়। এভাবে কারও সঙ্গে করমর্দন, টিভি অথবা এয়ার কন্ডিশনের রিমোট, তোয়ালে, বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, মুঠোফোন ইত্যাদি মাধ্যমে রোগের জীবাণু ছড়িয়ে যায়।
আবার বাহিরে গেলে, হাতের সাহায্যে চোখ কচলালে অথবা চোখ মুছলে ভাইরাস বা জীবানু হাতে লেগে যায়। তখন টেম্পু, বেবিট্যাক্সি, বাস, রিকশা ইত্যাদিতে ছড়িয়ে যায়। একইভাবে নানান জায়গায় এবং কর্মক্ষেত্রে কাজ করার সময় ভাইরাসগুলো ছড়িয়ে যায়। তখন কোন সুস্থ লোক স্পর্শ করলে তারও এ রোগ হতে পারে। তাই, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই বাসায় অবস্থান করতে হবে।
চোখ উঠলে করনীয়
বেশি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় রোগীকে এ ব্যাপারে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
একান্ত প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বাহিরে যাওয়া উচিত নয়।
পরিষ্কার কাপড় অথবা টিস্যু দিয়ে চোখের কোণে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। এবং যতটা সম্ভব ওই কাপড় গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে।
অন্য চোখেও যাতে এ রোগ না হয়, সেজন্য যতটা সম্ভব ভালো চোখে হাত না দেওয়াটা মঙ্গলজনক। তবে সাধারণত এ রোগে একই সাথে অথবা পর্যায়ক্রমে দুই চোখই আক্রান্ত হয়।
রাতে ঘুম থেকে ওঠার পর ব্যবহার্য জিনিসপত্র যেমন- বালিশের কভার, তোয়ালে ইত্যাদি গরম পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে।
এ ধরনের চোখ ওঠায় অ্যান্টিভাইরাল সাধারণত কাজ করে না। ভাইরাসের আক্রমণের সাত আট দিনের মাথায় আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়। আক্রান্ত চোখকে নোংরা পানি, ধুলাবালি, দূষিত বাতাস থেকে নিরাপদে রাখতে হবে।
বাইরে বের হলে অবশ্যই সানগ্লাস পরতে হবে। এটি রোদে চোখ জ্বলার হাত থেকে রক্ষা করবে।
যে পাশের চোখ উঠবে, সে পাশেই কাত হয়ে শুতে হবে। না হলে আক্রান্ত চোখ থেকে অন্য চোখেও সংক্রমণ হতে পারে।
চোখে বারবার পানি দিয়ে পরিষ্কার করা বা চোখে পানির ঝাপটা দেয়া যাবে না।
এতে যদি ভালো না হয় বা যদি চোখে কোন জটিলতা, যেমন— চোখ খুব বেশি লাল হলে, খুব বেশি চুলকালে, অতিরিক্ত ফুলে অথবা দৃষ্টি ঝাপসা হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

নবজাতকের চোখ উঠলে করনীয়
নবজাতকের চোখ উঠলে ওষুধপত্র দেওয়ার পরেও ২ থেকে ৩ দিন লাল অথবা ফোলা থাকতে পারে। লাল রং এবং ফোলা দীর্ঘসময় ধরে থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
চোখ উঠা রোগের চিকিৎসা
ভাইরাসের আক্রমণের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে। এ জন্য দিনে ৩ থেকে ৪ বার চোখের অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ক্লোরামফেনিকল ব্যবহার করতে হবে। আবার ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ না হলেও সেকেন্ডারি ইনফেকশন প্রতিরোধ করার জন্যও এটি ব্যবহার করা যায়। চোখে চুলকানি থাকলে অ্যান্টিহিস্টামিন সেবন করতে হবে। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন নেই। ব্যথা হলে ব্যথার ঔষুধ (প্যারাসিটামল) খাওয়া যেতে পারে। চোখের কালো রাজায় প্রদাহ হলে কৃত্রিম চোখের পানি, হোমাট্টপিন ইত্যাদি ওষুধ বেশ কার্যকর হতে পারে। তবে যেকোনো ওষুধ সেবন করবেন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। চোখ সম্পুর্ণ সুস্থ হতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। তাই, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহারে রোগীর কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হয়। কর্নিয়ায় প্রদাহ হলে সময়মতো চিকিৎসা না নিলে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে এমনকি কর্নিয়া সংযোজনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই চোখ উঠা রোগে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহন করতে হবে।
সবশেষে
চোখ ওঠা একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ জন্য যাঁদের চোখ ওঠেনি, তাদের চোখ ওঠা রোগীর সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে। সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। যাঁদের চোখ উঠেছে, তাদের ব্যবহার করা রুমাল, কাপড়চোপড়, তোয়ালে ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি তাদের সাথে হ্যান্ডশেকের ব্যাপারেও সাবধান হতে হবে। এ সকল ক্ষেত্রে হাত তাড়াতাড়ি ধুয়ে ফেলতে হবে। নোংরা হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করা যাবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস পরিবারের একজন থেকে অন্যজনে হয়ে থাকে। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধের জন্য, অবশ্যই পরিবারের সবার পৃথক কাপড়, তোয়ালে ইত্যাদি থাকতে হবে। চোখ উঠা মারাত্মক হতে পারে যেমন- কর্নিয়ায় ঘা, কর্নিয়া ছিদ্র হয়ে চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। দেরি করে চিকিৎসা করালে সম্পুর্ণ আরোগ্য লাভ অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা নিলে এ রোগটি খুব সহজেই সেরে যায়।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
Thursday, 29 September 2022
চোখ থেকে জল পড়লে কি করা উচিত্ || চোখ থেকে জল পড়ার কারণ
By PRITAM BHOWMICKSeptember 29, 2022body health, DAILY HEALTH, eye problem, health, health tips, চোখ থেকে জল পড়ার কারণ, সুস্বাস্থ্যNo comments
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
চোখ থেকে জল পড়লে কি করা উচিত্।
জল পড়ার কারণঃ
স্বাভাবিক চোখ সবসময় একটু ভেজা থাকে।অতিরিক্ত জল চোখের ভেতরের কোনায় অবস্থিত নেত্রনালী দিয়ে নাকে চলে যায় এবং শোষিত হয়। কোন কারণে চোখে অতিরিক্ত জল তৈরী হলে, অথবা নেত্রনালী বন্ধ হয়ে গেলে চোখের জল উপচে পড়ে, একে লেক্রিমেশন বা এপিফোরা বলে। শিশুর জন্মের পর পর যদি নেত্রনালী বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে চোখ দিয়ে জল পড়ে।
তরুণ বয়সে নেত্রনালীর প্রদাহজনিত কারণে নেত্রনালী সরু হয়ে চোখ হতে জল পড়তে পারে। এইক্ষেত্রে নেত্রনালীতে ইনফেকশন হয়ে পূঁজ জমতে পারে। চোখের ভেতরের কোনায় চাপ দিলে জল ও পূঁজ বের হতে পারে। বয়স্ক লোকের নেত্রনালী বয়সজনীত পরিবর্তনের কারণে সরু হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বয়সের কারণে চোখের চারদিকের মাংশপেশী দূর্বল হবার কারণেও নেত্রনালী অকার্যকর হয়ে চোখ হতে জল পড়তে পারে।
ছাড়াও চোখের এ্যালার্জী, চোখ ওঠা রোগ, গ্লুকোমা, কর্ণিয়ার ঘা, চোখের আঘাত ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে যে কোন বয়স চোখ দিয়ে জল পড়তে পারে। অতিরিক্ত সর্দি হলে নাকের প্রদাহের কারণে নেত্রনালীর ছিদ্র মুখ বন্ধ হয়ে চোখ হতে জল পড়তে পারে।
প্রতিকারঃ
চোখের কোনায় মালিশ এবং এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহারে
বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে জল পড়া বন্ধ হয়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রোবিং সার্জারীর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হয়। তরুণ বয়সে নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ থেকে জল পড়লে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ড্রপ, কোন কোন ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক / স্টেরইড এর মিশ্রন ব্যবহার করলে এ সমস্যাঅনেকাংশে লাঘব হয়। চোখে জমে থাকা পূঁজ চোখের কোনায় চাপ দিয়ে নিয়মিত পরিস্কার করা প্রয়োজন। ওষুধে ভাল না হলে 'ডিসিআর' অপারেশনের মাধ্যমে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব। বেশী বয়স্কদের নেত্রনালী সংকুচিত হওয়ার কারণে ডিসিআর অপারেশন করা সম্ভব হয়না। সেক্ষেত্রে ডিসিটি অপারেশন করা হয়। এক্ষেত্রে পূঁজ জমা বন্ধ হয়, কিন্তু জল পড়া বন্ধ হয়না। যে সব বয়স্ক লোকের ছানিরোগ আছে, আবার তাদের যদি নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে জল ও পূঁজ পড়ে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ছানি অপারেশনের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শে বয়সভেদে ডিসিআর অথবা ডিসিটি অপারেশন করতে হবে, না হলে চোখের কোনায় জমে থাকা জীবানু ছানি অপারেশনের সময় চোখের ভেতরে ঢুকে মারাত্মক ইনফেকশন করতে পারে। নেত্রনালী সমস্যা ব্যতিত অন্য কারণে জল পড়লে সে কারণ চিহ্নিত করে ডাক্তারের পরামর্শে তার চিকিত্সা করাতে হবে।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
চোখে ছানি পড়ার কারণ ও প্রতিকার || চোখে ছানি পড়ার কারণ
By PRITAM BHOWMICKSeptember 29, 2022DAILY HEALTH, eye problem, health, old age problems, চোখে ছানি, চোখে ছানি পড়ার কারণ ও প্রতিকার, সুস্বাস্থ্যNo comments
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
চোখে ছানি পড়া একটি সাধারণ বয়স জনিত সমস্যা। যখন আপনার চোখে ছানি পড়বে তখন আপনার চারপাশের সবকিছুই ঝাপসা হয়ে আসবে। সব কিছুই অস্পষ্ট দেখাবে। চোখের ছানি অত্যন্ত ধীর গতিতে বাড়ে। এই ছানি যখন বাড়তে বাড়তে মারাত্মক আকার নেয়, তখনই চোখে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেও ছানির প্রতিকার করা সম্ভব। কিন্তু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বনের আগে অবশ্যই একজন চক্ষু চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ বার জেনে নেয়া যাক চোখের ছানি দূর করার কিছু সহজ উপায়।
ভিটামিন সি: শরীরের অন্যান্য অঙ্গের চেয়ে চোখের লেন্স ভিটামিন সি বেশী ধারণ করে। যদি আপনার চোখে ছানি (প্রাথমিক পর্যায়ে) হয়ে থাকে তাহলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে সম্পূরক ভিটামিন সি গ্রহন করুন।
পেঁপে: পেঁপের মধ্যে যে এনজাইম থাকে তা প্রোটিন জাতীয় খাবার হজমে সহায়তা করে। চোখে ছানি আছে এমন অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে তাঁদের প্রোটিন জাতীয় খাবার হজম করতে সমস্যা হয়। এই অতিরিক্ত প্রোটিন চোখের লেন্স-এ গিয়ে জমা হয়ে ছানি তৈরি করতে পারে। তাই ছানি প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত পেঁপে খাওয়া উচিত।
রসুন: ছানি পড়া চোখের জন্য রসুন খুবই উপকারী। আপনার চোখ জল দিয়ে ধুয়ে নিলে দৃষ্টি যে রকম পরিষ্কার মনে হবে, রসুনও ঠিক সেই কাজটি করে থাকে। তাই প্রতিদিন ২-৩টি কোয়া রসুন খেতে পারলে উপকার পাওয়া যাবে।
গ্রীন টি: চোখের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে গ্রীন টি চমৎকার কাজ করে। গ্রীন টিতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা চোখকে সজীবতা প্রদান করে।
দুধ ও কাজুবাদাম: চোখে ছানি হলে চোখ জ্বালা করে এবং লাল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে দুধের মধ্যে সারারাত কাজুবাদাম ভিজিয়ে রেখে সেই দুধ যদি চোখের পাতায় লাগানো যায় তাহলে চোখ জ্বালা করা এবং লাল হয়ে যাওয়া অনেকটাই কমে যায়।
কাঁচা শাক-সব্জি: একাধিক মেডিকেল জার্নাল অনুযায়ী, কাঁচা শাক-সব্জি ভিটামিন এ এর উৎস। তাছাড়া এগুলি বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা চোখের ছানি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।
এলার্জি কি? কেন হয়, মুক্তির উপায় || এলার্জি কেন হয় || এলার্জি দূর করার উপায়
By PRITAM BHOWMICKSeptember 29, 2022DAILY HEALTH, health, health tips, SKIN HEALTH, skin problem, এলার্জি, এলার্জি কি? কেন হয়, মুক্তির উপায়, সুস্বাস্থ্যNo comments
হ্যালো বন্ধুরা । আমাদের জীবন আনন্দ, সুখ দুঃখ হাসি ও কান্নার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর মধ্যেই রয়েছে রোগ ব্যাধি ও জড়ার উপস্থিতি।
বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যানে বেশিরভাগ রোগই নিরাময় করা সম্পূর্ণ ভাবে সম্ভব, কিন্তু বেশকিছু রোগের চিকিৎসা আজও অজানা !
আমাদের এই লেখার মাধ্যমে আমরা আপনাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও তাদের নিরাময় করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।
এলার্জি কি?
মানুষের শরীরে এক একটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম আছে। কোন কারণে এই ইমিউন সিস্টেমে গণ্ডগোল দেখা দিলে এলার্জির বহির্প্রকাশ ঘটে। কখনও কখনও আমাদের শরীর ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন বস্তুর প্রতি শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াই এলার্জি।
এলার্জি কেন হয়?
যদিও এলার্জি একটি বহুল প্রচলিত শব্দ কিন্তু এই এলার্জি সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই সঠিক কোন ধারণা নেই। শ্বাস কষ্ট, এক্জিমা ইত্যাদি বহু চর্মরোগেরই কারণ এলার্জি।
নিম্নলিখিত বিভিন্ন কারনে এলার্জি হতে পারেঃ
১: ঘরের জমানো ধুলো হাপানি জনিত এলার্জির জন্য একটি অন্যতম কারণ। ঘরের ধুলোতে মাইট নামক এক ধরনের ক্ষুদ্র জীবানু থাকে যা শতকরা প্রায় ষাট শতাংশ ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টির জন্য দায়ী।
২: দুষিত বাতাস, ঘরের ধুলো, ফুলের পরাগ, ধোয়া, কাঁচা রংয়ের গন্ধ, চুনকাম, পুরানো ফাইলের ধুলো ইত্যাদি দেহে এলার্জিক বিক্রিয়া সৃষ্টি করে হাপানি রোগের সৃষ্টি করতে পারে। ছত্রাক এলার্জি তথা হাপানি সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ।
৩: খাদ্যে প্রচুর এলার্জির সম্ভাবনা থাকে যেমন- দুধে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গরুর দুধে খুব বেশি এলার্জি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে গরুর দুধে গায়ে চুলকানি, হাপানি ইত্যাদি হতে পারে। এছাড়াও মাছ, বাদাম, কলা, আপেল, আঙ্গুর, ব্যাঙের ছাতা, গম, ডিম, তরমুজ, পেয়াজ, রসুন, চকোলেট এমনকি ঠান্ডা পানীয়ও কোন কোন ব্যক্তির এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে।
৪: শিশুকে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পর অনেক সময় চুলকানি বা ঠান্ডাজনিত কোন সমস্যা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।
৫: মশা, বেলেমাছি, মৌমাছি, বোলতা, ভীমরুল প্রভৃতি পতঙ্গের কামড়ে গায়ে চুলকানি, স্থানটি ফুলে যাওয়া এমনকি হাপানি পর্যন্তও হতে দেখা যায়। এছাড়াও শরীরে পশম বা পালক আছে এমন গৃহপালিত পশু যেমন- বিড়াল, কুকুর ইত্যাদি এবং গৃহপালিত পাখিও অনেক সময় এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া আর্টিকোরিয়া (আমবাত) নামক একটি চর্মরোগে ত্বকে চাকা চাকা হয়, ফুলে ওঠে এবং চুলকানি হয়। অধিকাংশ মানুষের জীবনের কোন না কোন সময় এই রোগটি হয়ে থাকে। এই আর্টিকোরিয়া শরীরের কোন নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে আবার সমস্ত শরীরে ছড়িয়েও পড়তে পারে। এ ধরনের এলার্জিতে প্রচন্ড চুলকানির সাথে বিভিন্ন আকারের লালচে চাকা চাকা ফোলা দাগ হতে পারে। নানান কারন এটা হতে পারে যেমন- খাদ্য এলার্জি থেকে (বাদাম, ডাল, মাংস, ডিম), পতঙ্গের কামড়ে (বোলতা, মৌমাছি, ভীমরুল, মাকড়সা) ইত্যাদি কারনে এটা হতে পারে।
৬: প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা
৭: রক্ত পরীক্ষা (রক্তে ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি আছে কিনা তা নির্ণয়)।
৮: সিরাম আইজিইর মাত্রা (সাধারণত এলার্জি রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা বেশি হয়)।
৯: স্কিন প্র্রিক টেস্ট (এ পরীক্ষায় রোগীর চামড়ায় বিভিন্ন এলার্জেন দিয়ে এ পরীক্ষা করা হয় এবং এ পরীক্ষাতে কোন কোন জিনিসে রোগীর এলার্জি আছে তা নির্ণয় করা হয়)।
১০: বুকের এক্স-রে (হাঁপানি রোগের ক্ষেত্রে বুকের এক্স-রে করে বোঝা যায়, অন্য কোনো কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা)।
১১: স্পাইরোমেট্রি (এ পরীক্ষায় রোগীর ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়)।
এলার্জির চিকিৎসা:
যদি এলার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তা পরিহার করার মাধ্যমে সহজেই এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এলার্জি ভেদে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে এলার্জি উপশম করা যায়।
এলার্জি দ্রব্য থেকে এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন নেয়ার মাধ্যমে সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
এ পদ্ধতির ব্যবহারে কর্টিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার কমে যায় এবং কর্টিকোস্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়। এটাই এলার্জি রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি।
অনেকের ধারণা এলার্জি একবার হলে আর সারবে না কিন্তু প্রথমদিকে ধরা পড়লে এলার্জিজনিত রোগ একেবারেই সারিয়ে ফেলা সম্ভব। অপরদিকে অবহেলা করলে এবং রোগ দীর্ঘসময় ধরে থাকলে চিকিৎসা একটু কঠিন হতে পারে।
এলার্জি জাতীয় খাবার:
কোন খাবারে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হলে, সেই খাবারটি দীর্ঘদিন বন্ধ রাখতে হবে। তারপর পুনরায় খাওয়া শুরু করে দেখতে হবে। যদি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হয় তবে খাওয়া চালিয়ে যেতে পারেন কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে খাবারটি বন্ধ করে দিতে হবে।
খাবারে অ্যালার্জির কারণে বেশ কিছু সমস্যা যেমন- বমি, মাথাব্যথা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
কোন কোন খাবারে অ্যালার্জি আছে তা খুঁজে বের করে সে খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। খাবারের বেলায় ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে। অ্যালার্জির বিরুদ্ধে লড়তে ভিটামিন-ই খুবই কার্যকর।
গাজর কিংবা শসার রসেও প্রচুর অ্যালার্জি প্রতিরোধী উপাদান আছে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা বেশি আছে, তাঁদের অ্যালকোহল, চা এবং কফি না পান করাই ভাল।
এলার্জি থেকে মুক্তির উপায়:
● প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করার সময় কিছু ময়লা বইয়ের সেলফে জমে থাকে এবং জমে থাকা ময়লা অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে। দু-এক দিন পর পর বইগুলো নাড়াচাড়া করলে সেলফে থাকা ডাস্ট চলে যাবে।
● বিছানার ডাস্ট মাইট থেকে পরিত্রাণ পেতে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, মশারি ইত্যাদি ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
এছাড়া ঘরের চারপাশে মেঝে ভালভাবে জল ও ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিদিন উঠোনে বা বেলকনিতে আসা রোদে লেপ, কম্পল ইত্যাদি ভালভাবে শুকিয়ে নেয়া যেতে পারে কারন রোদের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মিতে হাউজ ডাস্ট মাইট মরে যায়।
● এক সপ্তাহ পর পর ভেজা কাপড় দিয়ে দরজা এবং জানালা পরিষ্কার করা উচিত। সেইসঙ্গে দরজা এবং জানালার পর্দা মাঝে মধ্যে ভালভাবে ধুতে হবে।
● রান্না ঘরের ময়লা-আবর্জনা থেকে মুক্ত হতে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। ফ্লোর ক্লিনার ও গরম জল দিয়ে রান্না ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
● শিশুদের খেলনা, বিভিন্ন শোপিস, জুতা, ফ্যান, এসি, ঝাড়বাতি ইত্যাদিতে ধুলোবালি জমে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব পরিষ্কার করতে হবে।
● বাসায় পশুপাখি থাকলে প্রতিদিন স্বান করাতে হবে। পশুপাখি যে জায়গায় থাকে সেই জায়গাটা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। অবশ্যই খাওয়ার পর উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে দিতে হবে।
তাহলে আজকের জন্য এইটুকুই , এই লেখাটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মধ্যে share করতে ভুলবেন না।
আমাদের পরবর্তী লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ঘন্টার মতো দেখতে বাটনটিতে ক্লিক করুন।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করবেন। আমাদের টিম তার উত্তর যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করবে।
সবশেষে ভালো থাকবেন, খুশি থাকবেন আর সুস্থ থাকবেন।











